মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:৩৯ পি.এম
আজ ২৯ সেপ্টেম্বর, বিশ্ব হার্ট দিবস। প্রতি বছর এই দিনে হৃদরোগ এবং রক্তনালির রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করার জন্য বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। ২০২৬ সালের বিশ্ব হার্ট দিবসে হৃদরোগের কিছু লক্ষণ এবং ঝুঁকির দিক তুলে ধরা হচ্ছে, যেগুলো প্রায়ই মানুষের দৃষ্টির অগোচরে থেকে যায়।
এ বছরের প্রচারের মূল বার্তা হলো ‘একটি হৃদস্পন্দনও উপেক্ষা করবেন না’। বিশ্ব হার্ট ফেডারেশনের উদ্যোগে পরিচালিত এই প্রচারে হৃদরোগের লক্ষণ দ্রুত চিহ্নিত করা, হৃদযন্ত্রের যত্ন নেওয়া এবং হৃদরোগ প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
নীরব থাকতে পারে হৃদরোগ
বিশ্ব হার্ট ফেডারেশনের তথ্য অনুযায়ী, হৃদরোগের অনেক লক্ষণ সব সময় স্পষ্টভাবে দেখা যায় না। আবার উচ্চ রক্তচাপের মতো কিছু ঝুঁকি দীর্ঘ সময় ধরে কোনো উপসর্গ ছাড়াই থাকতে পারে। তাই অসুস্থ বোধ করার আগে থেকেই নিজের হৃদ্স্বাস্থ্যের দিকে নজর দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, ২০২২ সালে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১ কোটি ৯৮ লাখ মানুষ হৃদরোগ এবং রক্তনালির রোগে মারা যান, যা ওই বছরের মোট মৃত্যুর প্রায় ৩২ শতাংশ। এসব মৃত্যুর ৮৫ শতাংশের জন্য দায়ী ছিল হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়া এবং স্ট্রোক।
কীভাবে হৃদযন্ত্রের যত্ন নেবেন
হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেমন—
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, তামাক সেবন এবং অতিরিক্ত মদ্যপানসহ বিভিন্ন আচরণগত ঝুঁকি হৃদরোগের সম্ভাবনা বাড়ায়। এসব ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে আনা গেলে হৃদরোগের ঝুঁকিও কমানো সম্ভব।
প্রতিদিন একটু বেশি নড়াচড়া
বিশ্ব হার্ট ফেডারেশনের এবারের কর্মসূচিতে নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রমের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সেপ্টেম্বরজুড়ে প্রতিদিন অন্তত ২০ মিনিট হাঁটা, দৌড়ানো, সাইকেল চালানো, খেলাধুলা বা অন্য কোনো শারীরিক কার্যকলাপে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
তবে দীর্ঘ সময় ধরে শারীরিকভাবে নিষ্ক্রিয় থাকলে হঠাৎ করে কঠোর ব্যায়াম শুরু না করে ধীরে ধীরে অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দেওয়া হয়।
কোন লক্ষণে দ্রুত চিকিৎসা নেবেন
তীব্র বা দীর্ঘস্থায়ী বুকব্যথা, শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত ঘাম, বমি বমি ভাব, মাথা ঘোরা অথবা হাত, কাঁধ, পিঠ, ঘাড় বা চোয়ালে ব্যথা ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণ করা জরুরি।
কারণ হৃদরোগের ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা পাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আবার সবার ক্ষেত্রে লক্ষণ একই রকম নাও হতে পারে।
হৃদরোগ প্রতিরোধে সচেতনতার আহ্বান
বিশ্ব হার্ট ফেডারেশন জানাচ্ছে, হৃদরোগ এবং রক্তনালির রোগ বিশ্বে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হলেও এর অনেক ঝুঁকি প্রতিরোধ বা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তাই এবারের বিশ্ব হার্ট দিবসে মানুষের প্রতি নিজের হৃদস্বাস্থ্যের লক্ষণ এবং ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিশ্ব হার্ট দিবসের বার্তা শুধুমাত্র এক দিনের জন্য নয়—প্রতিদিনের খাদ্য, শারীরিক পরিশ্রম, ঘুম, তামাক থেকে দূরে থাকা এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা—এসব অভ্যাসের মাধ্যমে হৃদযন্ত্রের যত্ন নেওয়া সম্ভব।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে ৫৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ওই কিশোরী বর্তমানে প্রায় পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় রয়েছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের জন্য চেষ্টা চলছে।
ঢুষমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম আর সাঈদ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। একই দিন চিলমারী উপজেলার ঢুষমারা থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলায় অভিযুক্ত হিসেবে নাম উল্লেখ করা হয়েছে মতিবর ফকিরের।
পুলিশ ও পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি কিশোরীর শরীরে পরিবর্তন দেখা দিলে তাকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। পরীক্ষার ফলাফলে জানা যায়, তিনি প্রায় পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এরপর পরিবারের পক্ষ থেকে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করার চেষ্টা করেন। তারা একই সঙ্গে পরিবারকে আইনি পদক্ষেপ নিতে নিরুৎসাহিত করেন।
কিশোরীর মামা বলেন, "আমরা মূল অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। পাশাপাশি যারা ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে চেয়েছে এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় বাধা দিতে চেয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।"
ঢুষমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম আর সাঈদ বলেন, "ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে। ভুক্তভোগীর মেডিকেল রিপোর্ট পাওয়া গেছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) দীর্ঘকাল ধরে আবাসন ও অবকাঠামো সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের আবাসন, পুরোনো ভবনের সংস্কার, জনবল সংকট, নতুন একাডেমিক কার্যক্রম চালু, গবেষণা, ডিজিটাল সেবা এবং দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের বাস্তবায়ন—এই সব মিলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে রয়েছে একাধিক চ্যালেঞ্জ।
সম্প্রতি উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করা অধ্যাপক ড. মো. রইস উদ্দিন এসব সংকট ও সম্ভাবনাকে সামনে রেখে বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে হলে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারী—সব পক্ষকে একত্রে কাজ করতে হবে। তিনি নিজেকে ক্ষমতার চেয়ার হিসেবে নয়, বরং সেবা ও কাজ করার চেয়ার হিসেবে দেখছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতি, আবাসন ও অবকাঠামো সংকট, দ্বিতীয় ক্যাম্পাস, শিক্ষার্থীদের আবাসন ভাতা এবং সরকারের কাছে প্রত্যাশা—এসব বিষয়ে আরটিভির জবি সংবাদদাতা আবু বকর সম্পদের সঙ্গে একান্তে আলোচনা করেছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইস উদ্দিন।
আরটিভি: উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়কে কী অবস্থায় পেয়েছেন? আপনার সামনে প্রথম চ্যালেঞ্জ কী ছিল?
উপাচার্য: এর আগে আটজন ভাইস চ্যান্সেলর দায়িত্ব পালন করেছেন। তারা বিভিন্ন সুবিধা ও অসুবিধার মধ্য দিয়ে কাজ করেছেন। ভাইস চ্যান্সেলর হওয়ার পর আমি দেখেছি, শিক্ষার্থী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার প্রত্যাশিত অনেক বিষয়ই অপূর্ণ রয়েছে। আমি এই অবস্থাতেই দায়িত্ব নিয়েছি।
সেখান থেকে কাঙ্ক্ষিত জায়গায় পৌঁছানোর জন্য প্রয়োজনীয় কাজগুলো আমরা করছি। সমস্যাগুলো চিহ্নিত করছি এবং সেগুলোর সমাধান কী হতে পারে, তা নিয়ে সবাই মিলে চেষ্টা চালাচ্ছি। আমি মনে করি, এই বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে হলে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী—সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে কাজ করতে হবে। সবাইকে একত্রিত করে একটি সুন্দর বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য কাজ করার বিষয়ে আমি নিজে অনুপ্রাণিত হচ্ছি এবং সবাইকে উৎসাহিত করছি।
আরটিভি: বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে কোন বিষয়টিকে দেখছেন এবং ইতোমধ্যে কি কি পদক্ষেপ নিয়েছেন?
উপাচার্য: আমাদের প্রথম ও অন্যতম সমস্যা হলো আবাসন সমস্যা। শিক্ষার্থীদের আবাসন নেই বললেই চলে। শুধুমাত্র মেয়েদের জন্য একটি হল রয়েছে। এমনকি আমাদের ভাইস চ্যান্সেলরের জন্যও কোনো আবাসন নেই, কোনো শিক্ষকের আবাসন নেই, কর্মচারীদেরও থাকার জায়গা নেই। তাই এটি আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার।
সে অনুযায়ী, আমাদের যমুনা আন্দোলন হয়েছিল, সেখানে আমরা বিভিন্নভাবে সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। আমরা নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখে শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা এবং বাণী ভবন ও হাবিবুর রহমান দুইটি হলের কাজ আনতে পেরেছি। কিছুদিন আগে পুরাতন জেলখানার পাশে আমাদের একটি হল নির্মাণের জন্য বাজেট এসেছে, শীঘ্রই তার কাজ শুরু হবে। এছাড়াও আমাদের বিভিন্ন বিষয়ে ইউজিসি, পরিকল্পনা কমিশন এবং শিক্ষামন্ত্রীর কার্যালয়ের সঙ্গে মিটিং করেছি। আমরা চেষ্টা করছি, দেখা যাক সফলতা কতদূর পাওয়া যায়। চেষ্টা না করলে তো আর সফলতা আসবে না। তাই সবাইকে নিয়ে চেষ্টা করছি।
আরটিভি: বর্তমানে আবাসনের তীব্র সংকট নিয়ে আরও কী পরিকল্পনা রয়েছে?
উপাচার্য: আমাদের দুটি হল নির্মাণ ও একটির প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও আমরা আরও কিছু বিষয় প্রস্তাব করেছি। আশা করি সেগুলোও দ্রুত হবে। তবে না হওয়া পর্যন্ত বলাটা ঠিক হবে না। আমরা চেষ্টা করছি, দেখি কী করা যায়।
আরটিভি: বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরোনো অবকাঠামো নিয়েও নানা প্রশ্ন রয়েছে। সম্প্রতি গণিত বিভাগের ছাদ ধসের ঘটনাও ঘটেছে। অবকাঠামো সংকট নিরসনে কী কী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে?
উপাচার্য: বিশ্ববিদ্যালয়টি অনেক পুরোনো। কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়েছে। এখানে বিভিন্ন অবকাঠামো অনেক পুরোনো হয়ে গেছে। আমি দায়িত্ব নেওয়ার তিন-দশ দিনের মধ্যেই গণিত বিভাগের দুর্ঘটনাটি ঘটে। আমি সেখানে গিয়ে উপস্থিত হই এবং তাৎক্ষণিকভাবে বাজেটের বিষয়টি চিন্তা না করেই কাজ শুরু করি।
ইতোমধ্যে সেখানে মেরামতের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বুয়েটের বিশেষজ্ঞ এবং আমাদের সংশ্লিষ্টদের মতামত অনুযায়ী পুরোনো ভবনগুলোর জন্য ইউজিসিতে ইতোমধ্যে চিঠি দিয়েছি। সেখান থেকে কিছু বাজেটও পেয়েছি এবং মেরামতের কাজগুলো হচ্ছে।
আমাদের অবকাঠামোগুলোর অবস্থা খুবই নাজুক। আমরা শিক্ষামন্ত্রীর কাছে নতুন একটি ভবন নির্মাণের প্রস্তাবও দিয়েছি। অন্যান্য অবকাঠামো নিয়েও আমরা কাজ করছি। আশা করা যায়, মেরামতের কাজগুলো সম্পন্ন হলে কিছুটা টেকসই হবে।
আবার জায়গা যেহেতু আমাদের খুবই কম এবং পাশাপাশি দ্বিতীয় ক্যাম্পাসে বড় প্রকল্প আমাদের চলমান রয়েছে, তাই এই ক্যাম্পাসে নতুন করে প্রকল্প নিয়ে আবাসন অথবা বিল্ডিং করা একটু দুরূহ।
আরটিভি: গবেষণা ও আধুনিক ল্যাব তৈরির ক্ষেত্রে কী কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে?
উপাচার্য: আমাদের সেন্ট্রাল ল্যাব করার জন্য ২০২৩ সাল থেকে যে প্রকল্পটি প্রক্রিয়াধীন ছিল, আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা কমিশনে গিয়ে বিষয়টি উপস্থাপন করেছি। সেটি ইতোমধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে। আশা করি খুব দ্রুতই সেটার টেন্ডার হয়ে যাবে।
আমাদের একটি ইনোভেশন হাব হবে, সেটার টেন্ডারও আশা করছি আগামী সপ্তাহেই হবে ইনশাআল্লাহ।
গবেষণার ক্ষেত্রেও আমরা কাজ করছি। আমাদের মাস্টার্স থিসিস, এমফিল ও পিএইচডি শিক্ষার্থীদের আমরা প্রায় এক কোটি টাকার মতো সহায়তা দিতে পেরেছি। গবেষণাকে আরও ত্বরান্বিত করার জন্য ইতোমধ্যে ভাইস চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড, স্পেশাল রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড দিয়েছি।
আমাদের গবেষকদের, বিশেষত পিএইচডি গবেষকদের নিয়ে ইতোমধ্যে তিনটি ট্রেনিং সেশন সম্পন্ন করেছি। আগামী অর্থবছরে সেখানে ৬০টি পর্যন্ত উন্নীত করা যায় কি না, সেটাও নিয়ে আমরা কাজ করছি।
আরটিভি: নতুন বিভাগ ও বিষয় চালুর বিষয়ে কী কোনো পরিকল্পনা রয়েছে?
উপাচার্য: আগামী শিক্ষাবর্ষে ইনশাআল্লাহ আমরা ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদ চালু করতে পারি। পাশাপাশি ইন্টারন্যাশনাল রিলেশন চালু করার বিষয়েও কাজ করছি।
তৃতীয় ভাষার ব্যাপারেও আপনারা ইতোমধ্যে দেখেছেন, আমরা চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজের সার্কুলার দিয়েছি। এ বিষয়ে একটি মিটিং আছে। সেখানে ফ্রেঞ্চ, জাপানিজ, আরবি—আরও কী কী ভাষা চালু করা যায়, সেটি নিয়ে ইনশাআল্লাহ একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিয়ে আসতে পারব।
আরটিভি: শিক্ষার্থীদের জন্য প্রযুক্তিনির্ভর সেবা চালুর ক্ষেত্রে কী কী উদ্যোগ নেয়া হয়েছে?
উপাচার্য: এগুলো আমাদের বেসিক নিডস। এগুলো বাস্তবায়নে আমরা আমাদের টিম করেছি। ৭৫ জন কর্মকর্তাকে বিআইএএম থেকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়ে নিয়ে এসেছি। ইতোমধ্যে আমরা বিভিন্ন ডিজিটাল সেবা চালু করেছি এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে কাজগুলো করা হচ্ছে। আমাদের শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য রেজাল্ট শো অ্যাপ চালু করেছি। অনলাইনে সার্টিফিকেট, মার্কশিট এবং গ্রেডশিট—যেটাই আমরা বলি—শিক্ষার্থীরা যেন খুব নির্ভুলভাবে তুলতে পারে, তার জন্য ব্যবস্থা চালু করেছি।
আরটিভি: বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কী?
উপাচার্য: আমার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো আমাদের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের বাস্তবায়ন। সেটি নিয়ে আমরা প্রতিনিয়ত কাজ করছি। আমি ইতোমধ্যে পাঁচ-ছয়বার সেখানে ভিজিট করেছি। সংশ্লিষ্ট যারা এই কাজ করছেন, তাদের সঙ্গে সহযোগিতা করে কাজ করার চেষ্টা করছি। কাজ যেন কোনো প্রকার বাধাগ্রস্ত না হয়, তার জন্য আমরা সচেষ্ট হচ্ছি। অনেক ক্ষেত্রে আমরা সফল হচ্ছি, আবার অনেক ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত সফলতা পাওয়া যাচ্ছে না। তারও কিছু কারণ আছে। আমরা সেগুলোও ওভারকাম করার চেষ্টা করছি।
আরটিভি: বিশ্ববিদ্যালয়ের জনবল সংকটের পাশাপাশি অতীতে নিয়োগের বিষয়েও নানা জটিলতা রয়েছে। এ বিষয়ে কী বলবেন?
উপাচার্য: আমাদের এখানে ম্যানপাওয়ার সমস্যা আছে। আবার বিগত সময়ে মাস্টার রোলে যে পরিমাণ লোক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, অনেককে পদবি বা পদের বাইরে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই বিষয়টি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে চাপের মধ্যে ফেলেছে। এখন আমরা ইউজিসির সঙ্গে যোগাযোগ করে ইতোমধ্যে অল্প কিছু পদ নিয়ে আসতে পেরেছি। পদ নিয়ে আসাও সহজ নয়। পদ নিয়ে আসলে যারা আগে পদবির বাইরে আছে, তাদের পদাধিকার ও যোগ্যতার বিষয় সামনে চলে আসে। তাহলে আমার স্কিলড ম্যানপাওয়ার পাওয়ার বিষয়টিও সামনে আসে। সেটা নিয়েও আমরা কাজ করছি—কীভাবে সমন্বয় করে দেওয়া যায়।
আমাদের প্রমোশনের বেলায় ইউজিসির অভ্যন্তরীণ নীতিমালা আছে। সেখানে তিনটি বিষয়ে প্রমোশন পাওয়ার সুযোগ নেই। কিন্তু আমি এসে দেখলাম, আমাদের কিছু কর্মচারী ইতোমধ্যে ছয়টা প্রমোশন পেয়েছে এবং সপ্তম প্রমোশনের জন্য আবেদন করছে। তো এগুলো আসলে একটি জটিলতা। এটা কীভাবে সমন্বয় করে কাজ করা যায়, সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
এছাড়াও সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, আমাদের অর্গানোগ্রাম ২০২০ সালে শেষ হয়ে গিয়েছিল। এটা নিয়ে দীর্ঘদিন কেউ কাজ করেনি। আমরা ইতোমধ্যে অর্গানোগ্রাম তৈরি করে সিন্ডিকেটে অনুমোদন নিয়েছি। ইউজিসিতে মিটিং করে সেটাও মোটামুটি ফাইনাল হয়েছে।
আরটিভি: শিক্ষার্থীদের আবাসন ভাতার দ্বিতীয় কিস্তি পাওয়ার সম্ভাবনা কতটা?
উপাচার্য: বাংলাদেশে ৫৭ টি বিশ্ববিদ্যালয় আছে। কোনো বিশ্ববিদ্যালয়েই ১০০ শতাংশ শিক্ষার্থীকে আবাসন দেওয়া হয় না। আবাসন বিশ্ববিদ্যালয় বলতে একমাত্র জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, তবে তাও ১০০ শতাংশ না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয়। কিন্তু সেটারও তো শতভাগ শিক্ষার্থী আবাসিক না। এটা কোনোদিন হয়তো এভাবে পূরণ করাও সম্ভব না।
আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ২১ বছরের যেটুকু আবাসন সুবিধা পাওয়ার কথা, আমরা তো সেটুকুও পাইনি। এজন্য জুলাইয়ের পর আমাদের একটি যমুনা আন্দোলন হয়েছিল, তার একটা যৌক্তিকতাও ছিল। ওই সময়কার সরকার (ইন্টেরিম সরকার) আমাদের একটি কমিটমেন্ট দিয়েছিল। কিন্তু রূঢ় বাস্তবতা হলো, সেটা আমরা পাইনি।
আমি এসে বর্তমান সরকারের সাথে যোগাযোগ করে প্রথম কিস্তি থেকে কিছু টাকা নিয়ে আসতে পেরেছি। দ্বিতীয় কিস্তির টাকার ব্যাপারেও আমি যোগাযোগ বজায় রেখেছি। আশা করি যে গণতান্ত্রিক সরকার আছে, তারা আমাদের শিক্ষার্থীদের এই অসুবিধাটুকু দূর করার জন্য রেসপন্স করবে। আমার তরফ থেকে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। তবে কবে টাকা নিয়ে আসা হবে, সেটা বলা একটু ডিফিকাল্ট। চেষ্টা করতে হবে এবং চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
আরটিভি: বর্তমান ক্যাম্পাস এবং দ্বিতীয় ক্যাম্পাস নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
উপাচার্য: পুরান ঢাকার বর্তমান ক্যাম্পাস আমাদের ঐতিহ্যের একটি অংশ। আমরা আশা করি আমাদের এই ক্যাম্পাস থাকবে, পাশাপাশি আমাদের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসও হবে। এটি একটি হেরিটেজের অংশ। দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের পাশাপাশি এই ক্যাম্পাসকেও সৌন্দর্যবর্ধনের মাধ্যমে আরও সুন্দরভাবে গড়ে রাখা হবে। আর দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের বিষয়ে আমাদের চিন্তা এটি বিশ্বমানের একটি ক্যাম্পাস হবে, যেখানে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা থাকবে, যেখানে আমাদের শিক্ষার্থীরা স্বাচ্ছন্দ্যে বিচরণ করতে পারবেন এবং তাদের আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত হবে। সেই ভাবে আমরা পিপিপি অবকাঠামোতে যে কাজগুলো আছে, সেগুলো বাস্তবায়নে কাজ করছি।
আরটিভি: উপাচার্য হিসেবে নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাকে কীভাবে দেখছেন?
উপাচার্য: আমার কাছে উপাচার্যের চেয়ার ক্ষমতার কোনো বিষয় নয়। এটা সেবা প্রদানের একটা চেয়ার, কাজ করার চেয়ার। ইনশাআল্লাহ আমি যে কয়দিন সুস্থ থাকি এবং যে কয়দিন আমি এই চেয়ারে আছি, আমি কাজ করার চেষ্টা করব। আমার বিশাল কোনো পরিকল্পনা নেই। আমি আমার শিক্ষার্থীদের জন্য যদি কিছু করতে পারি, সেটাই আমার জন্য সবচেয়ে বড় সাফল্য।
আরটিভি: সবশেষে সরকারের কাছে আপনার প্রত্যাশা কী?
উপাচার্য: সরকারের কাছে আমাদের প্রত্যাশা তো থাকবেই। কারণ এখানেই তো আমরা অর্থ খুঁজে পাব। সরকারের কাছে আমাদের প্রত্যাশা বা চাওয়া অনেক। আমরা এখানে প্রধানমন্ত্রীর আবেগটাকেও কাজে লাগাতে চাই। তার মা বেগম খালেদা জিয়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছেন। আমরা চাই দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের দৃশ্যমান সমাপ্তি। সেটি নিয়ে আমরা কাজ করছি। আশা করি দ্রুত এটা বাস্তবায়ন হবে। এক্ষেত্রে সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সহযোগিতা কামনা করছি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের কলেজ ক্রীড়াঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে। কলেজ ক্রীড়ার জন্য নতুন নিয়ম প্রণয়নের উদ্দেশ্যে আনা ‘প্রটেক্ট কলেজ স্পোর্টস অ্যাক্ট’ নামক দ্বিদলীয় বিলটি দেশটির সিনেটে পাস হয়েছে। ২৮ সেপ্টেম্বর ৭৭-২২ ভোটের মাধ্যমে বিলটি পাস হয়। বর্তমানে এটি প্রতিনিধি পরিষদে পাঠানো হবে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য ইউএসএ টুডের এ বিষয়টি তুলে ধরেছে।
বিলটির অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা রিপাবলিকান সিনেটর টেড ক্রুজ। ডেমোক্র্যাট সিনেটর মারিয়া ক্যান্টওয়েলও এই বিলের অন্যতম প্রধান রচয়িতা। ক্রুজের মতে, কলেজ ক্রীড়ায় বিদ্যমান বিশৃঙ্খলা নতুন আইন দ্বারা শৃঙ্খলিত হতে পারে।
তবে, বিলটি নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। নাগরিক অধিকার ও শ্রমিক সংগঠনের কিছু নেতাও এর বিরোধিতা করেছেন। তাদের উদ্বেগ, নতুন নিয়ম শিক্ষার্থী খেলোয়াড়দের অধিকার এবং দর-কষাকষির ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে।
খেলোয়াড়দের আয় ও দলবদলে নতুন সীমা
বর্তমানে কলেজ পর্যায়ের খেলোয়াড়রা নিজেদের নাম, ছবি ও পরিচিতি ব্যবহার করে আয় করতে সক্ষম। নতুন বিলেও এই অধিকারকে ফেডারেল আইনে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
তবে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে খেলোয়াড়দের দেওয়া অর্থের ওপর সীমা নির্ধারণ করা হবে। বিল অনুযায়ী, খেলোয়াড়দের আয় ভাগাভাগির পরিমাণ বছরে প্রায় ৪ কোটি ৩০ লাখ থেকে ৪ কোটি ৫০ লাখ ডলারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। নারী ও অলাভজনক অলিম্পিক ক্রীড়াগুলোর জন্য অতিরিক্ত ৫০ লাখ ডলার ব্যয়ের সুযোগ রাখা হয়েছে।
এছাড়া, খেলোয়াড়দের বারবার দলবদলের ক্ষেত্রে নতুন সীমা আরোপ করা হবে। কলেজগুলোর ক্রীড়া সম্মেলন বা দলগত কাঠামো পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও সাময়িক বিধিনিষেধ থাকবে।
এক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ফুটবল বা বাস্কেটবলের কোচ নিয়োগের ক্ষেত্রেও কিছু নিয়ম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
বিরোধীদের আপত্তি কোথায়
বিলটির বিরোধিতাকারীদের মধ্যে ডেমোক্র্যাট সিনেটর কোরি বুকার এবং ক্রিস মারফি রয়েছেন। তাদের বক্তব্য, বিলটি শিক্ষার্থী খেলোয়াড়দের দেওয়া অর্থের ওপর সীমা তৈরি করলেও কোচদের কোটি কোটি ডলারের বেতন ও চুক্তির ক্ষতিপূরণ নিয়ে কিছু করছে না।
তারা আরও উল্লেখ করেছেন, খেলোয়াড়দের সম্মিলিতভাবে দর-কষাকষির অধিকার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মী হিসেবে তাদের স্বীকৃতির বিষয়ও বিলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
সিনেটের ভোটের আগে কোরি বুকার বলেন, এই আইন তরুণ খেলোয়াড়দের অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তিনি বিলটির বিরুদ্ধে নিজের হতাশা প্রকাশ করেছেন।
অন্যদিকে, বিলটির সমর্থকরা মনে করেন, কলেজ ক্রীড়ায় দীর্ঘদিন ধরে চলমান আইনি জটিলতা, খেলোয়াড়দের ঘন ঘন দলবদল এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আর্থিক বৈষম্য কমাতে জাতীয় পর্যায়ে অভিন্ন নিয়ম প্রয়োজন।
খেলোয়াড়দের চিকিৎসা সুরক্ষাতেও পরিবর্তন
সিনেটে চূড়ান্ত অনুমোদনের পূর্বে বিলে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো আইন মেনে চলছে কি না, তা পর্যবেক্ষণে জাতীয় কলেজ ক্রীড়া সংস্থার তদারকির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
এছাড়া, খেলোয়াড়দের চিকিৎসা ব্যয়ের জন্য ন্যূনতম সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিধান যুক্ত করা হয়েছে। পূর্বের খসড়ায় প্রতিষ্ঠানের আর্থিক দায়ের সীমা নির্ধারণের যে ভাষা ছিল, সংশোধিত বিলে সেটি বাদ দেওয়া হয়েছে।
অতিরিক্ত অর্থ ভাগাভাগির সুযোগ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার অগ্রগতির সঙ্গেও যুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ স্নাতক সম্পন্ন করার হার ও শিক্ষাগত অগ্রগতির মতো বিষয় বিবেচনায় রেখে কিছু অর্থ ধরে রাখার ব্যবস্থা থাকবে।
সম্মেলন পরিবর্তনে তিন বছরের বিধিনিষেধ
বিলের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো কলেজগুলোর ক্রীড়া সম্মেলন পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধের মেয়াদ কমানো। পূর্বে পাঁচ বছরের যে সীমা ছিল, তা কমিয়ে তিন বছর করা হয়েছে।
এর উদ্দেশ্য হলো ভবিষ্যতে বড় ক্রীড়া সম্মেলনগুলোর পরিবর্তনের কারণে অপেক্ষাকৃত ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে পিছিয়ে না পড়ে, তা নিশ্চিত করা।
এবার কী হবে?
সিনেটে পাস হওয়ার পর বিলটি এখন প্রতিনিধি পরিষদে যাবে। সেখানে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে তা প্রেসিডেন্টের কাছে পাঠানো হবে।
তবে প্রতিনিধি পরিষদ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে অধিবেশনে ফিরবে না। ফলে বিলটির পরবর্তী অগ্রগতি নির্বাচনের পর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিলটি সিনেটের বাণিজ্য কমিটিতে প্রথম ১৮ জুন ১৯-৯ ভোটে অনুমোদন পায়। এরপর এটি পূর্ণ সিনেটে আসে। সেপ্টেম্বরে বিভিন্ন সংশোধনী যুক্ত হওয়ার পর ২৮ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত ভোটে ৭৭-২২ ব্যবধানে পাস হয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া অঙ্গরাজ্যে ১৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ইস্পাত কারখানা নির্মাণের পরিকল্পনার ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মিনেসোটা-ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান মেসাবি মেটালিকস আগামী কয়েক বছরে এই কারখানা নির্মাণের কাজ শুরু করবে। ২০৩০ সালের মধ্যে কারখানাটির উৎপাদন শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরেছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প এবং মেসাবি মেটালিকসের কর্মকর্তারা এই প্রকল্পের ঘোষণা দেন। ট্রাম্প মন্তব্য করেন, "আইওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ইস্পাত কারখানা তৈরি হতে যাচ্ছে।"
কারখানাটি চালু হলে বছরে ৭৫ লাখ টন বা তার বেশি ইস্পাত উৎপাদনের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এতে আইওয়ায় প্রায় ১ হাজার ৭৫০টি স্থায়ী কর্মসংস্থান তৈরি হবে বলে হোয়াইট হাউস জানায়।
মেসাবি মেটালিকস এখনও নিশ্চিত করেনি যে, আইওয়ার কোন এলাকায় কারখানাটি নির্মাণ করা হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট জানিয়েছেন, এটি অঙ্গরাজ্যটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে নির্মিত হবে।
হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ১৯৬০-এর দশকের পর যুক্তরাষ্ট্রে নির্মিত এটিই প্রথম এত বড় ইস্পাত কারখানা হতে পারে। ভবিষ্যতে দেশটির প্রতিরক্ষা খাতের বিভিন্ন প্রকল্পে এই কারখানার উৎপাদিত ইস্পাত ব্যবহার হতে পারে।
কারখানাটির জন্য প্রয়োজনীয় লৌহ আকরিক মিনেসোটা থেকে আসবে। মেসাবি মেটালিকস সেখানে ২৫০ কোটি ডলার ব্যয়ে নতুন একটি লৌহ আকরিক খনি ও প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রকল্প স্থাপন করছে।
যদিও কারখানাটি আইওয়ায় নির্মাণ করা হচ্ছে, লৌহ আকরিকের উৎস মিনেসোটায় হওয়ায় প্রকল্পটি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে—কেন খনির কাছাকাছি মিনেসোটায় না করে আইওয়ায় কারখানা নির্মাণ করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লাটনিক জানিয়েছেন, ইস্পাত কারখানাটি সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থ সহায়তা পাবে না। তবে সরকারের রপ্তানি-আমদানি ব্যাংক মেসাবি মেটালিকসের মিনেসোটার লৌহ আকরিক প্রকল্পে অর্থায়ন করেছে।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ মেসাবি মেটালিকসের লৌহ আকরিক প্রকল্পের জন্য ৭৭ কোটি ডলারের সরাসরি ঋণ অনুমোদন করে। এর আগে প্রকল্পটিতে সর্বোচ্চ ১০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত সহায়তার বিষয়টি বিবেচনা করা হয়েছিল।
আইওয়া অঙ্গরাজ্য থেকেও কর ছাড় দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ জন্য রাজ্যের আইনপ্রণেতাদের বিশেষ অধিবেশনে ফিরতে হতে পারে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
মেসাবি মেটালিকসের মালিক ভারতের প্রতিষ্ঠান এসার গ্রুপ। প্রতিষ্ঠানটির মিনেসোটা প্রকল্পের ইতিহাস অবশ্য বেশ জটিল।
২০০৮ সালে এসার গ্রুপের এসার স্টিল মিনেসোটা এলএলসি সেখানে বড় একটি লৌহ আকরিক খনি ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র নির্মাণ শুরু করে। দীর্ঘদিনের বিলম্ব, নির্ধারিত সময়সীমা পূরণে ব্যর্থতা ও আর্থিক সংকটের পর ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠানটি দেউলিয়া হওয়ার আবেদন করে।
পরবর্তী সময়ে প্রতিষ্ঠানটি অন্য মালিকানায় যায়। তবে ২০১৯ সাল থেকে এসার গ্রুপ আবার এর নিয়ন্ত্রণ নেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ইস্পাত শিল্প বাড়ানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে দেশের অভ্যন্তরীণ ইস্পাত উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের। বিদেশি ইস্পাতের সঙ্গে প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
২০২৫ সালে ট্রাম্প আমদানি করা ইস্পাতের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করেন। একই সঙ্গে জাপানের নিপ্পন স্টিলকে যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস স্টিল কেনার অনুমোদনও দেন।
এদিকে আইওয়ায় নতুন এই প্রকল্পের ঘোষণা এমন সময়ে এসেছে, যখন নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে অঙ্গরাজ্যটির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ