০৫:৩৩ পি.এম
সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারির জন্য ইন্টারপোলের মাধ্যমে আবেদন করা হয়েছে। এটি সূচিত হয়েছে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের সামনে বিষয়টি নিশ্চিত করার পর।
এটি জানা গেছে যে, ২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকার মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে অভিযান এবং পরবর্তী দিন নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে গুলির ঘটনার কারণে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সাবেক সেনাপ্রধান এবং তৎকালীন বর্ডারগার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মহাপরিচালক জেনারেল আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে এই আবেদন করা হয়েছে।
এই বিষয়ে বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং পুলিশের ইন্টারপোল ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোর (এনসিবি) অতিরিক্ত আইজিকে চিঠি দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানান, মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ঘটে যাওয়া হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রথম পলাতক আসামিকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য ইন্টারপোলের মাধ্যমে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: বিশ্বজিৎ হত্যা মামলার আপিলের চূড়ান্ত শুনানি ৮ ডিসেম্বর
তিনি বলেছেন, জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ আশঙ্কা করা হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য বা অন্য কোনো দেশে পালিয়ে গেছেন। আশা করা হচ্ছে, ইন্টারপোলের মাধ্যমে তাকে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা সম্ভব হবে।
আদেশক্রমে আরও বলা হয়েছে যে, মামলার অন্যান্য পলাতক আসামিদের যারা বিদেশে অবস্থান করছেন, তাদেরও দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিতে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থার (ইন্টারপোল) সংশ্লিষ্ট বিধিমালার ভিত্তিতে আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারির প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
এছাড়া, চিঠিতে অগ্রগতির বিষয় জানাতে এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনকে অবহিত করতে বলা হয়েছে। এই চিঠিটি বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক এবং পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (এনসিবি), বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তরেও পাঠানো হয়েছে।
এর আগে গত ২৭ জুলাই ঢাকার মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত পলাতক দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গ্রহণ করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। সেই সঙ্গে মামলার পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি এবং অন্য মামলায় গ্রেপ্তার আসামিদের ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: সার ডিলার নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিতের ঘোষণা আইনমন্ত্রীর
শেখ হাসিনা ছাড়া মামলার অন্যান্য আসামিদের তালিকায় রয়েছেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু, তথ্যমন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ। এছাড়া আসামিদের মধ্যে রয়েছেন তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, তৎকালীন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, তৎকালীন যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, সাবেক সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন মাহমুদ এবং গণজাগরণ মঞ্চের আহ্বায়ক ডা. ইমরান এইচ সরকার। সাংবাদিকদের মধ্যে আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, একাত্তর মিডিয়া লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু এবং সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন