ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণের বিরূপ প্রভাব বহন করছে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী


বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণের বিরূপ প্রভাব বহন করছে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্তব্য করেছেন যে, বাংলাদেশ বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে তেমন ভূমিকা না রাখলেও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব বহন করতে হচ্ছে।

তিনি শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ভোর ৪ টার দিকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ভাষণে এই কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। যদিও বাংলাদেশের বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে ভূমিকা নেই, তবুও দেশটি জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের শিকার। এই পরিস্থিতিতে, বাংলাদেশ ঝুঁকি মোকাবেলা করে টিকে থাকার সক্ষমতা অর্জনের পথ বেছে নিয়েছে।

আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ COP-31 (কপ-৩১)-এ ক্লাইমেট জাস্টিস, জলবায়ু অর্থায়ন এবং অভিযোজন সহায়তার ক্ষেত্রে আরও জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আশা করে।

তারেক রহমান জানান, বর্তমান সরকার বাংলাদেশে পরিবেশ সুরক্ষায় কর্মসূচি জোরদার করেছে। এর অংশ হিসেবে, সরকার আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর কর্মসূচি শুরু করেছে। ক্লিন এনার্জি এবং সোলার এনার্জি ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বন্যা ও খরার অভিশাপ থেকে দেশকে মুক্ত করার লক্ষ্যে সরকার সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের কর্মসূচি শুরু করেছে।

তিনি আরও বলেন, সরকার বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ সুন্দরবনে মিঠা পানির প্রবাহ বৃদ্ধি এবং বৃহৎ জলাধারের মাধ্যমে পানি সংরক্ষণের জন্য তিস্তা মহাপরিকল্পনা এবং ‘পদ্মা ব্যারেজ’ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে। একইসঙ্গে, পানি সংরক্ষণ ও দূষণ রোধে অভ্যন্তরীণ পদক্ষেপ জোরদার করার পাশাপাশি আন্তঃসীমান্ত পানি ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে ১৯৯২ সালের ‘ওয়াটার কনভেনশন’ স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ সরকার।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শুধু ভোটের গণতন্ত্র নয়, অর্থনীতির গণতন্ত্রও নিশ্চিত করতে চাই: প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:০০ পি.এম


শুধু ভোটের গণতন্ত্র নয়, অর্থনীতির গণতন্ত্রও নিশ্চিত করতে চাই: প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশের কর্মক্ষম জনগণের দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশকে ম্যানুফ্যাকচারিং হাবে পরিণত করার লক্ষ্যে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে, এমনটি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ভোর ৪ টার দিকে দেওয়া ভাষণে তিনি উল্লেখ করেন, তরুণ উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবকদের জন্য স্টার্টআপ এবং ব্যবসার সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। চলতি অর্থবছরে এই খাতে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, নারী শিক্ষা, নারীর কর্মসংস্থান এবং নারী উদ্যোক্তা তৈরিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার বিষয়টিও সরকারের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, ‘শুধু ভোটের গণতন্ত্র নয়, অর্থনীতির গণতন্ত্রও নিশ্চিত করতে চায় বাংলাদেশ।’ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং সমৃদ্ধির সুফল প্রতিটি পরিবারের কাছে পৌঁছে দিতে ফ্যামিলি কার্ড, স্পোর্টস কার্ড এবং হেলথ কার্ডের মতো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, পরিবারে নারী-প্রধানের নামে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হচ্ছে। এটি নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের একটি মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

শিক্ষাখাতের পরিকল্পনা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ পর্যন্ত ব্যয় বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন কর্মসূচিতে নৈতিক শিক্ষা ও ব্যবহারিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

স্কুলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও ভর্তি বাড়াতে বিনামূল্যে দুপুরের খাবার দেওয়ার উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করতে প্রথমবারের মতো স্পোর্টসকে একটি বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একটি ফুটবল টুর্নামেন্টে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণের বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির নতুন যুগে প্রবেশ করছে। তবে প্রযুক্তির সুযোগ এখনো সবার জন্য সমান নয়। তরুণ জনগণের ডিজিটাল সক্ষমতাকে কাজে লাগাতে জ্ঞান, শিক্ষা এবং গবেষণার সুযোগ সবার নাগালের মধ্যে আনতে হবে।

তিনি বলেন, ‘ডিজিটাল বিভাজন যেন আগামী দিনের আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই বিভাজনে পরিণত না হয়।’

বাংলাদেশ উদ্ভাবন ও মেধাকে সম্মান করে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তিতে সাশ্রয়ী প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, কোনো দেশ যেন প্রযুক্তিগত অগ্রযাত্রায় পিছিয়ে না থাকে। সবার জন্য ন্যায্য এবং সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়তে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।

প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশগুলোর পারস্পরিক নির্ভরতার বিষয়টিও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিশেষ করে আঞ্চলিক পর্যায়ে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করা এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

করোনাভাইরাস মহামারির প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, মহামারি বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের জীবন কেড়ে নিয়েছে। এমন সংকটে বৈশ্বিক সমাজের মধ্যে সহযোগিতা এবং সহমর্মিতা অপরিহার্য। ভবিষ্যৎ সংকট মোকাবিলায় চিকিৎসাসামগ্রী এবং রোগ নির্ণয়ের সরঞ্জামের টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করতে হবে, যাতে প্রয়োজনের সময় এগুলো সবার জন্য সহজলভ্য থাকে।

ভাষণের শেষ পর্যায়ে নাগরিকের ক্ষমতায়নের ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, নাগরিকদের ক্ষমতাহীন রেখে কোনো রাষ্ট্র শক্তিশালী হতে পারে না।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের মাধ্যমে সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর, কল্যাণমূলক এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায় বাংলাদেশ। যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রত্যেক নাগরিক নিশ্চিন্তে এবং নিরাপদে সমান অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে বসবাস করতে পারবেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আলোচনা ও সহযোগিতার মাধ্যমেই সংঘাতের সমাধান হওয়া উচিত: প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:০০ পি.এম


আলোচনা ও সহযোগিতার মাধ্যমেই সংঘাতের সমাধান হওয়া উচিত: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্তব্য করেছেন যে, কূটনৈতিক আলোচনা ও সহযোগিতার মাধ্যমেই যেকোনও সংঘাতের সমাধান হওয়া উচিত।

তিনি শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ভোর ৪ টার দিকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ভাষণে এই কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, গ্লোবালাইজেশনের এই সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর নেতিবাচক প্রভাব প্রতিটি রাষ্ট্রে কমবেশি অনুভূত হচ্ছে। মানবসৃষ্ট বিরাজমান সংঘাতের কারণে বর্তমানে অনেক দেশে অশান্তি বিরাজ করছে। বিশাল সংখ্যক জনগণের বাস্তুচ্যুতি ঘটছে এবং মানবিক সংকট সৃষ্টি হচ্ছে।

তিনি বলেন, যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতি চরম চাপের মুখে রয়েছে। জ্বালানি নিরাপত্তা সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির কারণে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি অবনতি ঘটছে।

তারেক রহমান আরও বলেন, "আমরা বিশ্বাস করি, যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে হওয়া উচিত।" বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা এবং সম্মান ও মর্যাদা রক্ষার ভিত্তিতে দ্বিপাক্ষিক কিংবা বহুপাক্ষিক সম্পর্ক গড়ে তোলা উচিত।

তিনি আশা প্রকাশ করেন একটি শান্তিময় বিশ্ব প্রতিষ্ঠার, যেখানে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা পরিবর্তনের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে, মারণাস্ত্র নয়। বাংলাদেশ জাতিসংঘকে একটি সমঝোতামূলক বিশ্বসমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে দেখতে চায়, যেখানে একে অপরের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন খাতের বাজেট সামরিক খাতে সরিয়ে নেওয়ার প্রবণতা বিশ্বশান্তির জন্য হুমকি। শান্তিপ্রিয় জাতি হিসেবে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

জাতিসংঘের মঞ্চে তারেক রহমান স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশার বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, "স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে উদ্বেগ রয়েছে।" বাংলাদেশ তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি পুনরায় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে, যা আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকার অন্তর্ভুক্ত করে।

বাংলাদেশ সরকারপ্রধান আরও বলেন, চলমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনের প্রতিপাদ্য “Restoring Trust, Managing Transformation: A United Nations that Delivers for All” অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক এবং সময়োপযোগী। আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার ক্ষেত্রে বহুপাক্ষিকতার নীতিতে বাংলাদেশ অটল রয়েছে।

তারেক রহমান জানান, ‘পিসবিল্ডিং কমিশন’-এর ভাইস-চেয়ার হিসেবে বাংলাদেশ টেকসই শান্তি, সংঘাত প্রতিরোধ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক শান্তি প্রতিষ্ঠার পক্ষে বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের সদস্য হিসেবেও বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মানবতার সেবায় নিয়োজিত রয়েছেন।

তিনি বলেন, প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের নারীদের সাহসী অংশগ্রহণ ‘নারীর অগ্রযাত্রা, শান্তি ও নিরাপত্তা’ বিষয়ক কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন।

প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ এ বছর ‘উন্নয়নের অধিকার বিষয়ক ঘোষণা’র ৪০তম এবং ‘ডারবান ঘোষণা ও কর্মপরিকল্পনা’র ২৫তম বার্ষিকী পালন করছে। অভিবাসন প্রক্রিয়া মানবসভ্যতার মতোই প্রাচীন। বিশ্বের অনেক দেশে অভিবাসীগণ তাদের জন্মভূমি এবং অভিবাসিত দেশ— উভয় দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। নিরাপদ, সুশৃঙ্খল অভিবাসন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অভিবাসীদের অধিকার, মর্যাদা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আরও জোরালো বৈশ্বিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:০১ পি.এম


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলায় ভাষণ প্রদান করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অধিবেশনের তৃতীয় দিনে, বিকেলের সেশনে ১৮ জন বক্তার মধ্যে তিনি ১১তম বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন।

বাংলায় ভাষণ দিয়ে, প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গি ও অগ্রাধিকার তুলে ধরেছেন। এতে জলবায়ু পরিবর্তন, বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, মানবিক বিষয়াবলি এবং রোহিঙ্গা সংকটের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

নিচে পাঠকদের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পূর্ণ ভাষণ হুবহু তুলে ধরা হলো।

মাননীয় সভাপতি, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় আপনাকে অভিনন্দন জানাচ্ছি।

সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময়, আপনাকে সম্পূর্ণভাবে সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি। একইসঙ্গে আমি বিদায়ী সভাপতি, ম্যাডাম এনালেনা বেয়ারবক-কেও তার সুযোগ্য নেতৃত্বের জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

শুরুতেই, আমি বাংলাদেশের সকল শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। স্বাধীনতার পর থেকে দেশে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে যারা আত্মত্যাগ করেছেন, তাঁদের অবদানকে বিনম্রচিত্তে স্মরণ করছি। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের জুলাই-আগষ্টে বীর ছাত্র জনতার গণ অভ্যুত্থানে সকল শহীদ, এবং আহতদের প্রতিও আমি অকৃত্রিম শ্রদ্ধা জানাই।

ফ্যাসিবাদী শাসন-শোষণের বিরুদ্ধে দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময়ের আন্দোলন-সংগ্রামের পথ ধরে বর্তমানে ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ। এই বাংলাদেশে চলতি বছরের ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচনে, জনগণ বাংলাদেশ জাতীয়াতাবাদী দল-বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। আমি দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণকে অভিনন্দন জানাই। আমরা বিশ্বাস করি, জনগণই আমাদের সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস।

মাননীয় সভাপতি, জাতিসংঘের এই বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে, এই মুহূর্তে, আজ আমি কিছুটা স্মৃতিকাতর। এই বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়েই, আমার পিতা বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, এবং আমার মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা খালেদা জিয়া, দেশ এবং জনগণের পক্ষে ভাষণ দিয়েছিলেন। একইভাবে, আজ আমিও, আমার দেশ এবং জনগণের স্বার্থের পক্ষে, এবং একটি শান্তিময় বিশ্ব সমাজের প্রত্যাশায় এখানে দাঁড়িয়েছি।

গ্লোবালাইজেশনের এই সময়ে বিশ্বের যে প্রান্তে যা কিছুই ঘটুক, প্রতিটি রাষ্ট্রেই কমবেশি এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। মানব সৃষ্ট বিরাজমান সংঘাতের ফলে, বর্তমানে অনেক দেশে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিশাল সংখ্যক জনগোষ্ঠী বাস্তুচ্যূত হয়ে পড়ছে। তৈরি হচ্ছে মানবিক সংকট। যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতি তীব্র চাপের মুখে রয়েছে। জ্বালানি নিরাপত্তা-সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন, এবং ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির ফলে অর্থনৈতিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে।

আমরা বিশ্বাস করি, যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই হওয়া উচিত। বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা এবং সম্মান ও মর্যাদা রক্ষাই হওয়া উচিত দ্বিপাক্ষিক কিংবা বহুপাক্ষিক সম্পর্কের ভিত্তি। আমাদের প্রত্যাশা একটি শান্তিময় বিশ্ব, এমন একটি মানবিক বিশ্ব সমাজ, যেখানে মারণাস্ত্র নয় বরং পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা। একে অপরের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল একটি সমঝোতামূলক বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বাংলাদেশ জাতিসংঘকে দেখতে চায়।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন খাতের বাজেট, সামরিক খাতে সরিয়ে নেওয়ার প্রবণতা বিশ্বশান্তির অন্তরায়। শান্তিপ্রিয় জাতি হিসেবে, বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ, এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে উদ্বেগ রয়েছে। আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকারসহ, তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ পুনরায়, তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।

মাননীয় সভাপতি, চলমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে, জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনের প্রতিপাদ্য “Restoring Trust, Managing Transformation: A United Nations that Delivers for All” অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক এবং সময়োপযোগী। আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বহুপাক্ষিকতার নীতিতে অটল। ‘পিসবিল্ডিং কমিশন’-এঁর ভাইস-চেয়ার হিসেবে বাংলাদেশ টেকসই শান্তি, সংঘাত প্রতিরোধ, এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক শান্তি প্রতিষ্ঠার পক্ষে, বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের সদস্য হিসেবে, বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মানবতার সেবায় নিয়োজিত রয়েছেন।

প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও, শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের নারীদের সাহসী অংশগ্রহণ ‘নারীর অগ্রযাত্রা, শান্তি ও নিরাপত্তা’ বিষয়ক কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের দৃঢ় অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন। বাংলাদেশ এ বছর ‘উন্নয়নের অধিকার বিষয়ক ঘোষণা’র ৪০তম, এবং ‘ডারবান ঘোষণা ও কর্মপরিকল্পনা’র ২৫তম বার্ষিকী পালন করছে। অভিবাসন প্রক্রিয়া মানবসভ্যতার মতোই প্রাচীন। বিশ্বের অনেক দেশেই অভিবাসীগণ তাদের জন্মভূমি এবং অভিবাসিত দেশ, উভয় দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। বাংলাদেশ সরকার নিরাপদ, সুশৃঙ্খল অভিবাসন নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অভিবাসীদের অধিকার, মর্যাদা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আরও জোরালো বৈশ্বিক সহযোগিতা আশা করে।

মাননীয় সভাপতি, বাংলাদেশকে দীর্ঘ নয় বছরেরও বেশি সময় ধরে, মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিতে হচ্ছে। এর ফলে আমাদের সম্পদ, পরিবেশ, নিরাপত্তা এবং স্থানীয় জনগণের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। জনবহুল বাংলাদেশ মনে করে, রোহিঙ্গা সংকটের উৎস ও উৎপত্তি মিয়ানমারে; তাই এর সমাধানও সেখানেই নিহিত। বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে তাদের মাতৃভূমি মিয়ানমারে নিরাপদে ফিরিয়ে নেয়াই এই সমস্যার একমাত্র সমাধান।

এই সংকটের চূড়ান্ত সমাধানের জন্য, বাংলাদেশ জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃঢ় এবং কার্যকর সমর্থন প্রত্যাশা করে। পাশাপাশি বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে, তাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেওয়ার আগ পর্যন্ত তাদের জীবন রক্ষাকারী সহায়তা কর্মসূচি অব্যাহত রাখার জন্য, আমি জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানাই। বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ব্যর্থ হলে, অদূর ভবিষ্যতে এটি এক মানবিক সংকটে রূপ নিতে পারে।

মাননীয় সভাপতি, জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবেলায় সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে বাংলাদেশের তেমন ভূমিকা না থাকলেও, বাংলাদেশকে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব বহন করতে হচ্ছে। এমতাবস্থায়, বাংলাদেশ ঝুঁকি মোকাবেলা করে টিকে থাকার সক্ষমতা অর্জনের পথ বেছে নিয়েছে। সুতরাং, ক্লাইমেট জাস্টিস, জলবায়ু অর্থায়ন এবং অভিযোজন সহায়তার ক্ষেত্রে, বাংলাদেশ COP-31 এ আরও জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপ আশা করে।

বাংলাদেশে পরিবেশ সুরক্ষায় সরকার কর্মসূচি জোরদার করেছে। এরই অংশ হিসেবে সরকার আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর কর্মসূচি শুরু করেছে। ক্লিন এনার্জি এবং সোলার এনার্জি ব্যবহারের ওপর জোর দেয়া হয়েছে। দেশকে বন্যা-খরার অভিশাপ থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যে সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছে।

বাংলাদেশে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ 'সুন্দরবনে' মিঠা পানির প্রবাহ বৃদ্ধি এবং বৃহৎ জলাধারের মাধ্যমে পানি সংরক্ষনের জন্য, তিস্তা মহাপরিকল্পনা এবং ‘পদ্মা ব্যারেজ’ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজও শুরু করেছে। একইসঙ্গে পানি সংরক্ষণ ও দূষণ রোধে অভ্যন্তরীণ পদক্ষেপ জোরদার করার পাশাপাশি, আন্তঃসীমান্ত পানি ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে সরকার ১৯৯২ সালের ‘ওয়াটার কনভেনশন’ স্বাক্ষর করেছে।

মাননীয় সভাপতি, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসন শোষণের অবসান ঘটিয়ে ২০২৪ সালে বাংলাদেশ ফ্যাসিবাদ মুক্ত হয়েছে। ফ্যাসিবাদী শাসনামলে স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হওয়া গুম-খুন, অপহরণ, দুর্নীতি, লুটপাট আর টাকা পাচারের অভিশাপ থেকে মুক্ত হয়ে, বাংলাদেশ বর্তমানে পুনরায় গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করছে। ফ্যাসিবাদী শাসন শোষণে ক্ষতবিক্ষত বাংলাদেশ মেরামতের জন্য সরকার, Recovery, Restoration এবং Reconstruction অর্থাৎ 3-R কৌশল অনুসরণ করছে।

বাংলাদেশের সামনে বর্তমানে এক অপার সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত। ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের সুযোগে বর্তমানে বাংলাদেশে কর্মক্ষম জনশক্তিকে দক্ষ মানব সম্পদে রূপান্তর করতে সরকার ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছে। এই কর্মযজ্ঞে বাংলাদেশ তার উন্নয়ন সহযোগীদের পাশে পেতে চায়। দেশের তরুণ উদ্যোক্তা, গবেষক এবং উদ্ভাবকদের জন্য স্টার্ট আপ উদ্যোগ বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি করে দিতে সরকার চলতি অর্থ বছরে ৪ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ রেখেছে।

মাননীয় সভাপতি, দেশের জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি নারী। ফলে দেশের আর্থ-সামাজিক রূপান্তরের ক্ষেত্রে নারীরা সরকারের সব পরিকল্পনার অগ্রভাগে রয়েছেন। নারী শিক্ষা, নারীদের কর্মসংস্থান এবং নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টির বিষয়টিকে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে। নারী উদ্যোক্তা তৈরির জন্য বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে নারীদের জন্য সরকার নগদ অর্থায়নের সুযোগ সম্প্রসারিত করেছে। স্নাতক শ্রেণি পর্যন্ত নারীদের বিনা-বেতনে শিক্ষার সুযোগ অবারিত করা হয়েছে।

শুধু ভোটের গণতন্ত্র নয়, সরকার অর্থনীতির গণতন্ত্রায়নও নিশ্চিত করতে চায়, যাতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং সমৃদ্ধির সুফল প্রতিটি পরিবার, এবং প্রতিটি নাগরিকের কাছে পৌঁছে। সেই লক্ষ্য পূরণে ইতোমধ্যেই, ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মার্স কার্ড, স্পোর্টস কার্ড এবং ই-হেলথ কার্ড এর মতো বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির মাধ্যমে, সরকার অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষদের জন্য সহায়তা কর্মসূচি চালু করেছে।

প্রতিটি পরিবারের নারী প্রধানের নামে ইস্যু করা ‘ফ্যামিলি কার্ড’-কে সরকার নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের প্রতীক হিসেবেই বিবেচনা করে। প্রতিটি সেক্টরে সহায়তার জন্য প্রবর্তন করা কার্ডগুলোকে সমন্বয় করে একটি ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ চালু করাও সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে।

মাননীয় সভাপতি, ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের আগে, জনগণের কাছে দেয়া ৩১ দফা কর্মসূচি সরকার বাস্তবায়ন করে চলেছে। জাতিসংঘ ঘোষিত এসডিজি'র “Leave No One Behind”- এই প্রতিপাদ্যের সঙ্গে, বর্তমান সরকারের ৩১ দফা কর্মসূচির কমপক্ষে ৭৩ শতাংশ কার্যক্রমের সরাসরি, এবং ২৭ শতাংশ কার্যক্রমের পরোক্ষভাবে মিল রয়েছে।

সরকার আশা করে, এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে শহর এবং গ্রামের মধ্যে, উন্নয়ন বৈষম্য দূর হবে, এবং একইসঙ্গে ২০৩০ এজেন্ডার সব ক্ষেত্রে, জবাবদিহিতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক টেকসই উন্নয়ন এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। বাংলাদেশ সরকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং স্পোর্টসকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো, সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। নৈতিক মানসম্পন্ন কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে, কারিগরি এবং ব্যবহারিক শিক্ষার উপর জোর দিয়ে শিক্ষা কারিকুলাম প্রণয়ন করা হয়েছে।

প্রথম শ্রেণি থেকে প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য, ব্যাগ এবং পোশাক অর্থাৎ স্কুল ইউনিফর্ম, এবং বিনামূল্যে দুপুরের খাবার দেয়া হচ্ছে। সরকার আশা করে, এর ফলে স্কুলে শিক্ষার্থীর হার এবং স্কুলে শিক্ষার মান বাড়বে। খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে, শিক্ষা সিলেবাসে প্রথমবারের মতো ‘স্পোর্টস’-কেও একটি বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে, গত জুন মাসে স্কুল শিক্ষার্থীদের নিয়ে সারাদেশে মাসব্যাপী আয়োজিত একটি ফুটবল টুর্নামেন্টে, ২ মিলিয়নের বেশি শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে।

মাননীয় সভাপতি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিই গড়বে আগামী বিশ্বের ভবিষ্যৎ। আমরা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, বায়ো-টেকনোলোজি, এবং বিজ্ঞানের এক নতুন যুগে প্রবেশ করছি। প্রযুক্তি খুব দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে, তবে এর সুযোগ এখনো সবার জন্য সমান নয়। বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক তরুণ জনগোষ্ঠী, এবং ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল সক্ষমতা, আমাদের সামনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে উন্নত প্রযুক্তি, জ্ঞান ও গবেষণার সুযোগ সবার নাগালের মধ্যে আনতে হবে।

আমরা চাই না, আজকের ডিজিটাল বিভাজন আগামী দিনের আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের বিভাজনে পরিণত হোক। বাংলাদেশ উদ্ভাবন ও মেধাস্বত্বকে সম্মান করে। একই সঙ্গে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তিতে সাশ্রয়ী প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা জরুরি।

বিজ্ঞানের এই অগ্রযাত্রায়, কোনো দেশ যেন পিছিয়ে না থাকে। সবার জন্য ন্যায্য ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়তে, বাংলাদেশ একসঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এবং সোশ্যাল মিডিয়ার বিকাশ, এবং দ্রুত সম্প্রসারণের সুফল যাতে দেশে দেশে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগানো যায়/ এ ব্যাপারে জাতিসংঘের একটি কার্যকর নীতিমালা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।

মাননীয় সভাপতি, বাংলাদেশ ‘স্বল্পোন্নত দেশ’-এর তালিকা থেকে উত্তরণের অপেক্ষায় রয়েছে। বাংলাদেশের পাশাপাশি অন্যান্য সকল দেশের ক্ষেত্রে, এই উত্তরণ প্রক্রিয়াটিকে টেকসই করতে সুনিশ্চিত অর্থায়ন, বাজারে অধিকতর প্রবেশাধিকার, প্রযুক্তি হস্তান্তর, এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলোতে ধারাবাহিক সহায়তা অপরিহার্য।

বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় প্রতিটি দেশ একে অপরের উপর নির্ভরশীল। বাংলাদেশ মনে করে, বিশেষ করে আঞ্চলিক পর্যায়ে বাণিজ্য সহায়তা ও সম্প্রসারণ, কার্যকর যোগাযোগ ব্যবস্থা, এবং অর্থবহ সহযোগিতার মাধ্যমে, আমরা একে অপরের সমৃদ্ধি অর্জনে সহায়তা করতে পারি।

কোভিড মহামারি বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের জীবন কেড়ে নিয়েছিল। তবে বিশ্বকে বার্তা দিয়েছে, বিশ্ব সমাজকে টিকে থাকতে হলে অবশ্যই একের প্রতি অন্যের সহায়তা, সহমর্মিতা, সহযোগিতা অপরিহার্য। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে টিকা, চিকিৎসা-সামগ্রী, ও রোগ নির্ণয়ের সরঞ্জামের টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করা জরুরি। যাতে এগুলো সবার জন্য সহজলভ্য হয়।

মাননীয় সভাপতি, রাষ্ট্রের নাগরিকদেরকে ক্ষমতাহীন রেখে রাষ্ট্র কখনো শক্তিশালী হতে পারে না। জনগণের রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার মাধ্যমে, আমরা এমন একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর, কল্যাণমূলক, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চাই, যে রাষ্ট্রে দলমত, ধর্ম, বর্ণ, নির্বিশেষে সকলেই নিশ্চিন্তে, নিরাপদে সমান অধিকার, সম্মান এবং মর্যাদার সঙ্গে বসবাস করতে সক্ষম হবে।

মাননীয় সভাপতি, গণতন্ত্র, মানবাধিকার, সুশাসন, জবাবদিহিতা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, এবং বিনিয়োগ পরিবেশ, সব ক্ষেত্রেই বাংলাদেশে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রয়েছে। সরকার ব্যবসা ও বিনিয়োগের পরিবেশবান্ধব, একটি নিরাপদ এবং স্থিতিশীল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে চলছে। বর্তমান গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে, আমরা অংশীদারিত্ব উদ্ভাবন এবং দেশি বিদেশী বিনিয়োগকে স্বাগত জানাই।

আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে তরুণরা নির্ভয়ে, নির্বিঘ্নে তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথ খুঁজে পাবে, নারীরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জীবন পরিচালনা করতে পারবে, প্রতিটি শিশু তাদের সকল সম্ভাবনা বিকাশের সুযোগ নিয়ে বেড়ে উঠবে, সর্বোপরি জনগণ পাবে নিরাপদ, এবং শান্তিপূর্ণ জীবনের নিশ্চয়তা। এজন্যই আমরা বলি, “সবার আগে বাংলাদেশ - সবার জন্য বাংলাদেশ।”

বিশ্ব মানবতার প্রতি পুনরায় বাংলাদেশের অকুন্ঠ সমর্থন ব্যক্ত করে আমার বক্তব্য শেষ করছি।

মাননীয় সভাপতি, আপনাকে ধন্যবাদ। বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চবিতে কর্মচারী নিয়োগে স্বচ্ছতা নিয়ে ছাত্রশিবিরের প্রতিবাদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:০২ পি.এম


চবিতে কর্মচারী নিয়োগে স্বচ্ছতা নিয়ে ছাত্রশিবিরের প্রতিবাদ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির ১২ কর্মচারীর নিয়োগ নিয়ে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিশ্ববিদ্যালয় শাখা প্রশ্ন তুলেছে। সম্প্রতি অনুমোদন পাওয়া এই নিয়োগগুলোর ক্ষেত্রে সবাই একই উপজেলার বাসিন্দা হওয়ায় স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি। তারা আরও অভিযোগ করেছে, নিয়োগপ্রাপ্ত কয়েকজনের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) চবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইব্রাহীম হোসেন রনি ও সেক্রেটারি হাবিব উল্লাহ খালেদ এক যৌথ বিবৃতিতে এসব অভিযোগ তুলে নিয়োগ প্রক্রিয়ার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। সংগঠনটির বিশ্ববিদ্যালয় শাখার প্রচার সম্পাদক মেহেদী হাসান সোহানও বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন।

গত ৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৬৮তম সিন্ডিকেট সভায় ১২ জন কর্মচারীর নিয়োগ অনুমোদন দেওয়া হয়। নিয়োগপ্রাপ্তদের সকলের স্থায়ী ঠিকানা চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলায়। তাদের মধ্যে আটজনের বাড়ি ফতেহপুর ইউনিয়নের মদনহাট এলাকায় উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদের ঠিকানা হাটহাজারীর আলমপুর, চন্দ্রপুর, ফটিকা, পশ্চিম ধলই ও মীরেরখীল এলাকায় অবস্থিত।

নিয়োগপ্রাপ্তদের তালিকায় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের ক্যাটালগার মো. জোনায়েত হোসাইন মারুফ, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের নমুনা সংগ্রাহক মোহাম্মদ আদিল, নার্সারি সহকারী মো. হানিফ, সূর্যসেন হলের ঝাড়ুদার মো. শাওন, মার্কেটিং বিভাগের ঝাড়ুদার মো. সাইম উদ্দীন, ম্যানেজমেন্ট বিভাগের পিয়ন শহীদুল ইসলাম রিপন, জাদুঘরের মালী মাহী আল মাহাবুব, শাহজালাল হলের বার্তাবাহক শাহরিয়ার শহীদ রাফি, ফরেস্ট্রি বিভাগের পিয়ন মাহফুজ আলম, হেলপার মাহমুদুল হোসাইন এবং উপাচার্যের কার্যালয়ের পিয়ন মেহেদি সুলতান ও মো. ইমতিয়াজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে কয়েকজনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার প্রমাণ রয়েছে। বিশেষ করে মোহাম্মদ আদিলকে ৪ নম্বর ওয়ার্ড শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক এবং মেহেদি সুলতানকে ফতেহপুর এলাকার যুবলীগ নেতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

বিবৃতিতে ছাত্রশিবির নেতারা উল্লেখ করেছেন, একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগে স্বজনপ্রীতি, আঞ্চলিক প্রভাব, রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা ব্যক্তিগত সম্পর্ককে প্রাধান্য দেওয়ার সুযোগ থাকা উচিত নয়। নিয়োগের ভিত্তি হওয়া উচিত যোগ্যতা, মেধা ও প্রযোজ্য বিধিবিধান। তাদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক নিয়োগে আঞ্চলিক ও দলীয় বিবেচনার প্রভাব রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারা বলেছেন, নিষিদ্ধ সংগঠনের কোনো কর্মীকে ক্যাম্পাসে পুনর্বাসনের চেষ্টা করা হলে তা মেনে নেওয়া হবে না। অভিযোগে যাদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কথা বলা হয়েছে, তাদের নিয়োগ প্রত্যাহারের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে স্বচ্ছ ও ন্যায়সংগত প্রক্রিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন সংগঠনটি।

তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিয়োগে আঞ্চলিক বা রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। চবি রেজিস্ট্রার মো. হাছান মিয়া বলেছেন, "১২ জন নিয়োগ পেয়েছে, তারা সবাই হাটহাজারীর—এটা সত্য। কিন্তু আমরা নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তির পরিচয় দেখিনি, আমরা তাদের যোগ্যতা দেখেছি।"

নিয়োগের বিষয়টি নিয়ে আগামী সিন্ডিকেট সভায় প্রশ্ন তোলার কথা জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. মানজুরুল কিবরিয়া। তিনি বলেছেন, "গত সিন্ডিকেটে সময়স্বল্পতার কারণে ব্যক্তিদের নাম-ঠিকানা দেখার সুযোগ হয়নি। সেখানে তাদের রাজনৈতিক পরিচয়ও প্রকাশ করা হয়নি। আগামী সিন্ডিকেটে এ বিষয়ে প্রশ্ন তুলব।"

চবি উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. সফিকুল ইসলাম বলেছেন, তিনি নিয়োগ বোর্ডে ছিলেন না। তাই বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করতে চান না। উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীনও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চাননি। তিনি বলেন, "আমি এ বিষয়টা নিয়ে কথা বলতে চাই না। আমার মনে হয়, আমাকে এ বিষয়ে অন্তর্ভুক্ত না করলে ভালো হয়।"

এদিকে নিয়োগে নিজের এলাকার পরিচয় প্রাধান্য দেওয়ার অভিযোগও নাকচ করেছেন উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আল-ফোরকান। উপাচার্যের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, "স্বচ্ছতার ভিত্তিতে যোগ্যতার মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্তরা চাকরি পেয়েছেন। কেউ তার এলাকার বাসিন্দা হওয়ার কারণে নিয়োগ পেয়েছেন—এমনটি হয়নি।" তিনি জানান, এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন না।

অধ্যাপক মোহাম্মদ আল-ফোরকান চলতি বছরের ১৬ মার্চ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১তম উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার বাড়িও হাটহাজারী উপজেলার মদনহাট এলাকায়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%