ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নওগাঁর শাহিনের হাঁস পালন: দৈনিক ৫৪০০ টাকার আয় ও অভাবনীয় সাফল্য


নওগাঁর শাহিনের হাঁস পালন: দৈনিক ৫৪০০ টাকার আয় ও অভাবনীয় সাফল্য

নওগাঁ, ২২ অক্টোবর, ২০২৬ : নওগাঁ সদর উপজেলার গয়ের পাড়া গ্রামের উদ্যোক্তা শাহিন উন্মুক্ত জলাশয়ে হাঁস পালন করে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছেন। তিনি মাসে সব খরচ বাদ দিয়ে দৈনিক ৫ হাজার ৪শ’ টাকা আয়ের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছেন। এর ফলে সংসারে অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা এসেছে।

গয়ের পাড়া গ্রামের লেজু মন্ডলের পুত্র শাহিন কিছুদিন আগে পর্যন্ত বেকার ছিলেন। তিনি অর্থনৈতিকভাবে নিঃস্ব ছিলেন এবং সংসারের খরচ নির্বাহে চোখে অন্ধকার দেখতেন। টেলিভিশন এবং ইউটিউবে হাঁস পালন করে সাফল্যের সংবাদ দেখে উৎসাহিত হয়ে তিনি হাঁস পালন শুরু করেন। মাত্র ৪ মাসের মধ্যে তার এই সাফল্যের দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।

শাহিন বাসস’কে জানিয়েছেন, ৪ মাস আগে তিনি ৬ মাস বয়সের ৭শ’ হাঁস কিনে আনেন। প্রতিটি হাঁস ৩শ’ টাকা করে কিনে এনে বাড়ির পাশে বিল মনছুর নামের এক উন্মুক্ত জলাশয়ে পালন শুরু করেন। সে হিসেবে হাঁসগুলোর ক্রয় মূল্য ২ লাখ ১০ হাজার টাকা।

আরও পড়ুন: বাম্পার ফলনেও দাম নেই, পঞ্চগড়ে কৃষক ক্ষেতের লাউ গরুকে খাওয়াচ্ছেন

সারাদিন হাঁসগুলো বিলের উন্মুক্ত জলাশয়ে চড়ে বেড়ায়। বিলে তারা শামুক, মাছ, পোকা-মাকড় ইত্যাদি খেয়ে থাকে। রাতে খামারে ধান ও হাঁসের ফিড খাওয়ানো হয়।

জয়পুরহাট জেলার আমজাদ হোসেনের পুত্র রাকিব এই খামারে হাঁসগুলোর দেখাশোনা ও পরিচর্যা করে থাকে। রাকিব বাসস’কে জানিয়েছেন, দিনের বেলা বিলের উন্মুক্ত জলাশয়ে খাদ্য সংগ্রহ করে খেলেও রাতের বেলায় দৈনিক দেড় মণ ধান ও ১০ কেজি করে ফিড খাবার দেয়া হয়। খাবার বাবদ দৈনিক খরচ হয় দেড় মণ ধান ১ হাজার টাকা এবং ১০ কেজি ফিড ৭৫০ টাকা। খাদ্য বাবদ মোট খরচ হয় ১৭৫০ টাকা। রাকিবকে মজুরি বাবদ দৈনিক ৫শ’ টাকা করে দেয়া হয়। খামারের সর্বমোট খরচ ২২৫০ টাকা।

রাকিব আরও জানায়, শাহিনের এই খামারে এখন দৈনিক কমপক্ষে ৫শ’টি করে ডিম উৎপাদন হচ্ছে। বাজারে পাইকারি মূল্যে প্রতিটি ডিম ১৫ টাকা করে বিক্রি করছেন। সে হিসেবে দৈনিক ডিম বিক্রি করছেন ৭ হাজার ৫শ’ টাকা।

এরমধ্যে ২২৫০ টাকা খরচ বাদ দিলে দৈনিক নীট লাভ থাকে ৫,২৫০ টাকা। সে হিসেবে এক মাসে এই খামার থেকে নীট মুনাফা করেন ১ লাখ ৫৭ হাজার ৫শ’ টাকা।

আরও পড়ুন: শীতের আগমনে চুয়াডাঙ্গার গাছিরা খেজুর গাছের পরিচর্যায় ব্যস্ত

নওগাঁ প্রকৃতি ও জীবন কর্নারের সাধারণ সম্পাদক মো. মহিদুর রহমান, গয়ের পাড়া গ্রামের নান্টু এবং জাহিদ বাসস’কে জানিয়েছেন, এই এলাকা মূলত: বিল অঞ্চল। এসব এলাকায় পারিবারিকভাবে স্বল্প পরিসরে হাঁস পালন করা হয়ে থাকে। কিন্তু বাণিজ্যিকভাবে বৃহৎ পরিসরে এর আগে কেউ হাঁস পালন করেনি। শাহিন সে ক্ষেত্রে হাঁসের খামার গড়ে তুলে লাভবান হয়েছেন। তার এই হাঁসের খামার এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. জহুরুল ইসলাম বাসস’কে জানিয়েছেন, বিলে উন্মুক্ত জলাশয়ে প্রাকৃতিকভাবে পর্যাপ্ত খাদ্য পাওয়া যায়। হাঁসের প্রচুর খাদ্যের প্রয়োজন হয়। উন্মুক্ত জলাশয়ে যেহেতু পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক খাদ্যের সংস্থান হয়, সেহেতু এই পদ্ধতিতে হাঁস পালনে খরচ কম হয় এবং সেই কারণে লাভজনক।

এছাড়াও হাঁসে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি থাকে। মুরগির তুলনায় অপ্রচলিত হলেও হাঁসের মাংস ও ডিমের চাহিদা পর্যাপ্ত।

আরও পড়ুন: পীরগঞ্জে পানির অভাবে আমন ধানের খেত ফেটে গেছে

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মালদ্বীপে বাংলাদেশি ব্যাংকের শাখা খুলে প্রবাসী আয় বাড়ানোর উদ্যোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:০৪ পি.এম


মালদ্বীপে বাংলাদেশি ব্যাংকের শাখা খুলে প্রবাসী আয় বাড়ানোর উদ্যোগ

ঢাকা, ২২ অক্টোবর, ২০২৬ : বাংলাদেশ ব্যাংক মালদ্বীপে একটি বাংলাদেশি ব্যাংকের শাখা এবং বিকল্প মুদ্রা নিষ্পত্তি ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশটিতে কর্মরত বাংলাদেশিদের জন্য প্রবাসী আয় বৈধ চ্যানেলে দেশে পাঠানো সহজ হবে এবং ব্যাংকিং সেবার পরিধি বৃদ্ধি পাবে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আশা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বাসসকে জানান, "প্রবাসী আয় যাতে বৈধ পথে দেশে আসে, সে জন্য মালদ্বীপে বাংলাদেশি ব্যাংকের শাখা খোলার চেষ্টা করছি।"

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. মোস্তাকুর রহমান মালদ্বীপ মনিটারি অথরিটির (এমএমএ) গভর্নর আহমেদ মুনাওয়ারকে সহযোগিতা চেয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। বর্তমানে তারা এমএমএ থেকে জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি মালদ্বীপে বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে একটি ভার্চুয়াল বৈঠক করেছে। বৈঠকে বাংলাদেশি ব্যাংকের শাখা স্থাপন এবং প্রবাসীদের আয় বৈধ চ্যানেলে দেশে পাঠানোর সুযোগ আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

বিভিন্ন বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক, যেমন ব্র্যাক ব্যাংক ও ন্যাশনাল ব্যাংক, মালদ্বীপে শাখা স্থাপনের সম্ভাবনা যাচাই করেছে বলেও ওই কর্মকর্তা উল্লেখ করেন।

বর্তমানে শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান ও ভারতের কিছু ব্যাংক মালদ্বীপে শাখা পরিচালনা করছে, যা বাংলাদেশের জন্য একটি কার্যকর উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করে, মালদ্বীপে বাংলাদেশি ব্যাংকের উপস্থিতি বৃদ্ধি পেলে প্রবাসীরা সহজে ব্যাংকিং সেবা পাবেন এবং অনুমোদিত চ্যানেলে দেশে অর্থ পাঠানো আরও সুবিধাজনক হবে। তবে এর জন্য দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও সহযোগিতা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের দেশভিত্তিক প্রবাসী আয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মালদ্বীপ থেকে বাংলাদেশে ১১ কোটি ৮০ লাখ ডলার এসেছে। আগের অর্থবছরে এই পরিমাণ ছিল ১৪ কোটি ১১ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরে প্রায় ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে প্রবাসী আয়।

তবে চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে মালদ্বীপ থেকে ৩ কোটি ৮০ লাখ ৫০ হাজার ডলার দেশে এসেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, প্রবাসী আয় কমে যাওয়ার পেছনে বাংলাদেশি কর্মীদের বিভিন্ন জটিলতা রয়েছে, যা বৈধ রেমিট্যান্স সেবা আরও সহজ, সাশ্রয়ী ও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ব্যাংক শাখা স্থাপনের পাশাপাশি মালদ্বীপ থেকে রেমিট্যান্স পাঠানো সহজ করতে বাংলাদেশ ব্যাংক তিনটি নতুন ব্যবস্থা প্রস্তাব করেছে।

গত ৮ অক্টোবর এমএমএ গভর্নরের কাছে পাঠানো চিঠিতে গভর্নর ড. মোস্তাকুর রহমান দুই দেশের মুদ্রা কর্তৃপক্ষের মধ্যে নিরাপদ, দক্ষ, স্বচ্ছ ও কম ব্যয়ের রেমিট্যান্স ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সহযোগিতা চান।

প্রথম প্রস্তাবে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (এসিইউ) আওতায় উপযুক্ত ব্যবস্থার মাধ্যমে মালদ্বীপের স্থানীয় মুদ্রা রুফিয়া ব্যবহারের সম্ভাবনা যাচাইয়ের কথা বলা হয়েছে। এই ব্যবস্থায় বাংলাদেশে উপকারভোগীরা অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকের মাধ্যমে টাকায় সমপরিমাণ অর্থ পাবেন।

দ্বিতীয় প্রস্তাবে মালদ্বীপের লাইসেন্সধারী ব্যাংক ও অর্থ স্থানান্তর প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশি নাগরিকদের ভ্রমণসংক্রান্ত যোগ্য পরিশোধ রুফিয়ায় করার সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশে অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলো টাকাভিত্তিক কার্ড ইস্যু করবে এবং দুই দেশের সমন্বিত নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার মাধ্যমে এর নিষ্পত্তি হবে।

তৃতীয় প্রস্তাবে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় কারেন্সি সোয়াপ ব্যবস্থা চালুর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার কথা বলা হয়েছে, যাতে বাংলাদেশি কর্মীদের উপার্জন দেশে ফিরিয়ে আনা আরও সহজ হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এসব ব্যবস্থা বাস্তবায়ন দুই দেশের আইন ও নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের ওপর নির্ভর করবে।

এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা ও মালদ্বীপে বাংলাদেশ মিশনের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি যৌথ প্রতিনিধিদল গঠনের মাধ্যমে এমএমএ’র সঙ্গে বৈঠক করতেও প্রস্তুতি রয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের। সম্ভাব্য ওই বৈঠকে নিয়ন্ত্রক শর্ত, পরিচালনাগত ব্যবস্থা এবং নিষ্পত্তি কাঠামো নিয়ে আলোচনা হবে।

বর্তমানে মালদ্বীপে এক লাখের বেশি বাংলাদেশি কর্মরত। ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে দুই লাখের বেশি বিদেশি কর্মী রয়েছেন, যার মধ্যে এক লাখের বেশি বাংলাদেশি।

এত বড় বাংলাদেশি কর্মীসমাজ থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় মুদ্রা রুফিয়া সরাসরি গ্রহণে ব্যাংক ও মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানগুলোর অনীহার কারণে প্রবাসীরা বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে সমস্যায় পড়ছেন।

ফলে অনেককে অনানুষ্ঠানিক বাজার থেকে আগে মার্কিন ডলার কিনে পরে ব্যাংক বা এক্সচেঞ্জ হাউসের মাধ্যমে অর্থ পাঠাতে হয়। এর সঙ্গে উচ্চ কমিশন যোগ হওয়ায় বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর ব্যয় আরও বেড়ে যায়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, এসব জটিলতা বৈধ চ্যানেলের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করে এবং হুন্ডিসহ অনানুষ্ঠানিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা বাড়ায়, যার ফলে দেশের আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় প্রবাসী আয়ের প্রবাহ সীমিত হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক আশা করে, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে মালদ্বীপে বাংলাদেশি ব্যাংকের শাখা চালু এবং প্রস্তাবিত মুদ্রা নিষ্পত্তি ব্যবস্থাগুলো একসঙ্গে বাস্তবায়নের মাধ্যমে অনানুষ্ঠানিক মুদ্রাবাজারের ওপর নির্ভরতা কমবে, লেনদেনের স্বচ্ছতা বাড়বে এবং প্রবাসীরা আরও সহজে পরিবারের কাছে অর্থ পাঠাতে পারবেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এই উদ্যোগের লক্ষ্য প্রবাসী আয় স্থানান্তরকে আরও নিরাপদ, দ্রুত ও কম ব্যয়বহুল করা এবং বৈধ চ্যানেলে দেশে আসা প্রবাসী আয়ের পরিমাণ বাড়ানো। তবে পুরো উদ্যোগের বাস্তবায়ন মালদ্বীপ মনিটারি অথরিটির সাড়া, প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক অনুমোদন এবং দুই দেশের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বিএনপি নেতা রেন্টুর পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন রাসিক প্রশাসক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:০৫ পি.এম


প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বিএনপি নেতা রেন্টুর পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন রাসিক প্রশাসক

রাজশাহী, ২২ অক্টোবর, ২০২৬ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে কারাবন্দী বাবা বিএনপি নেতা মাহাবুর রশিদ রেন্টুর মুক্তির জন্য আকুতি জানায় দুই কন্যা। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন রেন্টুর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

প্রশাসক পরিবারটিকে আর্থিক সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি আইনি সহযোগিতা এবং পরিবারের একজন সদস্যের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

গত মঙ্গলবার রাজশাহীর মাদ্রাসা মাঠে বিএনপির জনসভা শেষে বাসে ফেরার পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে দুই কন্যা বাবার মুক্তির জন্য আকুতি জানায়। এই ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী কারাবন্দী বিএনপি নেতার অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য রাসিক প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটনকে নির্দেশ দেন।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর গতকাল বুধবার মাহাবুর রশিদ রেন্টুর স্ত্রী সৈয়দা দিলরুবা আফরোজ এবং তাদের দুই কন্যা জারিন তাসনিম রাহি ও সাদিয়া তাহমিন মাহি নগর ভবনে রাসিক প্রশাসকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে প্রশাসক তাদের আর্থিক সহায়তা এবং কারাবন্দি নেতার আইনি বিষয়ে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।

এ বিষয়ে মাহফুজুর রহমান রিটন মন্তব্য করেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাকে কারাবন্দী বিএনপি নেতার পরিবারের পাশে থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে আমি অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, পরিবারের একজন সদস্যের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি কারাগারে বন্দি নেতার আইনগত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা এবং তার মামলা-সংক্রান্ত বিষয়ে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করা হবে।

বিএনপি নেতার কন্যা জারিন তাসনিম রাহি জানান, প্রধানমন্ত্রী তাকে রাসিক প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটনের সঙ্গে দেখা করতে বলেছেন এবং তাদের পরিবারের পাশে থাকার দায়িত্ব দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, প্রশাসক ইতোমধ্যে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়েছে এবং তাদের পাশে থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টেকনাফে ৫০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ, পাচারকারীরা পলাতক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:২১ পি.এম


টেকনাফে ৫০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ, পাচারকারীরা পলাতক

ঢাকা, ২২ অক্টোবর, ২০২৬ : কোস্ট গার্ড টেকনাফের শাহপরীতে ৫০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করেছে।

বৃহস্পতিবার সকালে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এই তথ্য প্রকাশ করেন।

তিনি উল্লেখ করেন, গতকাল রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ডের একটি দল শাহপরী দ্বীপের নাজিরপাড়া সংলগ্ন নাফ নদীতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানের সময় সন্দেহজনক একটি ইঞ্জিনচালিত কাঠের বোটকে থামার সংকেত দেওয়া হয়। তবে কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক পাচারকারীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পরে ওই এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে ভাসমান একটি বস্তা থেকে ৫০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়, যার বাজার মূল্য প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

জব্দ করা ইয়াবার বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, "ভয়াবহ মাদকের বিস্তার রোধে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরণের অভিযান অব্যাহত রাখবে।"

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অবৈধ মোবাইল ফোনে রাজস্ব ফাঁকি রোধে এনইআইআর চালু হচ্ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:২১ পি.এম


অবৈধ মোবাইল ফোনে রাজস্ব ফাঁকি রোধে এনইআইআর চালু হচ্ছে

ঢাকা, ২২ অক্টোবর, ২০২৬ : অবৈধ মোবাইল ফোন উৎপাদন, চোরাচালান এবং অনুমোদনহীন বিক্রির মাধ্যমে সরকার প্রতি বছর প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি রোধে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

এ লক্ষ্যে আগামী বছরের ১ জানুয়ারি থেকে দুই ধাপে জাতীয় যন্ত্রপাতি শনাক্তকরণ নিবন্ধন ব্যবস্থা (এনইআইআর) পুনরায় চালু করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্লোন হ্যান্ডসেট শনাক্ত করা এবং মোবাইল আর্থিক সেবায় (এমএফএস) জালিয়াতি প্রতিরোধের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মূল্যায়নের ভিত্তিতে, অবৈধ মোবাইল ফোনের কারণে সরকার প্রতি বছর প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। বিটিআরসির কমিশন সভায় উপস্থাপিত কার্যপত্রে এই তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

পরিকল্পনার প্রথম ধাপে এনইআইআরের মূল কার্যক্রমগুলো কার্যকর করা হবে। তবে, এই পর্যায়ে হ্যান্ডসেটের নিবন্ধন বাতিলের ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে না। বর্তমানে মোবাইল অপারেটরদের নেটওয়ার্কে সক্রিয় থাকা হ্যান্ডসেটগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধিত হবে। পাশাপাশি অনুমোদিত আমদানিকারক ও দেশীয় উৎপাদকদের কাছে অবিক্রিত হ্যান্ডসেটের আইএমইআই নম্বরের তথ্যও এই ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। বিদেশ থেকে আনা অবৈধ, চোরাচালানের মাধ্যমে প্রবেশ করা এবং শুল্ক-কর ফাঁকি দিয়ে বাজারজাত করা হ্যান্ডসেট শনাক্ত করে বন্ধ করার ব্যবস্থাও থাকবে।

দ্বিতীয় ধাপে উপযুক্ত সময়ে হ্যান্ডসেটের নিবন্ধন বাতিলের ব্যবস্থা চালু করা হবে। এর মাধ্যমে ফোনের মালিকানা যাচাই, ক্লোন হ্যান্ডসেট শনাক্ত এবং আর্থিক জালিয়াতি প্রতিরোধের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিটিআরসির কমিশন সভায় সংস্থাটির স্পেকট্রাম ম্যানেজমেন্ট (এসএম) বিভাগের মহাপরিচালক এনইআইআর পুনরায় চালুর বিষয়ে বিস্তারিত কার্যপত্র উপস্থাপন করেন। এতে উল্লেখ করা হয়, ২০২১ সালের ১ জুলাই পরীক্ষামূলকভাবে চালুর পর তৎকালীন সরকারের সিদ্ধান্তে অবৈধভাবে আমদানি করা ফোন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ করা এবং ক্লোন হ্যান্ডসেট প্রতিরোধের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমগুলো চালু করা হয়নি। ফলে এনইআইআর প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করবে বিটিআরসির এসএম বিভাগ। দুই ধাপে ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে সরকারের পূর্বানুমোদন পেতে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হবে।

রাজস্ব ফাঁকি রোধ, টেলিযোগাযোগ খাতের শৃঙ্খলা নিশ্চিত এবং নিরাপত্তাঝুঁকি মোকাবিলায় বিভিন্ন সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে এনইআইআর পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর তাগিদ দিয়ে আসছে। ২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবর এনবিআর অবৈধ হ্যান্ডসেটের মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকি বন্ধে বিটিআরসিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানায়। পরে ২০২৫ সালের ২৮ জুন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এ ব্যবস্থা পুনরায় চালুর পরিকল্পনায় প্রাথমিক অনুমোদন দেয়।

২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় দেশের সব নেটওয়ার্কে এনইআইআর পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর নির্দেশনা দেওয়া হয়। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি ব্যবস্থা চালুর প্রস্তুতি থাকলেও জনভোগান্তি এড়ানোর কথা বিবেচনায় নিয়ে ফোন বন্ধ করার গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমগুলো কার্যকর করা হয়নি।

২০২৬ সালের ৯ জুন নিরাপত্তা সংস্থাগুলো আনুষ্ঠানিক চিঠিতে অর্থনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তাঝুঁকির বিষয় তুলে ধরে এনইআইআর পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর প্রয়োজনীয়তার কথা জানায়। একই বছরের ২ জুলাই আইএমইআই, সিম নিবন্ধন এবং মোবাইল আর্থিক সেবায় জালিয়াতির ঝুঁকি নিয়ে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায়ও ব্যবস্থাটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর সুপারিশ করা হয়।

সর্বশেষ গত ২২ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের সভায় ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সভায় ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে দুই ধাপে এনইআইআর চালুর সুপারিশ করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, অনিবন্ধিত, চোরাই ও ক্লোন হ্যান্ডসেট সংঘবদ্ধ অপরাধ, মোবাইল ফোন চুরি এবং মোবাইল আর্থিক সেবায় জালিয়াতির কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত প্রতিটি যন্ত্রের পরিচয় ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এনইআইআর পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা প্রয়োজন বলে মনে করছে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো।

এদিকে, ২০২৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শুধুমাত্র দ্বিতীয় প্রজন্মের (২জি) নেটওয়ার্ক-সমর্থিত মোবাইল হ্যান্ডসেটের ব্যবহার বন্ধে পর্যায়ক্রমিক রূপরেখাও বিটিআরসি অনুমোদন করেছে। এই পরিকল্পনার আওতায় এ ধরনের ফোনের অনুমোদন, উৎপাদন, আমদানি ও বাজারজাতকরণে বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%