মঙ্গলবার, ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:০৭ পি.এম
নীলফামারীর সৈয়দপুরে এক তরুণীর ছবি অশ্লীলভাবে এডিট করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের মধ্যে স্বামী-স্ত্রীও রয়েছেন।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম রেজা বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাতে সৈয়দপুর শহরের সাহেবপাড়া লিচু বাগান এলাকার একটি বাসা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন কামাল হোসেনের ছোট ছেলে সুজন মিয়া (২৫), মেজো ছেলে শাকির রানা (৩০) এবং শাকির রানার স্ত্রী মাহিমা ইসলাম শাম্মী (২৫)।
মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীর পরিবারের সূত্রে জানা যায়, সুজন মিয়া ওই তরুণীকে দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। একপর্যায়ে বিভিন্নভাবে প্ররোচিত করে গোপনে তাকে বিয়ে করেন তিনি।
পরে তরুণীর পরিবার এই বিষয়টি জানতে পারে। এ নিয়ে পারিবারিকভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। এর অংশ হিসেবে সুজনের পরিবারের সদস্যরা তরুণীকে দেখতে তাদের বাড়িতে যান এবং তার ছবি তুলে নিয়ে আসেন।
অভিযোগ রয়েছে, পরে ওই ছবি অশ্লীলভাবে এডিট করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেন আসামিরা।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণীর বাবা সালাম রেজা বাদী হয়ে সৈয়দপুর থানায় মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।
সৈয়দপুর থানার ওসি রেজাউল করিম রেজা জানান, তরুণীর অশ্লীল ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে সাইবার সুরক্ষা আইনের ১৯(ক)/২৫/২৭ ধারায় মামলা করা হয়েছে। মামলাটির নম্বর ৭। সোমবার দুপুরে গ্রেপ্তার তিন আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চলমান হাম-রুবেলার টিকাদান কর্মসূচির আওতায় গত পাঁচ মাসে সারাদেশে ১ কোটি ৯৭ লাখ ৭১ হাজার ৭২০ জন শিশু টিকা গ্রহণ করেছে, যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ বেশি।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, চলতি বছরের মার্চ মাসের শেষের দিকে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে সরকার দ্রুততার সঙ্গে ৫ এপ্রিল প্রথম দফায় দেশের ১৮ জেলার ৩০ উপজেলায় জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু করে। দ্বিতীয় দফায় ১২ এপ্রিল থেকে গুরুত্বপূর্ণ ৪টি সিটি করপোরেশনে (ঢাকা দক্ষিণ, ঢাকা উত্তর, বরিশাল ও ময়মনসিংহ) এবং সর্বশেষ তৃতীয় দফায় ২০ এপ্রিল থেকে সারাদেশে একযোগে হাম-রুবেলার টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়, যা এখনও চলমান রয়েছে।
তবে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব এখনও বিদ্যমান থাকায় আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে হাম প্রতিরোধে সরকার আবারও নতুন করে ব্যাপকভাবে টিকা ক্যাম্পেইন শুরু করতে যাচ্ছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, প্রথমে এই কর্মসূচির আওতায় সারাদেশের প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কারণে শিশুদের টিকা গ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ১০৯ দশমিক ৮ শতাংশে পৌঁছেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সরকারের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ কোটি ৮০ লাখ ১৫ হাজার ৬৪ জন শিশুকে হাম-রুবেলার টিকা দেওয়া। কিন্তু ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেখা গেছে, সারাদেশে ১ কোটি ৯৭ লাখ ৭১ হাজার ৭২০ জন শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে হাম-রুবেলার টিকার সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বরিশাল বিভাগে ১১ লাখ ১০ হাজার ৬৯৮ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৪৮ লাখ ৪১ হাজার ৯২৪ জন, ঢাকা বিভাগে ৪৯ লাখ ১৯ হাজার ৯১৩ জন, খুলনা বিভাগে ১৬ লাখ ৯৫ হাজার ৭৭৯ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১৫ লাখ ৩০ হাজার ৯১৬ জন, রাজশাহী বিভাগে ২২ লাখ ১৩ হাজার ১৯৭ জন, রংপুর বিভাগে ২০ লাখ ৭৩ হাজার ৪৮৮ জন ও সিলেট বিভাগে ১৩ লাখ ৮৫ হাজার ৮০৫ জন শিশুকে হাম-রুবেলার টিকা দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া সিটি করপোরেশন এলাকায় বরিশাল সিটি করপোরেশনে ৪৪ হাজার ১১৯ জন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৮৭০ জন, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে ৪৮ হাজার ৬৪৩ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৫ লাখ ৫৭ হাজার ৬৮৮ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৪ লাখ ১৮ হাজার ৯৭২ জন, গাজীপুর সিটি করপোরেশনে ২ লাখ ৬ হাজার ৯২৭ জন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে ৮৩ হাজার ৬৯৭ জন, খুলনা সিটি করপোরেশনে ৯৬ হাজার ৭৯২ জন, ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনে ৬২ হাজার ৩০৫ জন, রাজশাহী সিটি করপোরেশনে ৬৩ হাজার ৫৯ জন, রংপুর সিটি করপোরেশনে ৮২ হাজার ২৫৩ জন ও সিলেট সিটি করপোরেশন এলাকায় ৭২ হাজার ৩৪৯ জন শিশু হাম-রুবেলার টিকা নিয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হান বলেন, শিশুদের টিকা দেওয়া একটি চলমান প্রক্রিয়া। তবে আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে সারাদেশে ব্যাপকভাবে শিশুদের হামের টিকা দেওয়ার যে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, এটি সরকারের বাড়তি তৎপরতা।
তিনি আরও বলেন, এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হচ্ছে, যাতে কোনো শিশু টিকা গ্রহণ থেকে বাদ না পড়ে। সূত্র: বাসস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় সাবেক সংসদ সদস্য খন্দকার মো. আজিজুল হক আরজুকে পুলিশ আটক করেছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে লালমাটিয়া মিনা বাজারের সামনে স্থানীয় ছাত্রদল নেতাদের সহযোগিতায় তাকে আটক করা হয়।
আটক হওয়া খন্দকার মো. আজিজুল হক আরজু (৬৯) পাবনা জেলার আমিনপুর থানার নাটিয়াবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ২০১৪ সালে পাবনা-২ আসন থেকে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল হালিম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, আটকের সময় ধস্তাধস্তির কারণে আজিজুল হক আরজু সামান্য আহত হন। হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ায় পুলিশি প্রহরায় তাকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে চিকিৎসকের কাছে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ঘটনায় মোহাম্মদপুর থানায় বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চীনের ইউনান মিনজু বিশ্ববিদ্যালয়ের (Yunnan Minzu University) তিন সদস্যের একটি শিক্ষক প্রতিনিধি দল আজ বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি)-তে এক বছরের জন্য আগমন করেছে। চীনা ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমকে আরও সমৃদ্ধ ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই সফরটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিকেএসপির মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইফ উল্লাহ প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানান।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেএসপিতে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইফ উল্লাহ এবং ইউনান মিনজু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা একে অপরের সঙ্গে চীনা ভাষা শিক্ষা, উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং পারস্পরিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেন।
২০২৩ সালে চীনের ইউনান মিনজু বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে বিকেএসপির সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়। এই সমঝোতার আওতায় বিকেএসপির প্রশিক্ষণার্থীদের উচ্চশিক্ষার জন্য স্কলারশিপ প্রদানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে বিকেএসপির ১০ জন প্রশিক্ষণার্থী ইউনান মিনজু বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছেন।
চীনা ভাষা শিক্ষার কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে বিকেএসপির কলেজ শাখার একটি শ্রেণিকক্ষকে আধুনিক ল্যাঙ্গুয়েজ ল্যাব হিসেবে প্রস্তুত করা হয়েছে। এর ফলে বিকেএসপির প্রশিক্ষণার্থীরা চীনা ভাষা শেখার পাশাপাশি ভবিষ্যতে চীনে উচ্চশিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে যোগাযোগ দক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগ পাবেন।
বিকেএসপি ও ইউনান মিনজু বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সহযোগিতা দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শিক্ষা, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিনিময়কে আরও জোরদার করবে এবং বাংলাদেশ-চীন বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
তরুণ নাট্যকার ও পরিচালক মারুফ হোসেন সজীব আর আমাদের মাঝে নেই। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ভোর ৫টার দিকে হৃদযন্ত্রের সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুর ফলে নাট্যাঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সজীবের মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন তার সহকর্মী নির্মাতা ও অভিনয়শিল্পীরা। তারা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার বাদ জোহর রাজধানীর উত্তরার ১২ নম্বর সেক্টর কবরস্থানে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
নির্মাতা আশিকুর রহমান জানিয়েছেন, মারুফ হোসেন সজীব হৃদযন্ত্রের সমস্যায় ভুগছিলেন। কিছুদিন আগে চিকিৎসা নিয়ে তিনি সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত আকস্মিকভাবে না ফেরার দেশে চলে গেলেন এই তরুণ নির্মাতা।
নাট্যাঙ্গনে সজীব ছিলেন এ সময়ের অন্যতম আলোচিত নির্মাতা। তিনি পরিচালনার পাশাপাশি নিজের নাটকের গল্পও নিজেই লিখতেন। গল্প, নির্মাণ ও নির্মাণশৈলীর মাধ্যমে তিনি অল্প সময়ের মধ্যে দর্শকদের মধ্যে আলাদা পরিচিতি অর্জন করেছিলেন।
কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ সজীব বিভিন্ন সময়ে বেশ কিছু সম্মাননাও লাভ করেছেন। তার নির্মিত উল্লেখযোগ্য নাটকের মধ্যে রয়েছে ‘বিলোপ’, ‘বাবুই পাখির বাসা’, ‘রঙিন কাগজ’, ‘সিকিউরিটি গার্ল’, আঁধারি ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য’, ‘হাসি’, ‘বিকেল বেলার ছাদ’, ‘দুষ্ট মিষ্টি প্রেম’, ‘আদরের চাঁদ’, ‘জোড়া শালিকের ঘর’, ‘জলকৌড়ি’, ‘দু’জন দুজনার’, ‘বাবলার জাদুর বাক্স’, ‘খুশি’, ‘আজ আকাশে চাঁদ নেই’, ‘কথা বন্ধু’, ‘কাজল চোখের মেয়ে’, ‘আপনারা আমাকে শুনুন’, ‘আজকাল তুমি আমি’, ‘১০০ বিঘা ফুল বাগান’, ‘মুমতা’, ‘মেঘলা’ ও ‘নুসাইবা’।
অল্প বয়সেই নাটক লেখা ও নির্মাণে নিজের অবস্থান তৈরি করেছিলেন মারুফ হোসেন সজীব। তার আকস্মিক মৃত্যুতে সহকর্মী নির্মাতা, অভিনয়শিল্পী ও নাট্যাঙ্গনের অন্যান্যরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ