ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কুয়েতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলার দাবি ইরানের


কুয়েতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলার দাবি ইরানের

শুক্রবার দাবি করা হয়েছে ইরানের পক্ষ থেকে যে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।

তেহরান অভিযোগ করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের একটি বিমানবন্দর, একটি রেলস্টেশন এবং দু’টি সেতুতে হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় সাতজন নিহত হয়েছেন। এর পর ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোতে ধারাবাহিক হামলা শুরু করেছে।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলা হয়, কুয়েতে মোতায়েন মার্কিন বাহিনীর অবস্থান এবং যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর ‘লজিস্টিক সহায়তা কেন্দ্র’ লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা করেছে ইরান।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ‘শত্রুর অপরাধের জবাব এবং মাতৃভূমির শহীদদের রক্তের প্রতিশোধ নিতেই এই হামলা চালানো হয়েছে।’

শুক্রবার কুয়েত জানিয়েছে, তারা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার জবাব দিচ্ছে। উল্লেখ্য, এর আগের দিন ইরানের আকাশপথে হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল দেশটি।

উপসাগরীয় দেশ বাহরাইন এবং কাতারও শুক্রবার ভোরে হামলার কথা জানিয়েছে।

বাহরাইনে সাইরেন বাজিয়ে নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে। এদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানাচ্ছে যে, দেশটি একটি বিমানঘাঁটিতে থাকা মার্কিন হেলিকপ্টার ও যুদ্ধবিমান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

অন্যদিকে, কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানাচ্ছে যে, দেশটির সেনাবাহিনী একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা সফলভাবে প্রতিহত করেছে। রাজধানী দোহায় অবস্থানরত এএফপির সাংবাদিকরাও পরপর কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন বলে জানিয়েছেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এলডিসি থেকে উত্তরণে বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ্বাস ইইউ ও জি-৭৭-এর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৩৩ এম


এলডিসি থেকে উত্তরণে বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ্বাস ইইউ ও জি-৭৭-এর

স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে মসৃণ, টেকসই ও স্থিতিশীল উত্তরণের নিশ্চয়তা দিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং গ্রুপ অব ৭৭ অ্যান্ড চায়না বাংলাদেশকে সমর্থন করার আশ্বাস প্রদান করেছে।

জাতিসংঘ সদর দফতরে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলের প্রধান রাষ্ট্রদূত স্টাভরোস ল্যামব্রিনিডিস এবং জি-৭৭ অ্যান্ড চায়নার চেয়ার ও জাতিসংঘে উরুগুয়ের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত লরা দুপুই লাসেরের সঙ্গে পৃথক বৈঠককালে তারা এই সমর্থনের কথা জানান।

বৈঠকে, বাণিজ্যমন্ত্রী এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল তিন বছর বৃদ্ধি করার জন্য বাংলাদেশের অনুরোধের যৌক্তিকতা তুলে ধরা হয়। তিনি বলেন, চলমান আর্থিক ও রাজনৈতিক রূপান্তর, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ এবং কাঠামোগত সংস্কারের সফল বাস্তবায়নের জন্য অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন। সরকার সুশাসন প্রতিষ্ঠা, আর্থিক খাত শক্তিশালীকরণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে দৃঢ় অঙ্গীকারবদ্ধ।

মন্ত্রী আরও বলেন, প্রস্তাবিত প্রস্তুতিকাল সংস্কার কার্যক্রমকে সুসংহত করতে, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা দূর করতে, শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে এবং বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণকে মসৃণ, টেকসই ও অপরিবর্তনীয় করতে সহায়তা করবে।

রাষ্ট্রদূত স্টাভরোস ল্যামব্রিনিডিস বাংলাদেশের সরকারের সুশাসন ও টেকসই উন্নয়নের অঙ্গীকারের প্রশংসা করেন। তিনি বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) বিষয়ে আলোচনা শুরুর জন্য স্বাগত জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণে ইইউর অব্যাহত সমর্থন প্রদানের কথা ব্যক্ত করেন। এছাড়া, তিনি সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে ঘনিষ্ঠ অংশীদারিত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

রাষ্ট্রদূত লরা দুপুই লাসেরে বাংলাদেশ সরকারের প্রস্তুতিকাল বৃদ্ধির পক্ষে উপস্থাপিত যুক্তিকে গ্রহণযোগ্য ও শক্তিশালী বলে অভিহিত করেন এবং সরকারের বাস্তবমুখী সংস্কার কর্মসূচির প্রশংসা করেন। তিনি বাংলাদেশের প্রতি জি-৭৭-এর সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর জন্য বাংলাদেশে এলডিসি উত্তরণ কৌশল বিষয়ে একটি বিশেষ ব্রিফিং আয়োজনের প্রস্তাব দেন। বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল এ প্রস্তাবকে স্বাগত জানায়।

বৈঠক শেষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকটি খুবই ফলপ্রসূ হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে মসৃণ, টেকসই ও স্থিতিশীল উত্তরণ নিশ্চিত করতে তাদের অব্যাহত সমর্থনের আশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করেছে।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী, ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর এবং বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শ্রমিকের প্রাপ্য মজুরি দ্রুত পরিশোধে ইসলামের কঠোর নির্দেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৩৬ এম


শ্রমিকের প্রাপ্য মজুরি দ্রুত পরিশোধে ইসলামের কঠোর নির্দেশ

ইসলামে শ্রম ও শ্রমিকের মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ। একজন শ্রমিকের ন্যায্য পারিশ্রমিক দ্রুত পরিশোধ করা শুধুমাত্র মানবিক দায়িত্ব নয়, বরং এটি ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশও। কোরআন ও হাদিসে শ্রমিকের অধিকার রক্ষার বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, 'অতঃপর নামাজ সমাপ্ত হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহর অনুগ্রহ (জীবিকা) অন্বেষণ করো। আর আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ করো, যাতে তোমরা সফল হতে পারো।' — (সুরা জুমা, আয়াত: ১০)

অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, 'নিশ্চয়ই আমি মানুষকে শ্রমনির্ভররূপে সৃষ্টি করেছি।' — (সুরা বালাদ, আয়াত: ৪)

এছাড়া একজন আদর্শ কর্মীর গুণাবলি সম্পর্কে কোরআনে এসেছে, 'সর্বোত্তম কর্মী সে, যে শক্তিশালী ও বিশ্বস্ত।' — (সুরা কাসাস, আয়াত: ২৬)

ইসলামের ইতিহাসে সব নবী-রাসুলই নিজ হাতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেছেন। যেমন, হজরত আদম (আ.) কৃষিকাজ করেছেন, হজরত নুহ (আ.) কাঠমিস্ত্রির কাজ করেছেন, হজরত দাউদ (আ.) নিজ হাতে লোহার বর্ম তৈরি করতেন। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-ও শৈশবে ছাগল চরিয়েছেন এবং পরে সততার সঙ্গে ব্যবসা করেছেন।

শ্রমিকের অধিকার সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বিখ্যাত নির্দেশ হলো, 'শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগেই তার পারিশ্রমিক পরিশোধ করে দাও।' — (সুনানে ইবনে মাজাহ)

আরেক হাদিসে তিনি বলেন, 'তারা তোমাদের ভাই। আল্লাহ তাদের তোমাদের অধীনস্থ করেছেন। তোমরা যা খাও, তাদেরও তা খাওয়াও এবং যা পরো, তাদেরও তা পরাও।'

ইসলামে শ্রমিকের ওপর সাধ্যের বাইরে কাজ চাপিয়ে দিতে নিষেধ করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে মালিককে নিজেও সহযোগিতা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মজুরি আটকে রাখা বা কম দেওয়া সম্পর্কে হাদিসে কড়া সতর্কবার্তা এসেছে। হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ তাআলা বলেন, 'কিয়ামতের দিন আমি তিন শ্রেণির মানুষের বিরুদ্ধে থাকব। তাদের একজন হলো, যে শ্রমিক দিয়ে কাজ করিয়ে তার পারিশ্রমিক দেয় না।' — (সহিহ বুখারি)

ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী, শ্রমিক ও মালিকের সম্পর্ক শোষণের নয়; বরং পারস্পরিক সম্মান, ন্যায়বিচার ও দায়িত্ববোধের। এজন্য শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি সময়মতো পরিশোধ করা এবং তার সঙ্গে মানবিক আচরণ করা প্রতিটি মুসলমানের দায়িত্ব।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্বকাপের জার্সিতে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’: ফুটবলমঞ্চে দেশের গৌরব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার, ১৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৪১ এম


বিশ্বকাপের জার্সিতে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’: ফুটবলমঞ্চে দেশের গৌরব

ফিফা বিশ্বকাপের মূল পর্বে বাংলাদেশ এখনও খেলার সুযোগ পায়নি, তবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল আসরে দেশের উপস্থিতি দিন দিন আরও দৃশ্যমান হচ্ছে। বাংলাদেশে জাতীয় দল মাঠে না থাকলেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের খেলোয়াড়দের পরিধানে থাকা জার্সিতে রয়েছে বাংলাদেশের শ্রম, দক্ষতা ও প্রযুক্তির ছাপ।

আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ব্র্যান্ডগুলোর জন্য বাংলাদেশে তৈরি হচ্ছে বিশ্বকাপের ম্যাচের জার্সি এবং স্পোর্টস অ্যাপারেল, যা আমাদের তৈরি পোশাক শিল্পকে বৈশ্বিক ক্রীড়া বাজারে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) জানিয়েছে যে, বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ। দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশেরও বেশি আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। প্রায় ৪০ লাখের বেশি শ্রমিক সরাসরি এবং আরও কয়েক লাখ মানুষ পরোক্ষভাবে এ শিল্পের সঙ্গে যুক্ত। গত দুই দশকে সাধারণ পোশাকের পাশাপাশি উচ্চমূল্যের স্পোর্টসওয়্যার, পারফরম্যান্স অ্যাপারেল এবং আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়া পোশাক উৎপাদনেও বাংলাদেশের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

এ প্রসঙ্গে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শরীফুল আলম বাসস’কে বলেছেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প এখন শুধুমাত্র সাধারণ পোশাক উৎপাদনেই নয়, বরং উচ্চমানের স্পোর্টস অ্যাপারেল তৈরিতেও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সক্ষমতার স্বাক্ষর দিচ্ছে।

তিনি বলেছেন, বিশ্বকাপের মতো মর্যাদাপূর্ণ আসরে বাংলাদেশে তৈরি জার্সির ব্যবহার দেশের শিল্প খাতের জন্য গর্বের বিষয়। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, এ ধরনের আন্তর্জাতিক অর্ডার দেশের রপ্তানি আয় বৃদ্ধি, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডের বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতা আরও শক্তিশালী করবে। সরকারের লক্ষ্য প্রযুক্তিনির্ভর এবং মূল্যসংযোজিত পোশাক উৎপাদন বাড়িয়ে বাংলাদেশকে বৈশ্বিক পোশাক শিল্পে আরও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে নিয়ে যাওয়া।

জানা গেছে, বিশ্বখ্যাত অ্যাডিডাস, নাইকি, পুমা, হামেল, নিউ ব্যালেন্স, ম্যাক্রন এবং ক্যাপেলির মতো আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের ক্রীড়া পোশাক উৎপাদন করছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জাতীয় ফুটবল দল, পেশাদার ক্লাব এবং সমর্থকদের জন্য জার্সি, ট্রেনিং কিট, শর্টস, জ্যাকেটসহ বিভিন্ন ধরনের স্পোর্টস অ্যাপারেল তৈরি হচ্ছে। তবে কোন দেশের জার্সি কোন কারখানায় তৈরি হচ্ছে, সে তথ্য সব সময় প্রকাশ করা হয় না।

তবে শিল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, বিশ্বকাপসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে ব্যবহৃত উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ক্রীড়া পোশাক বাংলাদেশের কারখানাতেই উৎপাদিত হয়। ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপকে ঘিরে এ বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং নিশ্চিত তথ্য সামনে এসেছে। নিউইয়র্কভিত্তিক ক্রীড়া ব্র্যান্ড ‘ক্যাপেলি স্পোর্টস’-এর জন্য ঢাকার তুরাগে অবস্থিত ‘গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যান্ড অ্যাসেম্বলিং লিমিটেড’ (জিএমএ) কেপ ভার্দে জাতীয় ফুটবল দলের অফিসিয়াল ম্যাচ জার্সি তৈরি করেছে। প্রতিষ্ঠানটি খেলোয়াড়দের জন্য প্রায় পাঁচ হাজার অফিসিয়াল ম্যাচ জার্সির পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সমর্থকদের জন্য আরও প্রায় ১৩ হাজার ফ্যান জার্সিও রপ্তানি করেছে।

শিল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি বাংলাদেশের স্পোর্টস অ্যাপারেল শিল্পের সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি। তারা বলছেন, বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আসরে বাংলাদেশের তৈরি জার্সির ব্যবহার শুধুমাত্র একটি রপ্তানি সাফল্য নয়, বরং এটি দেশের জন্য একটি শক্তিশালী আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিংয়ের সুযোগও তৈরি করেছে। বিশ্বের কোটি কোটি দর্শক যখন বিশ্বকাপের ম্যাচ উপভোগ করেন, তখন পরোক্ষভাবে বাংলাদেশের উৎপাদন দক্ষতা, মান নিয়ন্ত্রণ ও শিল্প সক্ষমতার পরিচিতিও বিশ্ববাজারে ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা বৃদ্ধি পায় এবং নতুন রপ্তানি আদেশ পাওয়ার সম্ভাবনা জোরদার হয়।

বিশ্বব্যাপী স্পোর্টসওয়্যার শিল্পের বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, পেশাদার ক্রীড়ার বিস্তার এবং অ্যাথলেজার পোশাকের জনপ্রিয়তার কারণে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলো নিয়মিতভাবে উৎপাদন বাড়াচ্ছে। এ পরিবর্তিত বাজারে প্রতিযোগিতামূলক উৎপাদন ব্যয়, দক্ষ শ্রমশক্তি এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন কারখানার কারণে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বকাপ, ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ, কোপা আমেরিকা কিংবা অলিম্পিকের মতো বড় ক্রীড়া আসরের আগে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলো বিপুল পরিমাণ জার্সি ও ক্রীড়া পোশাকের অর্ডার দেয়। এসব অর্ডার বাস্তবায়নে বাংলাদেশের কারখানাগুলোতে উৎপাদন কার্যক্রম বৃদ্ধি পায়। এর ফলে শ্রমিক, প্রকৌশলী, মার্চেন্ডাইজার, মান নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা, প্যাকেজিং, পরিবহণ, বন্দর এবং লজিস্টিকস খাতেও কর্মচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি উৎপাদন চুক্তি বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। যদিও বিশ্বকাপের জার্সি উৎপাদন থেকে অর্জিত আয়ের পৃথক কোনো সরকারি পরিসংখ্যান নেই, তবে উচ্চমূল্যের স্পোর্টস অ্যাপারেল সাধারণ পোশাকের তুলনায় বেশি মূল্য সংযোজন করে। ফলে এ খাতের সম্প্রসারণ দেশের রপ্তানি আয় বাড়ানোর পাশাপাশি বৈশ্বিক পোশাক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করছে।

বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বের ১৫০টিরও বেশি দেশে বাংলাদেশে তৈরি পোশাক রপ্তানি হচ্ছে। পরিবেশবান্ধব কারখানা, আন্তর্জাতিক মানের উৎপাদন ব্যবস্থা এবং দক্ষ জনশক্তির কারণে বাংলাদেশ এখন শুধুমাত্র সাধারণ পোশাক নয়, বরং উচ্চমূল্যের ক্রীড়া পোশাক উৎপাদনেও বিশ্ববাজারে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছে।

শিল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন, গবেষণা ও উন্নয়ন, উদ্ভাবন এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার মাধ্যমে বৈশ্বিক স্পোর্টস অ্যাপারেল বাজারে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব আরও বাড়ানো সম্ভব। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব জোরদার করা গেলে দেশের রপ্তানি আয়, কর্মসংস্থান এবং ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডের বৈশ্বিক মর্যাদা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)’র সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাসস’কে বলেছেন, ‘বিশ্বকাপের মতো বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসরে বাংলাদেশে তৈরি জার্সির ব্যবহার আমাদের তৈরি পোশাক শিল্পের সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক আস্থার প্রতিফলন। এটি এক্ষেত্রে শুধুমাত্র একটি বাণিজ্যিক সাফল্য নয়, বরং ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডের বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতা আরও শক্তিশালী করে।’

তিনি বলেছেন, আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলো বাংলাদেশকে এখন শুধু সাধারণ পোশাক উৎপাদনের কেন্দ্র হিসেবে নয়, বরং উচ্চমানের স্পোর্টস অ্যাপারেল উৎপাদনের নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবেও বিবেচনা করছে। এর ফলে নতুন রপ্তানি আদেশ, উচ্চমূল্যের পণ্য উৎপাদন এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ বাড়ছে।

মাহমুদ হাসান খান আরও বলেছেন, স্পোর্টসওয়্যার খাতে অর্ডার বৃদ্ধি কর্মসংস্থান সম্প্রসারণেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। উৎপাদন, মান নিয়ন্ত্রণ, প্যাকেজিং, পরিবহণ এবং সরবরাহ ব্যবস্থাসহ পুরো মূল্যশৃঙ্খলে এর সুফল পৌঁছে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন ও দক্ষতা বৃদ্ধি অব্যাহত রাখতে পারলে বৈশ্বিক স্পোর্টস অ্যাপারেল বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হবিগঞ্জে তিন মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ, নিহত ৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৫৪ এম


হবিগঞ্জে তিন মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ, নিহত ৩

হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে তিনটি মোটরসাইকেলের সংঘর্ষের ফলে তিন যুবকের মৃত্যু ঘটে। এই ঘটনায় গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন দুইজন।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সন্ধ্যা সাতটার দিকে, জলসুখা ইউনিয়নের নির্মাণাধীন আজমিরীগঞ্জ-শাল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের জলসুখা ব্রিজ এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত তিনজন হলেন, আজমিরীগঞ্জ উপজেলার পাহাড়পুর গ্রামের চন্দনের ছেলে অন্তর (২৫), বানিয়াচং উপজেলার আমিরখানী গ্রামের ফুল মিয়ার ছেলে তানভীর এবং একই গ্রামের নুরুল লস্করের ছেলে আবিদুল লস্কর (৩২)।

অপরদিকে আহত ব্যক্তিরা হলেন, চুনারুঘাট উপজেলার শেখেরগাঁও গ্রামের আব্দুস শহিদের ছেলে সাহিদুল ইসলাম বাচ্চু (৩৫) এবং গোছাপাড়া গ্রামের আব্দুর জব্বারের ছেলে মিজান মিয়া (২৭)। তারা উভয়েই বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘ব্যুরো বাংলাদেশ’ এর কর্মী। প্রাথমিক চিকিৎসা পাওয়ার পর তাদেরকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রের মাধ্যমে জানা যায়, দ্রুত গতিতে চলতে থাকা তিনটি মোটরসাইকেল যখন জলসুখা ব্রিজ এলাকায় পৌঁছায়, তখন তারা পরস্পরের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে যায়। এর ফলে ঘটনাস্থলে একজন প্রাণ হারান। পরে গুরুতর আহত চারজনকে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসকরা অপর দুইজনকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অপর দুইজনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটে পাঠানো হয়েছে।

এমন ঘটনার বিষয়ে বর্ণনা দিতে গিয়ে আজমিরীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আকবর হোসেন জানিয়েছেন, দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলে একজন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও দুইজনের মৃত্যু ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%