বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:০২ পি.এম
বাংলাদেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি ক্রমশ ভয়ংকর হয়ে উঠছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এডিস মশাবাহিত এই রোগটিতে আক্রান্তের সংখ্যা এবং মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বর্তমানে ডেঙ্গুতে মৃত্যুহীন দিনের সংখ্যা অত্যন্ত কম। এই অবস্থায় ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে কার্যকরী এবং টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধ এবং সচেতনতা বৃদ্ধি করার উদ্দেশ্যে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ডেঙ্গুর প্রাথমিক লক্ষণগুলো উল্লেখ করে একটি সতর্কবার্তা প্রকাশ করেছে।
বার্তায় জানানো হয়েছে, যদি কেউ ডেঙ্গুর প্রাথমিক লক্ষণগুলোর মধ্যে কোনো একটি লক্ষণ অনুভব করেন, তবে অবিলম্বে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।
ডব্লিউএইচও’র উল্লেখিত ডেঙ্গুর প্রাথমিক লক্ষণগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে তীব্র মাথা ব্যথা; চোখের পেছনের দিকে ব্যথা; হাড়ের জোড়া এবং মাংসপেশিতে ব্যথা; বমি বমি ভাব; বমি করা এবং চামড়ায় লালচে ছোট ছোট ফুসকুড়ি ওঠা।
এসব লক্ষণের যেকোনোটি দেখা দিলে সময়মতো চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
এদিকে, চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে প্রাণহানির সংখ্যা ইতোমধ্যে ২০০ ছাড়িয়ে গেছে। শুধু চলতি সেপ্টেম্বর মাসের ২২ দিনে মৃত্যু হয়েছে ১০৪ ডেঙ্গু রোগীর। সর্বশেষ বুধবারের (২৩ সেপ্টেম্বর) আপডেট অনুযায়ী, এডিস মশাবাহিত রোগটি ৬ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। একই দিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৮৬৮ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ বছরে ডেঙ্গু ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ২০০০ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ২৯৬ জনের মৃত্যু হয়েছে, কিন্তু পরবর্তী ৭ বছর ৯ মাসে মশাবাহিত রোগটিতে ৩ হাজার ৪৬৬ জন মারা গেছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এই সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৭ লাখ ৮৬ হাজার ৯১ জন; আগের দেড় যুগে যা ছিল ৫০ হাজার ২০৮।
অর্থাৎ, শেষ ৭ বছর ৯ মাসে আগের দেড় যুগের তুলনায় ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়েছে ১১ দশমিক ৭১ গুণ এবং আক্রান্ত বেড়েছে ১৫ দশমিক ৬৬ গুণ।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এডিস মশার প্রজনন নিয়ন্ত্রণে দুর্বলতা, আক্রান্তের সংখ্যা কম নথিভুক্ত হওয়া, হাসপাতালে ভর্তিতে দেরি করা এবং একই ব্যক্তি বারবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়া এই ভয়াবহ পরিস্থিতির জন্য দায়ী।
তাদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বাংলাদেশের পরিবেশের সঙ্গে এডিস মশা বেশ ভালোভাবে খাপ খাইয়ে নিয়েছে। তাই ডেঙ্গুকে এখন আর শুধুমাত্র মৌসুমি রোগ হিসেবে দেখা সম্ভব নয়। অল্প পরিমাণ জমে থাকা পানিতেও এই মশা বংশবিস্তার করতে সক্ষম। এমনকি ফেলে দেওয়া ছোট পাত্রের ভেতরেও এডিস মশার প্রজনন ঘটে। এর বিস্তার এখন আর কেবল শহরাঞ্চলে সীমাবদ্ধ নেই, এটি ক্রমেই গ্রামাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং বারবার সংক্রমণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। একজন ব্যক্তি একাধিকবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হতে পারেন। যেসব জনগোষ্ঠীর মধ্যে ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা কম বা শূন্যের কোটায় ছিল, তারাও এখন এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে টেকসই ব্যবস্থা গড়ে তুলতে স্বল্পমেয়াদি অভিযানের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি, সমন্বিত এবং জনকেন্দ্রিক জনস্বাস্থ্য কর্মসূচির প্রয়োজন বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী একটি বাসে যাত্রী হিসেবে মো. শহিদুল ইসলাম (৪২) যাচ্ছিলেন। তার হাতে ছিল দুটি কোর্ট ফাইল। বাহ্যিকভাবে সাধারণ নথিপত্র রাখার ফাইল মনে হলেও, সেগুলোর ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকানো ছিল ১৯ হাজার ৮৪৫ পিস ইয়াবা।
চট্টগ্রাম-ঢাকা মহাসড়কের সীতাকুণ্ড এলাকা থেকে প্রায় ৬০ লাখ টাকা মূল্যের এই ইয়াবাসহ তাকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-৭)।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় এসআরবি।
গ্রেপ্তার হওয়া মো. শহিদুল ইসলাম খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা উপজেলার দরগাপাড়ার আলী মিয়ার সন্তান। তিনি দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম শহর থেকে ইয়াবা কিনে বেশি দামে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে আসছিলেন বলে জানিয়েছে এসআরবি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআরবি জানতে পারে যে, এক মাদক কারবারি চট্টগ্রাম শহর থেকে যাত্রীবাহী বাসে করে ইয়াবার চালান নিয়ে ঢাকার দিকে যাচ্ছেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী ইউনিয়নের লালবাগ এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনে অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়। পৌনে ১১টার দিকে মহিউদ্দিন মেরিন ইঞ্জিন স্টোরের সামনে স্টারলাইন পরিবহনের একটি বাস এলে থামার সংকেত দেওয়া হয়। পরে বাসটিতে তল্লাশি চালিয়ে যাত্রীবেশে থাকা শহিদুল ইসলামকে আটক করা হয়।
সংস্থাটি জানায়, আটক শহিদুলের কাছে থাকা অ্যাশ রঙের দুটি কোর্ট ফাইলের ভেতর কসটেপ দিয়ে মোড়ানো নীল রঙের পলিজিপার প্যাকেট পাওয়া যায়। সেগুলোর ভেতর থেকে মোট ১৯ হাজার ৮৪৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৫৯ লাখ ৫৪ হাজার টাকা।
এ বিষয়ে এসআরবি-৭ চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) এ আর এ মোজাফফর হোসেন বলেন, গ্রেপ্তার শহিদুল ইসলাম ও উদ্ধার করা ইয়াবা পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সীতাকুণ্ড থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সেপ্টেম্বর মাসের চতুর্থ বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিশ্বব্যাপী রিমেম্বার মি থার্সডে পালিত হচ্ছে। এই দিবসের মূল উদ্দেশ্য হলো আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত এবং নতুন পরিবারের অপেক্ষায় থাকা অসংখ্য প্রাণীর প্রতি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা। একই সঙ্গে, যেসব প্রাণী এখনও নিরাপদ ও স্থায়ী আবাস খুঁজে পায়নি, তাদের স্মরণ এবং প্রাণী দত্তক নেওয়ার বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করা হয় এই দিনে।
একটি প্রাণীকে পরিবারের সদস্য হিসেবে দত্তক নেওয়া মানুষের জীবনে আনন্দ ও পরিবর্তন আনতে পারে, পাশাপাশি আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা প্রাণীটিও একটি নিরাপদ ও ভালোবাসাপূর্ণ বাড়ি পেতে পারে। অনেক প্রাণী দীর্ঘ সময় ধরে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকার পরেও নতুন পরিবার খুঁজে পায় না। রিমেম্বার মি থার্সডে সেই প্রাণীদের কথা মনে করিয়ে দেয়।
যেভাবে শুরু হলো রিমেম্বার মি থার্সডে
রিমেম্বার মি থার্সডে একটি আন্তর্জাতিক সচেতনতামূলক উদ্যোগ। ২০১২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হেলেন উডওয়ার্ড অ্যানিমেল সেন্টার এই উদ্যোগের সূচনা করে। প্রতিষ্ঠানটি সান দিয়েগো কাউন্টিতে অবস্থিত এবং দীর্ঘদিন ধরে আশ্রয়কেন্দ্রের প্রাণীদের জন্য স্থায়ী ও নিরাপদ আবাস খুঁজে দেওয়ার কাজ করে আসছে।
প্রতি বছর সেপ্টেম্বরের চতুর্থ বৃহস্পতিবার দিবসটি পালিত হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই দিবসের বার্তা ছড়িয়ে দিয়ে মানুষকে প্রাণী দত্তক নেওয়ার বিষয়ে সচেতন করা হয়।
দিবসটির প্রচারে ডায়ান কিটন, ইয়ান সোমারহাল্ডার ও ওয়াইনোনা জাডসহ বেশ কয়েকজন পরিচিত তারকাও যুক্ত হয়েছেন। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকে এই উদ্যোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১০০ কোটিরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছেছে। ২০১৭ সাল নাগাদ ৩৩ কোটিরও বেশি মানুষ প্রাণী দত্তক নেওয়ার বিষয়ে সচেতনতা তৈরির এই উদ্যোগে যুক্ত হন।
দত্তক নেওয়ার মাধ্যমে একটি প্রাণীর জীবন বদলে যেতে পারে। রিমেম্বার মি থার্সডে পালনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো আশ্রয়কেন্দ্র থেকে কোনো প্রাণী দত্তক নেওয়া। ভালোবাসা ও যত্নের সঙ্গে একটি প্রাণীকে পরিবারের সদস্য করে নিলে তার জীবনও বদলে যেতে পারে।
যারা নতুন পোষ্য নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তারা স্থানীয় প্রাণী আশ্রয়কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ করে দত্তক নেওয়ার সুযোগ সম্পর্কে জানতে পারেন। একটি প্রাণী দত্তক নিলে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা অন্য একটি প্রাণীর জন্যও জায়গা তৈরি হতে পারে।
পাশে দাঁড়ানোর আরও সুযোগ
সবাই প্রাণী দত্তক নিতে না পারলেও আশ্রয়কেন্দ্রের প্রাণীদের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ রয়েছে। স্থানীয় আশ্রয়কেন্দ্রে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করা যায়। প্রাণীদের খাবার দেওয়া, যত্ন নেওয়া, কুকুরকে হাঁটতে নিয়ে যাওয়া, তাদের শরীরচর্চার সুযোগ করে দেওয়া কিংবা আশ্রয়কেন্দ্র পরিষ্কার রাখার মতো কাজেও সহযোগিতা করা যায়।
এছাড়া প্রাণী দত্তকের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে পরিবার, বন্ধু ও পরিচিতদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা যেতে পারে।
ছড়িয়ে দেওয়া যায় সচেতনতার বার্তা
রিমেম্বার মি থার্সডের বার্তা ছড়িয়ে দিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। দত্তক নেওয়া প্রাণীর ছবি, গল্প ও অভিজ্ঞতা অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া যায়।
একটি পোষ্য কীভাবে জীবনে আনন্দ এনেছে, তার সঙ্গে কাটানো বিশেষ মুহূর্ত কিংবা দত্তক নেওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরলে অন্যরাও আশ্রয়কেন্দ্রের প্রাণীদের কথা ভাবতে উৎসাহিত হতে পারেন।
নতুন ঘর না পাওয়া প্রাণীদের স্মরণ
রিমেম্বার মি থার্সডের আরেকটি প্রতীকী আয়োজন হলো আশ্রয়কেন্দ্র থেকে কখনো নতুন বাড়িতে যেতে না পারা প্রাণীদের স্মরণে মোমবাতি জ্বালানো। কেউ বাড়িতে একাই মোমবাতি জ্বালিয়ে অংশ নিতে পারেন, আবার বন্ধু বা পরিবারের সদস্যদের নিয়েও ছোট আয়োজন করা যায়।
মোমবাতির আলো যেন মনে করিয়ে দেয়—আজও অনেক প্রাণী একটি নিরাপদ আশ্রয় ও ভালোবাসাপূর্ণ পরিবারের অপেক্ষায় রয়েছে।
রিমেম্বার মি থার্সডে তাই শুধু একটি দিবস নয়; এটি আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা প্রাণীদের কথা মনে করার, তাদের জন্য একটি নিরাপদ পরিবারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরার এবং প্রাণী দত্তকের গুরুত্ব সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করার একটি আন্তর্জাতিক উদ্যোগ।
উল্লেখ্য, বিশ্ব প্রাণী স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউওএএইচ) ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক ব্যাধি নিয়ন্ত্রণ (সিডিসি) শাখার বিভিন্ন সমীক্ষা ও প্রাক্কলন অনুযায়ী, বাংলাদেশে মোট কুকুরের সংখ্যা প্রায় ১৭ লাখ, যার মধ্যে ৮৩ শতাংশের বেশি বা প্রায় ১৪–১৫ লাখ বেওয়ারিশ। বিভিন্ন সময়ে ঢাকা সিটি করপোরেশনের জরিপ এবং প্রাণিকল্যাণ সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, রাজধানীর রাস্তায় আনুমানিক ৩৭ হাজার থেকে ৫০ হাজার বেওয়ারিশ কুকুর রয়েছে। তবে দেশে বেওয়ারিশ বিড়ালের সুনির্দিষ্ট সরকারি বা বেসরকারি পরিসংখ্যান নেই; প্রাণিকল্যাণ কর্মীদের মতে, ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বড় শহরের অলিগলি, কাঁচাবাজার ও ডাস্টবিন এলাকায় বিপুল সংখ্যক আশ্রয়হীন বিড়াল রয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
একসময় ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার গ্রামাঞ্চলে প্রায় প্রতিটি বাড়ির আঙিনা, পুকুরপাড় অথবা জমির আইলে গাব, বাতাবি লেবু, কদবেল, চালতা, রয়েল, ঢেউয়া, পিচফল, ডালিম, বরই, জাম, জামরুল, কাঠবাদাম, কামরাঙা, আতাসহ বিভিন্ন দেশীয় ফলের গাছ দেখা যেত। মৌসুম এলেই এসব গাছে ফল ধরত এবং পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের মধ্যে ফল ভাগ করে দেওয়া হতো। তবে সময়ের সাথে সাথে সেই চিত্র পরিবর্তিত হচ্ছে। দেশীয় ফলের গাছ কমে যাচ্ছে এবং পরিকল্পিতভাবে আমের বাগান বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সদর ইউনিয়নের সদরপুর, কৃষ্ণপুর, বিষ্ণুপুর, ভাষানচর, ঢেউখালী, আকোটেরচর, চরমানাইর, চরনাসিরপুর এবং নারিকেলবাড়িয়া সহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় একসময় বাড়ির আশপাশে প্রচুর দেশীয় ফলের গাছ ছিল। বর্তমানে অনেক বাড়িতে পুরোনো গাছ নেই। বসতবাড়ি সম্প্রসারণ, নতুন স্থাপনা নির্মাণ এবং জায়গার সংকটের কারণে অনেক পুরোনো গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। সেইসাথে নতুন করে দেশীয় ফলের চারা লাগানোর প্রবণতাও কমে গেছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, বাড়ির জায়গা সংকুচিত হওয়া, কৃষিজমির ব্যবহার পরিবর্তন, পুরোনো গাছের বয়স, অপরিকল্পিতভাবে গাছ কাটা এবং নতুন চারা না লাগানোর কারণে দেশীয় ফলের গাছের সংখ্যা কমছে। বিদেশি এবং বাণিজ্যিক ফলের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেকেই দ্রুত আর্থিক লাভের আশায় ফলের বাগান করার দিকে ঝুঁকছেন।
এতে একদিকে স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠা দেশীয় ফলের গাছ কমছে, অন্যদিকে পরিকল্পিত বাণিজ্যিক ফলের বাগান বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক ফল চাষের পাশাপাশি দেশীয় ফলের গাছ টিকিয়ে রাখার উদ্যোগও প্রয়োজন। কারণ এসব গাছ শুধু ফলের উৎস নয়, গ্রামীণ পরিবেশ এবং স্থানীয় জীববৈচিত্র্যেরও অংশ।
তবে দেশীয় ফলের গাছ কমলেও সদরপুরের বিভিন্ন এলাকায় আমের বাগান বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে আম্রপালি এবং হাড়িভাঙা জাতের আমের চারা লাগাতে কৃষক এবং পরিবারগুলো আগ্রহী হচ্ছেন। কম জায়গায় বাগান করা যায়, বাজারে চাহিদা রয়েছে এবং ফল বিক্রি করে আয় করা সম্ভব হওয়ায় এ জাতের আমের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
মৌসুমে সদরপুরের বিভিন্ন বাজারে বাতাবি লেবু, কদবেল এবং ডালিমসহ দেশীয় ফলের চাহিদা থাকলেও স্থানীয় সরবরাহ আগের তুলনায় কমে গেছে। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই এসব ফল বাইরে থেকে এনে বিক্রি করতে হচ্ছে। আকার এবং মানভেদে একটি বাতাবি লেবু ৫০ থেকে ১০০ টাকা বা তারও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
সদরপুর বাজারের ফল ক্রেতা মহসিন মিয়া বলেন, "আগে বাড়ির আশপাশেই বাতাবি লেবুসহ বিভিন্ন দেশীয় ফল পাওয়া যেত। এখন অনেক ফল বাজার থেকে কিনতে হয়। বাড়িতে আবার দেশীয় ফলের গাছ থাকা দরকার।"
আরেক ফল বিক্রেতা রুবেল হোসেন বলেন, "আগের তুলনায় অনেক দেশীয় ফল কম পাওয়া যায়। চাহিদা রয়েছে, কিন্তু স্থানীয় সরবরাহ কম।"
সদরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাবিবুল বাশার চৌধুরী বলেন, "দেশীয় ফল পুষ্টির উৎস হওয়ার পাশাপাশি গ্রামীণ পরিবেশ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই এসব ফলের গাছ সংরক্ষণে কৃষি, পরিবেশ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থকে গুরুত্ব দিতে হবে।" তিনি আরও বলেন, "আমের মতো লাভজনক ফলের বাগান কৃষকের আয় বাড়াতে পারে। তবে বাণিজ্যিক ফল চাষের পাশাপাশি বাতাবি লেবু, কদবেল, ঢেউয়া, ডালিমসহ অন্যান্য দেশীয় ফলের গাছ সংরক্ষণেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।"
সংশ্লিষ্টদের মতে, বাড়ির আঙিনা, পুকুরপাড় এবং জমির আইলে পরিকল্পিতভাবে দেশীয় ফলের চারা লাগানো হলে একদিকে পরিবারের পুষ্টির চাহিদা পূরণ হবে এবং অন্যদিকে স্থানীয় বাজারেও এসব ফলের সরবরাহ বাড়বে। বাণিজ্যিক ফলের চাষের পাশাপাশি দেশীয় ফলের গাছ সংরক্ষণ করা গেলে গ্রামীণ পরিবেশের ঐতিহ্যও টিকে থাকবে। আগামী প্রজন্মও তখন নিজেদের গ্রামের গাছ থেকেই ফিরে পেতে পারে দেশীয় ফলের সেই পরিচিত স্বাদ এবং সৌন্দর্য।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বলিউডের কাপুর পরিবারের সদস্য এবং অভিনেতা আদার জৈন ও আলেখা আদভানি আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। বিয়ের প্রায় দেড় বছর পর, রাজকীয় আয়োজনের মাধ্যমে অবশেষে তারা নিজেদের বিয়ের আইনি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছেন।
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে জমকালো আয়োজনে তারা বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হন। তবে, তখন তাদের বিয়ের আইনি রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়নি। সম্প্রতি গণেশ চতুর্থীর দিনে, পারিবারিকভাবে তারা ম্যারেজ রেজিস্ট্রির আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে, সেই বিশেষ মুহূর্তের বেশ কয়েকটি ছবি শেয়ার করেছেন আদার ও আলেখা। ছবির সঙ্গে তারা মজার ক্যাপশনে উল্লেখ করেছেন, "ট্রায়াল পিরিয়ড শেষ। এবার আর ফেরত দেওয়া বা পরিবর্তন করার কোনো সুযোগ নেই।"
তারা আরও লেখেন, "অফিশিয়ালি মিস্টার অ্যান্ড মিসেস জৈন! অবশেষে আমার পছন্দের মানুষের সঙ্গে সম্পর্কটাকে আইনি রূপ দিলাম। আশীর্বাদ করার জন্য ধন্যবাদ গণপতি বাপ্পা।"
এই পোস্ট প্রকাশের পর, ভক্ত ও অনুরাগীদের মধ্যে প্রশ্ন ওঠে যে, তাহলে কি এতদিন তারা আইনিভাবে বিবাহিত ছিলেন না? মূলত, ২০২৫ সালে সামাজিক ও ধর্মীয় রীতিতে বিয়ে হলেও, ম্যারেজ রেজিস্ট্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা তখন বাকি ছিল। এবার সেই প্রক্রিয়াও তারা সম্পন্ন করেছেন।
আদার ও আলেখার নতুন পোস্টে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন কাপুর পরিবারের সদস্য ঋদ্ধিমা কাপুর সাহনি, সাবা পতৌদি এবং অভিনেতা সঞ্জয় কাপুরসহ অনেকেই।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাদের বিয়ের অনুষ্ঠানে বলিউডের তারকাদের উপস্থিতিতে বসেছিল চাঁদের হাট। রণবীর কাপুর, আলিয়া ভাট, কারিনা কাপুর, সাইফ আলি খান, কারিশমা কাপুরসহ কাপুর পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি আম্বানি পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন সেই জমকালো আয়োজনে।
এর আগে, অভিনেত্রী তারা সুতারিয়ার সঙ্গে সম্পর্কে ছিলেন আদার জৈন। সেই সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর, আলেখা আদভানির সঙ্গে তিনি সম্পর্কে জড়ান। কিংবদন্তি চলচ্চিত্র নির্মাতা রাজ কাপুরের নাতি আদার ২০১৭ সালে ‘কয়েদি ব্যান্ড’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক করেন। পরে তাকে ‘হ্যালো চার্লি’ সিনেমায় দেখা যায়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ