ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে দাঁড়িয়ে থাকা বাসে হঠাৎ আ গু ন লাগে


গাজীপুরের কালিয়াকৈরে দাঁড়িয়ে থাকা বাসে হঠাৎ আ গু ন লাগে

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বাসে হঠাৎ আগুন লাগার একটি ঘটনা ঘটেছে।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেল ৩টার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে উপজেলার বাসস্ট্যান্ড এলাকায়।

ফায়ার সার্ভিসের সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার বিকেল ৩টার সময় উপজেলার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি রাজধানী পরিবহনের বাসের পিছনের অংশে আকস্মিকভাবে আগুন লেগে যায়। এই ঘটনায় উপস্থিত মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সেই সময় আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করতে আশপাশের লোকজন যদিও গিয়েছিল, তবে তারা সফল হতে পারেননি এবং অবশেষে ফায়ার সার্ভিসে ফোন করেন। ততক্ষণে বাসটির বেশিরভাগ অংশ পুড়ে গিয়েছিল। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে আধা ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা ইফতেখার চৌধুরী রায়হান জানিয়েছেন, আগুন লাগার কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানানো সম্ভব হয়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে সহযোগিতা করেন।

কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুল ইসলাম পিপিএম-বার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাভারের ৩ ইউনিয়ন কেরানীগঞ্জে যুক্ত করার ষড়যন্ত্রের অ ভি যোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:৩১ পি.এম


সাভারের ৩ ইউনিয়ন কেরানীগঞ্জে যুক্ত করার ষড়যন্ত্রের অ ভি যোগ

ঢাকার সাভার উপজেলার ঐতিহ্যবাহী তেঁতুলঝোড়া, ভাকুর্তা ও আমিনবাজার—এই তিনটি ইউনিয়নকে সাভার থেকে বিচ্ছিন্ন করার চক্রান্তের বিরুদ্ধে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছেন। সাভার থেকে এই তিনটি ইউনিয়নকে কেরানীগঞ্জ উপজেলার সাথে যুক্ত করার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন হাজারো বাসিন্দা।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) জুম্মার নামাজ শেষে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় একটি বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা হাজী জামাল উদ্দিন সরকারের নেতৃত্বে তিনটি ইউনিয়ন থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে শত শত মানুষ সমাবেশস্থলে সমবেত হন।

এই বিক্ষোভের কারণে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের উভয় পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এসময় প্রায় পৌনে এক ঘণ্টার জন্য মহাসড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে, ফলে মহাসড়কে চলাচলকারী সাধারণ যাত্রী ও চালকদের সাময়িক ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

সমাবেশে বক্তারা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য আমান উল্লাহ আমানকে ইঙ্গিত করে বলেন, ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কৌশলে ফর্মে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে জানা গেছে, সেই ফর্মগুলো মূলত এই তিন ইউনিয়নকে সাভার থেকে কেটে কেরানীগঞ্জের সাথে যুক্ত করার প্রস্তাবনা ছিল।

বক্তারা দৃঢ় হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, "আমরা জীবন দেব, তবুও সাভারের সীমানা ছেড়ে আমাদের জন্মভূমি তেঁতুলঝোড়া, ভাকুর্তা ও আমিনবাজার ইউনিয়নকে কেরানীগঞ্জের সাথে যুক্ত হতে দেব না। এটি এলাকার মানুষের আবেগের সাথে এক ধরনের প্রতারণা।"

সংগ্রাম অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়ে নেতারা জানান, অবিলম্বে এই চক্রান্ত বন্ধ না হলে পরবর্তীতে আরো কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। আন্দোলনের অংশ হিসেবে খুব শীঘ্রই জেলা প্রশাসক (ডিসি) বরাবর স্মারকলিপি প্রদান, এলাকাভিত্তিক গণস্বাক্ষর অভিযান এবং লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেন আয়োজকরা।

ইউনিয়নের বাসিন্দা কুলছুম বেগম বলেন, "আমাদের বলা হয়েছিল ফ্যামিলি কার্ড দিলে সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাব, এই ভেবে সাধারণ মানুষ ফর্মে সই করেছে। এখন দেখছি সেই সই ব্যবহার করে আমাদের এলাকা কেরানীগঞ্জের সাথে যুক্ত করার ষড়যন্ত্র হচ্ছে। জালিয়াতি করে জনগণের ওপর কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া যাবে না।"

সমাবেশে স্থানীয় বাবু মিয়া বলেন, "জন্মের পর থেকে আমরা জেনে এসেছি আমরা সাভারের অধিবাসী। আমাদের জাতীয় পরিচয়পত্র, জমিজমার দলিলপত্রসহ সব কাগজপত্র সাভার উপজেলার অধীনে। হঠাৎ করে কেন আমাদের কেরানীগঞ্জে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে, আমরা তা বুঝি না। আমরা কোনোভাবেই সাভার ছেড়ে কেরানীগঞ্জের সাথে যুক্ত হব না। দরকার হলে বুকের রক্ত দেব, তবু আমাদের সীমানা ভাঙতে দেব না।"

তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা হাজী জামাল উদ্দিন সরকার ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য আমান উল্লাহ আমানকে হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, "শ্যামলী কার্ড দেওয়ার কথা বলে সাধারণ জনগণকে ভুল বুঝিয়ে ফর্মে স্বাক্ষর নিয়েছেন। আমাদের ইউনিয়নকে ঢাকা ২ আসনের সাথে যুক্ত করিয়াছেন। এবার তিনটি ইউনিয়নকে কেরানীগঞ্জের সাথে যুক্ত করার যে ষড়যন্ত্র করছেন তা হতে দেবো না। প্রয়োজনে রক্ত দেবো। আন্দোলন করবো। প্রয়োজনে পুনরায় এই ইউনিয়ন গুলো ঢাকা-১৯ আসনে যুক্ত করার জন্য আন্দোলনে নামবো।"

এই সময় আব্দুর রহমান, এডভোকেট দীন ইসলাম, নয়ন সরকার, যুবদল নেতা ইয়ার মোহাম্মদ ইয়াসিন সরকার (শাওন সরকার), আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম সিরাজসহ অনেকেই বক্তব্য রাখেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গ্রিস উপকূল থেকে ৭২ বাংলাদেশিসহ দুই শতাধিক অভিবাসনপ্রত্যাশী উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:১১ পি.এম


গ্রিস উপকূল থেকে ৭২ বাংলাদেশিসহ দুই শতাধিক অভিবাসনপ্রত্যাশী উদ্ধার

গ্রিসের উপকূল থেকে ৭২ বাংলাদেশিসহ দুই শতাধিক অভিবাসনপ্রত্যাশীকে উদ্ধার করা হয়েছে। লিবিয়া থেকে গ্রিসে অনুপ্রবেশের সময় ইউরোপীয় সীমান্তরক্ষী একটি সংস্থা তাদের উদ্ধার করে। এসব অভিবাসনপ্রত্যাশীরা বর্তমানে গ্রিসের একটি বন্দরের অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে গ্রিসের দক্ষিণাঞ্চলে পৌঁছায় মোট ৪০ অভিবাসনপ্রত্যাশী। বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) সকালে ইয়েরাপেত্রার দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে তাদের বহনকারী নৌকাটি শনাক্ত করে ইউরোপীয় সীমান্তরক্ষা সংস্থা ফ্রন্টেক্সের একটি বিমান।

পরে তাদের নিরাপদে বন্দরে নেওয়ার জন্য কোস্টগার্ড ও একটি মাছ ধরার নৌকার সহায়তা ব্যবহার করা হয়। এরপর শুরু হয় নিবন্ধন ও পরিচয় যাচাইয়ের প্রক্রিয়া। এই বিষয়ে শুক্রবার এক প্রতিবেদনে তথ্য জানিয়েছে মিডল ইস্ট মনিটর।

ওই ঘটনার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই দুটি নৌযান থেকে আরো ১১২ জনকে উদ্ধার করা হয়। প্রথম নৌযানে ছিলেন ৫৬ জন যাদের মধ্যে ৩১ জন ছিলেন সুদানের নাগরিক এবং ২৫ জন বাংলাদেশের নাগরিক। দ্বিতীয় নৌযানে ৫৬ জনই ছিলেন, তাদের মধ্যে ৪৭ জন বাংলাদেশি এবং ৯ জন মিশরীয় নাগরিক ছিলেন।

গ্রিসের দক্ষিণের দ্বীপ ক্রিটে সাম্প্রতিক সময়ে লিবিয়া থেকে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের প্রবেশে বৃদ্ধি ঘটেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অন্তত ২০২ জন সেখানে পৌঁছেছেন। নতুনভাবে যাওয়া সবাইকে হেরাক্লিয়ন বন্দরের অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে। এতে দ্বীপটির প্রশাসন এবং অভ্যর্থনা কেন্দ্রগুলোর ওপর চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এদিকে, আগের একটি উদ্ধার অভিযানে ৫০ জন অভিবাসন প্রত্যাশীকে পাচারের অভিযোগে দক্ষিণ সুদানের ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরকে গ্রিক কর্তৃপক্ষ আটক করেছে।

অভিবাসীদের জবানবন্দি অনুযায়ী, লিবিয়ার তোব্রুক থেকে গ্রিসের উদ্দেশ্যে যাত্রা করার সময় নৌকাটি চালানোর অভিযোগ রয়েছে এই কিশোরের বিরুদ্ধে। এই জন্য প্রত্যেক অভিবাসীর কাছ থেকে দেড় থেকে দুই হাজার ডলার পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গ্রিস উপকূল থেকে ৭২ বাংলাদেশিসহ দুই শতাধিক অভিবাসনপ্রত্যাশী উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:১৭ পি.এম


গ্রিস উপকূল থেকে ৭২ বাংলাদেশিসহ দুই শতাধিক অভিবাসনপ্রত্যাশী উদ্ধার

গ্রিসের উপকূল থেকে ৭২ বাংলাদেশিসহ দুই শতাধিক অভিবাসনপ্রত্যাশীকে উদ্ধার করা হয়েছে। লিবিয়া থেকে গ্রিসে অনুপ্রবেশের সময় ইউরোপীয় সীমান্তরক্ষী একটি সংস্থা তাঁদের উদ্ধার করে। এসব অভিবাসনপ্রত্যাশীদের গ্রিসের একটি বন্দরের অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে গ্রিসের দক্ষিণাঞ্চলে পৌঁছায় ৪০ অভিবাসনপ্রত্যাশী। বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) সকালে ইয়েরাপেত্রার দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে তাঁদের বহনকারী নৌকাটি শনাক্ত করে ইউরোপীয় সীমান্তরক্ষী সংস্থা ফ্রন্টেক্সের একটি বিমান।

পরে কোস্টগার্ড ও একটি মাছ ধরার নৌকার সহায়তায় তাঁদের নিরাপদে বন্দরে নেয়া হয়। এরপর শুরু হয় নিবন্ধন ও পরিচয় যাচাইয়ের প্রক্রিয়া। শুক্রবার এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানায় মিডল ইস্ট মনিটর।

ওই ঘটনার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই দুটি নৌযান থেকে উদ্ধার করা হয় আরো ১১২ জনকে। প্রথম নৌযানে ছিলেন ৫৬ জন, যাদের মধ্যে ৩১ জন সুদানের এবং ২৫ জন বাংলাদেশের নাগরিক। দ্বিতীয় নৌযানেও ছিলেন ৫৬ জন। তাঁদের মধ্যে ৪৭ বাংলাদেশি এবং ৯ মিশরীয় নাগরিক।

গ্রিসের দক্ষিণের দ্বীপ ক্রিটে সাম্প্রতিক সময়ে লিবিয়া থেকে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের প্রবেশ বেড়েছে। মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অন্তত ২০২ জন সেখানে পৌঁছেছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম। নতুন করে যাওয়া সবাইকে হেরাক্লিয়ন বন্দরের অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে। এতে দ্বীপটির প্রশাসন ও অভ্যর্থনা কেন্দ্রগুলোর ওপর বাড়ছে চাপ।

এদিকে আগের একটি উদ্ধার অভিযানে ৫০ জন অভিবাসন প্রত্যাশীকে পাচারের অভিযোগে দক্ষিণ সুদানের ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরকে আটক করেছে গ্রিক কর্তৃপক্ষ।

অভিবাসীদের জবানবন্দি অনুযায়ী, লিবিয়ার তোব্রুক থেকে গ্রিসের উদ্দেশ্যে যাত্রায় নৌকাটি চালানোর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ জন্য প্রত্যেক অভিবাসীর কাছ থেকে দেড় থেকে দুই হাজার ডলার পর্যন্ত নেয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হয়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হরমুজে নৌ জোট গঠনের প্রচেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রের, ইউরোপের অনীহা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:২২ পি.এম


হরমুজে নৌ জোট গঠনের প্রচেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রের, ইউরোপের অনীহা

যুক্তরাষ্ট্র কয়েক মাস ধরে উত্তপ্ত ও সংঘাতপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা দিতে একটি আন্তর্জাতিক নৌ জোট গঠনের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলি, বিশেষ করে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সসহ কিছু দেশ, এই উদ্যোগে এগিয়ে যেতে অনীহা প্রকাশ করছে।

এর আগে, টেকসই যুদ্ধবিরতি হলে এমন একটি মিশনের নেতৃত্ব দেওয়ার বিষয়ে তারা সম্মতি জানিয়েছিল। তবে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে চলমান অস্থিরতা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করলেও তারা এখনও এ বিষয়ে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে চাইছে না।

विश্লেষকদের মতে, নৌ জোট গঠনের উদ্যোগ আটকে থাকার পেছনে ইউরোপীয় দেশগুলোর গভীর সতর্কতা কাজ করছে। তারা এমন একটি অনিশ্চিত সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে চায় না, যা তারা শুরু করেনি এবং সমর্থনও করছেনা। বিশেষ করে উপসাগরীয় দেশগুলোর স্পষ্ট সমর্থন না থাকা ইউরোপীয় দেশগুলোর অনীহা আরও বৃদ্ধি করেছে।

রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউট এবং সেন্টার ফর আমেরিকান প্রগ্রেসের সিনিয়র ফেলো এইচএ হেলিয়ার আল জাজিরাকে বলেন, ‘অন্যদের হয়ে ইরানের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার বিষয়ে যুক্তরাজ্য বা ফ্রান্সের খুব বেশি আগ্রহ নেই। বিশেষ করে এর পেছনে যদি আঞ্চলিক দেশগুলোর স্পষ্ট দাবি না থাকে।’

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিরাপদ করতে আন্তর্জাতিক নৌ জোট গঠনের ধারণাটি প্রথম সামনে আনে যুক্তরাষ্ট্র। মার্চে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মিত্র দেশগুলোর পাশাপাশি চীনকেও এই উদ্যোগে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানান।

প্রাথমিকভাবে বেশিরভাগ দেশই এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে অথবা কোনো স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে। তবে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স তখনও অংশগ্রহণের সম্ভাবনা খোলা রেখেছিল।

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মার্কিন কর্মকর্তারা আন্তর্জাতিক নৌ জোট গঠনের প্রস্তাব নিয়ে প্রচার চালিয়ে যেতে থাকেন। একই সময়ে ট্রাম্পও সংঘাতে ওয়াশিংটনকে পর্যাপ্ত সহায়তা না করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের সমালোচনা করেন।

এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ঘোষণা দেন, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স আন্তর্জাতিক একটি মিশনের নেতৃত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। এই মিশনের লক্ষ্য হবে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিরাপদ করা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, মিশনটি হবে “সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও প্রতিরক্ষামূলক।”

এর পরের মাসে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, তারা এই মিশনের অংশ হিসেবে ড্রোন, যুদ্ধবিমান এবং একটি যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে। মন্ত্রণালয়ের দাবি ছিল, কয়েক ডজন দেশ এই উদ্যোগকে সমর্থন করছে এবং পরিস্থিতি অনুকূল হলে মিশনটি শুরু হবে।

তবে, কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও উদ্যোগটি কার্যত আটকে আছে। যদিও ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে ‘সামুদ্রিক স্বাধীনতা এবং অবাধ বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করার’ বিষয়ে যুক্তরাজ্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘সম্পূর্ণভাবে একমত’।

ইউরোপের একজন কূটনৈতিক কর্মকর্তা আল জাজিরাকে জানান, হরমুজ প্রণালিতে ‘নৌ চলাচলের স্বাধীনতা’ নিশ্চিত করতে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের উদ্যোগে একটি বহুজাতিক মিশনের পরিকল্পনা নিয়ে বৃহস্পতিবার 30টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে কারিগরি পর্যায়ে নতুন বৈঠক হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র আল জাজিরাকে বলেন, স্ট্রিটিং ‘ভবিষ্যতের বহুজাতিক মিশনের পরিকল্পনা ও সমন্বয়’ নিয়ে আরও আলোচনার আশা করছেন।

তিনি বলেন, ‘মাঠের পরিস্থিতি এবং একটি টেকসই রাজনৈতিক সমঝোতার ওপর কার্যক্রম শুরু করা নির্ভর করছে।’ তিনি আরও বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে যুক্তরাজ্য এখনও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

হেলিয়ার বলেন, হরমুজে নৌ জোট গঠনের উদ্যোগ বিলম্বিত হয়েছে, কারণ ‘রাজনীতি কখনোই কথাবার্তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না।’ তিনি বলেন, ‘যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স নীতিগতভাবে নৌ চলাচলের স্বাধীনতাকে সমর্থন করতে পারে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ উপসাগরীয় দেশগুলো সক্রিয়ভাবে সমর্থন না করলে তারা এমন কোনো অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।’

তার মতে, আঞ্চলিক সরকারগুলো যেটিকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে উত্তেজনা বাড়ানোর পদক্ষেপ মনে করে, এমন কোনো নিরাপত্তা কাঠামো চাপিয়ে দেওয়ার পক্ষেও যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স যেতে চায় না।

লন্ডনের কিংস কলেজের প্রতিরক্ষা অধ্যয়নের প্রভাষক আমজাদ রশিদ বলেন, ইউরোপের কোনো দেশ এতে যুক্ত হলে তাদের ভূমিকা সম্ভবত সীমিত, শর্তসাপেক্ষ এবং পুরোপুরি প্রতিরক্ষামূলক হবে।

রাশিয়ার সঙ্গে পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তে আরও ঘনিষ্ঠ নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলা করতে থাকা ইউরোপ এখন উপসাগরীয় অঞ্চলে ‘উত্তেজনা কমানো তথা স্থিতিশীলতা’ চায় বলে জানান রশিদ।

তিনি বলেন, ‘ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল ওয়াশিংটন ও তেল আবিবে। তারা এ বিষয়ে ইউরোপীয় শক্তিগুলোর সঙ্গে পরামর্শ করেনি। ফলে ইউরোপীয় শক্তিগুলো এমন একটি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে প্রস্তুত ছিল না এবং এখনো নেই, যে যুদ্ধের পরিকল্পনা বা কাঠামো তৈরিতে তারা অংশ নেয়নি।’

হেলিয়ার মনে করেন, হরমুজে ইউরোপীয় অংশগ্রহণসহ একটি ‘প্রতিরক্ষামূলক নৌ উপস্থিতি’ এখনও সম্ভব। তবে তিনি বিশ্বাস করেন না, এর চেয়ে ‘আরও শক্তিশালী কোনো জোট’ গড়ে উঠবে।

তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি, ইউরোপের যেকোনো মিশন ইচ্ছাকৃতভাবেই সীমিত থাকবে। এর মূল লক্ষ্য হবে জাহাজ চলাচলে আস্থা তৈরি করা এবং বাণিজ্যিক জাহাজকে নিরাপত্তা দেওয়া। এটি যেন বৃহত্তর কোনো নিরাপত্তা অভিযানে পরিণত না হয়, সেদিকেই গুরুত্ব থাকবে।’

বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সাধারণত যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন হয়, সেই জলপথের নিয়ন্ত্রণ এখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত অবসানের আলোচনায় অন্যতম বড় বিরোধের বিষয় হয়ে উঠেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান হলো, ইরান হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে না। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এই জলপথ দিয়ে অবাধ ও বাধাহীন জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে হবে।

অন্যদিকে, ইরান এই জলপথের ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করতে চাইছে। দেশটি জাহাজগুলোকে তাদের অনুমোদিত নির্দিষ্ট রুট দিয়ে চলাচলের নির্দেশ দিতে চাইছে।

গত বুধবার (৫ আগস্ট) ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি বলেন, হরমুজে জাহাজ চলাচল ব্যবস্থাপনার জন্য ওমানের সঙ্গে একটি নতুন প্রটোকল নিয়ে সমঝোতা “চূড়ান্ত হওয়ার দ্বারপ্রান্তে” রয়েছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত এই ব্যবস্থা দুই থেকে চার মাস কার্যকর থাকবে। নতুন নির্ধারিত জাহাজ চলাচলের রুটের বড় একটি অংশ ইরানের জলসীমার মধ্য দিয়ে যাবে এবং অন্য অংশ যাবে ওমানের জলসীমা দিয়ে। একই সঙ্গে বর্তমানে ব্যবহৃত অস্থায়ী রুটগুলো বন্ধ করে দেওয়া হবে।

জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যপ্রাচ্য রাজনীতির সহকারী অধ্যাপক সিনা আজোদি আল জাজিরাকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধ শুরুর আগের অবস্থায় হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি আর কখনো ফিরে আসবে কি না, তাতে তিনি সন্দিহান। ইরান বুঝতে পেরেছে যে হরমুজ প্রণালি অবরোধ করে তারা বৈশ্বিক অর্থনীতিকে বড় ধরনের চাপে ফেলতে পারে। এটি একটি কৌশলগত সম্পদ। আমার মনে হয় না, তারা সহজে এর নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%