০৭:৪৫ পি.এম
আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা এবং ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কারিগরি শিক্ষাকে জাতীয় কারিকুলামে বাধ্যতামূলক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক এ কথা জানিয়েছেন। তিনি একই সঙ্গে আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হলে দেশে সামাজিক অপরাধ অনেকাংশে কমে আসবে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাজধানীর এফডিসিতে আন্তর্জাতিক যুব দিবস–২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেছিলেন। প্রতিযোগিতাটি যৌথভাবে আয়োজন করে ‘ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’, ‘কেয়ার বাংলাদেশ’ ও ‘এসওএস চিলড্রেনস ভিলেজেস বাংলাদেশ’ সংগঠন।
বিগত সরকারের সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘গত ১৭ বছরে দক্ষতা বৃদ্ধির নামে বাংলাদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার করা হয়েছে। দুর্নীতির কারণেই সেই সরকার ফ্যাসিস্ট উপাধি পেয়েছিল। বিগত আমলে গণতন্ত্রকে গলা টিপে হত্যা করা হয়েছিল।’
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার দুর্নীতিতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অবলম্বন করছে। প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, ‘বিগত সরকার যেসব ভুল করেছে, বর্তমান সরকার সেই ভুল করবে না। আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতি নয়, বরং সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে যুবসমাজকে কর্মক্ষম করে গড়ে তুলতে চাই।’
ডিগ্রি নিয়ে যুবকরা যেন বেকার বসে না থাকে, বরং কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে নিজেদের স্বাবলম্বী করতে পারে সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলেও জানান আমিনুল হক। তিনি বলেন, ‘তরুণ সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। সরকার খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে কাজ শুরু করেছে। যেখানেই খালি জায়গা পাওয়া যাবে, সেখানেই খেলার মাঠ করার পরিকল্পনা রয়েছে।’
অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, দেশের মোট মাদকাসক্তের প্রায় ৮০ শতাংশই তরুণ ও যুবক। বিগত সময়ে কর্মমুখী শিক্ষার অভাব এবং খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড না থাকায় হতাশাগ্রস্ত হয়ে তরুণরা মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়েছিল।
তিনি মন্তব্য করেন, সার্টিফিকেটনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার বদলে বর্তমান সরকারের কর্মমুখী শিক্ষা ও ক্রীড়ামুখী উদ্যোগ যুবসমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে বড় ভূমিকা রাখবে।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
‘দক্ষ যুবশক্তি গড়ে তুলতে সরকারের চেয়ে বেসরকারি খাতের সম্পৃক্ততা বেশি গুরুত্বপূর্ণ’ এই শীর্ষক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটিকে পরাজিত করে বিজয়ী হয় শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতার্কিকরা।
অনুষ্ঠানে বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক আবু মুহাম্মদ রইস, ড. শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন, ড. এস এম মোর্শেদ, কেয়ার বাংলাদেশের পরিচালক রওনক জাহান এবং এসওএসের ডেপুটি ন্যাশনাল ডিরেক্টর মো. মাসুদ রানা। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী ও বিজিত দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন