বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৮:২২ পি.এম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় বিদ্যুতের কারণে সফিক মিয়া (৪২) নামে একজন ইলেক্ট্রিশিয়ানের মৃত্যু ঘটেছে। ঘটনাটি বুধবার রাত ১টার দিকে ঘটে আখাউড়া চেকপোস্ট এলাকার সড়কের পাশে। পরে স্থানীয়রা সফিক মিয়াকে উদ্ধার করে আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত সফিক মিয়া, কেন্দুয়াই গ্রামের মৃত আব্দুল মালেকের ছেলে, যিনি তার পরিবারের সঙ্গে বাস করতেন। পরিবারের অভিযোগ রয়েছে যে, বুধবার রাত ১টার দিকে হেলাল মিয়া ও জহির মিয়া নামক দুই ব্যক্তি সফিক মিয়াকে তার ঘর থেকে ডেকে নিয়ে যান। এর পর পরই সফিক বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন।
নিহতের ভাগনে সোহাগ মিয়া বলেন, হেলাল মিয়া ও জহির মিয়া ভেকু দিয়ে বালু উত্তোলন করার সময় বিদ্যুতের মূল লাইনের তার ছিঁড়ে যায়। তখন তারা গভীর রাতে সফিক মিয়াকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে ওই ছেঁড়া তার মেরামতের জন্য নিয়ে যান। পরে আমরা জানতে পারি, সফিক বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েছেন। এভাবে জেনে-শুনে তাকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।
একই গ্রামের আতিকুল ইসলাম জানান, রাতে ফুটবল খেলা দেখতে গাজীর বাজারে ছিলেন। তখন হেলাল মিয়া ও জহির মিয়াকে মোটরসাইকেলে সফিক মিয়াকে পূর্ব দিকে নিয়ে যেতে দেখা যায়। কিছুক্ষণ পর তাকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাবেদ উল ইসলাম জানিয়েছেন, মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনা সম্পর্কে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা এলাকা থেকে হত্যাকাণ্ড, ডাকাতি এবং ছিনতাইসহ বিভিন্ন ঘটনার জন্য দায়ী ১৬ মামলার পলাতক আসামি রুবেল হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার দুপুরের সময় দত্তকুশা গ্রামে তার নিজ বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি ওই গ্রামের আকবার আলীর সন্তান।
সলঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আছলাম আলী জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে রুবেল হোসেন গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিয়ে পলাতক ছিলেন। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরও জানান, রুবেলের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগও বিদ্যমান। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর তাকে আদালতে প্রেরণ করা হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর দপ্তর যৌক্তিক স্থানে স্থাপনের দাবিতে বৃহস্পতিবার সকাল-সন্ধ্যা সময়ে শান্তিপূর্ণভাবে হরতাল পালিত হয়েছে। ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা বাস্তবায়ন সমন্বয় পরিষদের উদ্যোগে এ কর্মসূচিটি দাঁতমারা, বাগানবাজার ও নারায়ণহাট ইউনিয়নে পালিত হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ফেনী-চট্টগ্রাম-রামগড়-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়ক এবং হেয়াকো-গহিরা সড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল। হরতালে তিন ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
সমন্বয় পরিষদের সমন্বয়ক নুরুল আমিন আজাদ জানান, যৌক্তিক স্থানে উপজেলা সদর দপ্তর স্থাপনের দাবিতে মানববন্ধন, সড়ক অবরোধ, সংবাদ সম্মেলন ও স্মারকলিপিসহ একাধিক কর্মসূচি পালন করা হয়, কিন্তু দাবি বাস্তবায়ন না হওয়ায় হরতালের মতো কর্মসূচি দিতে তাঁরা বাধ্য হয়েছেন।
দাঁতমারা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও ফটিকছড়ি উত্তর প্রেসক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন জানান, বাগানবাজার, দাঁতমারা ও নারায়ণহাট ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে হরতালে অংশগ্রহণ করেছেন।
ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে বলেন, হরতাল শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে এবং কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। এ সময়ে চারটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে ছিল।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায়, চার বছরের একটি শিশু ধর্ষণের চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগে আলা মৃধা (৪৮) নামক একজনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। এই ঘটনায় কলাপাড়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করা হয়েছে। গত বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেলে উপজেলার লালুয়া ইউনিয়নের ছোনখোলা গ্রামে ঘটনাটি ঘটে।
মামলার এজাহার এবং পারিবারিক সূত্র অনুযায়ী জানা গেছে, শিশুটির মা জীবিকার যাত্রায় ঢাকায় পোশাক কারখানায় কর্মরত। শিশুটি ছোনখোলা গ্রামে তার নানির বাড়িতে অবস্থান করে। বুধবার দুপুরে, শিশুটি ঘরের বাইরের খেলার সময় আলা মৃধা শিশুটিকে ডেকে প্রতিবেশী শহিদুলের বাড়িতে নিয়ে যায়। ওই বাড়িতে কেউ না থাকায় শহিদুল শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করে এবং আলা মৃধা বাইরে থেকে পাহারা দিচ্ছিল। এ সময় শিশুটির চিৎকার শুনে স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিশুটিকে উদ্ধার করে। পরবর্তীতে, স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয় এবং অভিযুক্ত শহিদুলকে পালিয়ে যেতে আলা মৃধা সহায়তা করে।
কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় দুজন পক্ষকে আসামি করে থানায় মামলা করা হয়েছে। এজাহারভুক্ত আসামি আলা মৃধাকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। প্রধান অভিযুক্ত শহিদুলকে গ্রেফতারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় অনুষ্ঠান শ্রী শ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা উৎসব শুরু হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার, রাজধানী ঢাকার স্বামীবাগ ইসকন মন্দিরে এই উপলক্ষে একটি বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিকেল ৩টার দিকে অগণিত ভক্তরা স্বামীবাগ ইসকন মন্দির থেকে জগন্নাথ, বলদেব ও শুভদ্রাকে বহনকারী রথ ঢাকেশ্বরী মন্দিরের দিকে রওয়ানা দেন। এই সময় ভক্তরা নেচে গেয়ে কীর্তন করতে থাকেন। আগামী ২৪ জুলাই উল্টো রথযাত্রার মধ্য দিয়ে এই উৎসব শেষ হবে।
বিভিন্ন আয়োজনে ইসকন ৯ দিনব্যাপী শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা উৎসবের আয়োজন করেছে। এর আগে, বৃহস্পতিবার সকাল আটটায় বিশ্বশান্তি ও মঙ্গল কামনায় অগ্নिहোত্র যজ্ঞের মধ্য দিয়ে রথযাত্রা মহোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। বেলা একটায় স্বামীবাগ ইসকন মন্দির অডিটরিয়ামে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়, সেখানেও বক্তব্য প্রদান করা হয় এবং ৩ টার দিকে রথযাত্রার উদ্বোধন করা হয়। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে সেখানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ইসকন বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক নিতাই স্বামী। এই অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও নৃ-গোষ্ঠীবিষয়ক বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার, হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান তপন মজুমদার, ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি গোকুল ভি কে, বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা, ঢাকা মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক তাপস চন্দ্র পাল, বিএনপির সহধর্মবিষয়ক সম্পাদক অমলেন্দু দাস অপু প্রমুখ।
রথযাত্রা স্বামীবাগ আশ্রম থেকে শুরু হয়ে জয়কালী মন্দির, ইত্তেফাক মোড়, শাপলা চত্বর, দৈনিক বাংলা মোড়, পল্টন মোড়, জাতীয় প্রেসক্লাব, হাইকোর্ট, দোয়েল চত্বর, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, জগন্নাথ হল, পলাশী মোড় হয়ে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে গিয়ে শেষ হয়।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস হচ্ছে যে জগন্নাথদেব হলেন জগতের নাথ বা অধীশ্বর। জগৎ হচ্ছে বিশ্ব, আর নাথ হচ্ছেন ঈশ্বর। তাই জগন্নাথ হচ্ছেন জগতের ঈশ্বর। তার অনুগ্রহ পেলে মানুষের মুক্তিলাভ হয়। জীবনরূপে তাকে আর জন্ম নিতে হয় না। এই বিশ্বাস থেকেই রথের ওপর জগন্নাথ দেবের প্রতিমূর্তি রেখে রথ নিয়ে যাত্রা করেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।
শুভ রথযাত্রা উপলক্ষে ঢাকায় আন্তর্জাতিক কৃষ্ণ ভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) রথযাত্রা উপলক্ষে ৯ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। এই অনুষ্ঠান মালায় রয়েছে হরিনাম সংকীর্তন, বিশ্ব শান্তি ও মঙ্গল কামানায় অগ্নিহোত্র যজ্ঞ, মহাপ্রসাদ বিতরণ, আলোচনা সভা, পদাবলী কীর্তন, আরতি কীর্তন, ভাগবত কথা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শ্রীমদ্ভাগবত গীতা পাঠ, ধর্মীয় চলচ্চিত্র প্রদর্শন ও ধর্মীয় নাটক মঞ্চায়ন।
রথযাত্রার মহোৎসবে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বরাবরের মতো পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
এছাড়া, শোভাযাত্রাসহ উৎসব উপলক্ষে নিরাপত্তায় নিজস্ব পাঁচ শতাধিক প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক নিয়োজিত ছিলো।
আগামী ২৪ জুলাই মঙ্গলবার বিকাল ৩টায় উল্টো রথের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা একই পথে বিপরীত দিক থেকে অর্থাৎ ঢাকেশ্বরী মন্দির থেকে স্বামীবাগ আশ্রমে আনা হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ