মোঃ আব্দুল মোছাব্বির মধ্যনগর প্রতিনিধি
বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৭:৩৭ পি.এম
সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার ৮২ গ্রাম সমন্বিত শ্রী শ্রী জগন্নাথ জিউর মন্দিরে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শুভ রথযাত্রা ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ভক্তি ও উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ১৬ই জুলাই দুপুর ২টায় মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে শ্রী শ্রী জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার রথ টানা শুরু হয়। শত শত ভক্তের অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাটি মধ্যনগর কেন্দ্রীয় বাজার প্রদক্ষিণ করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সী ধর্মপ্রাণ ভক্তরা ভক্তিমূলক সঙ্গীত, কীর্তন ও ধর্মীয় স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত করে তোলেন।
মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি বরুণ সরকার বলেন, “রথযাত্রা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অত্যন্ত পবিত্র একটি ধর্মীয় উৎসব। ভগবান জগন্নাথের আশীর্বাদ লাভ এবং সকলের শান্তি, সম্প্রীতি ও কল্যাণ কামনায় প্রতিবছরের মতো এবারও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে রথযাত্রা উদযাপন করা হয়েছে। আগামী সাত দিন পর যথাযোগ্য মর্যাদায় উল্টো রথযাত্রা (ফেরার রথ) অনুষ্ঠিত হবে।”
মন্দির পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শম্ভু রায় বলেন, “রথযাত্রা শুধু একটি ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি ভক্তদের আত্মিক মিলনমেলা। সকল ভক্তের আন্তরিক সহযোগিতায় উৎসবটি শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। আমরা আগামী সাত দিন পর অনুষ্ঠিতব্য উল্টো রথযাত্রায়ও সকলের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের পাশাপাশি সকলের সুখ, শান্তি ও মঙ্গল কামনা করছি।”
উৎসব উপলক্ষে মন্দির প্রাঙ্গণ ও শোভাযাত্রা এলাকায় ধর্মপ্রাণ ভক্তদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠান সম্পন্ন হওয়ায় আয়োজকরা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবক ও উপস্থিত সকল ভক্তের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় জনগণের সহায়তা করতে যৌথভাবে কর্মসূচি বাস্তবায়নে তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে যুক্তরাজ্য ও সৌদি আরব।
কিং সালমান হিউম্যানিটারিয়ান এইড অ্যান্ড রিলিফ সেন্টার (কেএসরিলিফ) এবং ঢাকাস্থ ব্রিটিশ হাইকমিশনের প্রতিনিধিরা কক্সবাজারে প্রথমবারের মতো যৌথ সফরকালে এই প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তারা এই সফরের মাধ্যমে দুটি দেশের যৌথ অর্থায়নে পরিচালিত মানবিক কার্যক্রমগুলোর পরিদর্শন করেন।
আজ ব্রিটিশ হাইকমিশনের প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সফরের সময় প্রতিনিধিদল মানবিক সহায়তা দেওয়ার জন্য নিযুক্ত সহযোগী সংস্থা, রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগণের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময়ে তারা খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, পানি, স্যানিটেশন, ও হাইজিন (ওয়াশ) সেবা প্রদানকারী প্রকল্পগুলো পরিদর্শন করেন।
দুটি দেশ যৌথভাবে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি), আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম), এবং ইন্টিগ্রেটেড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট এফোর্ট (আইএসডিই) বাংলাদেশসহ বিভিন্ন সহযোগী সংস্থার মাধ্যমে ৭.৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থায়ন করছে।
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত ‘যুক্তরাজ্য-সৌদি আরব কৌশলগত সহায়তা সংলাপ’-এ এই তহবিলের ঘোষণা দেওয়া হয় এবং এরপর লন্ডনে একটি যৌথ বিবৃতি স্বাক্ষরের মাধ্যমে সফরটি সৌদি আরব ও যুক্তরাজ্যের গভীর মানবিক অংশীদারিত্বের প্রতিফলন ঘটায়।
ওই বিবৃতিতে দুটি পক্ষই বাংলাদেশ ও ইয়েমেনে মানবিক সহযোগিতার বিষয়ে প্রতিশ্রুতির কথা জানান। প্রতিনিধিদল মানবিক সংস্থা এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে সরাসরি জানার সুযোগ পায়, কিভাবে এই কর্মসূচিগুলো জরুরি সেবার সুযোগ বৃদ্ধি করছে, জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করছে এবং রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় জনগণের সক্ষমতা কমাতে সহায়তা করছে।
কেএসরিলিফ-এর অপারেশন ও প্রোগ্রাম বিষয়ক অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপারভাইজার জেনারেল ইঞ্জিনিয়ার আহমেদ বিন আলী আল-বাইয বলেন, তার সংস্থা যুক্তরাজ্যের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (এফসিডিও)-এর সাথে অংশীদারিত্বকে অত্যন্ত মূল্যবান মনে করে।
আল-বাইয আরও বলেন, আমরা এফসিডিও-এর সাথে আমাদের অংশীদারিত্বকে বড়ই গুরুত্ব দিই। কারণ আমরা সুবিধাবঞ্চিত জনগণকে ক্ষমতায়িত করতে একসাথে কাজ করছি। যুক্তরাজ্যের সঙ্গে আমাদের এই অংশীদারিত্ব রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং স্থানীয় জনগণের কাছে জীবন রক্ষাকারী সহায়তা প্রদান করার ক্ষমতাকে আরও বৃদ্ধি করেছে। এটি কার্যকর ও সহানুভূতিশীল মানবিক পদক্ষেপের মাধ্যমে মানুষের কষ্ট লাঘব এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রতি আমাদের যৌথ প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক বলেন, রোহিঙ্গা শরণার্থী, স্থানীয় জনগণ ও অন্যান্য সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে জীবন রক্ষাকারী সহায়তা প্রদান করতে কেএসরিলিফ-এর সঙ্গে অংশীদারিত্ব করার জন্য যুক্তরাজ্য গর্বিত।
তিনি বলেন, এই সফর আমাদের মানবিক অংশীদারিত্ব এবং সংকটে থাকা মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মধ্যে আমাদের যৌথ অঙ্গীকারের প্রকাশ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নারায়ণগঞ্জ নদী ফায়ার স্টেশনের স্পিডবোটের রক্ষণাবেক্ষণ কাজ চলাকালে নদীতে পড়ে নিখোঁজ হয়েছিলেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ডুবুরি মো. সাদিক। প্রায় ৮ ঘণ্টা অভিজানের পর সাদিকের মরদেহ খুঁজে পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সন্ধ্যা সাতটা ৩ মিনিটে সাদিকের মরদেহ খুঁজে পান আরিচা কাম-স্থল নদী ফায়ার স্টেশনের ডুবুরি মেরাজ আলী।
এর আগে সকাল ১১টা ২০ মিনিটে নারায়ণগঞ্জ নদী ফায়ার স্টেশনের স্পিডবোটের রক্ষণাবেক্ষণ কাজ চলাকালে নদীতে পড়ে নিখোঁজ হন সাদিক।
দুর্ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল, বিআইডব্লিউটিএ, বাংলাদেশ নেভি ও বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ডুবুরি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
উল্লেখ্য, সাদিকের বাড়ি রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার কুমড়াকান্দি গ্রামে। কর্মক্ষেত্রে সাহসিকতার জন্য গত বছর সেরা ডুবুরি হিসেবে তিনি ফায়ার সার্ভিসের রাষ্ট্রীয় পদক পেয়েছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
টানা ভারী বৃষ্টি ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে হবিগঞ্জের খোয়াই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে অন্তত ৩৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
এতে, জেলার কৃষিখাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে এ খাতে ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
হবিগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বন্যার কারণে প্রায় ১ হাজার ২৮৬ হেক্টর আউশ ধান, ২৪৮ হেক্টর শাকসবজি, ২০ হেক্টর ফলের বাগান এবং ১৫৫ হেক্টর আমনের বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তবে, মাঠপর্যায়ের চূড়ান্ত প্রতিবেদন এখনও না আসায় ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জানা গেছে, আকস্মিক বন্যার কারণে বসতবাড়ির পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে কৃষি ও মৎস্য খাতে। লোকালয়ে পানি ঢুকে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি তলিয়ে যায়।
পানির নিচে চলে যায় আউশ ধানের ক্ষেত, শাকসবজির আবাদ এবং বিভিন্ন ফলের বাগান। ফলে, মৌসুমজুড়ে কৃষকদের করা পরিশ্রমের ফসল নষ্ট হয়ে গেছে।
হবিগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনোয়ারুল হক জানান, মাঠপর্যায়ের চূড়ান্ত প্রতিবেদন এখনও পাওয়া যায়নি।
তাহলে, ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নির্ধারণে কিছুটা সময় লাগবে। তিনি বলেন, রোদ উঠলে কিছু ফসল পুনরুদ্ধার হতে পারে, আবার কিছু ফসল পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাবে। সে কারণেই এখনই চূড়ান্ত ক্ষতির হিসাব দেওয়া সম্ভব নয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাঙামাটি সীমান্তে বন্যার্তদের জন্য বিনামূল্য চিকিৎসা সেবা ও ওষুধ বিতরণ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে, বিজিবির ছোট হরিণা জোনের উদ্যোগে ভূষণছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চিকিৎসা ক্যাম্পটি পরিচালনা করা হয়।
বিজিবি জানায়, সম্প্রতি টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে বন্যায় জেলা বরকল উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারা পানিবন্দি হয়ে পড়েন। তাদের পানিবাহিত রোগ থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যে, বিজিবি ছোট হরিণা জোনের ১২ ব্যাটালিয়ন বরকলের ভূষণছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত জনগণের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবার ক্যাম্প আয়োজন করে। ক্যাম্পের মাধ্যমে মোট ১৫৪ জন অসুস্থ পাহাড়ি এবং বাঙালী রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয় এবং ২০ হাজার ৫০০ টাকার বেশি প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ করা হয়।
ক্যাম্পের বিষয়ে মেডিকেল কর্মকর্তা মেজর মো. আসিফুর রহমান উল্লেখ করেন, বিজিবি দেশের সীমান্ত রক্ষা ছাড়াও মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, চিকিৎসা গ্রহণ করা মানুষের মধ্যে বেশিরভাগ পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত ছিল। যথাসময়ে তাদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ করা হয়েছে।
বিজিবি ছোট হরিণা ১২ ব্যাটালিয়ন জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইমরুল কায়েস মেহেদী বিনামূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্পটির পর্যবেক্ষণ করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ