বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০২:৩৪ পি.এম
সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত ‘বড় জাহাঙ্গীর’ বাহিনীর তিন সক্রিয় সদস্য বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কাছে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও ওয়াকিটকিসহ আত্মসমর্পণ করেছে।
এ সময়, তাদের কবল থেকে এক জিম্মি জেলেকেও জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কমান্ডার মো. মানসুরুন মাহ্দীন এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি জানিয়েছেন, বর্তমান সরকারের নির্দেশনায় সুন্দরবনে পরিচালিত ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’-এর ধারাবাহিক অভিযানের ফলে বনদস্যু বাহিনীগুলো চরম চাপে রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার (৮ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে সুন্দরবনের তাম্বুলবুনিয়া ফরেস্ট অফিসসংলগ্ন কলামুলি খাল এলাকায় বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর তিন সদস্য কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন।
আত্মসমর্পণের সময় তারা ২টি দেশীয় একনলা বন্দুক, ১টি দেশীয় পাইপগান, ৪০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ এবং ১টি ওয়াকিটকি জমা দিয়েছেন। একই সঙ্গে তাদের হেফাজতে থাকা এক জিম্মি জেলেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
আত্মসমর্পণকারীরা হচ্ছেন বাগেরহাটের মোংলা থানার বাসিন্দা আলামিন হোসেন (৪০), সাতক্ষীরার তালা থানার তৈবুর রহমান (২৪) এবং খুলনার কয়রা থানার মনিরুজ্জামান মামুন (২০)। তাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে ডাকাতি, জেলে ও বাওয়ালিদের অপহরণ এবং মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে, জানিয়েছে কোস্ট গার্ড।
কোস্ট গার্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে ৪৯টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ৩১৬ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ১০৮ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ১৯৪ রাউন্ড এয়ারগানের গুলি, ১০ রাউন্ড গোলা ও ২টি ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে, ৪২ জন বনদস্যুকে আটক করা হয়েছে এবং দস্যুদের কবল থেকে ৪১ জন জিম্মিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া এর আগে ছোট সুমন বাহিনীর সাত সদস্যও অস্ত্রসহ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন।
কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, আত্মসমর্পণকারীদের পুনর্বাসন, জব্দকৃত অস্ত্রের আইনগত কার্যক্রম এবং উদ্ধার হওয়া জেলেকে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি সুন্দরবনের অবশিষ্ট সক্রিয় দস্যুদের আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যথায়, সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আওতায় তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছে বাহিনী।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জেলার চারঘাট উপজেলায় ৭ বছরের একটি শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলার দায়েরের পর মাত্র ৬ ঘণ্টার মধ্যে প্রধান আসামি দেব চন্দ্রকে (২২) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৫। গ্রেপ্তার আসামি চারঘাট উপজেলার আরজিসাদিপুর গ্রামের লক্ষণ চন্দ্র দাসের ছেলে।
আজ বৃহস্পতিবার রাত ৩টার দিকে রাজশাহী মহানগরীর মতিহার থানাধীন মির্জাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ দুপুরে র্যাব-৫ এর মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
র্যাব জানায়, গতকাল বুধবার দুপুরে ভিকটিম শিশুটি প্রতিবেশী আসামি দেব চন্দ্র দাসের বাসায় টিভি দেখতে যায়। এ সময় আসামির বাসায় অন্য কেউ না থাকার সুযোগ নিয়ে দেব চন্দ্র শিশুটিকে প্রলোভন দেখিয়ে টিভি রুমে নিয়ে দরজা বন্ধ করে ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে ভিকটিমের পরিবার খোঁজাখুঁজি করার এক পর্যায়ে বিষয়টি জানাজানি হয় এবং ভিকটিমকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে সে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এ ঘটনায় ভিকটিমের বাবা শ্রী রতন চন্দ্র দাস বাদী হয়ে চারঘাট থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯ (১) ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। এরপরই র্যাব-৫ আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযানে নামে। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই র্যাব তাকে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার আসামি ঘটনার সাথে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে এবং তাকে চারঘাট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় চাঞ্চল্যকর পাঁচ বছরের শিশু নিছামনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর নদীতে ফেলে হত্যা করার মামলায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি, তাদেরকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইবুনালের বিচারক সুদিপ্তা সরকার এই রায় প্রদান করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হচ্ছেন- আরিফ, রাকিব এবং সিয়াম।
এই মামলার অন্য আসামি মারুফ, যিনি অপ্রাপ্তবয়স্ক, তাকে ১১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বিচারক মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ-এর দ্বারা।
মামলার সূত্রে জানা যায়, যে গত ১৪ জুন বিকেলে ধোবাউড়া উপজেলার গোয়াতলা ইউনিয়নের টাঙ্গাহাটি গ্রামের তাজু মিয়ার মেয়ে শিশু নিছামনিকে ধর্ষণ করে নদীতে ফেলে হত্যা করা হয়। ঘটনার পরের দিন ১৫ জুন, নিছামনির পিতা বাদী হয়ে ধোবাউড়া থানায় মামলা করেন। পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের পর, মাত্র ৯ দিনের মধ্যে ৪ আসামির বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়। পরে আদালত তিনজন আসামির উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন।
এই রায় নিয়ে নিছামনির পরিবার সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা সরকারের কাছে আবেদন জানিয়ে বলেছেন যে, এই রায় কার্যকর করার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, অস্ট্রেলিয়া সফরে গিয়ে ইউরেনিয়াম সরবরাহ বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে ভারত।
এটি ভারতের পারমাণবিক জ্বালানি কর্মসূচির বাস্তবায়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ ভারতে বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে আগামী বছরের মধ্যে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন মোদি।
মেলবোর্ন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এই খবরটি জানিয়েছে।
বিশ্বের মোট ইউরেনিয়াম মজুদের প্রায় ২৮ শতাংশ অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থিত।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজের সঙ্গে বৈঠকের পর মোদি বলেন, ‘আজ আমরা পারমাণবিক জ্বালানি সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর করেছি।’
তিনি উল্লেখ করেন, ‘এর মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়া থেকে ভারতে ইউরেনিয়াম সরবরাহের পথ উন্মুক্ত হবে। একই সঙ্গে আমাদের পরিচ্ছন্ন জ্বালানি লক্ষ্যে নতুন গতি আসবে।’
দুই দেশের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই ব্যবস্থার আওতায় শুধুমাত্র শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যের জন্য দীর্ঘমেয়াদে অস্ট্রেলিয়া থেকে ইউরেনিয়াম রপ্তানি করা হবে।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) নির্ধারিত সুরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় এই রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
আলবানিজ সাংবাদিকদের জানান, ‘এই ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়া থেকে ভারতে ইউরেনিয়াম রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি করবে। এর ফলে জীবাশ্ম জ্বালানির বাইরে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হবে।’
ভারত ও অস্ট্রেলিয়া ২০১৫ সালে পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি করে। ওই চুক্তির মাধ্যমে ইউরেনিয়াম রপ্তানির ভিত্তি তৈরি হয়েছিল।
তবে আইনি জটিলতা কারণে এতদিন দুই দেশের মধ্যে এই বাণিজ্য প্রায় ছিলই না।
বৃহস্পতিবার দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদারে মোদির নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন আলবানিজ।
তিনি বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মোদি, আপনার নেতৃত্ব এবং অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে আপনার ব্যক্তিগত সম্পৃক্ততাই এই পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি।’
অস্ট্রেলিয়া সফর শেষে মোদির নিউজিল্যান্ড যাওয়ার কথা রয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মানিকগঞ্জে ১৬ বছর বয়সী অটোরিকশাচালক সাবিকুল ইসলাম হত্যার মামলার রহস্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) উন্মোচন করেছে। আবিষ্কৃত ঘটনায় আসাদুজ্জামান (৩৪) নামের একজন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) পিবিআই মানিকগঞ্জ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানায়। সংস্থাটি জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ, তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিভিন্ন তথ্য যাচাই-বাছাই করে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আসাদুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার মামলার ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততা স্বীকার করেছেন।
গ্রেফতার হওয়া আসাদুজ্জামান মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার গড়াই নতুনপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি সাভারের হেমায়েতপুর মাদ্রাসা গেট এলাকায় বসবাস করেন এবং একটি আবাসিক হোটেলে সহকারী ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি বিবাহিত এবং তিন সন্তানের বাবা।
পিবিআই জানায়, গত ৩০ জুন সাবিকুল ইসলাম বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয়ে যান। পরদিন একটি পাটক্ষেত থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারকে হস্তান্তর করা হয়। তদন্তে জানা যায়, ঘটনার দিন সাবিকুলের অটোরিকশায় আসাদুজ্জামান উঠেছিলেন। পথে ভাঙা সড়কের কারণে গাড়ির ঝাঁকুনির পর চালকের সঙ্গে তার মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতি ঘটে এবং তাঁরা রাস্তার পাশের পাটক্ষেতে গিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হন।
পিবিআইয়ের দাবি, সেখানে আসাদুজ্জামান সাবিকুলকে মারধর করেন এবং তার মুখ কাদায় চেপে ধরে ঘাড়ে চাপ প্রয়োগ করেন। এতে করে সাবিকুলের শ্বাসরোধ হয়ে মৃত্যু ঘটে। পরবর্তীতে আসাদুজ্জামান ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
গোপন অনুসন্ধান ও তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে বুধবার (৮ জুলাই) সন্ধ্যায় সাভারের হেমায়েতপুর এলাকা থেকে আসাদুজ্জামানকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বলে জানা গেছে। এই ঘটনায় মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ