শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:২৩ পি.এম
দেশের অন্যতম বৃহৎ উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) হিসেবে পরিচিত। প্রায় ছয় দশকের পথচলায় শিক্ষা ও গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। তবে, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও বিভাগের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অবকাঠামো সম্প্রসারণের অভাব দেখা দিয়েছে, যার ফলে আবাসন, শ্রেণিকক্ষসহ বিভিন্ন সংকট সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির গবেষণা, আন্তর্জাতিক পরিসরে অবস্থান এবং সময়োপযোগী নতুন বিষয় চালুর ক্ষেত্রে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১তম উপাচার্য হিসেবে ২০২৬ সালের মার্চে দায়িত্ব গ্রহণ করেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের জিন প্রকৌশল ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগের শিক্ষক এবং বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সিনিয়র সহসভাপতি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান সমস্যা ও সংকট, দায়িত্ব গ্রহণের সময়কার পরিস্থিতি, সম্ভাবনা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, গবেষণা এবং সরকারের কাছে প্রত্যাশাসহ নানা বিষয়ে আল আরাফের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি।
আরটিভি: উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার সময় বিশ্ববিদ্যালয়কে কী অবস্থায় পেয়েছিলেন? দায়িত্ব নেওয়ার পর আপনার সামনে প্রথম চ্যালেঞ্জ কী ছিল?
উপাচার্য: দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম যে বিষয়টি লক্ষ্য করেছি, তা হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজের গতি। আমার গতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে কাজ করার মতো লোকের অভাব রয়েছে। এর ফলে, আমি যে কোনো সিদ্ধান্ত প্রদান করলে সেটি বাস্তবায়নে দীর্ঘ সময় লাগে। বিশ্লেষণ করে দেখলাম, কাজ না করার যে সংস্কৃতি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদ্যমান, তা আমাদের অনেক সহকর্মী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। তাদের কাজের স্ট্রিমে ফিরিয়ে আনা ছিল আমার প্রথম চ্যালেঞ্জ।
আরটিভি: বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান সমস্যা বা সংকটগুলো কী? বিশেষ করে আবাসন ও অবকাঠামোর পরিস্থিতি কীভাবে দেখছেন?
উপাচার্য: দ্বিতীয় বড় চ্যালেঞ্জ হলো, গত ৯ বছর ধরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে একটিও ডিপিপি আসেনি। বিশ্ববিদ্যালয়ে জনবল, শিক্ষক, ছাত্র ও বিভাগের সংখ্যা বেড়েছে, কিন্তু উন্নয়নের কাজগুলো হয়নি।
বর্তমানে আমাদের সবচেয়ে বড় সংকট হলো আবাসন সংকট। ছাত্র ও ছাত্রী উভয়ের জন্যই সংকট রয়েছে। নতুন বিষয় বা বিভাগ খোলার জন্য অন্তত পাঁচটি ক্লাসরুম প্রয়োজন। একজন চেয়ারম্যানের জন্য একটি কক্ষ এবং ১০ জন শিক্ষকের জন্য ১০টি কক্ষের ব্যবস্থা করতে হবে। এই ধরনের অবকাঠামো নির্মাণ না করেই বিভাগগুলো খোলা হয়েছে।
আমি দায়িত্ব গ্রহণের পর বুঝতে পেরেছি, অনেক সহকর্মী ও শিক্ষার্থীর আমার প্রতি প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তারা মনে করছেন, স্যারের কাছে গেলেই সবকিছু হয়ে যাবে। আসলে এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।
আরটিভি: তাহলে আবাসন ও অবকাঠামো সংকট নিরসনে কী পরিকল্পনা নিয়েছেন?
উপাচার্য: আমি গত ছয় মাসের মধ্যে দুটি প্রজেক্টকে একত্রিত করতে পেরেছি। প্রথমটি হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি নির্মাণ, যা ৬০ বছরে কেউ কখনো চিন্তাও করেনি। আমরা আগামী দুই মাসের মধ্যে টিএসসির কাজ শুরু করতে পারব।
আরেকটি মূল প্রজেক্ট হলো আমাদের ডিপিপি, যেখানে মেয়েদের জন্য একটি হল থাকবে। সেখানে এক হাজার মেয়ে একসঙ্গে থাকতে পারবে। যদি এ বছরের মধ্যে এই দুটি ডিপিপি কার্যকর করতে পারি, তবে পাইপলাইনের মধ্যে আরও অনেক প্রজেক্ট ঢুকিয়ে দেব। শিক্ষার্থী ও বিভাগ বাড়লে আমাদের প্রস্তুতি রাখতে হবে।
আরটিভি: সময়ের চাহিদার সঙ্গে মিল রেখে নতুন বিভাগ বা বিষয় চালুর বিষয়ে কী ভাবছেন?
উপাচার্য: আমাদের নিজস্ব কিছু বিভাগ এখন সময়ের দাবি। আইটি, এআই-বেজড সাবজেক্ট, ডেটা সায়েন্স এই বিষয়গুলো বর্তমানে বুমিং। এগুলো থেকে আমাদের ছাত্রছাত্রীদের দূরে সরিয়ে রাখতে পারি না। ফলে এগুলো সময়ের দাবি।
আমাদের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি মেডিকেল ফ্যাকাল্টি দরকার, যেখানে আমরা এমবিবিএস ডিগ্রি দেব এবং একটি মেডিকেল ফ্যাসিলিটি থাকবে। এটি এখন সময়ের দাবি, প্রয়োজনের দাবি। এই কাজগুলো করার জন্য আমাদের ডিপিপি প্রয়োজন হবে।
আরটিভি: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্ভাবনার জায়গাগুলো কোথায় দেখছেন? সেই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে কী উদ্যোগ নিয়েছেন?
উপাচার্য: বিশ্ববিদ্যালয় সব সময় একটি সম্ভাবনার জায়গা এবং বিশ্ববিদ্যালয় আসলে সম্ভাবনা তৈরি করে। আমরা সেই সম্ভাবনাগুলো চিহ্নিত করেছি। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বা ছাত্র যখন বাইরে যায়, তাদের সঙ্গে যৌথ প্রোগ্রাম করা যায়।
আমি ইতোমধ্যে ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স সেল পুনর্গঠন করেছি এবং দক্ষ পরিচালক ও উপপরিচালক নিয়োগ দিয়েছি।
আরেকটি বিষয় হলো, আমাদের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় দুঃখ, দেশের অন্যতম বৃহৎ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হওয়া সত্ত্বেও যখন ওয়ার্ল্ড র্যাঙ্কিং হয়, আমরা দেখি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সেখানে কোনো জায়গায় নেই। এজন্য আমি ইনস্টিটিউশনাল র্যাঙ্কিং সেল গঠন করেছি। ইতোমধ্যে এর পরিচালক এবং সহকারী পরিচালক নিয়োগ করেছি। তারা আগামীতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে ওয়ার্ল্ড র্যাঙ্কিংয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করবেন।
শুধু তা নয়, আমি যে কাজটা করেছি, বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে গবেষণার উর্বর ক্ষেত্র। গবেষণা ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবন থাকে না। গবেষণার স্পেকট্রাম বাড়াতে, গবেষণার পথ প্রসারিত করতে, আমরা থিসিসের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতি মাসে ১৫ হাজার টাকা করে শিক্ষাবৃত্তি দিচ্ছি।
আরটিভি: দায়িত্ব নেওয়ার সময় আপনি বলেছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের গবেষণার চেয়ে সাড়ে তিনটার বাসের প্রতি বেশি নজর থাকে এবং গবেষণা বাজেটের বড় অংশ ফেরত যায়। এই পরিস্থিতি পরিবর্তনে কী ব্যবস্থা নিয়েছেন?
উপাচার্য: এমফিল গবেষক দুই বছরের জন্য প্রতি মাসে ২৫ হাজার টাকা পাবেন। পিএইচডি গবেষক তিন বছরের জন্য প্রতি মাসে ৪০ হাজার টাকা পাবেন। গবেষণা করানোর জন্য সম্মানী রেখেছি।
গত বছর গবেষণার জন্য যে বাজেট পেয়েছিলাম, এ বছর তার চেয়ে প্রায় এক কোটি টাকা বেশি পেয়েছি। অন্যান্য সময়ে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গবেষণার ফান্ড ফেরত গিয়েছে। তবে এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার ফান্ড ফেরত যাওয়ার তো কথাই নয়। যা পেয়েছি, তার চেয়েও বেশি চাইতে পারি, সেই ব্যবস্থা করছি।
আমরা এমন গবেষণা নিশ্চিত করতে চাই, যা দেশের কল্যাণে সহায়ক হবে। গবেষণা আমাদের ইকোনমিতে, জিডিপিতে যোগ করবে, জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করবে। এর জন্য আমরা শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য গবেষণা সহায়তা ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
আরটিভি: বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার সঙ্গে শিল্প খাতের সংযোগ তৈরিতে কী ধরনের পরিকল্পনা রয়েছে?
উপাচার্য: আমাদের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি চমৎকার আইডিয়া রয়েছে। এটি বর্তমান সরকারের প্রধান চিন্তার ফল। আমরা ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া কোলাবরেশন নিশ্চিত করতে চাই। যে দেশে যত বেশি ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পর্ক থাকে, সে দেশে গবেষণার ক্ষেত্র তত উন্নত।
সেজন্য আমরা ইতোমধ্যে ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সেল গঠন করেছি। পরিচালক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করেছি। আগামী মাসের প্রথম দিকে চট্টগ্রামের চেম্বার অব কমার্সের সঙ্গে একটি সমাবেশ করছি। সেখানে আমরা তাদের কীভাবে সাহায্য করতে পারি, তারাও আমাদের সহযোগিতা করতে পারে, সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।
আরটিভি: এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারের কাছে আপনার চাওয়া বা প্রত্যাশা কী?
উপাচার্য: আমাকে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন জিজ্ঞেস করেছেন, ‘ছয় মাস, আপনাদের প্রকল্প কই?’ আমাদের অর্থমন্ত্রী আমাদের জিজ্ঞেস করছেন, ‘আপনাদের প্রকল্প কেন আসছে না?’
সব জায়গা থেকেই আমরা একটি পজিটিভ রেসপন্স পাচ্ছি। অর্থাৎ, যখনই আমাদের প্রকল্পগুলোকে সঠিক জায়গায় নিয়ে যেতে পারব, তখন সহযোগিতা পাব।
আমাদের অন্যান্য সংসদ সদস্য মহোদয়রাও আমাদের সহযোগিতা করার জন্য মুখিয়ে আছেন। সিনেটে তারা সরাসরি বলেছেন, ‘আপনাদের কী ধরনের সহযোগিতা লাগবে, আমাদের বলুন। প্রয়োজনে আমরা সবাই আপনার সঙ্গে যাব।’
সুতরাং, এটি আমার জন্য বড় ধরনের একটি অনুপ্রেরণা। আমরা আশা করছি, সবার সহযোগিতা নিয়ে আমরা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে যে স্বপ্নটা দেখছি, সেই জায়গায় নিয়ে যেতে পারব।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু ঘটেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, এই সময়ের মধ্যে নিশ্চিত হামে কারো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর হাম বিষয়ক নিয়মিত প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য প্রকাশ করেছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার তথ্য এই প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
মৃত শিশুদের মধ্যে ঢাকা, হবিগঞ্জ এবং কুষ্টিয়া জেলার বাসিন্দা রয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৮৪। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০১ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৮৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় এক হাজার ২০১ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। ফলে মোট সন্দেহভাজন সংক্রমণের সংখ্যা ১ লাখ ৮৫ হাজার ৮৩৩ জনে পৌঁছেছে। একই সময়ে ৬৪ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।
এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্তের সংখ্যা ২১ হাজার ১৫ জন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের সরকারি চাকরিতে দ্রুত নিয়োগের পাশাপাশি রাজনৈতিক পরিচয় বা মতাদর্শের ভিত্তিতে বৈষম্য বন্ধের দাবি জানিয়েছে।
সম্প্রতি কিছু প্রার্থীর নিয়োগ নিয়ে অনিশ্চয়তা ও বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে, বিশেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগসহ বিভিন্ন সরকারি চাকরিতে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর পুলিশ ভেরিফিকেশন বা অন্যান্য যাচাইপ্রক্রিয়ার কারণে।
এ পরিস্থিতিতে জকসু বলছে, রাজনৈতিক পরিচয়, মতাদর্শ বা বৈধ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড কোনো প্রার্থীর সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে বাধা হতে পারে না।
জকসুর এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সরকারি চাকরিতে নিয়োগের প্রধান ভিত্তি হওয়া উচিত মেধা, যোগ্যতা, দক্ষতা এবং নির্ধারিত আইনগত শর্ত। নাগরিকদের রাজনৈতিক মতাদর্শ বা বৈধ রাজনৈতিক পরিচয়কে চাকরির যোগ্যতা নির্ধারণের মানদণ্ড হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।
সংগঠনটি আরও উল্লেখ করেছে, যদি কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে অপরাধের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ থাকে, তবে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে রাজনৈতিক পরিচয় বা মতাদর্শের কারণে যোগ্য কোনো প্রার্থীকে নিয়োগ থেকে বঞ্চিত করা ন্যায়সংগত নয়।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি ও কঠোর প্রতিযোগিতার পর চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েও অনেক চাকরিপ্রার্থী নিয়োগপত্রের অপেক্ষায় রয়েছেন। তাই সরকারি নিয়োগপ্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, পক্ষপাত বা বৈষম্যের সুযোগ না রেখে পুলিশ ভেরিফিকেশনসহ সব ধরনের যাচাইপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
জকসুর দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের দ্রুত নিয়োগপত্র দেওয়া, রাজনৈতিক পরিচয় বা বৈধ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে কাউকে নিয়োগ থেকে বঞ্চিত না করা এবং পুলিশ ভেরিফিকেশনসহ নিরাপত্তা যাচাই নির্দিষ্ট আইনগত মানদণ্ডের মধ্যে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করা।
এছাড়া চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের নিয়োগপ্রক্রিয়া অযথা বিলম্বিত না করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা এবং সরকারি চাকরিতে দলীয় প্রভাব ও রাজনৈতিক বৈষম্যের অবসান ঘটিয়ে মেধাভিত্তিক, স্বচ্ছ ও বৈষম্যহীন নিয়োগব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
জকসুর ভাষ্য মতে, একজন নাগরিকের রাজনৈতিক মতাদর্শ নয়, তার যোগ্যতা ও কর্মদক্ষতাই সরকারি চাকরিতে নিয়োগের প্রধান বিবেচ্য হওয়া উচিত। এ কারণে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত সব প্রার্থীর নিয়োগ মেধা, যোগ্যতা ও আইনগত মানদণ্ডের ভিত্তিতে নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মাদারীপুরের শিবচরে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের পাশে একটি বাস বিকল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকলে, পেছন থেকে আরেকটি বাস সেটিকে ধাক্কা দেয়। এই ঘটনায় ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন যাত্রী।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বাখরেরকান্দি এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
ফায়ার সার্ভিস ও প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গোপালগঞ্জ থেকে যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে পালকী পরিবহনের একটি বাস। বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের মাদারীপুরের শিবচরের বাখরেরকান্দি এলাকায় এসে বাসটির চাকা বিকল হয়ে যায়। এ অবস্থায় হানিফ পরিবহনের আরেকটি বাস পালকী পরিবহনের বাসটিকে পেছন থেকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলে তিনজন নিহত হন। আহতদের মধ্যে অন্তত ১৫ জনকে উদ্ধার করে স্থানীয় ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। ফরিদপুরের ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
দুর্ঘটনার পর ঢাকামুখী লেনে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে শিবচর হাইওয়ে থানার পুলিশ গিয়ে কিছু সময় পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।
ফরিদপুরের ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার আবু জাফর সরদার জানান, দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু ঘটে। পালকী পরিবহন এক্সপ্রেসওয়ে পার্কিং করে রেখেছিল। এ সময় দ্রুতগতির হানিফ পরিবহনের বাসটি বিকল বাসটিকে ধাক্কা দেয়। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
মাদারীপুরের শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচএম ইবনে মিজান জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে উদ্ধার কাজের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্তের প্রক্রিয়া চলছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য পদে অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমের যোগদানকে প্রত্যাখ্যান করে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করেছেন।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক মিলনায়তনের (টিএসসি) সামনে থেকে শুরু হয় এই মিছিল। পরে মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
মিছিলে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা ‘ভিসি হিসেবে কাকে চাই, সায়েম স্যারকেই আবার চাই’, ‘মোদের দাবি একটাই, সায়েম স্যারকে ভিসি চাই’—এমন বিভিন্ন স্লোগান দেন।
দুপুর ২টায় টিএসসি থেকে শুরু হয়ে মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা নতুন উপাচার্যের যোগদানকে কেন্দ্র করে তাদের অবস্থান প্রকাশ করেন এবং পরবর্তী কর্মসূচি-দেয়াল লিখন এর ঘোষণা দেন।
মিছিলে অংশ নেওয়া তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আকরাম হোসেন সুজন বলেন, "গতকাল আমরা জেনেছি, উপাচার্য পদে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম যোগদানপত্র পাঠিয়েছেন। এর প্রতিবাদেই আজ আমরা বিক্ষোভ মিছিল করেছি। গতকাল আমাদের শিক্ষকরা রোববার থেকে পূর্ণ কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন। আমরা কোনোভাবেই অধ্যাপক শরীফুল আলমকে উপাচার্য হিসেবে চাই না।"
এর আগে বৃহস্পতিবার, উপাচার্য হিসেবে যোগদানের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে উপস্থিত না হয়ে রাষ্ট্রপতি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর লিখিত যোগদানপত্র পাঠান অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম।
ওই পত্রে তিনি চুয়েটের উপাচার্য পদে যোগদানের কথা উল্লেখ করেন। তার এই যোগদানকে প্রতিবাদ জানিয়ে আজ শুক্রবার বিক্ষোভ মিছিল করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ