প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
সিলেটের এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে একটি গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয়েছে।
প্রায় ছয় বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার পর মামলার রায় আগামী মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ঘোষণা করবেন সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল।
ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আবুল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন সম্পন্ন হওয়ায় বিচারক স্বপন কুমার সরকার আগামী ১৪ জুলাই রায় ঘোষণার জন্য দিন নির্ধারণ করেছেন।
২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে ওই গৃহবধূর ওপর সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনা দেশব্যাপী ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে, যার কারণে ভুক্তভোগীর স্বামী শাহপরাণ থানায় ছয় জনের নাম উল্লেখ করে আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরবর্তীতে পুলিশ ও র্যাব অভিযানে নিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে, এবং বর্তমানে তারা কারাগারে রয়েছেন।
মামলার তদন্তে ডিএনএ পরীক্ষায় আট আসামির মধ্যে ছয়জনের সঙ্গে ধর্ষণের আলামতের মিল পাওয়া যায়। ২০২১ সালের ৩ ডিসেম্বর, তদন্ত কর্মকর্তা শাহপরাণ থানার পরিদর্শক ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
অভিযুক্তরা হলেন সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান ওরফে রনি, তারেকুল ইসলাম ওরফে তারেক, অর্জুন লস্কর, আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল, মিসবাউল ইসলাম ওরফে রাজন, রবিউল হাসান ও মাহফুজুর রহমান মামুস। তাদের মধ্যে সাইফুর রহমান, রনি, মাসুম ও রবিউল এমসি কলেজের শিক্ষার্থী হওয়ায় ঘটনার পর তাদের বহিষ্কার এবং ছাত্রত্ব বাতিল করা হয়। ধর্ষণের পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে ছিনতাই ও চাঁদাবাজির অভিযোগও গঠন করা হয়।
বিচারিক প্রক্রিয়ার এক পর্যায়ে ২০২২ সালে বাদীর আবেদনের প্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত মামলাটিকে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেন। পরে রাষ্ট্রপক্ষ লিভ টু আপিল করলেও গত বছরের ১৭ মার্চ তা প্রত্যাহার করে। এরপর মে মাসে মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল থেকে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয় এবং সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।
মামলায় ভুক্তভোগী, তার স্বামী, তদন্ত কর্মকর্তা, এমসি কলেজের এক শিক্ষক, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসকসহ মোট ২৪ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন।
গত ৬ এপ্রিল আসামিপক্ষ প্রথম যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে। সর্বশেষ গত বুধবার তাদের যুক্তিতর্ক শেষ হলে আদালত আগামী মঙ্গলবার রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন