প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) ফেরি সন্ধ্যামালতী গত দুই বছর ধরে মেরামতের কাজের জন্য নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ডে ছিল। ফেরিটির মেরামত খরচ ১০ লাখের বেশি টাকা হয়েছে। ঈদুল আজহার আগে, ফেরিটিকে বরিশালের লাহারহাট ফেরিঘাটে পাঠানো হয়। কিন্তু ফেরিটি বরিশাল থেকে ভোলা নৌপথে মাত্র সাতটি ট্রিপ চালানোর পর ফের অসামর্থ হলো। বড় রকমের অর্থ ব্যয়ে সচল করা ফেরিটি এখন পুরোপুরি অকেজো হয়ে পড়েছে। ইতিমধ্যে ফেরির কিছু যন্ত্রাংশ বিআইডব্লিউটিসি অন্য ফেরিতে যুক্ত করছে। সেই প্রেক্ষিতে ফেরি সন্ধ্যামালতীকে যাত্রীসেবায় ফেরানোর সম্ভাবনা এখন অনিশ্চিত হয়ে গেছে। বিআইডব্লিউটিসির দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ফেরিটি মেরামতের কাজের দায়িত্বে ছিলেন নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ড এবং বরিশাল অফিসের প্রকৌশল শাখার কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তারা ফেরি মেরামতের নামে নতুন যন্ত্রাংশের পরিবর্তে পুরোনো ও নিম্নমানের যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
এই অনিয়মের পেছনে ডকইয়ার্ডের একজন কর্মকর্তা এবং বরিশাল অফিসের প্রকৌশলী সিহাব উদ্দিন জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। জানা গেছে, ফেরিটি নারায়ণগঞ্জ ইস্পাহানি ২ নম্বর ডকইয়ার্ডে ২০২৪ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে গত ২১ মে পর্যন্ত মেরামতের জন্য পড়েছিল। সেখানে ফেরির হাইড্রোলিক পাম্প, মোটর, মূল ইঞ্জিন, সুকানের থ্রাস্টার, টিপ কনট্রোল সিস্টেম, ইঞ্জিন ওভার রোলিং, টিলার সুইচ এবং গিয়ার সুইচসহ ব্রিজ কন্ট্রোলের যাবতীয় মেরামত কাজ সম্পন্ন হয়। জানা গেছে, ডকে ফেরি একবার এলে সেই ফেরিটি মাসের পর মাস ফেলে রেখে মেরামতের জন্য বাজেট বাড়ানোর চেষ্টা চলে। এই কারণে ফেরিটির মেরামতের জন্য আড়াই বছর সময় নেওয়া হয়েছে, যা ১০ লাখের বেশি টাকা হিসাবা করা হয়েছে। পরবর্তীতে ২৬ মে ফেরিটিকে লাহারহাট ফেরিঘাটে পাঠানো হয়। তবে ঈদুল আজহার সময় ফেরিটি মাত্র সাতটি ট্রিপ দিয়েছেন এবং পুনরায় অচল হয়ে পড়ে। এর আগে, ২০২৪ সালের শুরুতে ফেরিটি লাহারহাটে সার্ভিসে ছিল। ফেরির সেকেন্ড মাস্টার রিয়াজ হোসেন জানান, ‘ফেরিটি হস্তান্তরের সময় আমরা ডকইয়ার্ড ব্যবস্থাপক আব্দুল্লাহ হাই আল হাদী এবং প্রকৌশলী এনামুলকে জানিয়েছিলাম, যন্ত্রপাতির ক্ষেত্রে ভিন্নতার কারণে ফেরি আমাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী ছিল না। কিন্তু তাঁরা আমাদের চাপ দিয়ে সেভাবেই ফেরিটি বুঝিয়ে দিয়ে যান।’ তবে নারায়ণগঞ্জের ডকইয়ার্ডে দায়িত্ব পালনকারী সহকারী প্রকৌশলী মো. এনামুল বলেন, ‘ফেরি মেরামত এবং যন্ত্রপাতি ক্রয়ের দায়িত্ব ছিলেন মেকানিক্যাল টেকনিশিয়ান সিহাব উদ্দিনের। তিনি জানেন এই মালপত্রের ভালো-মন্দের খবর।’ যন্ত্রাংশ ও মালপত্রের অভাব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এর দায় সিহাব উদ্দিনের।’ এই ঘটনার বিষয়ে বিআইডব্লিউটিসির নারায়ণগঞ্জ ডকের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ হাই আল হাদী জানান, ‘তারা দীর্ঘ সময় ধরে মেরামত করে জাহাজ বরিশালে পাঠিয়েছে। সেখানে হাইড্রোলিক পাম্প, মোটর, মেইন ইঞ্জিন, সুকানের থ্রাস্টার, টিপ কন্ট্রোল সিস্টেম মেরামত করা হয়েছিল।
পদক্ষেপের পর ট্রায়ালও দেওয়া হয়েছে। তারা লাহারহাটে কিছু ট্রিপও দিয়েছে। এখন কেন ফেরিটি ফের ফেলে রাখা হয়েছে, তা বরিশাল অফিস বলতে পারবে।’ আব্দুল্লাহ হাই আল হাদী দাবি করেন, ‘যন্ত্রাংশের অভাব ছিল। এই জন্য ডকে মেরামত করতে আড়াই বছর লেগেছে। যা করা হয়েছে, তা প্রধান কার্যালয়ের কেনা।’ বিআইডব্লিউটিসির বরিশালের প্রকৌশল শাখা জানিয়েছে, সন্ধ্যামালতীর পুনরায় অচল হওয়ার প্রধান কারণ হচ্ছে জাহাজের র্যামের হাইড্রোলিক পাম্প ও সুকানের হাইড্রোলিক পাম্প কাজ করছে না। অর্থাৎ, জাহাজের র্যাম ওঠানামা করতে পারছে না এবং সুকান ঘোরাতে পারছে না।
এদিকে বিপুল অর্থ ব্যয় করে সার্ভিসে আনা জাহাজটির মেরামতের উদ্যোগ না নেওয়া বরং সন্ধ্যামালতীর নোঙরের কন্ট্রোলার ও হাইড্রোলিক মোটরের পাম্প খুলে অন্য জাহাজে যুক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে ফেরিটির ১০-১২ জন কর্মী অলস সময় পার করছেন। অভিযোগ সম্পর্কে বিআইডব্লিউটিসির বরিশাল কার্যালয়ের মেকানিক্যাল টেকনিশিয়ান সিহাব উদ্দিন বলেন, ‘সন্ধ্যামালতী বর্তমানে লাহারহাটে মেরামতের জন্য রাখা আছে। আমরা মালপত্রের চাহিদা দিয়েছি।’ তবে আড়াই বছর মেরামত করার পর দ্রুত কীভাবে ফেরিটি অচল হয়ে পড়েছে, সে বিষয়ে কোনো উত্তর দেননি সিহাব। বিষয়টি জানাতে বিআইডব্লিউটিসি বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদ হাসানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি সাড়া দেননি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন