০৯:৫৫ এম
দেশের বাজারে সুগন্ধি চাল এবং পোলাওয়ের চালের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। এক মাসের ব্যবধানে কেজি প্রতি দাম বেড়ে ৬০ থেকে ৮০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। ঢাকার খুচরা বাজারে পোলাওয়ের চালের দাম মাত্র এক মাসের ব্যবধানে ১৪০-১৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০০-২১০ টাকায় পৌঁছেছে।
শনিবার (১ আগস্ট) ঢাকার বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন দৃশ্য দেখা গেছে।
একই সময়ে পাইকারি বাজারের ৫০ কেজির ভালো মানের চিনিগুঁড়া চালের বস্তার দাম বেড়ে প্রায় তিন হাজার টাকা হয়েছে। ব্যবসায়ীরা এর জন্য রপ্তানির অনুমতি, সরবরাহ সংকট ও উৎপাদন কমে যাওয়াকে দায়ী করলেও ভোক্তা অধিকারকর্মীরা বলছেন, কার্যকর বাজার তদারকির অভাব এবং ব্যবসায়ীদের সুযোগ নেওয়ার কারণেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
চালের পাইকারেরা অভিযোগ করে বলেন, প্রবাসীদের কাছে চিনিগুড়া চালের বাড়তি চাহিদা থাকায় রপ্তানি চাহিদা বেড়ে গেছে। এ কারণে অনেকেই অবৈধ মজুদও করছেন।
বাবুবাজারের সুগন্ধি চালের ব্যবসায়ী সিফাত সরকার বলেন, বর্তমানে ভালো মানের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৫০ কেজির বস্তা ১০ হাজার থেকে ১০ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারে সুগন্ধি চালের সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। চলতি বছর রপ্তানির পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার কারণে দেশীয় বাজারে চালের সংকট তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি ধানের ফলন কিছুটা কম হওয়া, কয়েকটি এলাকায় ফসলের ক্ষতি এবং আমদানির সরবরাহ শৃঙ্খলেও চাপ থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়েছে।
তিনি আরও বলেন, আগে নওগাঁসহ বিভিন্ন মোকাম থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী সহজেই ট্রাকভর্তি সুগন্ধি চাল পাওয়া যেত। বর্তমানে চাল পাওয়া গেলেও দাম অনেক বেশি এবং সরবরাহও যথেষ্ট নয়। তবে এ সংকট মূলত সুগন্ধি চালেই সীমাবদ্ধ। সিদ্ধ চালের বাজার তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে।
কারওয়ান বাজারের সম্রাট শেখ বলেন, বাজারে পোলাও চালের কোনো প্রকৃত সংকট নেই। সরকার রপ্তানির সুযোগ করে দেওয়ায় ব্যবসায়ীরা দেশীয় বাজারের পরিবর্তে রপ্তানিতে বেশি আগ্রহী হচ্ছেন। এক মাস আগেও যে চাল ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে, বর্তমানে সেটিই পাইকারি পর্যায়ে ২০২ টাকা কেজি দরে কিনতে হচ্ছে। মূলত রপ্তানি বন্ধ করলে দু-তিন দিনের মধ্যে প্রতি কেজিতে প্রায় ৫০ টাকা পর্যন্ত দাম কমে আসতে পারে। দেশে পর্যাপ্ত মজুদ থাকা সত্ত্বেও রপ্তানির কারণে বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে সুগন্ধি চালের দাম ২৫০ টাকা কেজিতেও পৌঁছাতে পারে।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
এ বিষয়ে ক্যাব সভাপতি এ এইচ এম শফিকুজ্জামান বলেন, বাজারে চালের কোনো সংকট নেই। তবে তিনি ধারণা করছেন, অতি মুনাফার লোভে অসাধু ব্যবসায়ীরা বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে।
এদিকে, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো- ইপিবির তথ্য মতে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে, দুই দফায় মোট ২৩ হাজার ৯৫৯ টন সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন