ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের শর্তে অস্ত্র ত্যাগে রাজি হামাস


ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের শর্তে অস্ত্র ত্যাগে রাজি হামাস

নতুন এক রূপরেখার আওতায় হামাস নিজ বাহিনী নিরস্ত্রীকরণে রাজি হয়েছে। একই রূপরেখার আওতায় গাজা উপত্যকা থেকে ইসরায়েলি বাহিনীকে সরে যেতে হবে। গাজার বোর্ড অব পিস এসব তথ্য জানিয়েছে। তবে হামাসের প্রতিনিধি দলের সদস্য গাজী হামাদ আলজাজিরাকে জানিয়েছেন যে, তাদের পক্ষ থেকে রূপরেখা মেনে নিরস্ত্রীকরণ সম্পন্ন হবে কিনা, তা সম্পূর্ণভাবে ইসরায়েলের সেনা প্রত্যাহারের ওপর নির্ভর করছে। হামাস গাজার জনসাধারণের কথা চিন্তা করে ওই রূপরেখায় রাজি হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে এসবের মধ্যেও উত্তর গাজায় বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। সেখানে আহত হয়েছেন অনেক ফিলিস্তিনি। অথচ ওই হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তিটির ঘোষণা দেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে ট্রাম্প জানান, তাঁর প্রতিষ্ঠিত বোর্ড অব পিস হামাস ও গাজার অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে একটি চুক্তিতে এসেছে। নিরাস্ত্রীকরণ সম্পন্ন হলে ইসরায়েলি বাহিনী উপত্যকা থেকে সেনা প্রত্যাহার করে নেবে।

হামাস অস্ত্র ত্যাগ করলেও রাজনৈতিক অঙ্গন ছাড়বে না বলেই জানিয়েছেন গাজী হামাদ। তিনি বলেন, তাদের দল ফিলিস্তিনের জাতীয় পটভূমির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ভূমিকা অব্যাহত রাখবে। তাঁর কথায়, চুক্তিটি বেশ কঠিন ও বৈরী পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে হয়েছে। হামাসের এ কর্মকর্তা জানান, তাদের দল ফিলিস্তিনি জনসাধারণের বৈধ অধিকার আদায়ের জন্য করণীয় ও জাতীয় দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবে। তিনি জানান, এই চুক্তি বিস্তৃত প্যাকেজের একটি অংশ। নিরস্ত্রীকরণ হচ্ছে এর একটি অংশ মাত্র। এর মধ্যে রয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর আগ্রাসন বন্ধের বিষয়, গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের শর্ত এবং জাতীয় বাহিনী ও আন্তর্জাতিক কমিটি গঠন এবং উপত্যকার পুনর্গঠন শুরুর বিষয়।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

কর্মকর্তা আরও জানিয়েছেন, হামাস জাতীয় কমিটির অধীন ও তত্ত্বাবধানে নিজ অস্ত্র সংরক্ষণ করার ইচ্ছা স্পষ্টভাবে প্রকাশ করেছে। তবে এই বিষয়টিও ইসরায়েলের ওপর নির্ভর করছে।

চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নেতানিয়াহুর প্রতিদ্বন্দ্বী। গাজায় যুদ্ধ শুরুর আগে ইসরায়েল জানিয়েছিল, হামাসকে সম্পূর্ণ নির্মূল করাই তাদের লক্ষ্য। ওই লক্ষ্য অর্জনে পরবর্তী মাসগুলোতে নির্বিচারে বোমাবর্ষণ করে পুরো উপত্যকাকে মৃত্যুপুরীতে পরিণত করে তারা। প্রাণ হারায় হাজার হাজার বেসামরিক মানুষ। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন ৭৩ হাজার ৩৪১ জন। আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭৪ হাজারের বেশি। নিহতদের বেশির ভাগই বেসামরিক। এখনও অনেকের মরদেহের খোঁজ পাওয়া যায়নি। বাস্তুচ্যুত হয়েছে প্রায় পুরো উপত্যকার জনসাধারণ।

ইসরায়েলের এ আচরণ আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র নিন্দার ঝড় তোলে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োয়াভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত।

ইসরায়েলে চলতি বছর নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। এরই মধ্যে সেখানে আত্মপ্রকাশ করেছে নতুন দল ইয়াশার পার্টি। ওই দলের নেতা গাদি এইজেনকত এখন প্রশ্ন তুলছেন ইসরায়েল এই যুদ্ধ থেকে কী অর্জন করল, তা নিয়ে। তাঁকে নির্বাচনে নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ধরা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গণসংগীত-পথনাটক, রাজপথে শিল্পী-সংস্কৃতিকর্মীরা উত্তাল জুলাইয়ের আজকের দিনে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:১১ এম


গণসংগীত-পথনাটক, রাজপথে শিল্পী-সংস্কৃতিকর্মীরা  উত্তাল জুলাইয়ের আজকের দিনে

উত্তাল জুলাইয়ের আজকের দিনে 'রিমেম্বারিং আওয়ার হিরोज' কর্মসূচির মাধ্যমে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন পালন করা হয় গণসংগীত, পথনাটক, দেয়াললিখন, স্মৃতিচারণা এবং বিক্ষোভ সমাবেশের মাধ্যমে। ৩২ জুলাই দুপুরে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ছয়টি সমন্বয়ককে মুক্তি দেয়। একই দিনে আন্দোলন সংক্রান্ত সহিংসতা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের প্রেক্ষিতে জাতিসংঘ একটি ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং দল পাঠানোর প্রস্তাব দেয়।

ক্যালেন্ডারের হিসেবে দিনটি ছিল ১ আগস্ট। কিন্তু স্বজন হারানো, মামলা, হামলা, গুলি, টিয়ারশেল এবং গ্রেফতারের কারণে সাধারণ মানুষের কাছে শেষ হয়নি রক্তাক্ত জুলাই। দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি একাত্মতা তৈরি হয়েছিল। পুরো বিশ্বও বাংলাদেশের পরিস্থিতির দিকে নজর রেখেছিল।

ছাত্র-জনতা এই দিনের নাম '৩২ জুলাই' রাখে। এদিন কমপ্লিট শাটডাউন, বিক্ষোভ বা প্রতিরোধের পরিবর্তে এক তুলনামূলক শান্ত কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। জুলাইজুড়ে নিহতদের স্মরণে বিশেষ আয়োজন হিসেবে 'রিমেম্বারিং আওয়ার হিরোজ' কর্মসূচির ঘোষণা দেন সমন্বয়ক রিফাত রশিদ।

জাতীয় যুবশক্তির সাংগঠনিক সম্পাদক রিফাত রশিদ বলেন, "পরিকল্পিতভাবেই একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। বাইরে থেকে এটি সফট কর্মসূচি মনে হলেও এর মূল উদ্দেশ্য ছিল শিল্পী, সাহিত্যিক এবং সাংস্কৃতিক কর্মীদের আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত করা।"

৩২ জুলাই সকাল থেকেই বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে দেশের নানা স্থানে গণসংগীত, পথনাটক, দেয়াললিখন, স্মৃতিচারণা এবং বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে অভিনয়শিল্পী, শিক্ষক এবং সাংস্কৃতিক কর্মীরাও যোগ দেন। সে সময় তারা বলেন, "খুন, গ্রেফতার এবং দমন-পীড়নের রাজনীতি আর চলতে পারে না। গুলি চালানোর নির্দেশদাতা এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে।"

একই সঙ্গে তারা দেশ সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন। তবে এসব কর্মসূচিতেও পুলিশ দ্বারা বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটে। নির্মাতা মাহবুবুর রশিদ বান্নাহ বলেন, "আমার কাজ ছিল মানুষকে স্বৈরাচারের পতনের কথা মনে করিয়ে দেয়া। অনেক জ্যেষ্ঠ অভিনেতা আন্তরিকভাবে রাস্তায় নেমেছিলেন। তারা সবাই চেয়েছিলেন স্বৈরাচার ও গণহত্যার অবসান ঘটুক।"

এদিন সন্ধ্যায় তাড়াহুড়ো করে গণভবনে ১৪ দলের বৈঠক ডাকেন শেখ হাসিনা। ওই বৈঠকে শরিকদের সম্মতিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

সে সময় ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে দায়িত্বে থাকা জাহিদুল ইসলাম বলেন, "এই সিদ্ধান্ত তাদের বিচলিত না করে বরং আরও অনুপ্রাণিত করেছিল। শেখ হাসিনার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল সিদ্ধান্ত ছিল এটি, যা শেষ পর্যন্ত তার পতনের পটভূমি তৈরি করতে বড় ভূমিকা রেখেছে।"

৩২ জুলাই ডিবি কার্যালয় থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ছয় সমন্বয়ককে মুক্তি দেয়া হয়। একই দিনে শেখ হাসিনা আবারও আন্তর্জাতিক তদন্তের মাধ্যমে আন্দোলনে জড়িতদের শনাক্ত করার হুঁশিয়ারি দেন।

জুলাইয়ের আন্দোলনের দিনগুলোতে শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে প্রতিদিনই বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রাজপথে নেমেছিলেন। তবে শিল্পী সমাজের বড় একটি অংশ তখনও প্রকাশ্যে নামেননি। ১ আগস্ট ফার্মগেট এলাকায় দেশের খ্যাতিমান শিল্পী ও নির্মাতাদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে আন্দোলন নতুন গতি পায় এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ হয়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুবককে লিবিয়ায় নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ, মাফিয়া ডন ইলিয়াস গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৩৪ এম


যুবককে লিবিয়ায় নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ, মাফিয়া ডন ইলিয়াস গ্রেপ্তার

ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে বরিশালের এক যুবককে পাচার করে, বন্দী করে রেখে ৪০ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী চক্রের মূলহোতা 'মাফিয়া ডন' ইলিয়াস ফকিরকে (৫৫) গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। গ্রেফতার হওয়া ইলিয়াসের বিরুদ্ধে বরিশাল ও মাদারীপুর জেলায় অন্তত ৪টি মানবপাচারের মামলা রয়েছে। শুক্রবার (৩১ জুলাই) দুপুরে সিরাজগঞ্জ এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-১২। পরবর্তীতে, ওইদিন রাত ১০টার দিকে তাকে বরিশালের গৌরনদী মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়। শনিবার (১ আগস্ট) তাকে বরিশালের বিশেষ আদালতে সোপর্দ করা হবে। ইলিয়াস ফকির গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর থানার বড়দিয়া গ্রামের আক্কাস ফকিরের ছেলে। পুলিশ ও এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বরিশালের গৌরনদী উপজেলার ভুরঘাটা গ্রামের বারেক ব্যাপারীর ছেলে রাসেল ব্যাপারীকে (২৯) ইতালিতে পাঠানোর জন্য দালাল ইলিয়াস ফকিরের সঙ্গে চুক্তি হয়। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী গত ২৩ নভেম্বর দালালচক্রের হাতে ২০ লাখ টাকা তুলে দেয় রাসেলের পরিবার। পরদিন ২৪ নভেম্বর প্রথমে তাকে শ্রীলঙ্কায় নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে সৌদি আরব, কুয়েত, মিশর হয়ে সর্বশেষ লিবিয়ায় নিয়ে যুবককে বন্দী রাখা হয়। লিবিয়ায় আটকে রেখে রাসেলের ওপর নির্মম শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে ভিডিও ধারণ করে, দেশে স্বজনদের কাছে পাঠিয়ে ৪০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে মানবপাচারকারী চক্রটি। স্বজনরা বিকাশ ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে কয়েক ধাপে আরও ২৪ লাখ টাকা পাঠায়। মোট ৪৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার পর, গত ১৬ জুন বিমানযোগে রাসেলকে দেশে ফেরত পাঠায় চক্রটি। দেশে ফিরে ভুক্তভোগী রাসেল ব্যাপারী গত ১২ জুলাই বরিশালের মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালে ইলিয়াস ফকিরসহ ১০ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রধান আসামী ইলিয়াসকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। এদিকে, মানবপাচারচক্রের সক্রিয় সদস্য ইলিয়াস ফকিরের বিরুদ্ধে মাদারীপুর জেলায় আরও ৩টি মানবপাচার মামলা রয়েছে। প্রতিটি মামলাতেই তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি রয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বরিশালের গৌরনদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিক হাসান রাসেল জানান, ‘লিবিয়ায় নির্যাতনের শিকার এক যুবকের মামলায় মানবপাচারকারী চক্রের অন্যতম সদস্য ইলিয়াস ফকিরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামীদের গ্রেফতার করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ইলিয়াসের বিরুদ্ধে জারি থাকা অন্য মামলাতেও তাকে শোন অ্যারেস্ট দেখানোর প্রক্রিয়া চলছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রবাসীর ৫ ফুট চওড়া ব্যতিক্রমী ঘরে তিন সন্তানকে নিয়ে বসবাস মামলার কারণে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৫৫ এম


প্রবাসীর ৫ ফুট চওড়া ব্যতিক্রমী ঘরে তিন সন্তানকে নিয়ে বসবাস  মামলার কারণে

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে একটি ব্যতিক্রমী বসতঘর মাত্র এক শতাংশ জমিতে তৈরি হয়েছে। ৮৫ ফুট লম্বা ও মাত্র ৫ ফুট চওড়া এই ঘরের ছবি এবং ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে অনেক মানুষ এটি দেখতে ভিড় করছেন।

ঘরটির মালিক সৌদি আরবপ্রবাসী মো. শাহজালাল। দাউদকান্দি উপজেলার স্বল্পপেন্নাই গ্রামে ডোবা ভরাট করে চলতি বছরের জুন মাসে প্রায় আড়াই লাখ টাকা ব্যয়ে টিনের ছাউনি ও বেড়ার এই ঘরটি নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে এটি শাহজালালের পরিবারের একমাত্র বসতঘর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

শাহজালালের স্ত্রী খাদিজা আক্তার জানান, ২০১৩ সালে তাদের বিয়ে হয়। শাহজালাল তখন দেশে মাইক্রোবাস চালাতে শুরু করেছিলেন। পরে তিনি ইরাকে চলে যান এবং কয়েক বছর পর দেশে ফেরেন। এরপর ২০২০ সালের জানুয়ারিতে সৌদি আরবে পাড়ি জমান। প্রবাসে পাঠানো টাকায় চলতি বছরের জুন মাসে এই ঘরটি নির্মিত হয়।

তিনি আরও জানান, ২০১৬ সালে শাহজালাল তার বাবার কাছ থেকে এক শতাংশ নিচু জমি কেনেন। একই সময়ে তিনি পৈত্রিক ভিটায় একটি পাকা বাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু করলে স্বজনদের সঙ্গে জায়গা নিয়ে একাধিক মামলা হয়। এসব মামলার কারণে তিনি প্রায় সবকিছুই হারিয়ে ফেলেন। একসময় স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে স্বজনদের বাড়িতে কখনো আবার খোলা আকাশের নিচেও থাকতে হয়েছে।

ঘরটি মাত্র ৫ ফুট চওড়া হলেও এতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা রয়েছে। প্রবেশমুখে রান্নাঘর, খাবার রাখার জায়গা, শোয়ার কক্ষ, পোশাক রাখার স্থান, পানি তোলার মোটর এবং শৌচাগারও রয়েছে। ঘরের সামনে চলাচলের জন্য এবং পেছনে বসার জন্য আলাদা জায়গা রাখা হয়েছে।

খাদিজা আক্তার জানান, ছোট ঘর হলেও তারা তিন সন্তানকে নিয়ে এখানে বসবাস করছেন। রাতের বেলায় ছোট চৌকিতে সবাই মিলে ঘুমান। জায়গার অপ্রতুলতার কারণে অতিরিক্ত শোয়ার ব্যবস্থা আলাদাভাবে করতে হয়।

ঘরটি দেখতে প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এখানে আসছেন। দর্শনার্থীদের ভাষ্য, নিজের চোখে না দেখলে এত ছোট জায়গায় একটি পরিবার কীভাবে বসবাস করছে, তা বিশ্বাস করা সত্যিই কঠিন।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পরিবারটির নিজের কোনো থাকার জায়গা ছিল না। অনেক কষ্টের পর তারা একান্তই অল্প জায়গার মধ্যেই মাথা গোঁজার জন্য একটি স্থায়ী ঠিকানা পেয়েছেন।

গৌরীপুর ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী সদস্য জাহানারা আক্তার জানান, শাহজালাল দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকা সত্ত্বেও সীমিত আয়ের কারণে বড় জায়গা কেনার সুযোগ পাননি। এলাকায় এক শতাংশ ডোবার জমির দামও অত্যন্ত বেশি। তাই বাধ্য হয়ে তারা অল্প জায়গাতেই তাদের স্বপ্নের ঘর তৈরি করেছেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকার দিনের বেলা ঘরে ঢুকে একজন নারী চিকিৎসককে হ ত্যা করা হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:০৪ এম


ঢাকার দিনের বেলা ঘরে ঢুকে একজন নারী চিকিৎসককে হ ত্যা করা হয়েছে

ঢাকার দক্ষিণখান থানার ফায়দাবাদ এলাকার জামতলা গলিতে, দুর্বৃত্তরা একজন নারী চিকিৎসককে হত্যা করেছে। সারা রোকসানা পিনুকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যার ঘটনাটি ঘটে ভবনের দ্বিতীয় তলার এক ফ্ল্যাটে।

পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপ-কমিশনার মির্জা তারেক আহমেদ বেগ জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকালে ঘরের গ্রিল কেটে ভেতরে ঢুকে ওই নারীর ওপর হামলা চালানো হয়েছে। খুন হওয়ার পর ঘরের কিছু জিনিসপত্রও লুট করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

নিহত সারা রোকসানা পিনু কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের ভূইয়া বাড়ির শিক্ষক মজিবুল হক বাচ্চুর মেয়ে। তার দুই স্কুল পড়ুয়া ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সময় ওই নারী একা ছিলেন।

পারিবারিক সদস্যরা জানিয়েছেন, দুর্বৃত্তরা বাসার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে সারা রোকসানাকে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। তারপরে বাসায় থাকা স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়।

নিহতের ছেলে জানিয়েছে, "আমি বাসায় ছিলাম না। পরে এসে দেখি আমার আম্মুকে গেস্ট রুমে হত্যা করা হয়েছে। গ্রিল কেটে খুনি বাসায় ঢুকেছে। বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। আমার আম্মুর কাছে যত স্বর্ণ ও টাকা ছিল, সব নিয়ে গেছে।"

তিনি আরও বলেন, "স্বর্ণালংকারের জন্যই দুর্বৃত্তরা বাসায় ঢুকেছে বলে আমাদের ধারণা। তবে বাসার কিছু জিনিসপত্র ও প্যাকেট এখনো পড়ে রয়েছে। পুলিশ আলামত সংগ্রহ ও তদন্ত শেষ করার পর সেগুলোতে হাত দেওয়া হবে।"

পুলিশ জানায়, ঘটনার সময় সারা রোকসানা বাসায় একাই ছিলেন। তার স্বামী প্রতিদিনের মতো অফিসে ছিলেন এবং মেয়ে স্কুলে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মির্জা তারেক আহমেদ বেগ জানান, "বিকেল ৩টার পর গ্রিল কেটে বাসার ভেতরে প্রবেশ করে দুর্বৃত্তরা ওই নারীকে শ্বাসরোধে হত্যা করে।" একই সঙ্গে ঘরের বিভিন্ন মালামালও লুট করা হয়েছে।

তিনি বলেন, "ভুক্তভোগী নারীকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘরের জিনিসপত্র লুটের ঘটনাও ঘটেছে।"

দক্ষিণখান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হাবিব জানান, সাধারণত স্কুল ছুটির পরে নিহত নারী মেয়েকে স্কুল থেকে নিয়ে আসতেন। কিন্তু ওই দিন তিনি স্কুলে না যাওয়ায় মেয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে নিজেই বাসায় ফিরে আসে। বাসায় এসে পরিস্থিতি দেখে আবার স্কুলে ফিরে শিক্ষকের কাছে বিষয়টি জানায়। পরে শিক্ষক তার বাবাকে খবর দেন।

এসআই হাবিব আরো জানান, বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ দেখতে পায়। তখন নিহতের স্বামী ও ছোট মেয়ে সেখানে উপস্থিত ছিলেন। পরে পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করা হয়।

তিনি আরো বলেন, ঘটনাস্থলের গ্রিল কাটা অবস্থায় পাওয়া গেছে। বাসার আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় ছিল। তবে কীভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, কী কী মালামাল খোয়া গেছে এবং এর সাথে কারা জড়িত, তা তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%