শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:৫৬ পি.এম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উল্লেখ করেছেন যে, তিনি বাংলাদেশের সকল শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন। স্বাধীনতার পর থেকে যারা গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আত্মত্যাগ করেছেন, তাদের অবদানকে তিনি বিনম্রচিত্তে স্মরণ করেন।
ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বীর ছাত্র জনতার গণ-অভ্যুত্থানে সকল শহীদ এবং আহতদের প্রতিও তিনি অকৃত্রিম শ্রদ্ধা জানান।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আরও বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসন-শোষণের বিরুদ্ধে দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে চলা আন্দোলন-সংগ্রামের ফলস্বরূপ বর্তমানে বাংলাদেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত। এই বাংলাদেশে চলতি বছরের ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচনে জনগণ বাংলাদেশ জাতীয়াতাবাদী দল-বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে।
তিনি দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণকে অভিনন্দন জানান। তিনি বিশ্বাস করেন, জনগণই সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (এলডিসি) উন্নয়ন ও উত্তরণ প্রক্রিয়া জোরদারের জন্য ছয়টি অগ্রাধিকার প্রস্তাব উপস্থাপন করেছে। জাতিসংঘে এলডিসি দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বার্ষিক বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এই প্রস্তাবগুলো তুলে ধরেন।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তিনি উল্লেখ করেন, ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালের নির্বাচনের পর বাংলাদেশ নতুন ম্যান্ডেট নিয়ে ‘রিকভারি, রেস্টোরেশন অ্যান্ড রিকনস্ট্রাকশন (থ্রি আর)’ কৌশলের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি গড়ে তোলার জন্য কাজ করছে।
হুমায়ুন কবির এলডিসি চেয়ার হিসেবে নেপালের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন এবং সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত দেশটির প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি নতুন এলডিসি চেয়ার হিসেবে গাম্বিয়াকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, দোহা কর্মসূচি গ্রহণের পর বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে।
ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, ঋণ সংকট, উন্নয়ন সহায়তা (ওডিএ) কমে যাওয়া, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা এবং জলবায়ু সংকট এলডিসি দেশগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এলডিসি দেশগুলোর প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় কম উল্লেখ করে তিনি অনলাইন ইউনিভার্সিটি, খাদ্য মজুত ব্যবস্থা, টেকসই উত্তরণ সহায়তা তহবিল, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সহায়তা কেন্দ্র ও স্থিতিস্থাপকতা উন্নয়ন ব্যবস্থার অগ্রগতি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
এলডিসি থেকে উত্তরণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জন্য অতিরিক্ত প্রস্তুতি সময়ের গুরুত্ব তুলে ধরে হুমায়ুন কবির বলেন, এটি একটি মসৃণ, টেকসই ও অপরিবর্তনীয় উত্তরণ নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।
তিনি যে ছয়টি অগ্রাধিকার প্রস্তাব দেন, সেগুলো হলো—
১. উন্নয়ন সহায়তার (ওডিএ) ঘাটতি পূরণ, প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং সহজ শর্তের অর্থায়ন ও বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি।
২. বাজারে প্রবেশাধিকার, স্বচ্ছ উৎপত্তি বিধি ও বাণিজ্য সুবিধা বাড়িয়ে এলডিসি বাণিজ্য সম্প্রসারণ।
৩. জলবায়ু অভিযোজন ও ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় সহজলভ্য ও পূর্বানুমানযোগ্য জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করা।
৪. অবৈধ আর্থিক প্রবাহ বন্ধ ও পাচার হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধারে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার।
৫. শিল্পায়ন, প্রযুক্তি স্থানান্তর, মূল্য সংযোজন ও ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে কাঠামোগত রূপান্তর।
৬. জাতিসংঘের সংস্কার উদ্যোগ ও বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে এলডিসির জন্য আরও কার্যকর অংশীদারত্ব গড়ে তোলা।
বক্তব্যের শেষে তিনি এলডিসি মন্ত্রী পর্যায়ের ঘোষণাপত্র গ্রহণের প্রত্যাশা করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘সরকার একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায়, যেখানে স্বাস্থ্যসেবার সূচনা পরিবার ও কমিউনিটি থেকে হবে এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা স্বাস্থ্যব্যবস্থার মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।’
তিনি উল্লেখ করেন, ‘প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম’ এই নীতিকে সামনে রেখে সরকার দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার রূপান্তর ঘটাচ্ছে।
এ ব্যবস্থায় নারী ও শিশুদের বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুরে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের কনফারেন্স রুম-৭-এ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাইডলাইনে আয়োজিত ‘প্রতিশ্রুতি থেকে কার্যকর পদক্ষেপ: প্রতিরোধযোগ্য মাতৃ ও নবজাতকের মৃত্যু রোধে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় মিডওয়াইফারি অন্তর্ভুক্তি’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্টে উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সুইডেন ও ইউএনএফপিএ-এর অংশীদারিত্বে বাংলাদেশ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রাজনৈতিক অঙ্গীকার তখনই অর্থবহ হয়ে ওঠে, যখন তা বিনিয়োগ, কার্যকর প্রতিষ্ঠান, দক্ষ জনশক্তি এবং মানুষের উন্নত জীবনে রূপ নেয়। এ কারণেই ‘প্রতিশ্রুতি থেকে কার্যকর পদক্ষেপ’ প্রতিপাদ্যটি বাংলাদেশের জন্য বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক।’
তিনি আরও বলেন, ‘সরকার আরও এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা নিয়েছে, যার ৮০ শতাংশই হবেন নারী। এসব স্বাস্থ্যকর্মী সকল পরিবারকে স্বাস্থ্যব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করবেন, শুরুতেই স্বাস্থ্যঝুঁকি শনাক্ত করবেন এবং সময়মতো প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবেন।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই ধারাবাহিক স্বাস্থ্যসেবায় পেশাদার মিডওয়াইফের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন দক্ষ মিডওয়াইফ শুধু প্রসবসেবা প্রদানকারী নন; গর্ভধারণের পূর্বপর্যায় থেকে শুরু করে প্রসব-পরবর্তী সময় পর্যন্ত তিনি একজন নারীর আস্থাভাজন স্বাস্থ্যসেবাকর্মী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।’
বাংলাদেশ সরকার সারা দেশে ২৫ হাজার পেশাদার মিডওয়াইফ নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এরই মধ্যে এ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এসব মিডওয়াইফ বহুমুখী দক্ষতাসম্পন্ন প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দলের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে কাজ করবেন।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মিডওয়াইফরা প্রয়োজনীয় প্রজননস্বাস্থ্য সেবা প্রদান, গর্ভকালীন সেবা, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রসব নিশ্চিতকরণ, জটিলতা দ্রুত শনাক্তকরণ এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে উচ্চতর স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে রেফার করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। পাশাপাশি মা ও নবজাতকের সেবা, শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো, টিকাদান এবং শিশুর সুস্থ বিকাশেও তারা সহায়তা করবেন।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ পেশাদার মিডওয়াইফারি শিক্ষা চালু, নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ এবং জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে মিডওয়াইফ নিয়োগের মাধ্যমে এ খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করেছে।’
বর্তমানে বাংলাদেশে ১১ হাজারেরও বেশি লাইসেন্সপ্রাপ্ত মিডওয়াইফ রয়েছেন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০৩০ সালের মধ্যে এ সংখ্যা ২৫ হাজারে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সুইডেন ও ইউএনএফপিএ-এর সঙ্গে বাংলাদেশের অংশীদারত্ব গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।’
তিনি বলেন, ‘ইউএনএফপিএ-এর সহযোগিতায় বাংলাদেশ ২২টি জেলায় মিডওয়াইফ-নেতৃত্বাধীন সেবা সম্প্রসারণ করেছে। সেখানে দক্ষ মিডওয়াইফরা এক লাখ ৫৪ হাজারেরও বেশি প্রসবে সহায়তা করেছেন এবং মাতৃস্বাস্থ্যের বিভিন্ন জটিল পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভূমিকা রেখেছেন।’
তিনি বলেন, ‘এগুলো শুধু পরিসংখ্যান নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে নিরাপদে বাড়ি ফিরে যাওয়া মায়েদের গল্প এবং আশার আলো নিয়ে জীবনের পথে যাত্রা শুরু করা নবজাতকদের ভবিষ্যৎ।’
বাংলাদেশ একটি সমন্বিত ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘এর আওতায় প্রত্যেক নাগরিকের জন্য একটি হেলথ কার্ড থাকবে, যা ডিজিটাল স্বাস্থ্য রেকর্ড ও ইলেকট্রনিক রেফারেল ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকবে।’
‘এর ফলে একজন গ্রামীণ নারীর স্বাস্থ্যসেবার তথ্য বাড়ির কাছাকাছি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিবন্ধিত ও সংরক্ষিত থাকবে। তাকে উচ্চতর পর্যায়ের হাসপাতালে রেফার করা হলে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যতথ্যও তার সঙ্গে যাবে।’
নারীর স্বাস্থ্যসেবা শুধু গর্ভধারণ ও সন্তান প্রসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নারীর জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে। এর মধ্যে কিশোরীদের স্বাস্থ্য, প্রজননস্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা এবং জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ ও প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণকে গুরুত্ব দিতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার আওতায় নারীর স্বাস্থ্যসেবার বৃহত্তর ব্যবস্থার অংশ হতে হবে মিডওয়াইফারিকে। এ ক্ষেত্রে জাতীয় মালিকানা ও টেকসই অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগকে প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রত্যেক নারী যেন তাদের বাসস্থানের কাছাকাছি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দলের অংশ হিসেবে একজন দক্ষ পেশাদার মিডওয়াইফের সেবা পাওয়ার সুযোগ পান, এটাই বাংলাদেশের লক্ষ্য।’
তিনি বলেন, ‘এ লক্ষ্য অর্জনে দেশব্যাপী মিডওয়াইফদের নিয়োগ ও সেবা নিশ্চিত করা, কমিউনিটিভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা ও রেফারেল ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং আধুনিক ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থার মাধ্যমে নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে সংযুক্ত করা প্রয়োজন।’
প্রধানমন্ত্রী দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, ‘এই পদক্ষেপগুলো একসঙ্গে আমাদের একটি সুস্থ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। এভাবেই আমরা প্রতিশ্রুতি থেকে কার্যকর পদক্ষেপের দিকে এগিয়ে যাব।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে জীবনের প্রথম ভাষণ প্রদানকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আবেগাপ্লুত হয়ে প্রয়াত বাবা-মাকে স্মরণ করেন।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ভোর ৪ টার দিকে তিনি জাতিসংঘের বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের সরকারপ্রধান হিসেবে ভাষণ শুরু করেন।
ভাষণের শুরুতেই, প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান।
তিনি ড. খলিলুর রহমানের উদ্দেশে বলেন, "সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় আপনাকে সম্পূর্ণভাবে সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।" একইসঙ্গে বিদায়ী সভাপতি ম্যাডাম এনালেনা বেয়ারবককে তার সুযোগ্য নেতৃত্বের জন্য ধন্যবাদ জানান।
মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আত্মদানকারীদের স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "শুরুতেই আমি বাংলাদেশের সকল শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।" স্বাধীনতার পর থেকে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে যারা আত্মত্যাগ করেছেন, তাদের অবদানকে তিনি বিনম্রচিত্তে স্মরণ করেন। ২০২৪ সালের জুলাই-আগষ্টে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বীর ছাত্র জনতার গণ অভ্যুত্থানে সকল শহীদ এবং আহতদের প্রতিও তিনি অকৃত্রিম শ্রদ্ধা জানান।
তিনি আরও বলেন, "ফ্যাসিবাদী শাসন-শোষণের বিরুদ্ধে দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময়ের আন্দোলন-সংগ্রামের পথ ধরে বর্তমানে ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ।" চলতি বছরের ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচনে জনগণ বাংলাদেশ জাতীয়াতাবাদী দল-বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। তিনি দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণকে অভিনন্দন জানান এবং বলেন, "আমরা বিশ্বাস করি, জনগণই আমাদের সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস।"
এই সময়, তারেক রহমান তার প্রয়াত বাবা-মাকে স্মরণ করে বলেন, "জাতিসংঘের এই বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে এই মুহূর্তে, আজ আমি কিছুটা স্মৃতিকাতর।" তিনি উল্লেখ করেন, এই বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে তার পিতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা খালেদা জিয়া দেশ ও জনগণের পক্ষে ভাষণ দিয়েছিলেন। একইভাবে, আজ তিনি তার দেশ এবং জনগণের স্বার্থের পক্ষে এবং একটি শান্তিময় বিশ্ব সমাজের প্রত্যাশায় এখানে দাঁড়িয়ে আছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্তব্য করেছেন যে, বাংলাদেশ বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে তেমন ভূমিকা না রাখলেও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব বহন করতে হচ্ছে।
তিনি শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ভোর ৪ টার দিকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ভাষণে এই কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। যদিও বাংলাদেশের বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে ভূমিকা নেই, তবুও দেশটি জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের শিকার। এই পরিস্থিতিতে, বাংলাদেশ ঝুঁকি মোকাবেলা করে টিকে থাকার সক্ষমতা অর্জনের পথ বেছে নিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ COP-31 (কপ-৩১)-এ ক্লাইমেট জাস্টিস, জলবায়ু অর্থায়ন এবং অভিযোজন সহায়তার ক্ষেত্রে আরও জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আশা করে।
তারেক রহমান জানান, বর্তমান সরকার বাংলাদেশে পরিবেশ সুরক্ষায় কর্মসূচি জোরদার করেছে। এর অংশ হিসেবে, সরকার আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর কর্মসূচি শুরু করেছে। ক্লিন এনার্জি এবং সোলার এনার্জি ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বন্যা ও খরার অভিশাপ থেকে দেশকে মুক্ত করার লক্ষ্যে সরকার সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের কর্মসূচি শুরু করেছে।
তিনি আরও বলেন, সরকার বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ সুন্দরবনে মিঠা পানির প্রবাহ বৃদ্ধি এবং বৃহৎ জলাধারের মাধ্যমে পানি সংরক্ষণের জন্য তিস্তা মহাপরিকল্পনা এবং ‘পদ্মা ব্যারেজ’ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে। একইসঙ্গে, পানি সংরক্ষণ ও দূষণ রোধে অভ্যন্তরীণ পদক্ষেপ জোরদার করার পাশাপাশি আন্তঃসীমান্ত পানি ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে ১৯৯২ সালের ‘ওয়াটার কনভেনশন’ স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ সরকার।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ