ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

এমসি কলেজে গৃহবধূকে ধর্ষণ মামলার রায়ের তারিখ ঘোষিত


এমসি কলেজে গৃহবধূকে ধর্ষণ মামলার রায়ের তারিখ ঘোষিত

সিলেটের এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে একটি গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয়েছে।

প্রায় ছয় বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার পর মামলার রায় আগামী মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ঘোষণা করবেন সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল।

ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আবুল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন সম্পন্ন হওয়ায় বিচারক স্বপন কুমার সরকার আগামী ১৪ জুলাই রায় ঘোষণার জন্য দিন নির্ধারণ করেছেন।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে ওই গৃহবধূর ওপর সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনা দেশব্যাপী ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে, যার কারণে ভুক্তভোগীর স্বামী শাহপরাণ থানায় ছয় জনের নাম উল্লেখ করে আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরবর্তীতে পুলিশ ও র‌্যাব অভিযানে নিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে, এবং বর্তমানে তারা কারাগারে রয়েছেন।

মামলার তদন্তে ডিএনএ পরীক্ষায় আট আসামির মধ্যে ছয়জনের সঙ্গে ধর্ষণের আলামতের মিল পাওয়া যায়। ২০২১ সালের ৩ ডিসেম্বর, তদন্ত কর্মকর্তা শাহপরাণ থানার পরিদর্শক ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

অভিযুক্তরা হলেন সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান ওরফে রনি, তারেকুল ইসলাম ওরফে তারেক, অর্জুন লস্কর, আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল, মিসবাউল ইসলাম ওরফে রাজন, রবিউল হাসান ও মাহফুজুর রহমান মামুস। তাদের মধ্যে সাইফুর রহমান, রনি, মাসুম ও রবিউল এমসি কলেজের শিক্ষার্থী হওয়ায় ঘটনার পর তাদের বহিষ্কার এবং ছাত্রত্ব বাতিল করা হয়। ধর্ষণের পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে ছিনতাই ও চাঁদাবাজির অভিযোগও গঠন করা হয়।

বিচারিক প্রক্রিয়ার এক পর্যায়ে ২০২২ সালে বাদীর আবেদনের প্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত মামলাটিকে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেন। পরে রাষ্ট্রপক্ষ লিভ টু আপিল করলেও গত বছরের ১৭ মার্চ তা প্রত্যাহার করে। এরপর মে মাসে মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল থেকে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয় এবং সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।

আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা

মামলায় ভুক্তভোগী, তার স্বামী, তদন্ত কর্মকর্তা, এমসি কলেজের এক শিক্ষক, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসকসহ মোট ২৪ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন।

গত ৬ এপ্রিল আসামিপক্ষ প্রথম যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে। সর্বশেষ গত বুধবার তাদের যুক্তিতর্ক শেষ হলে আদালত আগামী মঙ্গলবার রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হরমুজে নৌ-ফি চালুর প্রস্তাব বিবেচনায় ইউরোপ, বাধ্যতামূলক টোলে আপত্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:৫৭ পি.এম


হরমুজে নৌ-ফি চালুর প্রস্তাব বিবেচনায় ইউরোপ, বাধ্যতামূলক টোলে আপত্তি

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের জন্য স্বেচ্ছাসেবী ভিত্তিতে নৌ-পরিচালনা সেবা ফি চালুর একটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করছে ইউরোপীয় দেশগুলো। তবে, এই ফি যেন বাধ্যতামূলক না হয়, এবং জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও)-এর সমর্থন পায়, সে বিষয়েও জোর দেওয়া হচ্ছে। দ্য গার্ডিয়ানের একটি প্রতিবেদনে এই খবর জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্রিটেনের উপপ্রধানমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি বলেছেন, "হরমুজ প্রণালীতে বাধ্যতামূলক টোল আরোপ করা হলে তা বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য ‘বিপর্যয়কর’ হবে।" তবে ব্রিটিশ সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী মনে করেন, মালাক্কা প্রণালী বা ইংলিশ চ্যানেলের মতো প্রাকৃতিক নৌপথে নির্দিষ্ট নৌ-পরিচালনা সেবার জন্য স্বেচ্ছাসেবী ফি নেওয়ার নজির রয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছে প্রকাশ্যে ঘোষণা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে, যে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত থাকবে এবং সেখানে চলাচলকারী জাহাজের ওপর আর হামলা চালানো হবে না। ওয়াশিংটনের দাবি, তেহরানের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্বের কারণেই এ বিষয়ে সমঝোতা বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়ছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প আজ শুক্রবার (১১ জুলাই), সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, "অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি কার্যত শেষ হয়ে গেছে।" তবে তিনি স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন। পরে তিনি ইরানকে সতর্ক করে বলেন, "তার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা হলে ‘হাজারটি ক্ষেপণাস্ত্র’ ইরানকে লক্ষ্য করে প্রস্তুত রয়েছে।"

এদিকে ওমান মালাক্কা প্রণালীর আদলে হরমুজ প্রণালীর জন্য একটি বিকল্প ব্যবস্থার প্রস্তাব তৈরি করেছে। ব্রিটিশ আইন বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নিয়ে প্রস্তুত করা এই পরিকল্পনা ব্যাখ্যা করতে ওমান তাদের বিশেষজ্ঞ দল তেহরানে পাঠানোর প্রস্তাবও দিয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি শনিবার (১২ জুলাই) ওমান সফরে যাচ্ছেন। সফরে হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা এবং জাহাজ চলাচল নিয়ে আলোচনা হবে।

ওমানের অবস্থান হলো, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী হরমুজ প্রণালীতে অবাধ নৌ-চলাচলের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে এবং সেখানে বাধ্যতামূলক ট্রানজিট ফি আরোপ করা উচিত নয়। তবে নৌ-নিরাপত্তা, পরিবেশ সুরক্ষা, দূষণ রোধ এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বেচ্ছাসেবী সেবাভিত্তিক অর্থায়ন ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে।

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি বলেছেন, "আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইন উপেক্ষা করে ইরানকে হরমুজ প্রণালীর ওপর একক নিয়ন্ত্রণ দেওয়া হলে ভবিষ্যতে যে কোনো উগ্রপন্থি গোষ্ঠী ওই পথকে জিম্মি করতে পারে।"

তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, ইরানের ভেতরেও এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান চাইলেও অন্য অংশ আন্তর্জাতিক সহযোগিতার পক্ষে।

এদিকে উপসাগরীয় ও ইউরোপীয় কয়েকটি দেশ আইএমওর বৈঠকে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজে হামলার জন্য ইরানের নিন্দা জানিয়ে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করে। তবে রাশিয়া ও চীন সেই প্রস্তাব সমর্থন করেনি। রাশিয়ার মতে, প্রস্তাবটি সংকটের মূল কারণ উপেক্ষা করেছে। আর চীন বলেছে, এটি একপেশে এবং আইএমওর দায়িত্বের সীমা অতিক্রম করেছে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ১৫০টির বেশি স্থাপনায় হামলা চালানোর পর উত্তেজনা আরও বেড়েছে। জবাবে ইরান কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালায়।

কূটনীতিকদের মতে, বর্তমানে বিরোধের দুটি মূল বিষয় রয়েছে। একটি হলো, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর সময় এর নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে। অন্যটি হলো, দীর্ঘমেয়াদে প্রণালিটির ব্যবস্থাপনা কীভাবে পরিচালিত হবে এবং মালাক্কা প্রণালির মডেল সেখানে প্রয়োগ করা সম্ভব কি না।

গত মাসে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতির রূপরেখায় ইরান ৬০ দিনের জন্য কোনো ধরনের অতিরিক্ত ফি ছাড়াই বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেয়। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনা নিয়ে ওমানের মধ্যস্থতায় আলোচনায় বসতে সম্মত হয়।

তবে আইএমওর মহাসচিব আর্সেনিও দোমিঙ্গেজের উদ্যোগে দক্ষিণাঞ্চলীয় নৌপথ খুলে দেওয়ার একটি পরিকল্পনায় প্রথমে সম্মতি দিলেও পরে ইরান সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। ফলে আটকে পড়া হাজারো নাবিককে সরিয়ে নেওয়ার জাতিসংঘের পরিকল্পনা স্থগিত করতে হয়।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র এখনো বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে দক্ষিণাঞ্চলীয় নৌপথ ব্যবহার করতে উৎসাহিত করছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি, মে মাসের শুরু থেকে তাদের সহায়তায় ৮০০টির বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ এবং প্রায় ৩৮ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল নিরাপদে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে।

এদিকে আইআরজিসির নৌবাহিনী এক বিবৃতিতে বলেছে, "হরমুজ প্রণালি ও এ অঞ্চলে বিদেশি শক্তির কোনো ভূমিকা নেই।" বর্তমানে কূটনীতিকরা খতিয়ে দেখছেন, ইরান সব জাহাজকে উত্তর দিকের পথ ব্যবহার করতে বাধ্য করতে চায়, নাকি দক্ষিণাঞ্চলীয় রুট ব্যবহার করলেও আগে তেহরানের অনুমতি নেওয়ার শর্ত আরোপ করতে চায়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘আজান আমার খুব ভালো লেগেছে, এর সুর অসাধারণ’: আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:০২ পি.এম


‘আজান আমার খুব ভালো লেগেছে, এর সুর অসাধারণ’: আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী

নাটকের অবসান ঘটেছে ইউরেশিয়ায় তুরস্কে অনুষ্ঠিত ট্রান্স আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশন (ন্যাটো)-র শীর্ষ সম্মেলনের। এই সম্মেলনে সামরিক চুক্তির পাশাপাশি আলোচনা হয়েছে আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিষ্ট্রুন ফ্রস্তাদোত্তির ইসলাম সম্পর্কে মন্তব্যকেও সামনে নিয়ে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (X)-এ ভাইরাল হয়েছে আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিষ্ট্রুন ফ্রস্তাদোত্তিরকে নিয়ে একটি পোস্ট যা আকর্ষণীয়।

তুর্কি সংবাদমাধ্যমের ইংরেজি সংস্করণ ইয়ানি সাফাকের এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত ওই পোস্টে বলা হয়েছে, আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী তুরস্ক সফরের পর মন্তব্য করেছেন, তিনি তুরস্কের মুসলিমদের সহনশীলতা ও আন্তরিক আতিথেয়তায় সত্যিই মুগ্ধ হয়েছেন।

পোস্টটিতে তার বক্তব্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘তুরস্কের মুসলিমদের সহনশীলতায় আমি মুগ্ধ। তারা আমাকে অত্যন্ত আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়েছে। আজানের ধ্বনি আমার খুব ভালো লেগেছে, এর সুর ছিল অসাধারণ। খুব শিগগিরই আমি আবার তুরস্ক সফরে আসব।’ পোস্টটি প্রকাশিত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বহু ব্যবহারকারী বক্তব্যটির প্রশংসা করেছেন, আবার কিছু সংখ্যক মানুষ এর সত্যতা নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলেছেন।

ভূ-রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের কনটেক্সটে আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য তুরস্কের চিরাচরিত ধর্মীয় সম্প্রীতি ও উদার আতিথেয়তাকে বিশ্ব মঞ্চে ইতিবাচকভাবে উপস্থাপন করেছে, যা কূটনৈতিক মহলে বেশ প্রশংসিত হচ্ছে। তবে এবারের ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলনে অতিথিদের দেওয়া উপহার নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েব এরদোয়ান সম্মেলনে আসা অতিথিদের জন্য একটি করে পিস্তল উপহার দিয়েছেন। যেটা নিয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে বেশ আলোচনা চলছে। সূত্র: টেইট. ইয়ানি সাফাক

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সে ১৮ দিনে জমা পড়ল ৪৭ লাখ টাকা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:০৩ পি.এম


শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সে ১৮ দিনে জমা পড়ল ৪৭ লাখ টাকা

আধ্যাত্মিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের প্রায় ৭০০ বছরের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো দানবাক্সের অর্থ গণনা সম্পন্ন হয়েছে। এবার ১৮ দিনের মধ্যে মাজারের দানবাক্স ও ডেগে জমা পড়েছে ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা।

শনিবার (১১ জুলাই) দিনভর গণনা শেষে মাজার ব্যবস্থাপনা কমিটি এবং জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে উপস্থিতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। গণনার ফলাফল ঘোষণা করেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির একজন সদস্য আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।

গণনা শেষে প্রকাশিত অফিসিয়াল হিসাব অনুযায়ী, নগদ অর্থের সাথে দানবাক্সে পাওয়া গেছে বিভিন্ন দেশের বিদেশি মুদ্রা। এর মধ্যে রয়েছে ১৩৫ সৌদি রিয়াল, ২ হাজার ৫৩২ ভারতীয় রুপী, ৫৪ দশমিক ২ দিরহাম, ওমানের ১ দিনার ৪৫০ পয়সা, ৪ হাজার ইন্দোনেশিয়ান রুপিয়া, ২০ মার্কিন ডলার, ২০ হংকং ডলার, ২০ ইউরো, ১০ সিঙ্গাপুর ডলার, ২২ কাতার রিয়াল, ৬ মালয়েশিয়ান রিংগিত এবং ৬০ পাকিস্তানি রুপী।

এছাড়া, দানবাক্স থেকে উদ্ধার করা হয়েছে মূল্যবান ধাতুও। হিসাব অনুযায়ী, পাওয়া গেছে ৯ গ্রাম সোনা, ১০ গ্রাম স্বর্ণসদৃশ বস্তু এবং ৩৯ দশমিক ৪ গ্রাম রূপা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভক্তদের দান করা গবাদিপশুর হিসাবও যুক্ত করা হয়েছে। এতে একটি গরু লঙ্গরখানায় রান্না করে বিতরণ করা হয়। পাওয়া ৬৫টি ছাগলের মধ্যে ৪০টি লঙ্গরখানায় রান্না করে বিতরণ করা হয়েছে এবং অবশিষ্ট ২৫টি ছাগল বিক্রি করে ১ লাখ ২৫ হাজার ৪০০ টাকা আহরণ করা হয়েছে।

শনিবার সকাল ১১টার দিকে জেলা প্রশাসকের তত্ত্বাবধানে ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে দরগাহ মসজিদের বারান্দায় সিলগালা করা ডেগ ও নতুন দানবাক্স খুলে চার বস্তা টাকা বের করা হয়েছে। পরে শাহজালাল (রহ.) মাজার মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে দিনভর চলেছে টাকা গণনার কাজ।

এসময় সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা তদারকিতে গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে, গত ২২ জুন জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো মাজারের দানবাক্স খোলা হয়েছিল। সেই সময়ে মাত্র চার দিনের জমা হওয়া অর্থের পরিমাণ ছিল ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা। প্রথমবার ১ হাজার ও ৫০০ টাকার নোটের আধিক্য থাকলেও, এবার ১৯ দিনের ব্যবধানে সংগৃহীত চার বস্তা টাকার মধ্যে ১০ এবং ৫০ টাকার ছোট নোটের সংখ্যা ছিল সবচেয়ে বেশি।

মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে গঠিত বিশেষ কমিটির তত্ত্বাবধানে গণনাকৃত অর্থ সোনালী ব্যাংকে জেলা প্রশাসকের নামে খোলা নির্দিষ্ট ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাকিস্তান ভাঙন নিয়ে শেখ মুজিবের অবস্থান ব্যাখ্যা করলেন স্পিকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:০৬ পি.এম


পাকিস্তান ভাঙন নিয়ে শেখ মুজিবের অবস্থান ব্যাখ্যা করলেন স্পিকার

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, ১৯৭১ সালে পাকিস্তান ভাঙার কোনো ইচ্ছা বা বিচ্ছিন্নতাবাদী হওয়ার কোনো বাসনা শেখ মুজিবুর রহমানের ছিল না। এজন্য ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনীর ক্র্যাকডাউনের আগে তাজউদ্দিন আহমেদের অনুরোধ সত্ত্বেও তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি।

শনিবার (১১ জুলাই) ‘রিটায়ার্ড আর্মড ফোর্সেস অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (রাওয়া)’ আয়োজিত ‘দি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে ইতিহাস ঐতিহ্য এবং বাংলাদেশের অভ্যুদয়’ শীর্ষক এক আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

স্পিকার বলেন, তাজউদ্দিন সাহেব শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে গিয়ে বলেছিলেন, পাকিস্তানিরা আক্রমণ করতে যাচ্ছে, মানুষ স্বাধীনতা চায়। কিন্তু শেখ সাহেব তখন বলেছিলেন, আমি বিচ্ছিন্নতাবাদী হতে পারি না, পাকিস্তান ভাঙতে আমার কোনো অবদান থাকুক এটি আমি চাই না। সুতরাং তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি।

তিনি আরও বলেন, পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরোচিত আক্রমণের মুখে যখন জাতি দিশেহারা ও অবদমিত হওয়ার উপক্রম, তখনই ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট সাহসের সাথে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এই সংকটময় মুহূর্তে মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন, যা জাতিকে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্দীপ্ত ও অনুপ্রাণিত করেছিল। এটিই হলো প্রকৃত সত্য।

হাফিজ উদ্দিন জোর দিয়ে বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের যুদ্ধ ছিল না, এটি ছিল একটি জনতার যুদ্ধ।

তিনি অভিযোগ করেন, স্বাধীনতার পর ক্ষমতায় এসে একটি বিশেষ গোষ্ঠী ইতিহাস বিকৃত করে শুধু ৭ মার্চের ভাষণের ওপর ভিত্তি করে স্বাধীনতার কৃতিত্ব নিতে চেয়েছিল, যা ছিল চরম অন্যায়। রাজনীতিবিদরা সাধারণত অন্যের কৃতিত্ব হাইজ্যাক করেন এবং নিজের দলের নেতাকে ছাড়া কাউকে কৃতিত্ব দিতে চান না।

আলোচনায় তিনি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের গৌরবময় ভূমিকার কথা স্মরণ করে বলেন, তখন পূর্ব পাকিস্তানে রেজিমেন্টের মাত্র পাঁচটি ব্যাটালিয়ন ছিল। একেকটি ক্যান্টনমেন্টে তারা কোনো পূর্বপরিকল্পনা বা যোগাযোগ ছাড়াই পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার প্রতিবাদে বিদ্রোহ করে এবং জনগণকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের আহ্বান জানায়। এই প্রতিরোধ যুদ্ধই ছিল ৯ মাসব্যাপী রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মূল ভিত্তি।

সেনাবাহিনীতে যোগদানের স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে তিনি জানান, তিনি মূলত ফুটবল খেলার টানেই সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন। তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমানের অনুপ্রেরণাতেই তিনি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগদানের সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বলেন, আমি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি স্বাধীনতার মহান ঘোষক এদেশের মহান রাষ্ট্রপতি জেনারেল জিয়াউর রহমানকে, যিনি আমাকে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগদানের জন্য উৎসাহিত করেছিলেন।

এছাড়াও তিনি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের প্রধান সংগঠক মেজর (সাবে) আব্দুল গনি এবং ১৯৭১ সালে চট্টগ্রামের রেজিমেন্ট কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার মাহমুদুর রহমান মজুমদারের অবদানের কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন। পরিশেষে, তিনি সৈনিকদের সাথে অফিসারদের সম্পর্কের যে চিরাচরিত বন্ধন তা পুনরায় শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।

আলোচনায় তিনি মুক্তিযুদ্ধে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের গৌরবময় ভূমিকার কথা স্মরণ করে বলেন, তখন পূর্ব পাকিস্তানে রেজিমেন্টের মাত্র পাঁচটি ব্যাটালিয়ন ছিল। একেকটি ক্যান্টনমেন্টে তারা কোনো পূর্বপরিকল্পনা ছাড়াই পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার প্রতিবাদে বিদ্রোহ করে এবং জনগণকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের আহ্বান জানায়। এই প্রতিরোধ যুদ্ধই ছিল ৯ মাসব্যাপী রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মূল ভিত্তি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%