ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় পুরুষদের হিফজ বিভাগে প্রথম বাংলাদেশের হিরা


আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় পুরুষদের হিফজ বিভাগে প্রথম বাংলাদেশের হিরা

মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক কোরআন তিলাওয়াত ও হিফজ প্রতিযোগিতায় পুরুষদের হিফজ বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন বাংলাদেশের এহতিশামুল হক হিরা। ঢাকার মারকাযু ফয়জিল কোরআন আল ইসলামীর এই প্রতিযোগী ৯৭ নম্বর পেয়ে যৌথভাবে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। মালয়েশিয়াপ্রবাসী বাংলাদেশিরা তার এই সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন।

৬৬তম আন্তর্জাতিক কোরআন তিলাওয়াত ও হিফজ প্রতিযোগিতা পাঁচ দিনব্যাপী গত ৬ অক্টোবর শুরু হয়ে শুক্রবার শেষ হয়। কুয়ালালামপুরের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে (ডব্লিউটিসি) আয়োজিত এই প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার শনিবার (১০ অক্টোবর) তুলে দেওয়া হয়।

পুরুষদের হিফজ বিভাগে বাংলাদেশের এহতিশামুল হক হিরার সঙ্গে ৯৭ নম্বর পেয়ে যৌথভাবে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন সিরিয়ার আবদুল রহমান জামাল ইব্রাহিম। এ বিভাগে ৯৬ দশমিক ৩৩ নম্বর পেয়ে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছেন স্বাগতিক মালয়েশিয়ার মুহাম্মদ ইজ্জুল আফনান সাজালি।

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

নারীদের তিলাওয়াত বিভাগে ৯১ দশমিক ৮৩ নম্বর পেয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন মালয়েশিয়ার নুর শাকুরা মোহাম্মদ মুসা। ৯১ নম্বর পেয়ে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছেন সিঙ্গাপুরের আতিকাহ বিনতে সুহাইমি। আর ৯০ দশমিক ৮৩ নম্বর নিয়ে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন ব্রুনেইয়ের দায়াংকু সিতি উম্মি শায়জানা বিনতে পেঙ্গিরান হাজি মারজুকি।

পুরুষদের তিলাওয়াত বিভাগে ৯৪ দশমিক ৬৭ নম্বর পেয়ে প্রথম হয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার মুহাম্মদ ফাউজি রিদওয়ান। ৯২ দশমিক ৯৯ নম্বর নিয়ে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছেন মালয়েশিয়ার সিক হাসনুল তাকিয়ুদ্দিন সিক সাজালি। এ বিভাগে ৯২ দশমিক ১৭ নম্বর পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন বেলজিয়ামের ব্রাহিম বুগালাব।

নারীদের হিফজ বিভাগে ৯৬ দশমিক ১৭ নম্বর পেয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন নাইজারের চাফাতু ইসুফু। ৯৫ দশমিক ৫০ নম্বর নিয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন লিবিয়ার মিন্নাহ আলী আলসুদানি আগনাইয়াহ। আর ৯৫ নম্বর পেয়ে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন মিয়ানমারের থেইন গি মোন।

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক কোরআন হিফজ প্রতিযোগিতায় সাফল্যের ইতিহাস কয়েক দশকের পুরনো। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সংরক্ষিত তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন দেশের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশি হাফেজরা মোট ৪৩টি প্রথম স্থান অর্জন করেছেন। এই সময়ে ৩৫ জন বাংলাদেশি হাফেজ এ সাফল্য পেয়েছেন। একই প্রতিযোগী একাধিকবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় বিজয়ীর সংখ্যা ও প্রথম স্থান অর্জনের সংখ্যা আলাদা।

আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান আতঙ্ক, তিন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা

হুফ্ফাজুল কোরআন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮২ সালে লিবিয়ায় কারি আবদুল হকের প্রথম স্থান অর্জনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের এ সাফল্যের ধারার সূচনা হয়। এরপর ১৯৯৪ সালে ইরানে সাখাওয়াত হোসাইন এবং ১৯৯৬ সালে একই দেশে মাহমুদুল হাসান চ্যাম্পিয়ন হন। ১৯৯৯ সালে মিশরে ইমদাদুল্লাহ এবং ইরানে ফরিদ আহমদ প্রথম স্থান অর্জন করেন।

পরবর্তী বছরগুলোতেও বাংলাদেশের হাফেজদের সাফল্য অব্যাহত থাকে। ২০০০ সালে মিশরে নাবিল ওয়ালিদ, ২০০১ সালে ইব্রাহিম বিন হেলাল, ২০০২ সালে জর্ডানে হোসাইন আহমাদ এবং ২০০৩ সালে মিশরে আবদুল কাদির প্রথম স্থান অর্জন করেন। ২০০৭ সালে দুবাইয়ে এবং ২০০৯ সালে মিশরে চ্যাম্পিয়ন হন ফজলে রাব্বি আদেল। ২০১০ সালে জর্ডানে মো. সাইফুল ইসলাম এবং ২০১১ সালে ইরানে হাফেজ সালাহউদ্দিন শীর্ষস্থান অর্জন করেন।

২০১২ সালে সৌদি আরবে পৃথক বিভাগে প্রথম হন মো. তানভীর হোসাইন, এহসান উদ্দিন নোমান ও মুহাম্মদ সাদ সুরাইল। ২০১৩ সালে সৌদি আরবে মো. ইমাদুল্লাহ, জর্ডানে ফারিয়া তাসলিম এবং দুবাইয়ে হাফেজ নাজমুস সাকিব চ্যাম্পিয়ন হন। ২০১৪ সালে সৌদি আরবে নাজমুস সাকিব এবং মিশরে অনুষ্ঠিত ২১তম আন্তর্জাতিক হিফজ প্রতিযোগিতায় হাফেজ মোহাম্মদ জাকারিয়া প্রথম স্থান অর্জন করেন।

২০১৫ সালে সুদানে চ্যাম্পিয়ন হন নাজমুস সাকিব। একই বছর মিশরে পৃথক বিভাগে নাহিয়ান কায়সার ও মুহিব্বুল্লাহ এবং জর্ডানে সাঈদ হাসান প্রথম হন। ২০১৬ সালে তুরস্কে আবদুল আখের এবং বাহরাইনে হাফেজ মোহাম্মদ জাকারিয়া চ্যাম্পিয়ন হন।

আরও পড়ুন: বিলবোর্ডের ছবিকে রাস্তা ভেবে সজোরে ট্রাক চালালেন চালক, অতঃপর প্রাণ হারালেন

২০১৭ সালে সৌদি আরব ও মিশরে আবদুল্লাহ আল মামুন এবং দুবাইয়ে তারিকুল ইসলাম প্রথম স্থান অর্জন করেন। ২০১৮ সালে মিশরে মুজাহিদুল ইসলাম এবং ২০১৯ সালে জর্ডানে মো. সাইফুর রহমান ত্বাকী চ্যাম্পিয়ন হন। ২০২১ সালে ইরান এবং ২০২৩ সালে দুবাইয়ে প্রথম স্থান অর্জন করেন হাফেজ সালেহ আহমদ তাকরিম।

২০২৪ সালেও একাধিক আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের হাফেজরা সাফল্য অর্জন করেন। ওই বছর ইরানে বশির আহমদ, সৌদি আরবে আনাস বিন আতিক, তুরস্কে মুআজ মাহমুদ, কুয়েতে আনাস মাহফুজ এবং সেনেগালে অনুষ্ঠিত ১১তম আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় হাফেজ আবু রাইহান প্রথম হন। একই বছর সৌদি আরবে ১৫ পারা হিফজ বিভাগেও চ্যাম্পিয়ন হন মুআজ মাহমুদ।

২০২৫ সালে মিশরে প্রথম স্থান অর্জন করেন আনাস বিন আতিক। ২০২৬ সালে মালয়েশিয়ায় হাফেজ ইব্রাহিম শেখ এবং সৌদি আরবে ১৫ পারা হিফজ বিভাগে হাফেজ মোহাম্মদ নুরুদ্দিন জাকারিয়া চ্যাম্পিয়ন হন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের দ্বীনি দাওয়াত ও সংস্কৃতি বিভাগের সংরক্ষিত তথ্যে ১৯৯৪ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের হাফেজদের ৩৭টি প্রথম স্থান অর্জনের তথ্য রয়েছে। এর বাইরে ১৯৮২ সালে কারি আবদুল হকের সাফল্যসহ বিভিন্ন বছরের আরও কয়েকটি বিজয়ের তথ্য পাওয়া গেছে হুফ্ফাজুল কোরআন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক কিরাত সংস্থা বাংলাদেশের কাছ থেকে।

আরও পড়ুন: সৌদি আরবে গিয়ে ইসলাম গ্রহণ: সিস্টার ডেইজির জীবনের গল্প

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তথ্য সমন্বয় করে পাওয়া এ হিসাব বাংলাদেশের হিফজ শিক্ষার ধারাবাহিক অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এ সাফল্য ধরে রাখতে তাজবিদ, ওয়াকফ-ইবতিদা, নিয়মিত প্রশিক্ষণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খেলাপি ঋণ কমাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৫৭ পি.এম


খেলাপি ঋণ কমাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা

বাংলাদেশ ব্যাংক খেলাপি ঋণ কমানো, ঋণ আদায় জোরদার এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই উদ্যোগগুলোর মাধ্যমে ঋণ আদায়ে গতি আনা, ঋণ ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং নিয়মিত ঋণ পরিশোধের সংস্কৃতি গড়ে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা দেশের ব্যাংকিং খাতকে আরও শক্তিশালী করবে।

এই পরিকল্পনার আওতায় ব্যাংকগুলোর কার্যক্রমের তদারকি করা হবে, ঋণঝুঁকি ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন ঘটানো হবে, নিয়মিত ঋণ পরিশোধকারী গ্রাহকদের উৎসাহিত করা হবে এবং ব্যাংক খাতের সুশাসন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইন সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চতুর্থ বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের এসব পরিকল্পনা ও উদ্যোগ তুলে ধরা হয়।

সম্প্রতি জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির সভাপতি সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে ব্যাংক খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী এক বছরের মধ্যে যেসব ব্যাংকের শ্রেণিকৃত ঋণের হার ১০ শতাংশের বেশি, সেসব ব্যাংকের শীর্ষ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে প্রতি তিন মাস অন্তর আলোচনা করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এই আলোচনায় ঋণ আদায়ের পথে বাধাগুলো চিহ্নিত করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ দেওয়া হবে।

এছাড়া, ব্যাংকার্স সভায় শীর্ষ ২০ খেলাপি বা শ্রেণিকৃত ঋণগ্রহীতার কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যালোচনা করা হবে।

যেসব ব্যাংকে শ্রেণিকৃত ঋণের হার বেশি, তাদের জন্য ঋণ পুনরুদ্ধার কৌশলবিষয়ক বিশেষ নির্দেশিকা প্রণয়ন ও বিদ্যমান ঋণঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকা হালনাগাদ করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

ব্যাংকের ঋণ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিবেদন মান (আইএফআরএস-৯) অনুসরণ করে প্রত্যাশিত ঋণক্ষতি বা ‘এক্সপেক্টেড ক্রেডিট লস’ পদ্ধতিতে ঋণ শ্রেণিকরণ ও সংস্থান সংরক্ষণের ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর ফলে ঋণ থেকে সম্ভাব্য ক্ষতি আগেভাগে নিরূপণ ও ঋণঝুঁকি ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করার সুযোগ তৈরি হবে। খেলাপি ও ইচ্ছাকৃত খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের তালিকা প্রকাশের আইনগত দিকগুলোও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটান অঞ্চলের বিভাগীয় পরিচালক জ্যঁ পেম বলেন, "ব্যাংক খাতে ছাড় দেওয়ার বিদ্যমান প্রবণতা ধীরে ধীরে বন্ধ করতে এ আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ।" তিনি মনে করেন, খেলাপি ঋণ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে আরও উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

তার মতে, ব্যাংক ও ঋণগ্রহীতা— উভয় পক্ষকে কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করতে উৎসাহিত করার মতো প্রণোদনা তৈরি করতে হবে।

মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় আগামী দুই থেকে তিন বছরে খেলাপি ঋণ আদায়ে কার্যকর ভূমিকা রাখা ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিশেষ প্রণোদনা দেওয়ার নীতিমালা প্রণয়ন করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মাধ্যমে ঋণ আদায়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আরও সক্রিয় করা এবং আদায় কার্যক্রমে গতি আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে নিয়মিত ঋণ পরিশোধকারী ভালো গ্রাহকদের চিহ্নিত করা এবং তাদের প্রণোদনা দেওয়ার বিদ্যমান নীতিমালা পর্যালোচনা ও হালনাগাদ করা হবে। এর ফলে নিয়মিত ঋণ পরিশোধে গ্রাহকদের উৎসাহ বাড়বে এবং ব্যাংক খাতে দায়িত্বশীল ঋণ গ্রহণ ও পরিশোধের সংস্কৃতি গড়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।

দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় আগামী চার থেকে পাঁচ বছরে ব্যাংকগুলোর সামগ্রিক ঋণ ব্যবস্থাপনা কাঠামো শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঋণ অনুমোদন, তদারকি, আদায় ও শ্রেণিকরণের প্রতিটি পর্যায়ে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি খেলাপি ঋণ সৃষ্টির পেছনে থাকা কাঠামোগত দুর্বলতাগুলো দূর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ ঋণ খেলাপি হওয়ার পর শুধু আদায় তৎপরতা বাড়ানোর পরিবর্তে শুরু থেকেই ঋণঝুঁকি চিহ্নিত ও নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সাম্প্রতিক সময়ে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ও হার বেড়ে যাওয়ায় এ ধরনের সংস্কারের গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ জুন পর্যন্ত দেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৮১ হাজার ২৩৭ কোটি ৫৬ লাখ টাকা, যা মোট ঋণের ৩১ দশমিক ৪১ শতাংশ। গত ৩১ মার্চ পর্যন্ত এ পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৬৪ হাজার ১০৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা বা মোট ঋণের ৩০ দশমিক ৯২ শতাংশ। অর্থাৎ তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৭ হাজার ১৩১ কোটি ৯২ লাখ টাকা এবং মোট ঋণের তুলনায় খেলাপি ঋণের হার বেড়েছে শূন্য দশমিক ৪৯ শতাংশীয় পয়েন্ট।

খেলাপি ঋণের এ চাপ মোকাবিলায় তাৎক্ষণিক আদায় কার্যক্রমের পাশাপাশি ব্যাংক খাতের আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো আধুনিকায়নের কাজও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে ব্যাংক কোম্পানি (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর খসড়া তৈরি করা হয়েছে। ব্যাংক খাতে সুশাসন জোরদার করার উদ্দেশ্যে প্রণীত খসড়াটি গত ২২ এপ্রিলের আন্তঃমন্ত্রণালয় ও অংশীজনদের সভার সিদ্ধান্ত এবং ২৬ এপ্রিল আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের নির্দেশনার পর সংশোধন করা হয়।

সংশোধিত খসড়াটি গত ২৪ আগস্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে সর্বশেষ আন্তঃমন্ত্রণালয় ও অংশীজনদের সভা অনুষ্ঠিত হয় গত ২০ সেপ্টেম্বর।

ঋণ আদায় প্রক্রিয়া আরও কার্যকর করতে অর্থঋণ আদালত (সংশোধন) আইন, ২০২৬ প্রণয়নের উদ্যোগও চলছে।

এ আইন যুগোপযোগী করতে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগে ইতোমধ্যেই আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এর আগে, গত আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করে। কমিটি খসড়া প্রস্তাব তৈরি করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আইন ও বিচার বিভাগে পাঠায়।

বর্তমানে সংশোধিত আইনের খসড়া তৈরিতে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে আরেকটি কমিটি কাজ করছে।

এ ছাড়া খেলাপি ঋণ আদায় বাড়াতে ‘দুর্দশাগ্রস্ত সম্পদ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০২৬’ প্রণয়নের কাজ চলছে। একই সঙ্গে বিদ্যমান ১৯৯৭ সালের দেউলিয়াত্ব আইন আধুনিকায়ন করে ‘দেউলিয়াত্ব ও দেউলিয়া কার্যক্রম আইন, ২০২৬’ প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত আইনটির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেউলিয়াত্ব ব্যবস্থাকে আধুনিক করা, সামগ্রিক দেউলিয়া কাঠামো শক্তিশালী করা ও ঋণঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিশ্বব্যাংক গ্রুপের আন্তর্জাতিক অর্থায়ন সংস্থার (আইএফসি) সহায়তায় নতুন দেউলিয়াত্ব আইনের ইংরেজি খসড়া আধুনিক কাঠামোতে চূড়ান্ত করা হয়েছে।

খসড়াটি বাংলায় অনুবাদের জন্য আইএফসির সহায়তা চেয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বাংলা সংস্করণ চূড়ান্ত হলে, পরবর্তী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের জন্য তা আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে পাঠানো হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে, খেলাপি ঋণ আদায়ে তদারকি জোরদার, ঋণ বিতরণে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও নিয়মিত ঋণ পরিশোধে গ্রাহকদের উৎসাহিত করার সুযোগ বাড়বে। একই সঙ্গে আইনি কাঠামোর আধুনিকায়ন ও ঋণঝুঁকি ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের মাধ্যমে ব্যাংক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও আর্থিক স্থিতিশীলতা জোরদারে সহায়ক পরিবেশ তৈরি হতে পারে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের লাইসেন্সে বাংলা কিউআর বাধ্যতামূলক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৫৮ পি.এম


দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের লাইসেন্সে বাংলা কিউআর বাধ্যতামূলক

বাংলাদেশের খুচরা পর্যায়ের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও মার্চেন্টদের লাইসেন্স ইস্যু এবং নবায়নে বাংলা কিউআর মাধ্যমে লেনদেন বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। এই উদ্যোগটি আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল পেমেন্ট সম্প্রসারণের লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।

এই বিষয়ে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোরর) স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় একটি আদেশ জারি করেছে। আদেশে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও জেলা প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও ডিজিটাল পেমেন্ট সম্প্রসারণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য রিটেইল ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও মার্চেন্টদের লাইসেন্স ইস্যু এবং নবায়নের একটি শর্ত হিসেবে বাংলা কিউআর মাধ্যমে লেনদেন অন্তর্ভুক্তি বাধ্যতামূলক করতে হবে। সংশ্লিষ্টদের এই নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

নির্দেশনাটি কার্যকর করার জন্য সব সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, পৌরসভার প্রশাসক এবং জেলা প্রশাসকদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। জেলা প্রশাসকদের তাদের অধীন ইউনিয়ন পরিষদগুলোকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

এর আগে, বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট থেকে ১ অক্টোবর স্থানীয় সরকার বিভাগকে এ বিষয়ে একটি চিঠি প্রদান করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক (পিএসডি-১) আ ন ম মঈনুল কবীর স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে দেশে ৩২ লাখ ৬১ হাজার মার্চেন্ট বাংলা কিউআরের আওতায় এসেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করে, ট্রেড লাইসেন্স প্রদানের সঙ্গে বাংলা কিউআর যুক্ত করলে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের আনুষ্ঠানিক অর্থনীতির আওতায় আনা সহজ হবে। একই সঙ্গে জনগণের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধি এবং দেশের কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধিতে এটি সহায়ক হতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের চিঠিতে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত ট্রেড লাইসেন্স ইস্যুর সঙ্গে বাংলা কিউআর সংযুক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৪ আগস্ট সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা পর্যায়ে ট্রেড লাইসেন্সের সঙ্গে বাংলা কিউআর সেবা যুক্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। এবার সেই কার্যক্রম ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হলো।

এই উদ্যোগের ফলে শহরের পাশাপাশি প্রত্যন্ত ও প্রান্তিক এলাকার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোও ডিজিটাল লেনদেনের আওতায় আসবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা করছে, এর মাধ্যমে ব্যবসায়িক লেনদেনের একটি অংশ নগদনির্ভরতা থেকে বেরিয়ে ডিজিটাল ব্যবস্থায় প্রবাহিত হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মেটার নতুন নিষেধাজ্ঞা: ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম ও টিকটকে টিকটক ও বাইটড্যান্সের বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৫৮ পি.এম


মেটার নতুন নিষেধাজ্ঞা: ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম ও টিকটকে টিকটক ও বাইটড্যান্সের বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ

মেটা, প্রতিদ্বন্দ্বী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটক এবং এর মূল প্রতিষ্ঠান বাইটড্যান্সের বিজ্ঞাপন নিজেদের প্ল্যাটফর্মে নিষিদ্ধ করেছে। এই নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, মিসর, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, থাইল্যান্ড এবং ভিয়েতনামে কার্যকর হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় টিকটক ও বাইটড্যান্সের সরাসরি বিজ্ঞাপন ছাড়াও, ব্যবহারকারীদের ওই সেবাগুলোর দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য তৃতীয় পক্ষের বিজ্ঞাপনও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জানা যায়, শিশু-কিশোরদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে মেটার প্রচারণামূলক বিজ্ঞাপন প্রত্যাখ্যান করেছে টিকটক। এর পরপরই টিকটক ও বাইটড্যান্সের বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে মেটা।

মেটার মুখপাত্র ক্রিস স্ক্রো মন্তব্য করেন, "মেটা বাধ্য নয় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য, যা ব্যবহারকারীদের নিজেদের অ্যাপ থেকে সরিয়ে নিতে পারে।" প্রতিষ্ঠানটি আরও উল্লেখ করেছে, বিভিন্ন শিল্পে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন প্রচারের সুযোগ না দেওয়া একটি স্বাভাবিক ব্যবসায়িক চর্চা।

শিশু-কিশোরদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে চলমান বিরোধের মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত এসেছে। গত আগস্টে, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের সঙ্গে ১৮ বিলিয়ন ডলারের সমঝোতায় রাজি হয় মেটা। ওই সমঝোতার আওতায় ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রামে শিশু-কিশোরদের নিরাপত্তা জোরদারে নতুন ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এরপর থেকে, টিকটক এবং ইউটিউবকেও একই ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে আসছে মেটা। প্রতিষ্ঠানটির বক্তব্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপ্রাপ্তবয়স্কদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব একটি প্রতিষ্ঠানের একার নয়; বরং সব প্ল্যাটফর্মকেই এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

অন্যদিকে, শিশু-কিশোরদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে যথেষ্ট ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগে টিকটকের ওপর চাপ বাড়ছে। ইউরোপীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো অভিযোগ করেছে, অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে টিকটক। এ ধরনের নিয়ম লঙ্ঘনের জন্য টিকটককে বার্ষিক আয়ের সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে।

এদিকে, বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তের আগে টিকটক মেটার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। গত মাসে, ব্যবহারকারীদের প্রোফাইল থেকে ইনস্টাগ্রামের সরাসরি লিংক সরিয়ে দেয় প্ল্যাটফর্মটি। একই সঙ্গে, শিশু-কিশোরদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে মেটার প্রচারণামূলক বিজ্ঞাপনও প্রত্যাখ্যান করে তারা।

সব মিলিয়ে, ব্যবহারকারী এবং বিজ্ঞাপনের বাজারে প্রতিযোগিতার পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়েও মেটা ও টিকটকের বিরোধ আরও তীব্র হয়ে উঠছে। নতুন এই নিষেধাজ্ঞা দুই প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘প্রিয় প্রধানমন্ত্রী আম্বানি, আপনিই ভারতের আসল বস’—মাস্কের কটাক্ষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৫৯ পি.এম


‘প্রিয় প্রধানমন্ত্রী আম্বানি, আপনিই ভারতের আসল বস’—মাস্কের কটাক্ষ

ভারতের শীর্ষ ধনকুবের মুকেশ আম্বানির প্রতি তীব্র বিদ্রূপ করেছেন বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনকুবের ইলন মাস্ক, কারণ দেশটিতে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা চালুর অনুমতি পেতে বিলম্ব হচ্ছে। মাস্ক আম্বানিকে ভারতের প্রকৃত বস হিসেবে উল্লেখ করার পর, প্রধানমন্ত্রী সম্বোধন করে ব্যঙ্গাত্মকভাবে ক্ষমা চেয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, স্টারলিংককে ভারতের বাজারে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না, কারণ আম্বানি নিজেদের টেলিযোগাযোগ ব্যবসার আধিপত্য ধরে রাখতে চান।

মার্কিন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক টেসলা ও স্পেসএক্স-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং স্টারলিংকের প্রতিষ্ঠাতা। স্টারলিংক মূলত মার্কিন মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স (SpaceX)-এর একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান।

একটি পোস্টে মাস্ক লেখেন, ‘প্রিয় প্রধানমন্ত্রী আম্বানি, আপনিই যে ভারতের আসল বস, তা বুঝতে না পারার জন্য দয়া করে আমার বিনীত ক্ষমা গ্রহণ করুন।’ এরপর তিনি প্রশ্ন তোলেন, রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান কি স্টারলিংককে প্রতিযোগিতার সুযোগ দেবেন? মাস্কের অভিযোগ, ভারতের বাজারে নিজেদের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে চান আম্বানি।

স্পেসএক্সের স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সেবা স্টারলিংক কয়েক বছর ধরে ভারতের বাজারে প্রবেশের চেষ্টা করে আসছে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ইন্টারনেট বাজারটিতে সেবা চালুর অনুমতি না পাওয়ায় মাস্ক ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি দাবি করেন, বিশ্বের ১৬৫টিরও বেশি দেশে স্টারলিংক সেবা দেওয়ার অনুমতি পেয়েছে। পাঁচ বছর ধরে ভারত সরকারের আইন ও শর্ত মেনে চলার পরও কেন এখনো পূর্ণ অনুমোদন পাওয়া যায়নি, সেই প্রশ্নও তিনি তুলেছেন।

মাস্কের মতে, স্টারলিংক চালু হলে প্রচলিত নেটওয়ার্কের আওতার বাইরে থাকা প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। এতে শিক্ষা ও ব্যবসার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রচলিত যোগাযোগব্যবস্থা অচল হয়ে পড়লে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট জরুরি যোগাযোগ সচল রাখতে এবং মানুষের জীবন বাঁচাতে সহায়তা করতে পারে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) গভীর রাতে দেওয়া আরেক পোস্টে মাস্ক বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় অন্য যোগাযোগব্যবস্থা অচল হয়ে পড়লে স্টারলিংক জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ভারতের মানুষের জীবন বাঁচাতেও এই সেবা সহায়তা করতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তবে ভারত সরকার স্টারলিংকের প্রতি বৈষম্যের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। সরকারের বক্তব্য, অন্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের মতো স্টারলিংককেও একই ধরনের নিয়ন্ত্রণমূলক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ভারতের টেলিযোগাযোগমন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া বলেন, কোনো খাতেই একচেটিয়া আধিপত্য অনুমোদন করে না ভারত। স্টারলিংক স্যাটেলাইট যোগাযোগের প্রাথমিক অনুমোদন পেলেও বাণিজ্যিকভাবে সেবা চালুর জন্য এখনো নিরাপত্তা ছাড়পত্র ও তরঙ্গ বরাদ্দ প্রয়োজন। কর্মকর্তাদের ভাষ্য, স্টারলিংক, রিলায়েন্সের জিও স্যাটেলাইট কমিউনিকেশনস এবং ভারতী এয়ারটেল-সমর্থিত ইউটেলসাত ওয়ানওয়েব প্রায় একই পর্যায়ে রয়েছে।

চলতি সপ্তাহে দিল্লিতে এক শিল্প সমাবেশে স্টারলিংকের কর্মকর্তারা জানান, ভারত প্রস্তুত হলেই তারা সেবা চালু করতে প্রস্তুত। স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের অনুমোদন নিয়ে ভারতের উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে জাতীয় নিরাপত্তা, যোগাযোগ অবকাঠামোর ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং বিদেশি প্রতিষ্ঠানের ওপর দেশটির আইন প্রয়োগের বিষয়টি।

ভারতের মোবাইল ও ব্রডব্যান্ড বাজারের ৮০ শতাংশের বেশি নিয়ন্ত্রণ করে রিলায়েন্স জিও ও ভারতী এয়ারটেল। সরকারি অনুমোদন সাপেক্ষে স্টারলিংকের সরঞ্জাম ও সেবা বিতরণের জন্য গত বছর প্রতিষ্ঠান দুটির সঙ্গে চুক্তি করেছিল স্পেসএক্স।

তবে জিও ও এয়ারটেল নিজেরাও স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবসায় এগোচ্ছে। রিলায়েন্স লাক্সেমবার্গভিত্তিক এসইএসের সঙ্গে অংশীদারত্বে জিও স্যাটেলাইট সেবা গড়ে তুলছে। অন্যদিকে, স্টারলিংকের বৈশ্বিক প্রতিদ্বন্দ্বী ইউটেলসাত ওয়ানওয়েবে বড় বিনিয়োগ রয়েছে এয়ারটেলের।

আম্বানির সঙ্গে মাস্কের এই বিরোধ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তার আগের সুসম্পর্কের বিপরীত চিত্র তুলে ধরেছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ওয়াশিংটনে মোদি ও মাস্কের বৈঠকের পর ভারতে টেসলার গাড়ি কারখানা স্থাপন এবং স্টারলিংকের সেবা চালুর অনুমতি পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছিল।

কিন্তু ভারতে মাস্কের ব্যবসায় প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে মুম্বাইয়ে প্রথম বিক্রয়কেন্দ্র খুলে আমদানি করা গাড়ি বিক্রি শুরু করে টেসলা। তবে ভারত সরকার চেয়েছিল, প্রতিষ্ঠানটি দেশটিতে কারখানা স্থাপন করে কর্মসংস্থান তৈরি করুক।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথম ১৫ মাসে ভারতে টেসলার গাড়ি বিক্রি হয়েছে মাত্র এক হাজারটি। উচ্চ আমদানি শুল্কের কারণে গাড়িগুলোর দাম বেশি হলেও চীনের বিওয়াইডি এবং ভিয়েতনামের ভিনফাস্টের মতো তুলনামূলক কম দামের গাড়ি নির্মাতারা দেশটিতে ব্যবসা বাড়াচ্ছে।

এছাড়া অনলাইন কনটেন্ট সরানোর বিষয়ে ভারত সরকারের নির্দেশ নিয়ে মাস্কের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সের সঙ্গে আইনি বিরোধ চলছে। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে মাস্কের সম্ভাব্য দুটি ভারত সফরও বাতিল হয়েছিল।

মাস্কের মন্তব্য ভারতের রাজনীতিতেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এর আগে ব্যবসায়িক আধিপত্য নিয়ে মাস্কের এক মন্তব্যের জবাবে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী নাম উল্লেখ না করে লিখেছিলেন, ‘ভারতে স্বাগতম, ইলন। আপনি অন্য ব্যক্তির সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।’

রাহুলের এই মন্তব্যকে আরেক ধনকুবের গৌতম আদানির প্রতি ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হয়েছিল। জবাবে মাস্ক লিখেছিলেন, ‘ধন্যবাদ, রাহুল। এটি সত্যিই উদ্বেগজনক।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%