রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:৩০ পি.এম
টেক্সটাইল প্রকৌশলীদের পেশাজীবী সংগঠন দ্য ইনস্টিটিউশন অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড টেকনোলজিস্টস (আইটিইটি) এর নবনির্বাচিত ১৫তম কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের অভিষেক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এটি শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আর্মি গলফ ক্লাবে সন্ধ্যা ৭টায় শুরু হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইটিইটির সভাপতি প্রকৌশলী মো. এনায়েত হোসেন।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মাহবুবা হাকিম, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশের (এ্যাব) আহ্বায়ক প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন, সদস্য সচিব প্রকৌশলী শোয়েব বাশরী হাবলু, রাজউক চেয়ারম্যান ও আইইবি সভাপতি প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম রিজু এবং টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স ফোরামের সভাপতি প্রকৌশলী এটিএম সামসু উদ্দীন খানসহ আইটিইটির কেন্দ্রীয় পরিষদের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন পর্যায়ের টেক্সটাইল প্রকৌশলী, সংগঠনের সদস্য ও আমন্ত্রিত অতিথিরা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিরা আসন গ্রহণ করেন। এরপর প্রধান অতিথি মন্ত্রী জাকারিয়া তাহেরের কাছ থেকে আইটিইটির উপদেষ্টা কমিটির সদস্যরা শুভেচ্ছা ও সম্মাননা গ্রহণ করেন। এরপর নবনির্বাচিত কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্যরা শুভেচ্ছা ও সম্মাননা গ্রহণ করেন। শেষে অতিথি ও সংগঠনের নেতারা বক্তব্য রাখেন। রাতের খাবার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের উল্লেখ করেন, দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় শিল্পখাত, বিশেষ করে পোশাকশিল্প একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদদের ভূমিকা শিল্পায়ন ও উৎপাদন ব্যবস্থাকে আধুনিক করতে অপরিহার্য। তিনি বলেন, "বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে জ্ঞানভিত্তিক প্রযুক্তির ব্যবহার, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে হবে।" তিনি আরও বলেন, সরকার, শিল্পমালিক ও প্রকৌশলীদের সম্মিলিত উদ্যোগে এ অগ্রযাত্রা আরও বেগবান করা সম্ভব।
সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মাহবুবা হাকিম বলেন, ‘আইটিইটি সত্যিকার অর্থেই যেন এই কার্যনির্বাহী কমিটি ব্যক্তিগত স্বার্থ ও দলীয়করণের ঊর্ধ্বে উঠে দল-মতনির্বিশেষে সবার জন্য কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে।' তিনি বলেন, "সময় এসেছে সত্য প্রমাণ করার—দল-মত যার যার, আইটিইটি আমাদের সবার।"
তিনি আরও বলেন, আইটিইটিতে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর অর্থবহ সদস্যপদ নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচিত সদস্যদের পাশাপাশি যারা নির্বাচিত হননি, তাদেরও গঠনমূলক আলোচনায় নয়, গঠনমূলক অংশগ্রহণে যুক্ত করতে হবে।
এছাড়া তিনি টেক্সটাইল গবেষণার জন্য আলাদা তহবিল গঠনের প্রস্তাব দেন। এ তহবিল থেকে জ্বালানি দক্ষতা, অটোমেশন, প্রযুক্তি উন্নয়ন ও টেকসই উৎপাদন নিয়ে গবেষণায় সহায়তা দেওয়ার কথা বলেন। তিনি জাতীয় টেক্সটাইল ইনোভেশন অ্যান্ড এক্সিলেন্স সেন্টার প্রতিষ্ঠা এবং নীতিনির্ধারণে টেক্সটাইল প্রকৌশলীদের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। টেক্সটাইল প্রকৌশলীদের জন্য স্বতন্ত্র বিসিএস ক্যাডার চালুর বিষয়েও সরকারের প্রতি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী বলেন, বাংলাদেশের পোশাকশিল্প দেশের রপ্তানিতে বড় অবদান রাখছে। তিনি বলেন, "বিদেশে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা গেলে দূতাবাসগুলোকে তাদের সহযোগিতা করতে হবে।" তিনি উল্লেখ করেন, একজন রাষ্ট্রদূত শুধু সরকারি প্রতিনিধি নন, দেশের একজন ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডরও।
তিনি কারখানায় মালিক-শ্রমিক সম্পর্কের উন্নয়ন এবং বিশেষ করে নারী শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ ও হয়রানিমুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন।
সমাপনী বক্তব্যে আইটিইটির সভাপতি প্রকৌশলী মো. এনায়েত হোসেন বলেন, "আমাদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোর কমার্শিয়াল উইংয়ে টেক্সটাইল প্রকৌশলীদের নিয়োগ দেওয়া হোক।" তিনি বলেন, "বিদেশের মাটিতে একজন টেক্সটাইল বিশেষজ্ঞ থাকলে ক্রেতাদের সঙ্গে কারিগরি বোঝাপড়া, চাহিদা অনুযায়ী গার্মেন্টস উৎপাদন নিশ্চিত করা এবং দেশের কারখানার সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ রক্ষা করা অনেক সহজ হবে।"
তিনি আরও বলেন, গত ২৬ জুন অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আপনারা আমার পুরো প্যানেলকে বিজয়ী করেছেন এবং আমাকে ব্যক্তিগতভাবে সর্বোচ্চ ভোটে নির্বাচিত করে যে ঋণে আবদ্ধ করেছেন, তার জন্য আমি চিরকৃতজ্ঞ। তিনি বিশ্বাস করেন, "আমাদের কার্যনির্বাহী কমিটির ২৭ জন দক্ষ ও পরীক্ষিত কর্মীকে সঙ্গে নিয়ে আমরা আপনাদের একটি সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, কার্যকর ও সদস্যবান্ধব নতুন আইটিইটি উপহার দিতে পারব।"
বক্তারা দেশের টেক্সটাইল ও পোশাকশিল্পের উন্নয়ন, টেক্সটাইল প্রকৌশলীদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় টেক্সটাইল প্রকৌশলীদের আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম ভাষণ বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক আকাঙ্ক্ষার একটি তাৎপর্যপূর্ণ, সময়োপযোগী ও ভারসাম্যের প্রতিফলন।
মাতৃভাষা বাংলায় দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর ১৭ মিনিটের এই ঐতিহাসিক ভাষণ বিশ্বশান্তি, আন্তর্জাতিক সংঘাত নিরসন ও বহুপাক্ষিকতার বৈশ্বিক দাবিগুলোকে ধারণ করার পাশাপাশি বাংলাদেশের রোহিঙ্গা সংকট, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র সংস্কারের অভ্যন্তরীণ অগ্রাধিকারগুলোকে যথাযথভাবে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেছে।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, দেড় দশকের বেশি সময়ের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান এবং গত ১২ ফেব্রুয়ারির একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক ধারা এবং আইনের শাসন পুনরুদ্ধারের যে প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রী ব্যক্ত করেছেন, তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক বৈধতা ও অগণতান্ত্রিক শক্তির বিরুদ্ধে আপসহীন মনোভাবকে জোরালোভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
এই ভাষণে রাষ্ট্র পুনর্গঠনে সরকারের ‘থ্রি-আর’ (রিকভারি, রিস্টোরেশন অ্যান্ড রিকনস্ট্রাকশন) কৌশলের কথা তুলে ধরা হয়েছে। এই স্ট্র্যাটেজি স্পষ্ট প্রমাণ করে বর্তমান সরকার কেবল কোনো জোড়াতালির সংস্কারে বিশ্বাসী নয়; বরং একটি সুপরিকল্পিত এবং দীর্ঘমেয়াদি রোডম্যাপ নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় নেমেছে। ফ্যাসিবাদের অন্ধকার ফুঁড়ে দেশের নতুন গণতান্ত্রিক অভিযাত্রাকে বিশ্বনেতাদের সামনে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে তুলে ধরেছেন।
আন্তর্জাতিক সংকট নিরসনে সামরিক শক্তি প্রয়োগের বদলে কূটনৈতিক আলোচনা ও সহযোগিতার ওপর প্রধানমন্ত্রীর জোর প্রদান এবং সামরিক বাজেট উন্নয়ন খাতে স্থানান্তরের আহ্বান বিশ্বশান্তির পক্ষে বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থানকে পুনর্নিশ্চিত করেছে।
প্রধানমন্ত্রী ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান এবং ২০২৬ সালের অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের পুনরায় গণতান্ত্রিক ধারায় ফেরার গল্প বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেছেন। এর মাধ্যমে তিনি বিশ্বকে দেখিয়েছেন যে, বাংলাদেশ আর কোনো স্বৈরতান্ত্রিক বা অগণতান্ত্রিক শক্তির করতলগত নয় এবং ব্যালটের মাধ্যমে জনগণের দেওয়া পবিত্র আমানত নিয়েই বর্তমান সরকার দেশ পরিচালনা করছে।
‘গণতান্ত্রিক পথে বাংলাদেশ’—প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তা বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের প্রতি আন্তর্জাতিক মহলের আস্থা বহুগুণে বেড়ে যাবে বলেও প্রত্যাশা করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে বাংলাদেশ কেবল অর্থনৈতিকভাবে নয়, আদর্শিক ও রাজনৈতিকভাবে একটি পরিপক্ক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করছে।
আন্তর্জাতিক সংকট নিরসনে সামরিক শক্তি প্রয়োগের বদলে কূটনৈতিক আলোচনা ও সহযোগিতার ওপর প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্ব আরোপ এবং সামরিক বাজেট উন্নয়ন খাতে স্থানান্তরের আহ্বান বিশ্বশান্তির পক্ষে বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থানকে পুনর্ব্যক্ত করেছে।
দীর্ঘ ৯ বছরের বেশি সময় ধরে চলমান রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে ৫টি জরুরি পদক্ষেপের প্রস্তাব এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ‘জলবায়ু ন্যায়বিচার’ বা ক্লাইমেট জাস্টিস নিশ্চিতে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিসহ অভ্যন্তরীণ পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক মহলে কার্যকর পদক্ষেপের তাগিদ দিয়েছেন। সঙ্গে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের দাবির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থনও পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
জিয়া পরিবারের ঐতিহ্যবাহী কূটনৈতিক ধারাবাহিকতা রয়েছে। জাতিসংঘের মঞ্চে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্য দেওয়ার বিষয়টি এক বিরল ইতিহাসও। ১৯৮০ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং ১৯৯৩ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ভাষণ দেন। ২০২৬ সালে একই বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে বাংলায় ভাষণ দিলেন তারেক রহমান। এটি কেবল পারিবারিক ধারাবাহিকতাই নয়, বরং বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক লড়াই ও স্বমহিমায় টিকে থাকার এক চিরন্তন স্মারকও।
‘সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’-এই প্রত্যয় নিয়ে দেওয়া এই ভাষণ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের নতুন গণতান্ত্রিক ভাবমূর্তিকে অত্যন্ত সুদৃঢ় করেছে।
লেখক: প্রধান তথ্য কর্মকর্তা, তথ্য অধিদপ্তর
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ৩৪১ জন সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত হাম রোগী।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামসংক্রান্ত নিয়মিত অনলাইন প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে সর্বাধিক চারজন, চট্টগ্রাম ও সিলেটে দুজন করে এবং ময়মনসিংহ বিভাগে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে দেশে শুরু হওয়া এই প্রাদুর্ভাবে আজ পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১ হাজার ৯৬ জনে পৌঁছেছে।
অধিদপ্তর আরও জানায়, মোট মৃতের মধ্যে ১০১ জনের হাম রোগী হিসেবে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া গেছে। বাকি ৯৯৫ জনের মৃত্যু হামের প্রাথমিক উপসর্গ নিয়ে ঘটেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক খায়রুল ইসলাম সজীবকে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে তার পূর্বের পদে পুনর্বহাল করা হয়েছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির দপ্তর শাখা থেকে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, পূর্বে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং দলের নীতি ও আদর্শের পরিপন্থি কার্যকলাপের জন্য খায়রুল ইসলাম সজীবকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। তবে, তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজকের দিনে এই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে তাকে পূর্বের পদে পুনর্বহাল করা হয়েছে।
যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না এবং সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন ইতোমধ্যে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন।
যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির যৌথ সাধারণ সম্পাদক (দপ্তরের দায়িত্বে) মিনহাজুল ইসলাম ভূইয়ার স্বাক্ষরিত বার্তা প্রেরণে দলটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের এই নির্দেশনার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বিদ্যমান ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন কার্যকর করার ফলে অবৈধভাবে বেদখল হওয়া জমি উদ্ধারের জন্য কঠোর বিধান প্রবর্তন করা হয়েছে।
এই আইন অনুযায়ী, আদালত বা যথাযথ কর্তৃপক্ষের আদেশ ছাড়া কোনো ব্যক্তিকে তার দখলীয় জমি থেকে উচ্ছেদ করা হলে, মাত্র তিন মাসের মধ্যে সেই জমির দখল পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে। জনগণ এই আইনের মাধ্যমে মামলা করে সুফল লাভ করছেন।
ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সাল থেকে ২০২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩৩ মাসে ঢাকা জেলায় এই আইনে মোট ৮০৭টি মামলা দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে ৪৭৫টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে এবং ৩৩২টি মামলা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। দায়েরকৃত মামলাগুলোর অধিকাংশই অবৈধভাবে দখলচ্যুত ব্যক্তির দখল পুনরুদ্ধারের সাথে সম্পর্কিত। ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের ৮ ধারায় দখল পুনরুদ্ধারের বিস্তারিত পদ্ধতি বর্ণনা করা হয়েছে।
আইন অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তিকে উপযুক্ত আদালত বা কর্তৃপক্ষের আদেশ ছাড়া তার দখলীয় ভূমি থেকে উচ্ছেদ করা হয়, তবে তিনি সংশ্লিষ্ট অধিক্ষেত্রের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দখল পুনরুদ্ধারের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, যদি সন্তুষ্ট হন যে, সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিকে আইনানুগ প্রক্রিয়া ছাড়া উচ্ছেদ করা হয়েছে, তবে তিনি তাকে তার পূর্ব-দখলীয় ভূমিতে পুনরুদ্ধার করার জন্য যথাযথ আদেশ প্রদান ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন। উভয় পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ ও সরেজমিন তদন্ত করা হবে। তবে, যদি কোনো পক্ষ যথাযথভাবে নোটিশ জারি করা সত্ত্বেও ইচ্ছাকৃতভাবে অনুপস্থিত থাকে, তাহলে সরেজমিনে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান করার পর লিখিত আদেশ প্রদান করা যাবে।
এই আইনের অধীনে কোনো আবেদন প্রাপ্তির পর তিন মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে, এবং কোনো কর্মকর্তা বা কর্তৃপক্ষ যদি এতে অসহযোগিতা বা অবহেলা করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে। সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি নিজে বা নিয়োজিত কোনো ব্যক্তির মাধ্যমে মামলা পরিচালনা করতে পারবেন। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণের জন্য সংশ্লিষ্ট জেলার এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটদের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন বা অধিক্ষেত্র নির্ধারণ করে আদেশ জারি করতে পারেন।
ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, যদি কোনো দেওয়ানি আদালতে দখল পুনরুদ্ধার সংক্রান্ত মামলা বিচারাধীন থাকে, তবে একই বিষয়ে এই ধারার অধীনে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে না। তবে, উক্ত আদালত তার নিকট দায়েরকৃত বা বিচারাধীন কোনো মামলা তার পক্ষের আবেদনক্রমে বা স্বীয় বিবেচনায় এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট পাঠাতে পারবেন।
আইন অমান্য করার ক্ষেত্রে দণ্ড: ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনে বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি আইনটির ধারা ৮-এর অধীন প্রদত্ত কোনো আদেশ ইচ্ছাকৃতভাবে অমান্য করেন বা বাস্তবায়নে বাধা প্রদান করেন, তাহলে তা একটি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে এবং তিনি অনধিক দুই বছর কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন।
এ বিষয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের আইন শাখার উপসচিব তুষার আহমেদ বাসসকে জানান, ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩ প্রণয়নের পর ২০২৪ সালে এর বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। বিধিমালা যথাযথভাবে পরিপালনের মাধ্যমে আইনটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যার সুফল জনগণ পাচ্ছেন।
তিনি আরও জানান, প্রতিটি জেলায় জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের সমন্বয়ে একটি আলাদা টিম গঠন করা হয়েছে। সেখানে জমা পড়া আবেদনগুলো আইন অনুযায়ী নিষ্পত্তি করা হচ্ছে।
ঢাকা জেলার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লিটুস লরেন্স চিরান বলেন, এই আইনের আওতায় ২০২৪ সাল থেকে ২০২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঢাকা জেলায় ৮০৭টি মামলার মধ্যে ৪৭৫টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। তিন মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ম্যাজিস্ট্রেটদের এখতিয়ার নির্ধারণ করা হয়েছে। নিয়োজিত সকল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সর্বাত্মক আন্তরিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন বাস্তবায়নের মাধ্যমে বেদখলকৃত ভূমি পুনরুদ্ধার করে জনগণের ভোগান্তি দূর করা হচ্ছে।
আইনজীবী খালিদ হোসাইন বলেন, এই আইনের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো জবাবদিহিতার বিধান। পূর্বে দেওয়ানি মামলায় ৫-১০ বছর সময় লাগত, কিন্তু এখন ৯০ দিনে দখল পুনরুদ্ধারের আইনি বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়েছে।
ভুক্তভোগীরা খুব অল্প সময়ের মধ্যে প্রতিকার পাচ্ছেন।
এই আইনের মাধ্যমে প্রতিকার পাওয়া ভুক্তভোগী জসিম উদ্দিন বলেন, আদালতের আদেশ ছাড়াই আমাকে উচ্ছেদ করা হয়েছিল। আমি প্রতিকার চেয়ে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন করি। পরে তিন মাসের মধ্যেই জমির দখল ফেরত পেয়েছি। আদালতে গেলে বছরের পর বছর সময় লাগত। এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে অল্প সময়ের মধ্যে প্রতিকার পেয়েছি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ