বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০১:৩৯ পি.এম
বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়ন প্রসঙ্গে বর্তমান সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।
তিনি বলেছেন, ভবিষ্যতে এই সহযোগিতা অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। বৃহস্পতিবার (০৯ জুলাই) ঢাকার সেনানিবাসে অবস্থিত সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলামের সাথে সাক্ষাৎকালে তিনি এই বক্তব্য রাখেন।
এ বৈঠকটি অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে উভয় পক্ষই দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী ও ঐতিহাসিক বন্ধুত্বের সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন।
আলোচনায় বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিদ্যমান প্রযুক্তিগত এবং সামরিক সহযোগিতাকে আরও নিবিড় করার পাশাপাশি দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়।
বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের জন্য চীনে উচ্চতর প্রশিক্ষণ সুবিধা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা খাতে স্বনির্ভরতা অর্জনের বিষয়ে আলোচনা হয়।
এছাড়া, সাইবার স্পেসের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের জন্য যৌথ উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয়, যা প্রথাগত সামরিক সহযোগিতার অতিরিক্ত।
বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং এ অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় উভয় দেশের একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তারা।
প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বাংলাদেশের অবকাঠামো ও প্রতিরক্ষা খাতে চীনের ধারাবাহিক সহায়তার প্রশংসা করেন।
চীনের রাষ্ট্রদূতও বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে বর্তমান সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের এক সাবেক বিকল্প (সাবস্টিটিউট) শিক্ষিকা শিক্ষার্থী (১৪) কে নিয়মিত নিজের নগ্ন ছবি পাঠানোর অভিযোগে দণ্ডিত হয়ে দুই বছরের কারাদণ্ড পেয়েছেন।
অভিযুক্ত ক্যাসি কার্টার, যিনি সাউথ ডিয়ারবর্ন স্কুল করপোরেশনে বিকল্প শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন, ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে স্ন্যাপচ্যাটে যোগাযোগ গড়ে তোলেন।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, মাঝারি মাত্রার শারীরিক আঘাত (ব্যাটারি) সম্পর্কিত একটি অভিযোগে দোষ স্বীকার করার পর তাঁকে আদালত দুই বছরের কারাদণ্ড প্রদান করে। এর আগে হেফাজতে কাটানো দুইদিন তাঁর সাজা থেকে সমন্বয় করা হবে।
প্রথমে তার বিরুদ্ধে শিশুকে যৌন উদ্দেশ্যে প্রলুব্ধ করার (চাইল্ড সলিসিটেশন) অভিযোগ আনা হয়েছিল। কিন্তু ডিয়ারবর্ন কাউন্টির প্রসিকিউটর লিন ডেডেন্স জানান, ভুক্তভোগী ওই এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ায় এবং মামলায় আর জড়িত থাকতে না চাওয়ায় অভিযোগ পরিবর্তন করা হয়।
আদালতের নথির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের নভেম্বরে ২১ বছর বয়সী ক্যাসি কার্টারের সঙ্গে স্ন্যাপচ্যাটে ওই শিক্ষার্থীর পরিচয় হয়। পরে, তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিবার গোসলের সময় তাঁর নগ্ন ছবি শিক্ষার্থীকে পাঠাতে থাকেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মনিরুজ্জামান শেখ জুয়েল। ফাইল ছবি
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগের ফলে সংবাদ প্রকাশের জেরে ‘আমার দেশ’ পত্রিকার কোটালীপাড়া উপজেলা প্রতিনিধি মনিরুজ্জামান শেখ জুয়েলের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন এক ঠিকাদার। এই ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক মহলে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা মামলাটিকে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক বলে আখ্যায়িত করেছেন এবং এর অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।
গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে গোপালগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে ঠিকাদার মো. ইয়াসিন হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। আদালতের বিচারক রাইফা সরকার মামলাটি গ্রহণ করে সমন জারি করেছেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, সড়কে পিচ ঢালাইয়ের সময় সাংবাদিক মনিরুজ্জামান শেখ জুয়েলসহ অজ্ঞাত ৪-৫ জন ঠিকাদার ইয়াসিন হোসেনের কাছে দেড় লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকার করাতেই তাকে শ্বাসরোধের চেষ্টা করা হয় এবং অজ্ঞাত ব্যক্তিদের দিয়ে সড়কের কার্পেটিং উঠিয়ে ফেলানো হয়।
তবে মামলার বিবরণীতে ঠিকাদারের দেওয়া মৌখিক বক্তব্যের সঙ্গে কিছুটা অমিল দেখা গেছে। চাঁদা দাবির প্রমাণ আছে কি না জানতে চাইলে ঠিকাদার বিষয়টি বারবার এড়িয়ে যান।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, উপজেলার শিকিরবাজার স্কাউট ভবন থেকে পূর্ব চিত্রাপাড়া পর্যন্ত সড়কের রক্ষণাবেক্ষণ কাজে শুরু থেকেই নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। প্রজেক্টের নকশা অনুসারে রাস্তার দুই পাশে প্রায় তিন ফুট করে মাটির শোল্ডার নির্মাণের কথা থাকলেও অধিকাংশ স্থানে তা করা হয়নি। এজিংয়ের কাজের জন্য পুরোনো ও নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হয়েছে এবং বিটুমিনাস কার্পেটিংয়ে মান বজায় না রাখায় কাজ শেষ হওয়ার দুই-তিন দিনের মধ্যেই বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে যেতে শুরু করে। হাত দিয়ে টান দিলেই কার্পেটিং উঠে যাওয়ার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়াতে ছড়িয়ে পড়লে গত ৩০ জুন এলাকাবাসী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।
এখন এই ঘটনার পর ৬ জুলাই ‘আমার দেশ’ পত্রিকাসহ একাধিক গণমাধ্যমে সড়ক নির্মাণে অনিয়মের বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
সাংবাদিক মনিরুজ্জামান শেখ জুয়েলের দাবি, সংবাদ প্রকাশের পূর্বে ঠিকাদার তাকে মোবাইল ফোনে হুমকি দিয়েছিলেন এবং অনিয়মের বিষয় থেকে জনমত ভিন্নদিকে ঘোরাতেই এই মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গোপালগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি জুবায়ের হোসেন, সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জয়ন্ত শিরালী এবং টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জাবেরুল ইসলাম বাধন এই মামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা বলেন, দুর্নীতি ও অনিয়মের সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা দেওয়ার যে ট্রেন্ড দেখা যাচ্ছে, তা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য একটি হুমকি স্বরূপ। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে অভিযোগকারীর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
কোটালীপাড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি সুধান্য ঘরামী এবং স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সিনিয়ার সহ-সভাপতি গিয়াস উদ্দিন বলেন, ওই ঠিকাদারের বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ নতুন কিছু নয়। এলাকাবাসী অনিয়মের প্রতিবাদ করলেই তিনি মামলা ও হামলার ভয় দেখান।
এ বিষয়ে ওই প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স জাকাউল্লাহ অ্যান্ড ব্রাদার্স লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী জাকাউল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটি দেশের বিভিন্ন জেলায় সড়ক নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে। গোপালগঞ্জে তাদের স্থানীয় প্রতিনিধি রয়েছেন, প্রয়োজন হলে তিনি তার সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেবেন। ইয়াসিন হোসেনের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির সম্পর্ক সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি আমার কাজের পার্টনার।
সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর আমার দেশ পত্রিকার সাংবাদিকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কি বলেন! মামলা করবে কেন? ইয়াসিন তো আমাকে এ বিষয়ে কিছুই জানায়নি। মামলার বিষয়ে আমি কিছু জানি না। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি।
কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাগুফতা হক বলেন, সড়ক নির্মাণে অনিয়মের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ ও ভিডিও দেখেছি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কারিগরি টিমকে খতিয়ে দেখার জন্য জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, এলজিইডির গুরুত্বপূর্ণ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের (দ্বিতীয় পর্যায়) আওতায় প্রায় ৭৪ লাখ ৬৭ হাজার ৩০১ টাকা ব্যয়ে ১ হাজার ২৬৫ মিটার দীর্ঘ এই সড়কের রক্ষণাবেক্ষণ কাজের কার্যাদেশ পায় চুয়াডাঙ্গার ‘জাকাউল্লাহ অ্যান্ড ব্রাদার্স লিমিটেড’। প্রতিষ্ঠানটির পার্টনার বা স্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজটি বাস্তবায়ন করছেন ঠিকাদার ইয়াসিন হোসেন।
এ বিষয়ে এলজিইডির গোপালগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী এহসানুল হক জানিয়েছেন যে, তদন্তে ত্রুটি পাওয়া গেলে ঠিকাদারকে পুনরায় কাজ করতে হবে। তবে এলজিইডির কারিগরি টিমের তদন্ত প্রতিবেদনের সর্বশেষ অগ্রগতি জানতে আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) তার মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় কলেজছাত্র সুমন শেখ হত্যাকাণ্ডের ১২ দিন পার হলেও প্রধান আসামিসহ অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদের ধরছে না; উল্টো মামলা তুলে নিতে মোবাইল ফোনে হুমকি দেয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের লোকজনের বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাটের পাল্টা অভিযোগ উঠেছে।
নিহত সুমন শেখ (২৪) আলফাডাঙ্গা উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের বড়ভাগ গ্রামের আলাউদ্দিন শেখের ছেলে। তিনি গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী এম এ খালেক ডিগ্রি কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সবার ছোট ছিলেন সুমন।
জানা যায়, পূর্বশত্রুতার জেরে গত ২৬ জুন সন্ধ্যায় মোটরসাইকেলে করে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী যাওয়ার পথে বড়ভাগ গ্রামের উকিল শেখের বাড়ির সামনে হামলার শিকার হন সুমন। ওই এলাকার হোসাইন শেখ ও তার সহযোগীরা সুমনের গতিরোধ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতেই তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় পরদিন নিহত সুমনের বড় ভাই শামীম শেখ বাদী হয়ে হোসাইন শেখকে প্রধান আসামি করে ১৭ জনের নাম উল্লেখ এবং ২০-২৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে আলফাডাঙ্গা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
নিহতের বোন সরজানা বেগম বলেন, ‘হত্যাকারী হোসাইন এলাকায় মাদকের ব্যবসা করতো। আমার ভাই তাকে মাদক ব্যবসায় বাধা দেয়ায় আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে হোসাইন। আমার ভাইকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর এখন মোবাইলে হুমকি-ধামকি দেয়া হচ্ছে মামলা তুলে নিতে। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’
ছেলের মৃত্যুর ১২ দিন পার হলেও স্বাভাবিক হতে পারছেন না বাবা আলাউদ্দিন শেখ ও মা শেফালী বেগম। ছেলের ছবি হাতে নিয়ে দেখছেন আর কান্না করছেন। কৃষক আলাউদ্দিন শেখ অভাব-অনটনের মধ্যেও কঠোর পরিশ্রম করে সন্তানদের লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছিলেন। ছেলে সুমনও উচ্চশিক্ষা নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়ে বাবার কষ্ট দূর করার স্বপ্ন দেখতেন। সামনেই তার ডিগ্রি প্রথম বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা ছিল, সে ফরম পূরণও করেছিলেন। কিন্তু পরীক্ষার হলের বদলে তাকে চলে যেতে হয়েছে চিরনিদ্রার ঠিকানায়।
নিহতের বাবা আলাউদ্দিন শেখ অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার ছেলেকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে হোসাইনসহ তার সহযোগীরা। ১২ দিন পার হলেও আমার ছেলের হত্যাকারীদের গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানাই।’
মা শেফালী বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার বুকের মানিককে ওরা আমার কাছ থেকে কেড়ে নিছে। আমার ছেলের হত্যাকারীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে, পুলিশ তাদের ধরছে না। আমার ছেলের কত স্বপ্ন ছিল আমাদের নিয়ে, সেই স্বপ্নগুলো স্বপ্নই রয়ে গেল। আমার সুমন চলে গেছে ১২ দিন হলো, এখনও আসামিদের ধরতে পারেনি পুলিশ। ছেলে হত্যার বিচার চাই।’
এদিকে আসামিপক্ষের লোকজনের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ করেছেন আসামিদের স্বজনরা। গত কয়েকদিনে ৯টি বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে বলে দাবি তাদের।
আসামিপক্ষের স্বজনরা জানান, তাদের ৯টি বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়েছে। ঘরের সব মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। বাড়িতে থাকা নারী সদস্যদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। ঘরে থাকা নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ আসবাবপত্র লুট করে নেয়া হয়েছে। ভয়ে তারা বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র পালিয়ে রয়েছেন।
আরেক গৃহবধূ বলেন, ‘মামলা হয়েছে, যদি আমার স্বজনরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রমাণিত হয়, তবে আদালত তাদের বিচার করবে। কিন্তু এভাবে বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে লুটপাট, এটা কী হচ্ছে! আমাদের সবকিছু নিয়ে গেছে। ঘরে অসুস্থ প্রবীণ সদস্য রয়েছেন, হামলার দিনে তারা ভয়ে আরও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে। নারীদের গলা, কান থেকে স্বর্ণ ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। আমরা কোথায় যাব, কোথায় অভিযোগ দেব?’
তবে আসামিপক্ষের লোকজনের বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা অস্বীকার করেছেন মামলার বাদী ও নিহত সুমনের বড় ভাই শামীম শেখ। তিনি বলেন, ‘আসামিপক্ষ নিজেরাই তাদের বসতবাড়ি ভাঙচুর করে মালামাল সরিয়ে নিয়ে আমাদের ওপর দোষ চাপাচ্ছে। আমাদের কোনো লোকজন হামলা-ভাঙচুর-লুটপাটের সাথে জড়িত নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘একটা এলাকায় হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে কিছু সুবিধাবাদী মানুষ থাকে যারা এ ধরনের লুটপাট করে। আসামিপক্ষের লোকজনই বসতবাড়ি ভাঙচুর ও মালামাল লুটপাট করেছে। আমাদের কাছে ভিডিও প্রমাণ আছে।’
সহকারী পুলিশ সুপার (মধুখালী সার্কেল) মো. আজম খান জানান, তারা মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছেন। আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এরই মধ্যে এজাহারনামীয় ৮ নম্বর আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ভাঙচুর ও লুটপাট ঠেকাতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এছাড়া যদি ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে থাকে, তবে তারা অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিরপরাধ মানুষ যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জাহাজভাঙা শিল্পে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে রমজান আলীকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বুধবার রাতে সীতাকুণ্ডের চৌধুরীঘাটা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি ওই এলাকার ফজলের রহমানের ছেলে।
জানা গেছে, জাহাজভাঙা শিল্পে হামলা, মালামালবাহী যানবাহন চলাচলে বাধা সৃষ্টি, রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া, লুটপাট, কর্মকর্তাদের মারধর এবং ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে অবহিত করার পর তাকে গ্রেফতার করা হয়।
সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে সাগরিকা শিপইয়ার্ডের প্রশাসনিক কর্মকর্তা রায়হান উদ্দিন বাদী হয়ে বুধবার সীতাকুণ্ড মডেল থানায় রমজান আলী, আরাফাতসহ নাম উল্লেখ করে দুজন এবং অজ্ঞাত আরও আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, রমজান, আরাফাত ও তাদের সহযোগীরা শীতলপুরের চৌধুরীঘাটা এলাকার শিপইয়ার্ডে চলাচলের রাস্তায় টিনের বেড়া দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন। এতে ওই এলাকার বিভিন্ন শিপইয়ার্ডে মালামাল পরিবহন ব্যাহত হয়। এছাড়া তারা বারাকা শিপইয়ার্ডের মালিকের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। দাবি করা টাকা না দিলে শিপইয়ার্ডে ক্ষয়ক্ষতি করার হুমকিও দেওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, “শিপইয়ার্ড এলাকায় কোনো সন্ত্রাসী বা চাঁদাবাজের ঠাঁই হবে না।”
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ