প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
আজ ২৯ সেপ্টেম্বর, বিশ্ব হার্ট দিবস। প্রতি বছর এই দিনে হৃদরোগ এবং রক্তনালির রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করার জন্য বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। ২০২৬ সালের বিশ্ব হার্ট দিবসে হৃদরোগের কিছু লক্ষণ এবং ঝুঁকির দিক তুলে ধরা হচ্ছে, যেগুলো প্রায়ই মানুষের দৃষ্টির অগোচরে থেকে যায়।
এ বছরের প্রচারের মূল বার্তা হলো ‘একটি হৃদস্পন্দনও উপেক্ষা করবেন না’। বিশ্ব হার্ট ফেডারেশনের উদ্যোগে পরিচালিত এই প্রচারে হৃদরোগের লক্ষণ দ্রুত চিহ্নিত করা, হৃদযন্ত্রের যত্ন নেওয়া এবং হৃদরোগ প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
নীরব থাকতে পারে হৃদরোগ
বিশ্ব হার্ট ফেডারেশনের তথ্য অনুযায়ী, হৃদরোগের অনেক লক্ষণ সব সময় স্পষ্টভাবে দেখা যায় না। আবার উচ্চ রক্তচাপের মতো কিছু ঝুঁকি দীর্ঘ সময় ধরে কোনো উপসর্গ ছাড়াই থাকতে পারে। তাই অসুস্থ বোধ করার আগে থেকেই নিজের হৃদ্স্বাস্থ্যের দিকে নজর দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, ২০২২ সালে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১ কোটি ৯৮ লাখ মানুষ হৃদরোগ এবং রক্তনালির রোগে মারা যান, যা ওই বছরের মোট মৃত্যুর প্রায় ৩২ শতাংশ। এসব মৃত্যুর ৮৫ শতাংশের জন্য দায়ী ছিল হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়া এবং স্ট্রোক।
কীভাবে হৃদযন্ত্রের যত্ন নেবেন
হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেমন—
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, তামাক সেবন এবং অতিরিক্ত মদ্যপানসহ বিভিন্ন আচরণগত ঝুঁকি হৃদরোগের সম্ভাবনা বাড়ায়। এসব ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে আনা গেলে হৃদরোগের ঝুঁকিও কমানো সম্ভব।
প্রতিদিন একটু বেশি নড়াচড়া
বিশ্ব হার্ট ফেডারেশনের এবারের কর্মসূচিতে নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রমের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সেপ্টেম্বরজুড়ে প্রতিদিন অন্তত ২০ মিনিট হাঁটা, দৌড়ানো, সাইকেল চালানো, খেলাধুলা বা অন্য কোনো শারীরিক কার্যকলাপে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
তবে দীর্ঘ সময় ধরে শারীরিকভাবে নিষ্ক্রিয় থাকলে হঠাৎ করে কঠোর ব্যায়াম শুরু না করে ধীরে ধীরে অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দেওয়া হয়।
কোন লক্ষণে দ্রুত চিকিৎসা নেবেন
তীব্র বা দীর্ঘস্থায়ী বুকব্যথা, শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত ঘাম, বমি বমি ভাব, মাথা ঘোরা অথবা হাত, কাঁধ, পিঠ, ঘাড় বা চোয়ালে ব্যথা ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণ করা জরুরি।
কারণ হৃদরোগের ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা পাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আবার সবার ক্ষেত্রে লক্ষণ একই রকম নাও হতে পারে।
হৃদরোগ প্রতিরোধে সচেতনতার আহ্বান
বিশ্ব হার্ট ফেডারেশন জানাচ্ছে, হৃদরোগ এবং রক্তনালির রোগ বিশ্বে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হলেও এর অনেক ঝুঁকি প্রতিরোধ বা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তাই এবারের বিশ্ব হার্ট দিবসে মানুষের প্রতি নিজের হৃদস্বাস্থ্যের লক্ষণ এবং ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিশ্ব হার্ট দিবসের বার্তা শুধুমাত্র এক দিনের জন্য নয়—প্রতিদিনের খাদ্য, শারীরিক পরিশ্রম, ঘুম, তামাক থেকে দূরে থাকা এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা—এসব অভ্যাসের মাধ্যমে হৃদযন্ত্রের যত্ন নেওয়া সম্ভব।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন