প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বিদ্যমান ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন কার্যকর করার ফলে অবৈধভাবে বেদখল হওয়া জমি উদ্ধারের জন্য কঠোর বিধান প্রবর্তন করা হয়েছে।
এই আইন অনুযায়ী, আদালত বা যথাযথ কর্তৃপক্ষের আদেশ ছাড়া কোনো ব্যক্তিকে তার দখলীয় জমি থেকে উচ্ছেদ করা হলে, মাত্র তিন মাসের মধ্যে সেই জমির দখল পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে। জনগণ এই আইনের মাধ্যমে মামলা করে সুফল লাভ করছেন।
ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সাল থেকে ২০২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩৩ মাসে ঢাকা জেলায় এই আইনে মোট ৮০৭টি মামলা দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে ৪৭৫টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে এবং ৩৩২টি মামলা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। দায়েরকৃত মামলাগুলোর অধিকাংশই অবৈধভাবে দখলচ্যুত ব্যক্তির দখল পুনরুদ্ধারের সাথে সম্পর্কিত। ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের ৮ ধারায় দখল পুনরুদ্ধারের বিস্তারিত পদ্ধতি বর্ণনা করা হয়েছে।
আইন অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তিকে উপযুক্ত আদালত বা কর্তৃপক্ষের আদেশ ছাড়া তার দখলীয় ভূমি থেকে উচ্ছেদ করা হয়, তবে তিনি সংশ্লিষ্ট অধিক্ষেত্রের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দখল পুনরুদ্ধারের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, যদি সন্তুষ্ট হন যে, সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিকে আইনানুগ প্রক্রিয়া ছাড়া উচ্ছেদ করা হয়েছে, তবে তিনি তাকে তার পূর্ব-দখলীয় ভূমিতে পুনরুদ্ধার করার জন্য যথাযথ আদেশ প্রদান ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন। উভয় পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ ও সরেজমিন তদন্ত করা হবে। তবে, যদি কোনো পক্ষ যথাযথভাবে নোটিশ জারি করা সত্ত্বেও ইচ্ছাকৃতভাবে অনুপস্থিত থাকে, তাহলে সরেজমিনে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান করার পর লিখিত আদেশ প্রদান করা যাবে।
এই আইনের অধীনে কোনো আবেদন প্রাপ্তির পর তিন মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে, এবং কোনো কর্মকর্তা বা কর্তৃপক্ষ যদি এতে অসহযোগিতা বা অবহেলা করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে। সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি নিজে বা নিয়োজিত কোনো ব্যক্তির মাধ্যমে মামলা পরিচালনা করতে পারবেন। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণের জন্য সংশ্লিষ্ট জেলার এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটদের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন বা অধিক্ষেত্র নির্ধারণ করে আদেশ জারি করতে পারেন।
ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, যদি কোনো দেওয়ানি আদালতে দখল পুনরুদ্ধার সংক্রান্ত মামলা বিচারাধীন থাকে, তবে একই বিষয়ে এই ধারার অধীনে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে না। তবে, উক্ত আদালত তার নিকট দায়েরকৃত বা বিচারাধীন কোনো মামলা তার পক্ষের আবেদনক্রমে বা স্বীয় বিবেচনায় এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট পাঠাতে পারবেন।
আইন অমান্য করার ক্ষেত্রে দণ্ড: ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনে বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি আইনটির ধারা ৮-এর অধীন প্রদত্ত কোনো আদেশ ইচ্ছাকৃতভাবে অমান্য করেন বা বাস্তবায়নে বাধা প্রদান করেন, তাহলে তা একটি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে এবং তিনি অনধিক দুই বছর কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন।
এ বিষয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের আইন শাখার উপসচিব তুষার আহমেদ বাসসকে জানান, ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩ প্রণয়নের পর ২০২৪ সালে এর বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। বিধিমালা যথাযথভাবে পরিপালনের মাধ্যমে আইনটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যার সুফল জনগণ পাচ্ছেন।
তিনি আরও জানান, প্রতিটি জেলায় জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের সমন্বয়ে একটি আলাদা টিম গঠন করা হয়েছে। সেখানে জমা পড়া আবেদনগুলো আইন অনুযায়ী নিষ্পত্তি করা হচ্ছে।
ঢাকা জেলার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লিটুস লরেন্স চিরান বলেন, এই আইনের আওতায় ২০২৪ সাল থেকে ২০২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঢাকা জেলায় ৮০৭টি মামলার মধ্যে ৪৭৫টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। তিন মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ম্যাজিস্ট্রেটদের এখতিয়ার নির্ধারণ করা হয়েছে। নিয়োজিত সকল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সর্বাত্মক আন্তরিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন বাস্তবায়নের মাধ্যমে বেদখলকৃত ভূমি পুনরুদ্ধার করে জনগণের ভোগান্তি দূর করা হচ্ছে।
আইনজীবী খালিদ হোসাইন বলেন, এই আইনের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো জবাবদিহিতার বিধান। পূর্বে দেওয়ানি মামলায় ৫-১০ বছর সময় লাগত, কিন্তু এখন ৯০ দিনে দখল পুনরুদ্ধারের আইনি বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়েছে।
ভুক্তভোগীরা খুব অল্প সময়ের মধ্যে প্রতিকার পাচ্ছেন।
এই আইনের মাধ্যমে প্রতিকার পাওয়া ভুক্তভোগী জসিম উদ্দিন বলেন, আদালতের আদেশ ছাড়াই আমাকে উচ্ছেদ করা হয়েছিল। আমি প্রতিকার চেয়ে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন করি। পরে তিন মাসের মধ্যেই জমির দখল ফেরত পেয়েছি। আদালতে গেলে বছরের পর বছর সময় লাগত। এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে অল্প সময়ের মধ্যে প্রতিকার পেয়েছি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন