ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

আগৈলঝাড়া থানায় হামলা মামলায় প্রধান আসামি ইদ্রিস ফকিরসহ ৫ জন ঢাকায় গ্রেপ্তার


আগৈলঝাড়া থানায় হামলা মামলায় প্রধান আসামি ইদ্রিস ফকিরসহ ৫ জন ঢাকায় গ্রেপ্তার

বরিশালের আগৈলঝাড়া থানায় হামলা, ভাঙচুর এবং কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি এবং অন্যান্য আসামিসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন— মামলার ১ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি ইদ্রিস ফকির, ৩০ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি রাব্বি ফকির, ৩৭ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি ইয়াসিন আক্তার এবং তদন্তে প্রাপ্ত আসামি হাসিনা বেগম (৪৫)। উল্লেখ্য, হাসিনা বেগম প্রধান আসামি ইদ্রিস ফকিরের স্ত্রী। তাদের প্রত্যেকের বসবাস বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার ফুলশ্রী এলাকায়। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১১ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযানের মাধ্যমে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ওই চারজনকে গ্রেপ্তার করে। পরে, আগৈলঝাড়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাসুদের নেতৃত্বে একটি পুলিশ দল তাদের ডিবির হেফাজত থেকে গ্রহণ করে আগৈলঝাড়ায় নিয়ে আসে। আরও একজন আসামি, উজিরপুর থানার পুলিশ গ্রেপ্তার করেন।

রবিবার (১২ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গ্রেপ্তারকৃত পাঁচ আসামিকে বরিশালের বিজ্ঞ আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আগৈলঝাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান সাংবাদিকদের জানান, ডিবি পুলিশের সহযোগিতায় মামলার প্রধান এজাহারভুক্ত আসামি ইদ্রিস ফকিরসহ চারজনকে ঢাকাস্থ অভিযান থেকে গ্রেপ্তার করে আগৈলঝাড়ায় আনা হয়েছে। প্রধান আসামি সহ পাঁচ আসামিকে আদালতের মাধ্যমে তাদের জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। এদিকে, এজহারভুক্ত নুরু মিয়া নামের একজন আসামিকে আজ সকালে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তিনি আরও জানান, মামলায় এজাহারভুক্ত ও তদন্তে শনাক্ত অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। হামলার সাথে জড়িত কাউকেই আইনের আওতার বাইরে রাখা হবে না। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

উজিরপুর হাসপাতালে বদ্ধ কক্ষে সরকারি ওষুধ-সরঞ্জামের পাহাড়: সংবাদ প্রকাশের পর তদন্ত কমিটি গঠন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:১৬ এম


উজিরপুর হাসপাতালে বদ্ধ কক্ষে সরকারি ওষুধ-সরঞ্জামের পাহাড়: সংবাদ প্রকাশের পর তদন্ত কমিটি গঠন

বরিশালের উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি কক্ষে দীর্ঘদিন ধরে তালাবদ্ধ অবস্থায় বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ, সার্জিক্যাল সামগ্রী ও চিকিৎসা-সরঞ্জাম পাওয়ার ঘটনা প্রচারিত হওয়ার পর স্বাস্থ্য বিভাগ নড়েচড়ে বসেছে। এ বহুল আলোচিত ঘটনায় প্রকৃত তথ্য উদঘাটন করতে, দায়-দায়িত্ব নিরূপণ এবং অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যাখ্যা দিতে তলব করা হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ওই হাসপাতালের একটি দীর্ঘকালীন তালাবদ্ধ কক্ষে বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ, সার্জিক্যাল সামগ্রী ও চিকিৎসা-সরঞ্জাম সংরক্ষিত থাকার বিষয়টি ফুটিয়ে তোলা হয়। অভিযোগ রয়েছে যে, সেখানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধও পাওয়া গেছে। বিষয়টি প্রকাশিত হওয়ার পর এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এবং সরকারি ওষুধ ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনায় গুরুত্বের কারণে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ১১ জুলাই একটি অফিস আদেশ জারি করে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান, সরকারি ওষুধ ও চিকিৎসা-সরঞ্জাম সংরক্ষণে কোনো ধরনের অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা বা দায়িত্বে গাফিলতি ঘটেছে কি না, তা তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সেইসঙ্গে বাবুগঞ্জ হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ কে এম মনিরুল ইসলামকে প্রধান করে ওই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার, বিভিন্ন বিভাগের কনসালট্যান্ট, প্রধান সহকারী, সিনিয়র স্টাফ নার্স, স্টোর কিপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ১২ জুলাই (রবিবার) সকাল ১০টায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে ওই বিষয়ে লিখিত ও মৌখিক বক্তব্য দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে বিশেষভাবে দেখা হবে কিভাবে এতদিন সরকারি ওষুধ ও চিকিৎসা-সরঞ্জাম তালাবদ্ধ কক্ষে রাখা হয়েছে, এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ কেন যথাসময়ে অপসারণ বা ধ্বংস করা হয়নি, সরকারি সম্পদের অপচয় বা অব্যবস্থাপনা ঘটেছে কি না এবং এসব ঘটনা জন্য কারও অবহেলা বা দায়িত্বহীনতা আছে কি না। তদন্ত প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে সংবাদ প্রকাশের পর তদন্ত কমিটি গঠনের উদ্যোগকে স্থানীয় সচেতন মহল ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও তাদের দাবি, শুধুমাত্র তদন্ত কমিটি গঠন করেই দায়িত্ব শেষ হবে না। যদি তদন্তে কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে অনিয়ম, গাফিলতি, কিংবা সরকারি সম্পদের অপচয়ের প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সেইসঙ্গে সরকারি ওষুধ সংরক্ষণ, বিতরণ ও হিসাব ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে পুনরায় না ঘটে, সেকারণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। উল্লেখ্য, এর আগে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি দীর্ঘকালীন তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ, সার্জিক্যাল সামগ্রী এবং বিভিন্ন চিকিৎসা-সরঞ্জাম উদ্ধারের তথ্য উঠে এসেছে। সংবাদটি প্রকাশিত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সর্বত্র ব্যাপক আলোচনা এবং সমালোচনা হয়েছে। ঘটনার এই ধারাবাহিকতায় স্বাস্থ্য বিভাগ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে এবং সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাবুগঞ্জে এক গাছেই ১০ জাতের আম!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:১৮ এম


বাবুগঞ্জে এক গাছেই ১০ জাতের আম!

অবিশ্বাস্য হলেও ঘটনাটি সত্য। বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর হর্টিকালচার সেন্টারে এক গাছেই মিলছে ১০ জাতের আম। কলম সংযোজনের মাধ্যমে একই গাছে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জাতের আম ফলানোর এ উদ্যোগ ইতোমধ্যে এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। তবে শুধুমাত্র ১০ জাতেই নয়, একটি গাছে ১৫ থেকে ২০ জাতের আম উৎপাদনের গবেষণাও চলছে বলে জানিয়েছে হর্টিকালচার সেন্টার কর্তৃপক্ষ।

রহমতপুর হর্টিকালচার সেন্টারে বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে যে এক গাছে বহুজাতের আমের চারা রয়েছে। দেশি প্রজাতির আমগাছে কলমের মাধ্যমে যুক্ত করা হয়েছে বিশ্বের আলোচিত জাপানি আম মিয়াজাকি, সুস্বাদু ন্যামডকমাই, রেড আইভরি, টকমাই, থ্রি টেস্ট, দেশি আম্রপালি, বারিভোগ, বারি-১১সহ মোট ১০ জাতের আম। কর্তৃপক্ষ জানায়, শুধু চারা বিক্রিই নয়, এসব গাছের পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণ সম্পর্কিত ক্রেতাদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, রহমতপুর হর্টিকালচার সেন্টারে একটি গাছে কলম সংযোজনকৃত ১০ জাতের আমের চারা পাওয়া যায়। এছাড়াও এটাকে ২০ জাত পর্যন্ত বাড়াতে কলমের কার্যক্রম চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

হর্টিকালচার সেন্টারের উদ্যান তত্ত্ববিদ ফেরদৌস আরা মিতা বলেন, আমরা বছরজুড়ে আমাদের দেশীয় আম খাচ্ছি। এতে প্রচুর ভিটামিন এ আছে, আর কাঁচা আমে মিলছে ভিটামিন সি। রোববার ১২ জুলাই রহমতপুর হর্টিকালচার সেন্টারের এক গাছেই ১০ জাতের আমের ফলন দেখতে সরেজমিন কথা হয় ওই সেন্টারের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. অলিউল রহমানের সঙ্গে। তিনি যুগান্তরকে বলেন, আমাদের গবেষণায় এ সেন্টারে ৭৪ জাতের আমের চারা রয়েছে। কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, রহমতপুর হর্টিকালচার সেন্টারের এ উদ্যোগ দেশের কৃষি খাতে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘রাইট টক বাংলাদেশ’ বরিশালের কমিটি গঠন: সভাপতি নাহিদ ও সম্পাদক রুমান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:২০ এম


‘রাইট টক বাংলাদেশ’ বরিশালের কমিটি গঠন: সভাপতি নাহিদ ও সম্পাদক রুমান

সরকারি নিবন্ধনপ্রাপ্ত স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন ‘রাইট টক বাংলাদেশ’-এর বরিশাল বিভাগীয় টিমের আংশিক কমিটি কেন্দ্রীয় কমিটি অনুমোদন করেছে। অনুমোদিত কমিটিতে বরিশাল পোস্ট এর সম্পাদক ও তরুণ সংগঠক মজিবর রহমান নাহিদকে সভাপতি নির্বাচিত করা হয়েছে এবং রুমান হাওলাদারকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে ১১ জুলাই ২০২৬ তারিখে সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি আল আমিন এম তাওহীদ এবং সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মো. আরিফুল হকের স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘সবাই মিলে বাংলা সাজাই’ স্লোগান ধারণ করে রাইট টক বাংলাদেশ সমাজে দক্ষ নাগরিক গড়ে তোলা, মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করা এবং বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা কররে কাজ করে আসছে।

সংগঠনের প্রতিটি সদস্য একজন স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে মানবতার সেবায় কাজ করবেন এবং একটি সুন্দর সমাজ নির্মাণে ভূমিকা রাখবেন। নব-নির্বাচিত সভাপতি মজিবর রহমান নাহিদ এই প্রসঙ্গে বলেন, “রাইট টক বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করার চেষ্টা করব। বরিশালে মানবিক, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম আরও বেগবান করতে সকল সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করব। সবার সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করছি।” উল্লেখযোগ্য যে, রাইট টক বাংলাদেশ বাংলাদেশে একটি সরকারি নিবন্ধনপ্রাপ্ত স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন। ‘সবাই মিলে বাংলা সাজাই’ স্লোগানকে ধারণ করে ২০১৯ সালের ৫ ডিসেম্বর সংগঠনটির যাত্রা শুরু হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংগঠনটি মানবিক, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বরিশাল-ভোলা ফেরি সেবা: ৭ ট্রিপেই অচল সন্ধ্যা মালতী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:২৩ এম


বরিশাল-ভোলা ফেরি সেবা: ৭ ট্রিপেই অচল সন্ধ্যা মালতী

বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) ফেরি সন্ধ্যামালতী গত দুই বছর ধরে মেরামতের কাজের জন্য নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ডে ছিল। ফেরিটির মেরামত খরচ ১০ লাখের বেশি টাকা হয়েছে। ঈদুল আজহার আগে, ফেরিটিকে বরিশালের লাহারহাট ফেরিঘাটে পাঠানো হয়। কিন্তু ফেরিটি বরিশাল থেকে ভোলা নৌপথে মাত্র সাতটি ট্রিপ চালানোর পর ফের অসামর্থ হলো। বড় রকমের অর্থ ব্যয়ে সচল করা ফেরিটি এখন পুরোপুরি অকেজো হয়ে পড়েছে। ইতিমধ্যে ফেরির কিছু যন্ত্রাংশ বিআইডব্লিউটিসি অন্য ফেরিতে যুক্ত করছে। সেই প্রেক্ষিতে ফেরি সন্ধ্যামালতীকে যাত্রীসেবায় ফেরানোর সম্ভাবনা এখন অনিশ্চিত হয়ে গেছে। বিআইডব্লিউটিসির দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ফেরিটি মেরামতের কাজের দায়িত্বে ছিলেন নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ড এবং বরিশাল অফিসের প্রকৌশল শাখার কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তারা ফেরি মেরামতের নামে নতুন যন্ত্রাংশের পরিবর্তে পুরোনো ও নিম্নমানের যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

এই অনিয়মের পেছনে ডকইয়ার্ডের একজন কর্মকর্তা এবং বরিশাল অফিসের প্রকৌশলী সিহাব উদ্দিন জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। জানা গেছে, ফেরিটি নারায়ণগঞ্জ ইস্পাহানি ২ নম্বর ডকইয়ার্ডে ২০২৪ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে গত ২১ মে পর্যন্ত মেরামতের জন্য পড়েছিল। সেখানে ফেরির হাইড্রোলিক পাম্প, মোটর, মূল ইঞ্জিন, সুকানের থ্রাস্টার, টিপ কনট্রোল সিস্টেম, ইঞ্জিন ওভার রোলিং, টিলার সুইচ এবং গিয়ার সুইচসহ ব্রিজ কন্ট্রোলের যাবতীয় মেরামত কাজ সম্পন্ন হয়। জানা গেছে, ডকে ফেরি একবার এলে সেই ফেরিটি মাসের পর মাস ফেলে রেখে মেরামতের জন্য বাজেট বাড়ানোর চেষ্টা চলে। এই কারণে ফেরিটির মেরামতের জন্য আড়াই বছর সময় নেওয়া হয়েছে, যা ১০ লাখের বেশি টাকা হিসাবা করা হয়েছে। পরবর্তীতে ২৬ মে ফেরিটিকে লাহারহাট ফেরিঘাটে পাঠানো হয়। তবে ঈদুল আজহার সময় ফেরিটি মাত্র সাতটি ট্রিপ দিয়েছেন এবং পুনরায় অচল হয়ে পড়ে। এর আগে, ২০২৪ সালের শুরুতে ফেরিটি লাহারহাটে সার্ভিসে ছিল। ফেরির সেকেন্ড মাস্টার রিয়াজ হোসেন জানান, ‘ফেরিটি হস্তান্তরের সময় আমরা ডকইয়ার্ড ব্যবস্থাপক আব্দুল্লাহ হাই আল হাদী এবং প্রকৌশলী এনামুলকে জানিয়েছিলাম, যন্ত্রপাতির ক্ষেত্রে ভিন্নতার কারণে ফেরি আমাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী ছিল না। কিন্তু তাঁরা আমাদের চাপ দিয়ে সেভাবেই ফেরিটি বুঝিয়ে দিয়ে যান।’ তবে নারায়ণগঞ্জের ডকইয়ার্ডে দায়িত্ব পালনকারী সহকারী প্রকৌশলী মো. এনামুল বলেন, ‘ফেরি মেরামত এবং যন্ত্রপাতি ক্রয়ের দায়িত্ব ছিলেন মেকানিক্যাল টেকনিশিয়ান সিহাব উদ্দিনের। তিনি জানেন এই মালপত্রের ভালো-মন্দের খবর।’ যন্ত্রাংশ ও মালপত্রের অভাব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এর দায় সিহাব উদ্দিনের।’ এই ঘটনার বিষয়ে বিআইডব্লিউটিসির নারায়ণগঞ্জ ডকের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ হাই আল হাদী জানান, ‘তারা দীর্ঘ সময় ধরে মেরামত করে জাহাজ বরিশালে পাঠিয়েছে। সেখানে হাইড্রোলিক পাম্প, মোটর, মেইন ইঞ্জিন, সুকানের থ্রাস্টার, টিপ কন্ট্রোল সিস্টেম মেরামত করা হয়েছিল।

পদক্ষেপের পর ট্রায়ালও দেওয়া হয়েছে। তারা লাহারহাটে কিছু ট্রিপও দিয়েছে। এখন কেন ফেরিটি ফের ফেলে রাখা হয়েছে, তা বরিশাল অফিস বলতে পারবে।’ আব্দুল্লাহ হাই আল হাদী দাবি করেন, ‘যন্ত্রাংশের অভাব ছিল। এই জন্য ডকে মেরামত করতে আড়াই বছর লেগেছে। যা করা হয়েছে, তা প্রধান কার্যালয়ের কেনা।’ বিআইডব্লিউটিসির বরিশালের প্রকৌশল শাখা জানিয়েছে, সন্ধ্যামালতীর পুনরায় অচল হওয়ার প্রধান কারণ হচ্ছে জাহাজের র‍্যামের হাইড্রোলিক পাম্প ও সুকানের হাইড্রোলিক পাম্প কাজ করছে না। অর্থাৎ, জাহাজের র‍্যাম ওঠানামা করতে পারছে না এবং সুকান ঘোরাতে পারছে না।

এদিকে বিপুল অর্থ ব্যয় করে সার্ভিসে আনা জাহাজটির মেরামতের উদ্যোগ না নেওয়া বরং সন্ধ্যামালতীর নোঙরের কন্ট্রোলার ও হাইড্রোলিক মোটরের পাম্প খুলে অন্য জাহাজে যুক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে ফেরিটির ১০-১২ জন কর্মী অলস সময় পার করছেন। অভিযোগ সম্পর্কে বিআইডব্লিউটিসির বরিশাল কার্যালয়ের মেকানিক্যাল টেকনিশিয়ান সিহাব উদ্দিন বলেন, ‘সন্ধ্যামালতী বর্তমানে লাহারহাটে মেরামতের জন্য রাখা আছে। আমরা মালপত্রের চাহিদা দিয়েছি।’ তবে আড়াই বছর মেরামত করার পর দ্রুত কীভাবে ফেরিটি অচল হয়ে পড়েছে, সে বিষয়ে কোনো উত্তর দেননি সিহাব। বিষয়টি জানাতে বিআইডব্লিউটিসি বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদ হাসানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি সাড়া দেননি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%