০৭:৫৫ পি.এম
দিল্লিতে গণমাধ্যমের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ে মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি শেখ হাসিনার প্রদান করা বক্তব্যে ভারতের সমর্থন নেই বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে তিনি এই তথ্য জানান।
রণধীর জয়সওয়াল জানান, ৫ আগস্টের ওই সংবাদ সম্মেলন বা ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানটি একটি বেসরকারি মাধ্যম বা সংস্থার উদ্যোগ। বিশেষ করে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের বিষয়ে ওই অনুষ্ঠানে যেসব বক্তব্য দেয়া হয়েছে, সেগুলোর সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা বা সমর্থন নেই এবং ওই ফোরামে করা কোনো মন্তব্যকে সরকার সমর্থন করে না।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
ভারত সরকারের অনুমতিতে পলাতক ও গণহত্যার দায়ে দণ্ডিত শেখ হাসিনা বুধবার (৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় নয়াদিল্লিতে গণমাধ্যমের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় ঘটনার কারণে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ গভীর দুঃখের সঙ্গে লক্ষ্য করছে যে, এ ধরনের একটি আয়োজন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে-এ মর্মে ভারত সরকারকে আগেই উদ্বেগ জানানো সত্ত্বেও অনুষ্ঠানটি আয়োজনের অনুমতি দেয়া হয়েছে।’
বাংলাদেশের জনগণ যখন জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকী পালন করছে, ঠিক সেই দিনে ভারতের মাটিতে শেখ হাসিনার এই গণমাধ্যমে উপস্থিতি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অবমাননা এবং জুলাই বিপ্লবের শহীদদের প্রতি চরম অসম্মান। জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠিত সত্য, বিশেষ করে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ফ্যাসিবাদী শাসনামলে নিরীহ বেসামরিক নাগরিক, এমনকি শিশুদের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনাকে অস্বীকার করা পলাতক, দণ্ডিত গণহত্যাকারী শেখ হাসিনা ও তার অপরাধী সহযোগীদের ইতিহাসের গতিপথ উল্টে দেওয়ার একটি ব্যর্থ চেষ্টা মাত্র। গতিতে বাংলাদেশের জনগণ অতীতেও এ ধরনের ঘৃণ্য অপচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করেছে এবং এখনো তা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে ধারণ করে বাংলাদেশের জনগণ দৃঢ় অঙ্গীকার করেছে যে, দেশ আর কখনো ফ্যাসিবাদের অন্ধকার যুগে ফিরে যাবে না এবং বাংলাদেশ কখনোই কোনো তাবেদার রাষ্ট্র (ক্লায়েন্ট স্টেট) হবে না। দণ্ডিত গণহত্যাকারী শেখ হাসিনা ও তার মাফিয়াচক্রের বাংলাদেশের রাজনীতিতে আর কোনো স্থান নেই।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন