১০:২২ পি.এম
জর্ডানের মুওয়াফফাক আল-সালতি বিমান ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর নিখোঁজ থাকা মার্কিন সেনাসদস্য সার্জেন্ট অ্যাঞ্জেল এস. র্যাম্পারসাড নিহত হয়েছেন বলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন) নিশ্চিত করেছে।
পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, ২৮ বছর বয়সি এই নারী সেনা নিউইয়র্কের ওজোন পার্ক এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি জার্মানির আনসবাখে অবস্থানরত ১ম ব্যাটালিয়ন, ৫৭তম এয়ার ডিফেন্স আর্টিলারি রেজিমেন্ট, ৫২তম এয়ার ডিফেন্স আর্টিলারি ব্রিগেড, ১০ম আর্মি এয়ার অ্যান্ড মিসাইল ডিফেন্স কমান্ডে কর্মরত ছিলেন।
গত ১৭ জুলাই ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর তাকে প্রথমে নিখোঁজ ঘোষণা করা হয়। পরে ঘটনাস্থলের তদন্ত ও প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তার সামরিক অবস্থান ‘অজ্ঞাত’ থেকে ‘নিহত বলে ধারণা করা হচ্ছে’ হিসেবে হালনাগাদ করা হয়। তদন্ত এখনও চলছে।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
এছাড়াও, একই হামলায় নিহত হওয়া মার্কিন সেনাদের পরিচয় আগে প্রকাশ করেছিল পেন্টাগন। তারা হলেন ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট টাইলার জেমস ফিহ্যান (২৫) এবং প্রাইভেট ইসাবেলা গঞ্জালেস (১৯)। র্যাম্পারসাডের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ায় জর্ডানের ওই হামলায় মার্কিন নিহত সেনার সংখ্যা তিনজনে দাঁড়িয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো বিমানঘাঁটির সেনাদের আবাসন হিসেবে ব্যবহৃত কনটেইনারাইজড হাউজিং ইউনিটে (সিএইচইউ) আঘাত হানে। হামলায় প্রায় ১০০ জন মার্কিন সেনা আহত হন, যাদের অধিকাংশই কনকাশন বা বিস্ফোরণজনিত আঘাতে আক্রান্ত হন।
এই হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করেছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, হামলাটি চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের অন্যতম প্রাণঘাতী ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এদিকে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ইরানে টানা ১১তম রাতের মতো বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে ইরান পাল্টা হামলা অব্যাহত রেখেছে। দেশটি বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানের দিকে একাধিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অধিকাংশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত বা প্রতিহত করেছে।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের সন্দেহভাজন পারমাণবিক স্থাপনা ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’-এ খুব শিগগিরই ‘খুব বড় ধরনের’ হামলা চালানো হতে পারে। এর জবাবে তেহরান ঘোষণা দিয়েছে, ‘যেকোনো আগ্রাসনের জবাব কঠোরভাবে দেওয়া হবে’ এবং দেশের বিরুদ্ধে শত্রুতামূলক যেকোনো পদক্ষেপের মোকাবিলা করবে ইরান।
এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ওয়াশিংটন এখনো তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সমাধানে পৌঁছাতে প্রস্তুত। তবে তিনি অভিযোগ করেন, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ইরানের চলমান হামলা ‘অগ্রহণযোগ্য’। রুবিও আরও বলেন, আন্তর্জাতিক নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল রক্ষা অব্যাহত রাখবে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই সংঘাতের ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন