ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সিলিং ফ্যানে ঝুলন্ত অবস্থায় ‘সেজেগুজে’ থাকা ফারজানার ম র দেহ উদ্ধার,


সিলিং ফ্যানে ঝুলন্ত অবস্থায় ‘সেজেগুজে’ থাকা ফারজানার ম র দেহ উদ্ধার,

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সিলিং ফ্যানে ঝুলন্ত অবস্থায় ‘সেজেগুজে’ থাকা এক গৃহপরিচারিকার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

রোববার (২ আগস্ট) ভোরে পৌর শহরের মেড্ডা পোদ্দারবাড়ি এলাকার একটি বাসা থেকে এই মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

নিহত ফারজানা আক্তার (১৭) বিজয়নগর উপজেলার পত্তন ইউনিয়নের দত্তখলা গ্রামের সোলামুড়া এলাকার খলিল মিয়ার মেয়ে। প্রায় পাঁচ মাস ধরে তিনি মেড্ডা পোদ্দারবাড়ি এলাকার ওই বাসায় গৃহপরিচারিকা হিসেবে কাজ করতেন।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শহরের মেড্ডা পোদ্দারবাড়ি এলাকার হাবিবুর রহমানের ভবনের ভাড়াটিয়া সেন্টু মিয়ার বাসায় গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন ফারজানা। রাতের বেলায় বাসার ডাইনিংরুমে সিলিং ফ্যানের হুকের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় তাকে ঝুলতে দেখা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করে। উদ্ধারকালে দেখা যায়, ফারজানা সেজেগুজে ছিলেন। তবে তার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

নিহতের বাবা খলিল মিয়া জানান, মাঝেমধ্যে তিনি মেয়েকে দেখতে যেতেন। সবশেষ গত শুক্রবারও তিনি যান। তখন তাকে ৫০ টাকা দিয়ে আসেন। এরপর রোববার সকালে খবর পান, তার কলিজার টুকরা আর নেই।

তিনি জানান, ওই বাসার অন্যান্য লোকজন তার মেয়ের মৃত্যুর বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। ধারণা করা হচ্ছে, ফারজানাকে নির্যাতনের পর হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল।

এ বিষয়ে খলিল মিয়া এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

এ বিষয়ে সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, এক গৃহপরিচারিকার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এটি আত্মহত্যা, নাকি অন্য কোনো ঘটনা, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এই ঘটনার কারণে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইবির ১৩ গবেষণাপত্র প্রত্যাহার চু রি ও অনিয়মের অভিযোগে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:৫৫ পি.এম


ইবির ১৩ গবেষণাপত্র প্রত্যাহার চু রি ও অনিয়মের অভিযোগে

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) বিরুদ্ধে চুরি ও বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে, যার ভিত্তিতে মোট ১৩টি গবেষণাপত্র প্রত্যাহার (রিট্র্যাক্ট) করা হয়েছে। গবেষণাপত্রগুলোতে লেখকত্ব বা প্রতিষ্ঠানের পরিচয় নিয়ে সমস্যা, তথ্যসূত্র বা রেফারেন্স সংক্রান্ত সমস্যা, চিত্র সংক্রান্ত অসঙ্গতি বা ডুপ্লিকেশন, অবিশ্বস্ত ফলাফল বা উপসংহারসহ নানা অনিয়মের অভিযোগের জন্য বিভিন্ন সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন জার্নাল থেকে গবেষণাপত্রগুলো প্রত্যাহার করা হয়েছে।

সম্প্রতি আন্তর্জাতিকভাবে গবেষণাপত্র প্রত্যাহার ও সংশ্লিষ্ট সম্পাদকীয় নোটিশ সংরক্ষণকারী রিট্রাকশন ওয়াচ ডাটাবেইজ অনুসন্ধান করলে এ বিষয়ের তালিকা পাওয়া যায়। তালিকায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. হাবিবুর রহমান, অধ্যাপক ড. সাদেক আলী, অধ্যাপক ড. মো. মোস্তফা কামাল ও ড. মো. সজিব আলীসহ একাধিক বিভাগের বর্তমান এবং প্রাক্তন গবেষকদের নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বিশ্ব জার্নাল সূত্রে জানা গেছে, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) মোট ১৩টি গবেষণাপত্র প্রত্যাহার (রিট্র্যাক্ট) করা হয়েছে। প্রত্যাহার হওয়া গবেষণাপত্রগুলোর মধ্যে বিশ্বসেরা ২শতাংশ গবেষকের তালিকাভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক ড. হাবিবুর রহমানের ২টি গবেষণাপত্রও রয়েছে।

মোট ১৩টি গবেষণা রেকর্ডের মধ্যে ১২টি পিয়ার রিভিউড জার্নাল আর্টিকেল এবং একটি রিট্রেকটেড প্রিপ্রিন্ট জায়গা পেয়েছে। ১২টি জার্নাল আর্টিকেল ভিন্ন ভিন্ন জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে; ২টি প্রিপ্রিন্ট রিসার্স স্কয়ারে পোস্ট করা হয়েছে। লেখকভিত্তিক হিসাবে দেখা গেছে ১৩টি পৃথক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়-সংযুক্ত পরিচয় এবং ১৭টি লেখক-রেকর্ড উপস্থিত রয়েছে। ৪জনের ২টি করে এবং নয়জনের একটি করে রেকর্ড পাওয়া গেছে।

বিভাগভিত্তিক ভাবে গণিত বিভাগের ৪টি, এনএফটি বিভাগের ৩টি, আইসিটি বিভাগের ২টি, সিএসই বিভাগের ২টি এবং বাকি তিনটি বিভাগের ও একটি করে রেকর্ড রয়েছে।

প্রত্যাহার হওয়া গবেষণাপত্রগুলোর মধ্যে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২টি গবেষণাপত্র রয়েছে, যা ড. হাবিবুর রহমানের (সহলেখক ইমরান হাসান) লেখা। এছাড়া গণিত বিভাগের ৪টি প্রত্যাহারকৃত গবেষণাপত্রের মধ্যে ড. মো. মোস্তফা কামালের ২টি এবং ড. মো. সজিব আলীর ২টি গবেষণাপত্র অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

অ্যাপ্লাইড নিউট্রিশন অ্যান্ড ফুড টেকনোলজি বিভাগের ২টি গবেষণাপত্রের মধ্যে ড. কামরুজ্জামানের একটি গবেষণাপত্র এবং আতিকুর রহমান ও সাবেক শিক্ষার্থী আলমগীর হোসেনের যৌথ একটি গবেষণাপত্রও প্রত্যাহার করা হয়েছে। বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী শাহেদুর রহমান ও আসিফ ইকবালের যৌথ ১টি গবেষণাপত্র উলেস্নখযোগ্য। এছাড়া তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের ৩টি গবেষণাপত্রের মধ্যে একটি হলো শিক্ষার্থী এন. গাফারের, এবং অপর দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. মো. সাদেক আলীর।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যারা কাজ করে তাদের মধ্যে ত্রুটি বিচ্যুতি হয়, আর যারা কাজ করে না তাদের ভুল ত্রুটির সম্ভাবনা থাকে না। গবেষকদের উৎসাহিত করা উচিত। তবে যদি কেউ জেনে শুনে অন্যের লেখা চুরি করে অথবা বিভিন্ন মাধ্যমে কপি করে চালিয়ে দেয়, তাহলে সেটি আগামী প্রজন্মের জন্য হুমকি হতে পারে। বলে রাখা ভাল, গবেষণাপত্রগুলো দেখেই জীবনের উৎকর্ষতা আনা যায় এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এই ক্ষেত্রে ভুল গবেষণার ফল আমাদের সমাজে বা বায়ুমণ্ডলে (বৈজ্ঞানিক) ভুল কিছু বয়ে আনতে পারে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে দেশবাসীর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:০১ পি.এম


পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে দেশবাসীর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য রাখতে জনগণের সক্রিয় সহযোগিতা চেয়েছেন। তিনি বলেন, সরকার একা নয়, বরং দেশের প্রতিটি নাগরিক সচেতন হলে আবর্জনামুক্ত ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

সোমবার (৩ আগস্ট) সকাল বেলায় ১১টায় তিনি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় দেশবাসীর উদ্দেশে এসব কথা বলেন।

ভিডিও বার্তার শুরুতে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে সালাম জানিয়ে বলেন, আজকে আমি আপনাদের সাথে একটি বিষয় নিয়ে খুব সংক্ষেপে দুটি কথা বলতে চাই, যে বিষয়টি সমাজের প্রত্যেকটি শ্রেণী-পেশার মানুষকে স্পর্শ করে। বিষয়টি কি সেটি? সেটি হচ্ছে আমাদের পরিবেশ। অর্থাৎ আমি, আপনি, আমরা সকলে যে পরিবেশটাতে থাকি সেই পরিবেশটি কেমন? আমার আশপাশটি কেমন?

তিনি বলেন, আপনারা অধিকাংশ ক্ষেত্রে খেয়াল করে দেখেছেন, আমরা ঢাকা শহরের যেকোনো রাস্তাঘাটই হোক, যেকোন এলাকায় হোক, যেকোনো জেলা শহরের এলাকায় হোক, এমনকি উপজেলা পর্যায়েও ক্ষেত্রবিশেষে বিভিন্ন গ্রামগঞ্জেও আমরা দেখেছি যে, যেখানে বাজার ঘাট বা রাস্তা চলাচলে বেশি সেই জায়গাগুলোতে চারিদিকে একটি জিনিস খুব পরিষ্কারভাবে চোখে পড়ে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেটি আমরা যখন ছোট ছিলাম, আজকে থেকে ৩০-৪০ বছর আগে দৃশ্যটা এমন ছিল না। কিন্তু বর্তমানে দৃশ্যটা এইরকম। সেটা কেমন? চারিদিকে আমার, আপনার, আমাদের ব্যবহার করা হাতের টিস্যু অথবা আমার-আপনার খাওয়া চিপসের প্যাকেট অথবা বাসায় ব্যবহার করা রান্নার তেলের প্লাস্টিকের বোতলটি অথবা আমি বা আপনি পানি পান করেছি প্লাস্টিকের বোতল থেকে—সেই বোতলটি; এরকম আরো অনেক ধরনের আবর্জনা যত্রতত্র সব জায়গায় ছড়িয়ে আছে।

তারেক রহমান বলেন, কোনো জায়গায় একটু জমা হয়ে আছে অথবা লোকালয়ের চারিদিকে ছড়িয়ে আছে। চিন্তা করে দেখুন তো, আপনার ঘরে যে ঘরটিতে আপনি থাকেন, যে বাসাটিতে আপনি থাকেন, যদি চারিদিকে এমন টিস্যু ছড়িয়ে থাকতো, যদি চারিদিকে এমন আবর্জনা ছড়িয়ে থাকতো, আপনার কাছে কি ভালো লাগতো দেখতে? নিশ্চয়ই না। আমাদের কারো কাছেই ভালো লাগতো না। কবি তো সুন্দরভাবে লিখেছেন—"সবুজ শস্য শ্যামলা আমার এ ভুবন"। তা আসুন না, আমরা কেন আমাদের পরিবেশটাকে সুন্দর করতে পারবো না।

সরকারপ্রধান বলেন, বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষই পায়ে হেঁটে চলে অথবা রিকশায় যায় অথবা বাসে চলাচল করে। এই মানুষগুলো যখন রাস্তা পার হয়, বিভিন্ন জায়গায় যখন আবর্জনা জমে থাকে, ময়লা থাকে, এই মানুষগুলোর কিন্তু অনেক কষ্ট হয়। বিভিন্ন জায়গায় অনেক দুর্গন্ধ হয়, আবর্জনা জমে থাকে। তবে আমরা যদি সকলে মিলে একটু সচেতন হই; আমরা যদি নিজেরা সচেতন হই, যত্রতত্র যদি আমাদের ব্যবহারকৃত আবর্জনাগুলো আমরা না ফেলে দেই, আমরা যদি একটি নির্দিষ্ট জায়গায় এই আবর্জনাকে জমা করি এবং নির্দিষ্ট উপায়ে যদি এটাকে পরে ধ্বংস করি, তাহলে যেমন আমাদের পরিবেশটি ভালো থাকবে, ঠিক একইভাবে আমরা আমাদের পরিবেশটাকে সুন্দরভাবে রাখতে পারবো।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেখুন, অনেক জায়গায় আমি দেখেছি গত কয়েক মাসে যখন আমি দেশের বিভিন্ন জায়গায় গিয়েছি—হয়তো কোনো একটি পুকুরের পাশ দিয়ে যাচ্ছি, দেখেছি পুকুরের ভেতরে বিভিন্ন রকম ময়লা স্তুপ হয়ে পড়ে আছে। অথবা পুকুর পাড়ে বিভিন্ন ময়লা স্তুপ হয়ে পড়ে আছে। অথচ একসময় কিন্তু এই পুকুর পাড়েই মানুষ বিকেলে বসতো, গল্প করতো পরিবার পরিজন নিয়ে। কিন্তু এখন আবর্জনার জন্য সেটি সম্ভব হয় না।

তিনি বলেন, ঢাকা শহরেও বিভিন্ন পার্ক আছে, বিভিন্ন জেলা শহরেও বিভিন্ন পার্ক আছে। আমরা পার্কগুলোতে যাচ্ছি বিকেল বেলায় পরিবার পরিজনকে সাথে নিয়ে। কিন্তু গিয়ে যখন আমরা চিনে বাদাম খাচ্ছি অথবা চিপস খাচ্ছি অথবা বাচ্চারা লজেন্স খাচ্ছে, খেয়েই আমরা জিনিসটা সেখানে ফেলে দি। আমরা যখন যাই তখন হয়তো যারা পরিচ্ছন্ন কর্মী তারা হয়তো পরিষ্কার করে রাখছে। কিন্তু আমরা যখন বেরিয়ে আসছি তখন আর সেটি আগের মতন পরিষ্কার থাকছে না। কিন্তু যদি সেটি পরিষ্কার থাকতো, আপনি যদি পরিষ্কার করে রেখে আসেন, আপনার পরবর্তীতে যে যাবে সেও সেই পরিচ্ছন্নতা ও সুন্দর পরিবেশটি উপভোগ করতে পারবে।

দেশবাসীকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কাজেই আসুন না, আমরা যদি আজকে থেকে প্রত্যেকে সচেতন হই। আমাদের হাতের আবর্জনা বা ব্যবহারকৃত আবর্জনা যদি নির্দিষ্ট জায়গায় সুন্দরভাবে আমরা গুছিয়ে ফেলি, তাহলে ধীরে ধীরে হয়তো আমরা আমাদের এই বাংলাদেশটাকে আবর্জনা মুক্ত করতে পারবো। সুন্দর একটি পরিবেশ গড়ে তুলতে পারবো। দেশটা তো আমাদের সকলের। আমরা সকলে মিলে যদি চেষ্টা করি, সকলে মিলে যদি একটু একটু করে করি, তাহলে আমরা বড় কিছু করতে সক্ষম হব।

বক্তব্যের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রিয় দেশবাসী, আপনাদের কাছে আজকে এই সহযোগিতাটা আমি চাইছি। আমরা সকলে মিলে আসুন চেষ্টা করি আমাদের দেশটিকে পরিষ্কার-সুন্দর রাখতে। আমরা সকলে মিলে চেষ্টা করি আমাদের পরিবেশটিকে সুন্দর পরিষ্কার রাখতে, যা নিশ্চিত করবে আমাদের আগামী দিনের বংশধরদের জন্য একটি সুস্থ দেশ ও সুস্থ পরিবেশ।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তায় ২ কোটি ৫২ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার অনুদান ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:৩২ পি.এম


রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তায় ২ কোটি ৫২ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার অনুদান ঘোষণা

অস্ট্রেলিয়া সরকার এবং জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জীবনরক্ষাকারী সহায়তা ও সুরক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার জন্য ২ কোটি ৫২ লাখ ৫০ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার অনুদানের ঘোষণা দিয়েছে।

সোমবার (৩ আগস্ট) বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব, শুল্ক ও বহুসংস্কৃতি বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষা বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী জুলিয়ান হিলের উপস্থিতিতে এই ঘোষণা দেয়া হয়।

অস্ট্রেলিয়ার ২০২৬-২০২৮ মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় প্রদত্ত এই গুরুত্বপূর্ণ, নমনীয় এবং বহুবর্ষী অর্থায়ন বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ শরণার্থী জনগোষ্ঠী ও তাদের আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য অপরিহার্য সেবা অব্যাহত রাখতে সহায়তা করবে।

এই সহায়তা এমন একটি সময়ে এসেছে, যখন বৈশ্বিক মানবিক সহায়তার অর্থায়ন অনিশ্চয়তা ও ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার এই সময়োপযোগী সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং নির্ভরযোগ্য সহায়তার উৎস হিসেবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে ইউএনএইচসিআর ও এর অংশীদাররা রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে সুরক্ষা কার্যক্রম, দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি এবং দুর্যোগপ্রবণ ও নাজুক পরিবেশে বসবাসরত শরণার্থীদের জন্য দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস কার্যক্রমসহ গুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলো চালিয়ে যেতে পারবে।

অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব, শুল্ক ও বহুসংস্কৃতি এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষা বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী জুলিয়ান হিল বলেন, “অস্ট্রেলিয়া আমাদের অঞ্চলের সবচেয়ে বড় মানবিক সংকটগুলোতে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে, যা আমাদের অঞ্চলকে আরও নিরাপদ, স্থিতিশীল এবং সহনশীল করে তুলছে। মিয়ানমার ও বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের মানবিক চাহিদা পূরণে সহায়তা অব্যাহত রাখতে অস্ট্রেলিয়া প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরে যেতে চান, তবে তাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবর্তনের জন্য মিয়ানমারে প্রয়োজনীয় পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। এই সংকটের মূল কারণগুলোর সমাধান ছাড়া তা সম্ভব নয়।”

বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআরের অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিনিধি জুলিয়েট মুরেকেয়িসোনি বলেন, “প্রায় নয় বছর পর নতুন নতুন মানবিক সংকট সামনে আসায় রোহিঙ্গা সংকটটি বৈশ্বিক মনোযোগ থেকে হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার ধারাবাহিক সহায়তা একটি শক্তিশালী বার্তা দেয় যে রোহিঙ্গাদের বিশ্ব ভুলে যায়নি। আমি যেসব শরণার্থীর সঙ্গে কথা বলি, প্রত্যেকেই তারা নিরাপদে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার আশা ব্যক্ত করেন, যেখানে তাদের অধিকার ও মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে। মিয়ানমারে পূর্ণ নাগরিকত্বের নিশ্চয়তাসহ স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের অনুকূল পরিবেশ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে তাদের প্রতি অবিচল সমর্থন অব্যাহত রাখতে হবে।”

বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল বলেন, “বাংলাদেশে রোহিঙ্গা এবং তাদের আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীকে সহায়তা দিতে অস্ট্রেলিয়া প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ইউএনএইচসিআরকে দেয়া এই সর্বশেষ ২ কোটি ৫২ লাখ ৫০ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলারের সহায়তা নারী, কন্যাশিশু এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিসহ সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের জন্য অত্যাবশ্যক সেবা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।”

২০১৭ সালে ব্যাপক সহিংসতা ও নির্যাতনের মুখে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা নিরাপত্তার আশায় বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী বাস্তুচ্যুত অবস্থায় বসবাস করছেন, যাদের অধিকাংশ কক্সবাজারের ঘনবসতিপূর্ণ শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে অবস্থান করছেন। তাদের বেশিরভাগই দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে প্রায় সম্পূর্ণভাবে মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। দীর্ঘদিনের অর্থায়ন সংকট তাদের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলেছে এবং অনেককে টিকে থাকার জন্য ক্ষতিকারক বিকল্পের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে উন্নত জীবনের আশায় ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রা।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগর পাড়ি দেয়ার ঝুঁকিপূর্ণ চেষ্টার সময় প্রায় ৯০০ রোহিঙ্গা নিখোঁজ হন বা প্রাণ হারান। রোহিঙ্গা ও আশ্রয়দাতা জনগণের প্রতি অস্ট্রেলিয়ার ধারাবাহিক সহায়তা সুরক্ষা ও অপরিহার্য সেবায় প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমে নিরাপদ ও টেকসইভাবে সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা জোরদারে সহায়তা করবে।

অর্থায়নের ঘাটতির প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে নারী ও কন্যাশিশু, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং বয়স্ক মানুষের ওপর। ২০২৪ সাল থেকে নতুন করে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে ক্যাম্পে এসেছে। তাদের অনেকেই এখনও পর্যাপ্ত আশ্রয় এবং পরিচ্ছন্ন রান্নার জ্বালানিসহ মৌলিক সেবার পর্যাপ্ত সুবিধা থেকে বঞ্চিত।

বহু বছর ধরে বাস্তুচ্যুত থাকার কারণে অধিকাংশ রোহিঙ্গা শরণার্থী এখনও প্রায় সম্পূর্ণভাবে আন্তর্জাতিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। তাৎক্ষণিক মানবিক চাহিদা পূরণ জরুরি হলেও, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ সম্প্রসারণ সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এটি তাদের সক্ষমতা বাড়াতে এবং বাস্তুচ্যুতি-পরবর্তী ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হতে সহায়তা করবে।

দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধান বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সংহতি অব্যাহত রাখা অপরিহার্য। অস্ট্রেলিয়ার এই সহায়তা সেই সংহতিরই একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ, যা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে বসবাস এবং তাদের জরুরি প্রয়োজনীয় সুরক্ষা, সহায়তা ও সুযোগ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মধ্যনগর সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ২৮টি ভারতীয় গরু জব্দ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সজিব মিয়া ধর্মপাশা উপজেলা প্রতিনিধি

সোমবার, ৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:৩৬ পি.এম


মধ্যনগর সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ২৮টি ভারতীয় গরু জব্দ

সুনামগঞ্জের মধ্যনগর সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে ভারত থেকে চোরাচালানের মাধ্যমে আনা ২৮টি ভারতীয় গরু জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
রোববার (২ আগস্ট) ভোরে বিজিবির সুনামগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (২৮ বিজিবি)-এর মধ্যনগর উপজেলার বাঙালভিটা বিওপি সদস্যরা উপজেলার চেঙ্গিছড়া সীমান্ত এলাকা থেকে এসব গরু জব্দ করেন।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে আনা মাঝারি আকারের ২৮টি ভারতীয় গরু পাচারের সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে গরুগুলো উদ্ধার করা হলেও বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাচালানকারীরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
জব্দকৃত গরুগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য ২২ লাখ ৪০ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (২৮ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল এ কে এম জাকারিয়া কাদির বলেন, "গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে বাঙালভিটা সীমান্ত এলাকা থেকে ২৮টি ভারতীয় গরু জব্দ করা হয়েছে। জব্দকৃত গরুগুলো পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শুল্ক কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে।"
তিনি আরও জানান, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির টহল ও নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে এবং এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%