বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০২:৩৮ পি.এম
ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় চাঞ্চল্যকর পাঁচ বছরের শিশু নিছামনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর নদীতে ফেলে হত্যা করার মামলায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি, তাদেরকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইবুনালের বিচারক সুদিপ্তা সরকার এই রায় প্রদান করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হচ্ছেন- আরিফ, রাকিব এবং সিয়াম।
এই মামলার অন্য আসামি মারুফ, যিনি অপ্রাপ্তবয়স্ক, তাকে ১১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বিচারক মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ-এর দ্বারা।
মামলার সূত্রে জানা যায়, যে গত ১৪ জুন বিকেলে ধোবাউড়া উপজেলার গোয়াতলা ইউনিয়নের টাঙ্গাহাটি গ্রামের তাজু মিয়ার মেয়ে শিশু নিছামনিকে ধর্ষণ করে নদীতে ফেলে হত্যা করা হয়। ঘটনার পরের দিন ১৫ জুন, নিছামনির পিতা বাদী হয়ে ধোবাউড়া থানায় মামলা করেন। পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের পর, মাত্র ৯ দিনের মধ্যে ৪ আসামির বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়। পরে আদালত তিনজন আসামির উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন।
এই রায় নিয়ে নিছামনির পরিবার সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা সরকারের কাছে আবেদন জানিয়ে বলেছেন যে, এই রায় কার্যকর করার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, অস্ট্রেলিয়া সফরে গিয়ে ইউরেনিয়াম সরবরাহ বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে ভারত।
এটি ভারতের পারমাণবিক জ্বালানি কর্মসূচির বাস্তবায়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ ভারতে বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে আগামী বছরের মধ্যে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন মোদি।
মেলবোর্ন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এই খবরটি জানিয়েছে।
বিশ্বের মোট ইউরেনিয়াম মজুদের প্রায় ২৮ শতাংশ অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থিত।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজের সঙ্গে বৈঠকের পর মোদি বলেন, ‘আজ আমরা পারমাণবিক জ্বালানি সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর করেছি।’
তিনি উল্লেখ করেন, ‘এর মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়া থেকে ভারতে ইউরেনিয়াম সরবরাহের পথ উন্মুক্ত হবে। একই সঙ্গে আমাদের পরিচ্ছন্ন জ্বালানি লক্ষ্যে নতুন গতি আসবে।’
দুই দেশের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই ব্যবস্থার আওতায় শুধুমাত্র শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যের জন্য দীর্ঘমেয়াদে অস্ট্রেলিয়া থেকে ইউরেনিয়াম রপ্তানি করা হবে।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) নির্ধারিত সুরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় এই রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
আলবানিজ সাংবাদিকদের জানান, ‘এই ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়া থেকে ভারতে ইউরেনিয়াম রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি করবে। এর ফলে জীবাশ্ম জ্বালানির বাইরে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হবে।’
ভারত ও অস্ট্রেলিয়া ২০১৫ সালে পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি করে। ওই চুক্তির মাধ্যমে ইউরেনিয়াম রপ্তানির ভিত্তি তৈরি হয়েছিল।
তবে আইনি জটিলতা কারণে এতদিন দুই দেশের মধ্যে এই বাণিজ্য প্রায় ছিলই না।
বৃহস্পতিবার দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদারে মোদির নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন আলবানিজ।
তিনি বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মোদি, আপনার নেতৃত্ব এবং অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে আপনার ব্যক্তিগত সম্পৃক্ততাই এই পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি।’
অস্ট্রেলিয়া সফর শেষে মোদির নিউজিল্যান্ড যাওয়ার কথা রয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মানিকগঞ্জে ১৬ বছর বয়সী অটোরিকশাচালক সাবিকুল ইসলাম হত্যার মামলার রহস্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) উন্মোচন করেছে। আবিষ্কৃত ঘটনায় আসাদুজ্জামান (৩৪) নামের একজন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) পিবিআই মানিকগঞ্জ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানায়। সংস্থাটি জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ, তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিভিন্ন তথ্য যাচাই-বাছাই করে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আসাদুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার মামলার ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততা স্বীকার করেছেন।
গ্রেফতার হওয়া আসাদুজ্জামান মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার গড়াই নতুনপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি সাভারের হেমায়েতপুর মাদ্রাসা গেট এলাকায় বসবাস করেন এবং একটি আবাসিক হোটেলে সহকারী ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি বিবাহিত এবং তিন সন্তানের বাবা।
পিবিআই জানায়, গত ৩০ জুন সাবিকুল ইসলাম বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয়ে যান। পরদিন একটি পাটক্ষেত থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারকে হস্তান্তর করা হয়। তদন্তে জানা যায়, ঘটনার দিন সাবিকুলের অটোরিকশায় আসাদুজ্জামান উঠেছিলেন। পথে ভাঙা সড়কের কারণে গাড়ির ঝাঁকুনির পর চালকের সঙ্গে তার মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতি ঘটে এবং তাঁরা রাস্তার পাশের পাটক্ষেতে গিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হন।
পিবিআইয়ের দাবি, সেখানে আসাদুজ্জামান সাবিকুলকে মারধর করেন এবং তার মুখ কাদায় চেপে ধরে ঘাড়ে চাপ প্রয়োগ করেন। এতে করে সাবিকুলের শ্বাসরোধ হয়ে মৃত্যু ঘটে। পরবর্তীতে আসাদুজ্জামান ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
গোপন অনুসন্ধান ও তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে বুধবার (৮ জুলাই) সন্ধ্যায় সাভারের হেমায়েতপুর এলাকা থেকে আসাদুজ্জামানকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বলে জানা গেছে। এই ঘটনায় মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দেশের শিল্পখাতকে শক্তিশালী করতে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা অব্যাহত থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) আগারগাঁওয়ের এনবিআর ভবনে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) ও সৌদি আরব-বাংলাদেশ চেম্বারের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এই কথা বলেন।
এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য পূরণে সরকার আশাবাদী এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ‘গিয়ার্ড আপ’ বা পুরোপুরি প্রস্তুত।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের শিল্পখাতকে শক্তিশালী করতে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা অব্যাহত থাকবে। শিল্প ভালো না হলে অর্থনীতি শক্তিশালী হবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তাই শিল্পের সমস্যা চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে সমাধান করা হচ্ছে।
অর্থমন্ত্রী জানান, বিটিএমএ’র পক্ষ থেকে বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে বৈঠকেই কয়েকটি বিষয় সমাধান হয়েছে। যেগুলো বাকি রয়েছে সেগুলো সরকার বিবেচনা করবে। তিনি এই সময় বলেন, আমরা চাই আমাদের শিল্পগুলো ভালো করুক। অর্থনীতি দাঁড়াতে হলে শিল্পখাত ভালো করতে হবে।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আগামী কালকের প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান অনেকটাই শিল্পের ওপর নির্ভর করছে। তাই ব্যবসায়ীদের সমস্যা নিয়ে ধারাবাহিক আলোচনা করতে হবে এবং সমাধানের চেষ্টা চলতে থাকবে।
তিনি উল্লেখ করেন, ব্যবসা সহজ করতে সরকার এরই মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ শিথিল (ডি-রেগুলেশন) করেছে। এরপরও যেসব সমস্যা রয়েছে সেগুলো নিয়েও আলোচনা চলছে এবং পর্যায়ক্রমে সমাধান আশা করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি সৌদি আরবের সঙ্গে দক্ষতা উন্নয়ন, ব্যবসা সম্প্রসারণ ও বিকল্প অর্থায়নের সুযোগ নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলামের সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। এই সাক্ষাৎটি বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) অনুষ্ঠিত হয় ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থিত সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার কার্যালয়ে।
বৈঠকের সময়, উভয়েই দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী এবং ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন। সেই সাথে, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিদ্যমান প্রযুক্তিগত ও সামরিক সহযোগিতা আরও নিবিড় করার পাশাপাশি দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়।
বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের জন্য চীনে উচ্চতর প্রশিক্ষণ সুবিধা বৃদ্ধি ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা খাতে স্বনির্ভরতা অর্জনের বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এই প্রেক্ষিতে, প্রথাগত সামরিক সহযোগিতার বাইরে সাইবার স্পেসের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে যৌথ উদ্যোগের ওপরও জোর দেওয়া হয়।
এছাড়া, বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় উভয় দেশের একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বাংলাদেশের অবকাঠামো ও প্রতিরক্ষা খাতে চীনের ধারাবাহিক সহায়তার প্রশংসা করেন। অন্যদিকে, চীনের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করে ভবিষ্যতেও এই সহযোগিতা অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। সূত্র: বাসস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ