প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) বিরুদ্ধে চুরি ও বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে, যার ভিত্তিতে মোট ১৩টি গবেষণাপত্র প্রত্যাহার (রিট্র্যাক্ট) করা হয়েছে। গবেষণাপত্রগুলোতে লেখকত্ব বা প্রতিষ্ঠানের পরিচয় নিয়ে সমস্যা, তথ্যসূত্র বা রেফারেন্স সংক্রান্ত সমস্যা, চিত্র সংক্রান্ত অসঙ্গতি বা ডুপ্লিকেশন, অবিশ্বস্ত ফলাফল বা উপসংহারসহ নানা অনিয়মের অভিযোগের জন্য বিভিন্ন সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন জার্নাল থেকে গবেষণাপত্রগুলো প্রত্যাহার করা হয়েছে।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিকভাবে গবেষণাপত্র প্রত্যাহার ও সংশ্লিষ্ট সম্পাদকীয় নোটিশ সংরক্ষণকারী রিট্রাকশন ওয়াচ ডাটাবেইজ অনুসন্ধান করলে এ বিষয়ের তালিকা পাওয়া যায়। তালিকায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. হাবিবুর রহমান, অধ্যাপক ড. সাদেক আলী, অধ্যাপক ড. মো. মোস্তফা কামাল ও ড. মো. সজিব আলীসহ একাধিক বিভাগের বর্তমান এবং প্রাক্তন গবেষকদের নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বিশ্ব জার্নাল সূত্রে জানা গেছে, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) মোট ১৩টি গবেষণাপত্র প্রত্যাহার (রিট্র্যাক্ট) করা হয়েছে। প্রত্যাহার হওয়া গবেষণাপত্রগুলোর মধ্যে বিশ্বসেরা ২শতাংশ গবেষকের তালিকাভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক ড. হাবিবুর রহমানের ২টি গবেষণাপত্রও রয়েছে।
মোট ১৩টি গবেষণা রেকর্ডের মধ্যে ১২টি পিয়ার রিভিউড জার্নাল আর্টিকেল এবং একটি রিট্রেকটেড প্রিপ্রিন্ট জায়গা পেয়েছে। ১২টি জার্নাল আর্টিকেল ভিন্ন ভিন্ন জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে; ২টি প্রিপ্রিন্ট রিসার্স স্কয়ারে পোস্ট করা হয়েছে। লেখকভিত্তিক হিসাবে দেখা গেছে ১৩টি পৃথক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়-সংযুক্ত পরিচয় এবং ১৭টি লেখক-রেকর্ড উপস্থিত রয়েছে। ৪জনের ২টি করে এবং নয়জনের একটি করে রেকর্ড পাওয়া গেছে।
বিভাগভিত্তিক ভাবে গণিত বিভাগের ৪টি, এনএফটি বিভাগের ৩টি, আইসিটি বিভাগের ২টি, সিএসই বিভাগের ২টি এবং বাকি তিনটি বিভাগের ও একটি করে রেকর্ড রয়েছে।
প্রত্যাহার হওয়া গবেষণাপত্রগুলোর মধ্যে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২টি গবেষণাপত্র রয়েছে, যা ড. হাবিবুর রহমানের (সহলেখক ইমরান হাসান) লেখা। এছাড়া গণিত বিভাগের ৪টি প্রত্যাহারকৃত গবেষণাপত্রের মধ্যে ড. মো. মোস্তফা কামালের ২টি এবং ড. মো. সজিব আলীর ২টি গবেষণাপত্র অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
অ্যাপ্লাইড নিউট্রিশন অ্যান্ড ফুড টেকনোলজি বিভাগের ২টি গবেষণাপত্রের মধ্যে ড. কামরুজ্জামানের একটি গবেষণাপত্র এবং আতিকুর রহমান ও সাবেক শিক্ষার্থী আলমগীর হোসেনের যৌথ একটি গবেষণাপত্রও প্রত্যাহার করা হয়েছে। বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী শাহেদুর রহমান ও আসিফ ইকবালের যৌথ ১টি গবেষণাপত্র উলেস্নখযোগ্য। এছাড়া তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের ৩টি গবেষণাপত্রের মধ্যে একটি হলো শিক্ষার্থী এন. গাফারের, এবং অপর দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. মো. সাদেক আলীর।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যারা কাজ করে তাদের মধ্যে ত্রুটি বিচ্যুতি হয়, আর যারা কাজ করে না তাদের ভুল ত্রুটির সম্ভাবনা থাকে না। গবেষকদের উৎসাহিত করা উচিত। তবে যদি কেউ জেনে শুনে অন্যের লেখা চুরি করে অথবা বিভিন্ন মাধ্যমে কপি করে চালিয়ে দেয়, তাহলে সেটি আগামী প্রজন্মের জন্য হুমকি হতে পারে। বলে রাখা ভাল, গবেষণাপত্রগুলো দেখেই জীবনের উৎকর্ষতা আনা যায় এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এই ক্ষেত্রে ভুল গবেষণার ফল আমাদের সমাজে বা বায়ুমণ্ডলে (বৈজ্ঞানিক) ভুল কিছু বয়ে আনতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন