মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:২৬ পি.এম
ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশের এবং ভারতের জনগণের মধ্যে সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, দুই দেশের সাধারণ মানুষের কল্যাণের বিষয়টি মাথায় রেখে এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ভারতীয় হাইকমিশনার। সাক্ষাৎ শেষে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উপলক্ষে তিনি সকলকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এদিনের সাক্ষাতে দুই দেশের মধ্যে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে তিনি জানান।
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি সম্পর্কে ভারতীয় হাইকমিশনার মন্তব্য করেন যে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির বিষয়ে তিনি কিছু বলতে চান না এবং এ বিষয়ে মন্তব্য করা উচিতও নয়। সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে নির্বাচিত সরকারই জনগণের জন্য কোনটি ভালো, তা সবচেয়ে ভালোভাবে বুঝবে।
দীনেশ ত্রিবেদী জনগণের সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ‘জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক আমরা সবসময় চাই। আমরা যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি, তার প্রভাব সাধারণ মানুষের ওপর পড়ে। সাধারণ মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সীমান্তের সঙ্গে স্বপ্নও শেয়ার করি। এ কারণে প্রতিবেশী হিসেবে আমাদের দায়িত্ব বেড়ে যায়। আমরা সমান, কেউ বড় কিংবা ছোট নয়।’
বাংলাদেশ ও ভারতের সামনে বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে উল্লেখ করে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ‘চ্যালেঞ্জ থাকবেই। আমাদের দেখতে হবে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক চ্যালেঞ্জ কী। বাংলাদেশেরও দেখতে হবে ভারতের কী চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মাথায় রেখে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।’
দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্ককে আরও উন্নত করতে পারস্পরিক সহযোগিতা এবং জনগণের স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়ার ওপরও তিনি জোর দিয়েছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চলতি বছরের আগস্ট মাসের প্রথম ৩০ দিনে দেশে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সের পরিমাণ ২৮৩ কোটি মার্কিন ডলার এসেছে। এই পরিমাণ দেশীয় মুদ্রায় ৩৪ হাজার ৮০৯ কোটি টাকা, যা প্রতি ডলার ১২৩ টাকার হিসাবে নির্ধারিত। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এটি ২৬.৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান সোমবার (৩১ আগস্ট) এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি আরও জানান, রোববার প্রবাসী আয় হিসেবে দেশে এক হাজার ৯৮০ কোটি ৩০ লাখ টাকা এসেছে। গত বছরের আগস্ট মাসের প্রথম ৩০ দিনে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ২২২ কোটি ৯০ লাখ ডলার। এই তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে প্রবাসী আয় ২৬ দশমিক ৯০ শতাংশ বেড়ে গেছে।
চলতি অর্থবছরের (১ জুলাই থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত) সামগ্রিক চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এ পর্যন্ত দেশে ৫৬৮ কোটি ৯০ লাখ ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই আয়ের পরিমাণ ছিল ৪৭০ কোটি ৭০ লাখ ডলার।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
স্বাধীনতার পর ৫৫ বছর অতিবাহিত হওয়ার পরেও কক্সবাজারে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এতটা খারাপ অবস্থায় পৌঁছায়নি। জেলা পুলিশের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সাত মাসে কক্সবাজারে ৮৮টি খুন, ১২৭টি ধর্ষণ এবং ২৯৭টি অপমৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে ১৫০টিরও বেশি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ছিনতাই, চুরি, ডাকাতি ও অপহরণের ঘটনা তো আছেই।
এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে জানতে চাইলে কিছুটা বিরক্তির সুরে কক্সবাজার পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান মন্তব্য করেন, ‘আমি তো অথর্ব এসপি।’
কক্সবাজারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। খুন, ধর্ষণ ও অপহরণের পাশাপাশি আদালত প্রাঙ্গণে গোলাগুলি এবং অস্ত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে বিচারককে ভয় দেখানোর ঘটনাও ঘটেছে। খুনের শিকার ব্যক্তির জানাজা চলাকালে মামলা হওয়ার আগেই ওই খুনের ঘটনায় আটক প্রধান সন্দেহভাজনকে দায়মুক্তি দেওয়ার মতো চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে কক্সবাজারে। দুর্বল পুলিশিং, অদক্ষতা এবং হঠকারী সিদ্ধান্তের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে এসপির বিরুদ্ধে। পুলিশের ভেতরেও অস্থিরতা ও অসন্তোষ বিদ্যমান।
পর্যটন এলাকা সহ জেলায় দিনে ১৫ থেকে ৩০টি চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব ঘটনার অনেকটাই থানায় মামলা বা সাধারণ ডায়েরি হিসেবে নথিভুক্ত না হওয়ায় এর সুনির্দিষ্ট হিসাব নেই। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। পরে খুদে বার্তার মাধ্যমে অভিযোগগুলো তার নজরে আনা হয়েছে। তবে পাঠানো বার্তার কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
বিচারককে অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। জেলা জজ পদমর্যাদার একজন বিচারক যুগান্তরকে জানান, গত ৩০ নভেম্বর আদালত প্রাঙ্গণে এক বিচারককে পিস্তল দেখিয়ে ভয় দেখান এক যুবক। পরে আরও দুই বিচারক তৎকালীন সদর থানার ওসি ছমিউদ্দীনকে ডেকে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেন। বিষয়টি পুলিশ সুপারকেও জানানো হয়। কিন্তু কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
ওই ঘটনার পর জানুয়ারিতে জেলা জজ পদমর্যাদার একাধিক বিচারক পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান বরাবর চিঠি দিয়ে গানম্যান চেয়েছিলেন। কিন্তু গানম্যান তো দেওয়া হয়নি, এমনকি চিঠির জবাবও দেওয়া হয়নি। এর মধ্যে গত ২৪ মে দিনদুপুরে আদালত প্রাঙ্গণে প্রকাশ্য গোলাগুলিতে দুজন গুলিবিদ্ধসহ কয়েকজন আহত হন। কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আবদুল মন্নান বলেন, স্বাধীনতার পর কক্সবাজারে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এত অবনতি তিনি আর দেখেননি। উখিয়া ও টেকনাফের অনেক এলাকায় সন্ধ্যা নামার আগেই অপরাধীদের ভয়ে একধরনের সুনসান পরিস্থিতি নেমে আসে। আদালত চত্বরে গোলাগুলি এবং বিচারকদের অস্ত্র দেখানোর ঘটনায় বিচারক, আইনজীবী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
তদন্ত ছাড়াই খোরশেদ হত্যার প্রধান সন্দেহভাজনকে নির্দোষ ঘোষণা করা হয়েছে। ২৪ মার্চ রাতে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে ছুরিকাঘাতে নিহত হন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক খোরশেদ আলম। ঘটনার পর তারিন নামের এক ব্যক্তিকে পুলিশ আটক করে। তারিনের ব্যাগ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত ছুরিও উদ্ধার করা হয়। কিন্তু খোরশেদের জানাজা চলাকালে সংবাদ সম্মেলন করে তদন্ত না করেই তারিনকে নির্দোষ ঘোষণা করেন এসপি। পরিবারের অভিযোগ, এর আগে খোরশেদকে হুমকি দিয়েছিলেন তারিন।
একই সঙ্গে খোরশেদের কাকা তারেককে হত্যাকাণ্ডের প্রধান হোতা হিসাবে দাবি করা হয়। পরে তারেকের একটি সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশের পর ঘটনার সময় তার অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এতে পুলিশের ওই বক্তব্য বিতর্কের মুখে পড়ে। জানা যায়, তারিনকে আসামি না করে সাক্ষী করা হয়েছে এবং প্রকৃত সন্দেহভাজনদের বাদ দিয়ে ১০ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। সূত্রের দাবি, এসপির কড়া আপত্তির কারণে তারিনকে জিজ্ঞাসাবাদ বা কোনো ধরনের অভিযান চালানো সম্ভব হয়নি। হত্যায় জড়িতদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার পরও পুলিশ হাত গুটিয়ে থাকতে বাধ্য হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরে পুলিশের ভূমিকার ওপর অনাস্থা প্রকাশ করে মামলার বাদী নাওশাদ হোসেন আদালতের মাধ্যমে মামলাটি পিবিআই-এ স্থানান্তর করেন। বর্তমানে তারিন আত্মগোপনে বলে জানা গেছে।
আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নে বাধা খোদ পুলিশ সুপার। গত ২২ এপ্রিল খুরুশকুলে মন্দিরের সেবায়েত নয়ন সাধুকে হত্যা করে গাছে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। এ হত্যার রহস্য উন্মোচনে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেন সাংবাদিক অন্তর দে বিশাল। পরে পুলিশ আবদুর রহিম নামে একজনকে গ্রেফতার করে।
অন্তর দে জানান, সংবাদ প্রকাশের পর সেটি মুছে না ফেললে তাকে ওই হত্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেন এসপির আস্থাভাজন এলআইসি সদস্য সোহেল। তবে সোহেল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বিষয়টি এসপিকে জানালে তিনি উলটো প্রশ্ন করেন, ‘আপনাকে নিউজ করতে কে বলছে?’ তার দাবি, পুলিশ সুপার তাকে সাধারণ ডায়েরি না করারও পরামর্শ দেন। পরে আবার হুমকি আসার পর সংবাদকর্মীদের প্রতিবাদের মুখে সদর থানা সাধারণ ডায়েরি গ্রহণ করে। এ ঘটনায় সাংবাদিকরা মানববন্ধন করেন। পূজা উদ্যাপন কমিটিও হুমকির প্রতিবাদ জানিয়ে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানায়।
পরে কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ-সদস্য লুৎফুর রহমান কাজলের হস্তক্ষেপে আন্দোলন বন্ধ হলেও সমস্যার কার্যকর সমাধান হয়নি বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
অন্যদিকে রামু থানা পুলিশের একটি বড় ইয়াবা চালান আত্মসাতের অভিযোগের তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপন নিয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে একটি জাতীয় দৈনিকের সাংবাদিক শাহেদ ফেরদৌস হিরুকে পুলিশ সুপার প্রশ্ন করেন, ইয়াবা নিয়ে সাংবাদিকদের এত আগ্রহ কেন? সাংবাদিক হিরুর অভিযোগ, এসপির ব্যর্থতা, অদক্ষতা ও পক্ষপাতমূলক আচরণের কারণে কক্সবাজারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে।
আইনশৃঙ্খলা সভায় এসপির আচরণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আইনশৃঙ্খলা কমিটির কয়েকজন সদস্য। তাদের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে কোনো সদস্য বক্তব্য দিতে চাইলে পুলিশ সুপার অনেক সময় তার বক্তব্য থামিয়ে নিজেই কথা বলতে শুরু করেন। এতে মুক্তভাবে মতামত দেওয়ার পরিবেশ ব্যাহত হয়। স্থানীয় সংসদ-সদস্যসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত সভায়ও এসপি মোবাইল ফোনে কখনো কখনো উচ্চৈঃস্বরে কথা বলেছেন। এতে উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে বিরক্তি তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলাসংশ্লিষ্ট একটি বৈঠকে এসপির এমন আচরণে প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানান কক্সবাজার-২ আসনের এমপি আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজুল্লাহ ফরিদ।
পুলিশের ভেতরেও অস্থিরতা ও ক্ষোভ
জেলা পুলিশের অন্তত ৩৫ জন পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাদের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির নেপথ্যে এসপির হঠকারী সিদ্ধান্ত, অদক্ষতা ও দুর্বল পুলিশিং দায়ী। সম্প্রতি গোপন তথ্য প্রকাশের অভিযোগে ১০১ জন পুলিশ সদস্যকে বদলি করা হয়েছে। এর মধ্যে ইনস্পেকটর ৭, এসআই ৩৬, এএসআই ২৪ এবং কনস্টেবল ৩৪ জন। পুলিশ সদস্যদের অভিযোগ, অভিজ্ঞ ও দক্ষ কর্মকর্তাদের বেছে বেছে সরিয়ে দিয়ে তাদের জায়গায় তুলনামূলক কম অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এসপির বক্তব্য
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির বিষয়ে পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান বলেন, সারা দেশে প্রতি মাসে ৩০০টির মতো মার্ডার হয়। কক্সবাজারে ১৫ থেকে ২০টি হয়। সেটা আগে হয়েছিল, এখনো হচ্ছে। বেশির ভাগ হত্যাই পরকীয়া ও পারিবারিক কারণে হচ্ছে। খুনের ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
অন্য অভিযোগ প্রসঙ্গে কিছুটা বিরক্তির সুরে তিনি বলেন, আমি তো অথর্ব এসপি। আপনাদের প্রিয় এসপি যখন ছিল, তখনো মার্ডার এমন হতো বলে ফোনের সংযোগ কেটে দেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
প্রায় ২৮০ দিন পর যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন প্রথমবারের মতো কোনো বন্দরে থামতে যাচ্ছে। গত বছরের নভেম্বরের পর এটি জাহাজটির প্রায় ৫ হাজার নাবিক ও ক্রু সদস্যদের জন্য প্রথম যাত্রাবিরতি।
আজ মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) থাইল্যান্ডের পর্যটন শহর পাতায়ায় রণতরীটির পৌঁছানোর কথা রয়েছে। ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় থেকেই পাতায়া মার্কিন সেনাদের বিশ্রাম ও বিনোদনের জন্য একটি জনপ্রিয় গন্তব্য হিসেবে পরিচিত। শহরজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে, যাতে প্রায় ৫ হাজার নাবিককে স্বাগত জানানো যায়।
পারমাণবিক শক্তিচালিত এই রণতরীটি ২০২৫ সালের নভেম্বরে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে দক্ষিণ চীন সাগরের দায়িত্বে যাত্রা শুরু করে। পরে এটি মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়। প্রায় ছয় মাস আগে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা শুরুর আগে জাহাজটির গতিপথ পরিবর্তন করা হয়েছিল।
দীর্ঘ সময় সমুদ্রে অবস্থানের কারণে জাহাজটির ভেতরের জীবনযাত্রার অবনতি এবং ক্রুদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবস্থা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে এমনকি আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনাও উঠে এসেছে। এসব কারণে ইরান যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে সমালোচনা আরও জোরালো হয়েছে।
পাতায়ার মেয়র পোরামাসে এনগামপিচেস জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় মধ্যরাতের পর লায়েম চাবাং বন্দরে বিশাল এই রণতরীটি ভিড়বে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, "প্রায় ২৮০ দিন পর নাবিকেরা প্রথমবারের মতো জাহাজ থেকে তীরে নামার সুযোগ পাচ্ছেন।" তিনি জানান, তাদের বিশ্রাম ও বিনোদনের কথা বিবেচনায় রেখে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে এবং ব্যবসায়ীরা যেন অতিরিক্ত দাম না নেন, সেদিকেও নজর দেওয়া হবে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
লিওনেল মেসি আনুষ্ঠানিকভাবে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। এই ঘোষণার পর থেকেই নতুন জল্পনা শুরু হয়েছে। মেসির অনুপস্থিতিতে অধিনায়কের আর্মব্যান্ডটি এখন কার হাতে যাবে, এই প্রশ্ন সবার মনে ঘুরপাক খাচ্ছে।
মেসি যখন আর্জেন্টিনা থেকে অবসরের কারণ ব্যাখ্যা করেছিলেন, তখন খুব বেশি মানুষ এই আর্মব্যান্ড নিয়ে ভাবেননি। কারণ, এটি কয়েক দশক ধরে মেসির হাতে ছিল। কিন্তু এখন সেই আলোচনার সময় এসেছে। আর্জেন্টিনাকে তাদের পরবর্তী অধিনায়ক নির্বাচন করতে হবে।
ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোকে আর্জেন্টিনার নতুন প্রধান অধিনায়ক হিসেবে দেখা যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
যদিও আর্জেন্টিনার পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি, তবে রোমেরোকে অধিনায়ক হিসেবে নিয়োগ দেওয়াটা যুক্তিসঙ্গত মনে হচ্ছে। আতলেতিকো মাদ্রিদের এই ডিফেন্ডারের বয়স মাত্র ২৮ বছর, যা নির্দেশ করে যে তিনি আগামী অনেক বছর ধরে অধিনায়কত্বের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।
এছাড়া, মাঠে সবচেয়ে সক্রিয় নেতা হিসেবে তার পরিচিতি রয়েছে। টটেনহ্যামের অধিনায়ক হিসেবেও তার অভিজ্ঞতা রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের খেলোয়াড়দের নিয়ে গঠিত একটি ড্রেসিংরুম যদি তিনি সামলাতে পারেন, তাহলে নিজের দেশের খেলোয়াড়দের সঙ্গে যোগাযোগ করতে তার কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়।
তবে, আরও কয়েকজন খেলোয়াড়ের নামও আলোচনায় রয়েছে। রোমেরোকে প্রধান অধিনায়ক করা হলেও, তিনি যদি মাঠে না থাকেন তবে অন্য কেউ সেই দায়িত্ব নিতে পারেন।
মেসি–পরবর্তী যুগে অধিনায়কের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্তিনেজ সমর্থকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। মাঠে ও মাঠের বাইরে তিনি একজন নেতা। আর্জেন্টিনার হয়ে তার বীরত্বগাথা সবার জানা। একজন সেরা অধিনায়ক হওয়ার সব গুণ তার মধ্যে রয়েছে। তবে সমস্যা হলো, তিনি গোলরক্ষক। গোলরক্ষককে খেলার মূল জায়গা থেকে এবং রেফারির থেকে অনেক দূরে থাকতে হয়। আর্জেন্টিনার মতো শক্তিশালী দলের খেলোয়াড়রা প্রতি ম্যাচেই রেফারির সঙ্গে কথা বলেন। এই কারণে গোলরক্ষক অধিনায়ক হওয়া খুব সুবিধাজনক নয়।
রদ্রিগো দে পলও অধিনায়ক হওয়ার সম্ভাব্য নাম। তিনি অনেক কথা বলতে পারেন এবং দীর্ঘদিন মেসির পাশে থেকে নেতৃত্বের গুণ শিখেছেন। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপে তার পারফরম্যান্স নিয়ে সমালোচনা হয়েছে। তার একাদশে জায়গা পাওয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তাই যিনি প্রায়ই বেঞ্চ থেকে খেলা শুরু করেন, তাকে অধিনায়ক করা বুদ্ধিমানের কাজ নাও হতে পারে।
চমক দিতে পারেন যারা
লাউতারো মার্তিনেজ ইন্টারের অধিনায়ক। হুলিয়ান আলভারেজও দলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। তবে আর্জেন্টিনা তাদের পরবর্তী অধিনায়কের মধ্যে যে গুণগুলি খুঁজছে, তা এই দুজনের মধ্যে নেই বলেই মনে হচ্ছে। এছাড়া, এই দুজন প্রায়ই একাদশে পালাক্রমে সুযোগ পান। তাই তাদের অধিনায়ক হওয়ার সম্ভাবনাও কম।
এনজো ফের্নান্দেজকে নিয়ে আলোচনা কম হলেও, অধিনায়কত্বের দৌড়ে তিনিও একজন শক্তিশালী প্রার্থী। একজন আর্জেন্টাইন নেতার সব গুণ তার মধ্যে বিদ্যমান। চেলসিতে অধিনায়কত্বের অভিজ্ঞতাও তার রয়েছে। এছাড়া, তার বয়স মাত্র ২৫। দেশের জন্য দেওয়ার মতো অনেক কিছু তার বাকি আছে।
সবচেয়ে যৌক্তিক উত্তর এখনো রোমেরো
অধিনায়ক প্রশ্নের সবচেয়ে যৌক্তিক উত্তর এখনও রোমেরোই হতে পারেন। ২০২৬ বিশ্বকাপে মেসির পর আর্জেন্টিনার সেরা খেলোয়াড় তিনিই ছিলেন। ক্লাব ও জাতীয় দল, দুই জায়গাতেই এখন তিনি নিজের সেরা সময়ের দিকে এগোচ্ছেন।
তবে রোমেরোর হলুদ ও লাল কার্ড পাওয়ার রেকর্ডও কম নয়। তাই আর্জেন্টিনাকে বিকল্প পরিকল্পনা এবং একজন বিকল্প অধিনায়কও ঠিক রাখতে হবে। আর দেখা যাচ্ছে, প্রার্থীর অভাব নেই।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ