মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:৩৯ পি.এম
মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন, সরকার দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় পর্যায়ক্রমে একটি করে প্রতিবন্ধী স্কুল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করছে।
তিনি সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ইস্কাটনে বাংলাদেশ জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত প্রতিবন্ধী ও দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ তথ্য তুলে ধরেন।
বর্তমানে দেশে ৮৫টি প্রতিবন্ধী স্কুল কার্যক্রমে রয়েছে উল্লেখ করে ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, কেবল স্কুল প্রতিষ্ঠার বিষয়টিই নয়, বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের গুণগত শিক্ষাদানের সুবিধার্থে বিশেষভাবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকের সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টিও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি বৈষম্যহীন, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চান, যেখানে প্রতিটি নাগরিকের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত হবে এবং কেউ পিছিয়ে থাকবে না।
মন্ত্রী জানান, সরকার প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের শুধু সুরক্ষার আওতায় আনাই নয়, বরং তাদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি ও উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার বাস্তবমুখী কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, যেসব পরিবারে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশু রয়েছে, তাদের অভিভাবকরা অনেক সময় সন্তান লালন-পালন করতে গিয়ে স্বাভাবিক কর্মক্ষেত্রে যুক্ত হতে পারেন না। সেসব পিতা-মাতারা যাতে ঘরে বসে বা উপযোগী পরিবেশে আয়ের সুযোগ পান এবং কর্মক্ষম থাকতে পারেন, সে বিষয়েও সরকার সক্রিয়ভাবে চিন্তা-ভাবনা করছে।
সভায় বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তিরা ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধির দাবি জানালে, মন্ত্রী তাদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন এবং তা বৃদ্ধির বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ ও বাংলাদেশ জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের নির্বাহী সচিব মো. কামরুজ্জামান (দুলাল)।
ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ভাতার হার বৃদ্ধির পাশাপাশি উপকারভোগীর সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আগে নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট (এনডিডি) থেকে সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা প্রদান করা হলেও বর্তমানে তা বাড়িয়ে এগারো কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে।
এছাড়াও সভায় বাংলাদেশ জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ, বিভিন্ন নিবন্ধিত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিগণ এবং উপকারভোগী পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
পরে মন্ত্রী ৯২ জন বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের কাছে বিশেষ অনুদানের চেক হস্তান্তর করেন। সূত্র: বাসস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ডেঙ্গু জ্বরের সৃষ্টি ঘটে ডেঙ্গু ভাইরাসের মাধ্যমে। এডিস নামক স্ত্রী মশার কামড়ের মাধ্যমে ডেঙ্গু রোগটি হয়। ডেঙ্গু জ্বরের জীবাণুবাহী মশা যখন কোনো সুস্থ ব্যক্তিকে কামড়ায়, তখন ৩-১৩ দিনের মধ্যে সেই ব্যক্তি জ্বরে আক্রান্ত হতে পারেন।
সাধারণ ডেঙ্গুর লক্ষণ
১. তীব্র জ্বর (১০৪°-১০৫° ফারেনহাইট এমনকি তার বেশি)
২. মাথাব্যথা ও চোখের পেছনে ব্যথা
৩. শরীরের অস্থি, কোমর, পিঠসহ অস্থিসন্ধি এবং মাংসপেশিতে তীব্র ও প্রচণ্ড ব্যথা অনুভূত হওয়া।
৪. ক্লান্তিবোধ, অরুচি ও বমি বমি ভাব।
৫. শরীরজুড়ে লালচে দানা দেখা যাওয়া
ডেঙ্গুর বিপজ্জনক লক্ষণ
১. তীব্র পেটে ব্যথা
২. ক্রমাগত বমি হতে থাকা
৩. পেটে বা ফুসফুসে পানি জমা হওয়া এবং শ্বাসকষ্ট।
৪. অতিরিক্ত দুর্বলতা, অবসাদ কিংবা অস্থিরতা।
৫. চামড়া কিংবা মিউকাস ঝিল্লির নিচে রক্তক্ষরণ অথবা নাক, মুখ বা মলদ্বার থেকে তীব্র রক্তপাত।
৬. যকৃত ২ সে.মি. এর বেশি বড় হয়ে যাওয়া।
৭. রক্তে অণুচক্রিকার পরিমাণ দ্রুত কমে যাওয়া এবং হেমাটোক্রিট দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়া।
৮. জন্ডিস হওয়া এবং প্রস্রাবের পরিমাণ কমতে থাকা।
৯. রক্তচাপ হঠাৎ কমে যাওয়া
১০. নাড়ির স্পন্দন অত্যন্ত ক্ষীণ ও দ্রুত হওয়া।
১১. শরীরের হাত-পা ও অন্যান্য অংশ ঠান্ডা হয়ে যাওয়া।
ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সাধারণ ডেঙ্গুর উপসর্গের পাশাপাশি যদি এ ধরনের কোনো লক্ষণ দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিতে হবে। মূলত জ্বর কমে যাওয়ার পর ডেঙ্গুর সংকটাপন্ন দশা শুরু হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
এ কারণে ‘জ্বর কমে গেলেই রোগী সুস্থ হয়ে গেল’—এমন ধারণা রাখা উচিত নয়। যারা পূর্বে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে আবারও রোগটি হলে তা মারাত্মক হতে পারে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় দীর্ঘ এক দশকের প্রতীক্ষার পর দ্বিতীয় সমাবর্তন আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে। এই সমাবর্তন আগামী ২০২৭ সালের ২৩ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর ও রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সমাবর্তনে উপস্থিত থাকার সম্মতি প্রদান করেছেন।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহর সভাপতিত্বে সমাবর্তন আয়োজনের লক্ষ্যে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সমাবর্তন সুষ্ঠু ও সফলভাবে আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্টদের মতামতের ভিত্তিতে একটি শক্তিশালী সমাবর্তন ব্যবস্থাপনা কমিটি এবং বেশ কয়েকটি প্রয়োজনীয় উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে।
উপাচার্য ড. আমানুল্লাহ সভায় বলেন, ‘দীর্ঘ সময় পর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সমাবর্তন শুধুমাত্র একটি আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠান নয়, বরং এটি শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ শিক্ষাজীবনের অর্জন ও সাফল্যের স্বীকৃতি। বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর প্রত্যাশা বিবেচনায় নিয়ে এটি একটি সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও স্মরণীয় আয়োজন হিসেবে রূপ দিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।’
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, গতকাল বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করে। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি সমাবর্তনে চ্যান্সেলর হিসেবে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, সমাবর্তন বক্তা নির্ধারণ, কোন কোন শিক্ষাবর্ষের গ্র্যাজুয়েটরা অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন এবং নিবন্ধন প্রক্রিয়াসহ বিস্তারিত তথ্যাবলী দ্রুত সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।
এছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এই সমাবর্তন বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। দেশের প্রায় আড়াই হাজার কলেজের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সঙ্গে যুক্ত এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০ বছর বিরতির পর আবার সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ বিরতির পর দ্বিতীয় সমাবর্তনের আয়োজন ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও গ্র্যাজুয়েটদের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আশা করছে, বিপুল সংখ্যক গ্র্যাজুয়েটের অংশগ্রহণে সমাবর্তনটি একটি বড় আয়োজন হিসেবে অনুষ্ঠিত হবে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. নাজমুল হোসাইন, রেজিস্ট্রার মোল্লা মাহফুজ আল-হোসেনসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন ও দপ্তর প্রধানগণ। সূত্র: বাসস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
খুলনা শহরে কুরিয়ার সার্ভিসের পণ্য ডেলিভারি করতে গিয়ে দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত হয়েছেন কাজী সাজ্জাদ (২৫) নামের এক যুবক। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেল বেলা নগরীর টুটপাড়া সেন্ট্রাল রোডে এই ঘটনা ঘটে।
আহত যুবক সাজ্জাদ টুটপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং তিনি পাঠাও কুরিয়ার সার্ভিসে ডেলিভারিম্যান হিসেবে কাজ করতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সাজ্জাদ মোটরসাইকেলে করে কুরিয়ার পণ্য ডেলিভারি দিতে টুটপাড়া সেন্ট্রাল রোডে পৌঁছান। ঠিক সেই সময় কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে, যার ফলে তার বাম পায়ে গুলি লাগে।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লোকমান হোসেন রিপন জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, টুটপাড়া এলাকার রাব্বি, জিতু ও জিসান এই হামলার সঙ্গে জড়িত। তবে সাজ্জাদের ওপর হামলার কারণ এখনও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, ঘটনায় জড়িতদের আটকের জন্য চেষ্টা চলছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী মন্তব্য করেছেন যে, সরকার তিনটি দাবি মেনে নিলে ঢাকা শহরে আর কোনো ককটেল ফুটবে না। তিনি উল্লেখ করেছেন, "আওয়ামী লীগকে (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) বাদ দেওয়া, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার… আমরা তো এই তিনটা দাবিতে রাজপথে আছি।"
তিনি আরও বলেন, "সরকার তো এই দাবিগুলো মানছে না। দাবিগুলো মানলে তো ককটেল আর ফুটবে না ঢাকা শহরে।" সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে এনসিপির প্রতিবাদ মিছিলের শেষে তিনি এই বক্তব্য প্রদান করেন। নেভি গলিতে দাঁড়িয়ে দেওয়া বক্তব্যে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী মূলত বোঝাতে চেয়েছেন যে, তাদের দাবি মানলে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হবে এবং দলটি নিষিদ্ধ হলে তাদের কর্মীরাও (আওয়ামী লীগের) ককটেল মারার সুযোগ পাবে না।
তিনি আরও জানান, "গতকালও দুটি মিছিল হয়েছে। আওয়ামী লীগকে (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) বাংলাদেশে বাদ দিতে হলে সংস্কার দরকার। ১১ দলীয় জোট এটাই তো বলে আসছে।"
এছাড়া, ১১ দলীয় জোট আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কোনো মিছিল না করার অভিযোগের বিষয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, "এটা সত্য নয়।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ