০৪:৫৮ পি.এম
বাংলাদেশের খুচরা পর্যায়ের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও মার্চেন্টদের লাইসেন্স ইস্যু এবং নবায়নে বাংলা কিউআর মাধ্যমে লেনদেন বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। এই উদ্যোগটি আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল পেমেন্ট সম্প্রসারণের লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
এই বিষয়ে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোরর) স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় একটি আদেশ জারি করেছে। আদেশে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও জেলা প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও ডিজিটাল পেমেন্ট সম্প্রসারণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য রিটেইল ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও মার্চেন্টদের লাইসেন্স ইস্যু এবং নবায়নের একটি শর্ত হিসেবে বাংলা কিউআর মাধ্যমে লেনদেন অন্তর্ভুক্তি বাধ্যতামূলক করতে হবে। সংশ্লিষ্টদের এই নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: সরকারি কর্মচারীদের ভাতা নির্ধারণে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি
নির্দেশনাটি কার্যকর করার জন্য সব সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, পৌরসভার প্রশাসক এবং জেলা প্রশাসকদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। জেলা প্রশাসকদের তাদের অধীন ইউনিয়ন পরিষদগুলোকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
এর আগে, বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট থেকে ১ অক্টোবর স্থানীয় সরকার বিভাগকে এ বিষয়ে একটি চিঠি প্রদান করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক (পিএসডি-১) আ ন ম মঈনুল কবীর স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে দেশে ৩২ লাখ ৬১ হাজার মার্চেন্ট বাংলা কিউআরের আওতায় এসেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করে, ট্রেড লাইসেন্স প্রদানের সঙ্গে বাংলা কিউআর যুক্ত করলে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের আনুষ্ঠানিক অর্থনীতির আওতায় আনা সহজ হবে। একই সঙ্গে জনগণের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধি এবং দেশের কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধিতে এটি সহায়ক হতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের চিঠিতে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত ট্রেড লাইসেন্স ইস্যুর সঙ্গে বাংলা কিউআর সংযুক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে সোনার দাম বেড়ে গেল, বিনিয়োগকারীদের নজর ফেডারেল রিজার্ভের সিদ্ধান্তে
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৪ আগস্ট সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা পর্যায়ে ট্রেড লাইসেন্সের সঙ্গে বাংলা কিউআর সেবা যুক্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। এবার সেই কার্যক্রম ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হলো।
এই উদ্যোগের ফলে শহরের পাশাপাশি প্রত্যন্ত ও প্রান্তিক এলাকার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোও ডিজিটাল লেনদেনের আওতায় আসবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা করছে, এর মাধ্যমে ব্যবসায়িক লেনদেনের একটি অংশ নগদনির্ভরতা থেকে বেরিয়ে ডিজিটাল ব্যবস্থায় প্রবাহিত হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন