প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ভারতের লোকসভায় আসন পুনর্বিন্যাস নিয়ে যে রাজনৈতিক বিতর্ক দেখা দিয়েছে, তার প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে ৩ দফা দাবি জানিয়েছেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয় (থালাপতি বিজয়)।
লোকসভার মোট আসনসংখ্যার পাশাপাশি রাজ্যভিত্তিক আসন বণ্টন অপরিবর্তিত রাখার দাবি জানিয়ে আসন্ন নির্বাচনে নারীদের এক-তৃতীয়াংশ আসনের নিশ্চয়তা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানো একটি চিঠিতে এসব দাবি জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী বিজয়। সেই চিঠির সঙ্গে তামিলনাড়ু বিধানসভায় গৃহীত একটি প্রস্তাবের অনুলিপিও যুক্ত করা হয়েছে।
উক্ত বিধানসভায় গৃহীত প্রস্তাবে বলা হয়েছে, যদি নতুন কোনো জনসংখ্যাভিত্তিক সীমানা পুনর্নির্ধারণ করা হয়, তাহলে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলো রাজনৈতিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়বে। বিশেষ করে যা জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল রাজ্যগুলো, তাদের জন্য এটি একেবারে অন্যায় হবে।
বিজয় এই চিঠিতে উল্লেখ করেন, লোকসভার মোট সদস্যসংখ্যা স্থায়ীভাবে ৫৪৩টি রাখা প্রয়োজন। এর পাশাপাশি প্রত্যেক রাজ্যের নির্ধারিত আসন সংখ্যাও অপরিবর্তিত রাখতে হবে। তিনি এর জন্য প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংশোধনীর আনা অনুরোধ করেন।
তামিলনাড়ু বিধানসভায় আলোচনা হয়েছে, সীমানা পুনর্নির্ধারণ ঘটলে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলোর আসন কমিয়ে দেওয়া হতে পারে। অন্যদিকে জনসংখ্যা বেশি থাকা উত্তর ভারতের রাজ্যগুলোর প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি পাবে।
বিধানসভায় একটি উদাহরণ তুলে ধরেছে, ১৯৬৭ সালে সীমানা পুনর্নির্ধারণের কারণে তামিলনাড়ুর লোকসভা আসন ৪১ থেকে কমে ৩৯টি হয়ে গিয়েছিল।
তামিলনাড়ুর বক্তব্য হলো, ১৯৭১ সালের পর জনসংখ্যাকে ভিত্তি ধরে আসন নির্ধারণ করা হলে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলো দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এসব রাজ্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে।
আলোচনার প্রস্তাবে উল্লেখ করা হচ্ছিল, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল রাজ্যগুলোর প্রতিনিধিত্ব কমিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই ন্যায়সঙ্গত হবে না।
আসন পুনর্বিন্যাসের পাশাপাশি নারীদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর বিষয়টিতেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। লোকসভা এবং বিধানসভা নির্বাচনগুলোতে নারীদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের নীতি বাস্তবায়নের দাবি জানান তিনি।
এখন সবাই কেন্দ্রীয় সরকারের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছেন। কারণ লোকসভা আসন পুনর্বিন্যাস কেবল সীমানা পরিবর্তন নয়, বরং জাতীয় রাজনীতিতে আঞ্চলিক ভারসাম্যের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন