প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার এক মাস না পেরোলেও লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে আবারও প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। নাবাতিয়েহ এলাকায় ড্রোন হামলায় চারজন নিহত হয়েছেন। বৈরুতের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, অব্যাহত ইসরাইলি হামলা যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নকে বাধাগ্রস্ত করছে। অন্যদিকে, সীমান্তজুড়ে ধ্বংসস্তূপ ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে বর্তমানে ঘরে ফিরতে পারছেন না বাস্তুচ্যুত লাখো মানুষ।
দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ আল-ফাওকা এলাকায় একটি গাড়িতে ড্রোন হামলা চালিয়ে কয়েকজনকে হত্যা করে ইসরাইল। নিহতদের মধ্যে রয়েছে একটি সরকারি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, তার মা, এক গৃহকর্মী এবং সিরিয়ার এক নাগরিক।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম অনুযায়ী, তারা নিজ বাড়ির পরিস্থিতি দেখতে গেলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হন। ইসরাইলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, সীমান্তবর্তী নিরাপত্তা অঞ্চলের কাছে তাদের বাহিনীর জন্য হুমকি হয়ে ওঠা সন্দেহভাজনদের লক্ষ্য করেই এ হামলা চালানো হয়েছে।
শুধু নাবাতিয়েহ নয়, একই দিনে বিনতে জুবেইল জেলার কৌনিন ও বারাআশিত এলাকাতেও বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। বারাআশিতে বেসামরিকদের জানাজার সময়েই নতুন করে হামলা হয়। কৌনিনের আবাসিক বাড়িঘর লক্ষ্য করে বোমা ফেলার অভিযোগ তুলেছে লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে মানুষ যাতে ফিরতে না পারে, সে জন্যই ধারাবাহিকভাবে বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করা হচ্ছে।
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন্স বলেছেন, দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইলের দখল ও অব্যাহত হামলার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। চুক্তি অনুযায়ী ইসরাইলের সেনা প্রত্যাহার, লেবাননের সেনাবাহিনীর মোতায়েন এবং সীমান্তে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার কথা থাকলেও বাস্তবে কোনো পক্ষই পুরোপুরি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেনি। তাই সীমান্ত পরিস্থিতি এখনো অস্থির রয়ে গেছে।
চলমান সংঘাতে দক্ষিণ লেবাননে ৯০ হাজারের বেশি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে বলে সরকারি জরিপে উঠে এসেছে। প্রায় ছয় লাখ মানুষ এখনো নিজ এলাকায় ফিরতে পারেননি। যারা ফিরেছেন, তারাও প্রতিদিন বিস্ফোরণের শব্দ আর নতুন হামলার আশঙ্কার মধ্যে বসবাস করছেন।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ থেকে শুরু হওয়া সর্বশেষ সংঘাতে দেশটিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৩১৯ জনে, আহত হয়েছেন ১২ হাজার ২০৩ জনেরও বেশি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন