মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৫:৪৮ পি.এম
মোবাইল ফোন বর্তমানে দৈনন্দিন জীবনের একটি অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে। যোগাযোগ, কাজ এবং বিনোদনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এর ব্যবহার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক পুরুষ প্যান্টের সামনের পকেটে মোবাইল ফোন রাখেন। কিন্তু এই অভ্যাস শুক্রাণুর গুণমান ও পুরুষের প্রজননক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে কি না, সে বিষয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে।
গবেষণায় মোবাইল ফোনের বেতার তরঙ্গ ও তাপের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হলেও, বিজ্ঞানীরা এখনো নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি। বিশেষ করে পকেটে ফোন রাখার ফলে শুক্রাণুর ক্ষতি হয় বা বন্ধ্যত্ব দেখা দেয়, এমন নির্ভরযোগ্য প্রমাণ এখনও সীমিত।
মোবাইল ফোনের বেতার তরঙ্গ নিয়ে গবেষণায় কী তথ্য পাওয়া গেছে?
মোবাইল ফোন থেকে নির্গত রেডিওফ্রিকোয়েন্সি বা বেতার তরঙ্গ হলো এক ধরনের নন-আয়োনাইজিং রেডিয়েশন। এক্স-রের মতো আয়োনাইজিং রেডিয়েশনের তুলনায় এর শক্তি অনেক কম। তবে দীর্ঘ সময় এই তরঙ্গের সংস্পর্শে থাকলে শুক্রাণুর সংখ্যা, গঠন ও চলাচলের ক্ষমতায় কোনো পরিবর্তন ঘটে কি না, তা নিয়ে গবেষণা অব্যাহত রয়েছে।
২০২১ সালে প্রকাশিত একটি পদ্ধতিগত পর্যালোচনা ও মেটা-বিশ্লেষণে ৩৯টি গবেষণার ফলাফল পর্যালোচনা করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, পরীক্ষাগারে শুক্রাণু এবং প্রাণীর ওপর পরিচালিত কিছু পরীক্ষায় সম্ভাব্য প্রভাবের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। কিন্তু মানুষের ওপর পরিচালিত গবেষণার ফলাফল থেকে মোবাইল ফোন ব্যবহারের সঙ্গে শুক্রাণুর গুণমান কমে যাওয়ার সুস্পষ্ট সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
২০২৪ সালে প্রকাশিত আরেকটি পদ্ধতিগত পর্যালোচনাতে মোবাইল ফোনের বেতার তরঙ্গের সংস্পর্শ এবং পুরুষের প্রজননস্বাস্থ্যের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে অনিশ্চয়তার বিষয়টি উঠে এসেছে।
প্যান্টের সামনের পকেটে ফোন রাখলে কি ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়?
প্যান্টের সামনের পকেটে মোবাইল ফোন রাখলে এটি অণ্ডকোষের কাছাকাছি অবস্থান করে। এর ফলে ফোন থেকে নির্গত বেতার তরঙ্গ ও উৎপন্ন তাপ শুক্রাণুর ওপর প্রভাব ফেলতে পারে কি না, তা নিয়ে গবেষকদের আগ্রহ রয়েছে।
তবে শুধুমাত্র পকেটে ফোন রাখার কারণে শুক্রাণুর ক্ষতি হয়, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। সম্ভাব্য প্রভাব নির্ভর করতে পারে ফোনের নির্গত শক্তি, ব্যবহারের ধরন, সংস্পর্শের মাত্রা ও অন্যান্য শারীরিক অবস্থার ওপর।
গবেষণায় সামনের পকেটে ফোন বহনের সঙ্গে শুক্রাণুর ঘনত্ব, মোট সংখ্যা, গঠন ও চলাচলের ক্ষমতার সম্পর্কের বিষয়ে প্রমাণ এখনও অনিশ্চিত। তাই পকেটে ফোন রাখাকে সরাসরি পুরুষের বন্ধ্যত্বের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা সঠিক হবে না।
ফোনের তাপ কি শুক্রাণুর ক্ষতি করতে পারে?
শুক্রাণু উৎপাদনের জন্য অণ্ডকোষের তাপমাত্রা শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রার তুলনায় কিছুটা কম থাকা প্রয়োজন। দীর্ঘ সময় অতিরিক্ত তাপের সংস্পর্শে থাকলে শুক্রাণু উৎপাদন ও গুণমান প্রভাবিত হতে পারে।
কিন্তু মোবাইল ফোন পকেটে রাখার ফলে অণ্ডকোষের তাপমাত্রা এতটা বেড়ে যায় যে শুক্রাণুর ক্ষতি হয়—এমন সিদ্ধান্তের পক্ষে পর্যাপ্ত নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই।
ফোন অতিরিক্ত গরম হয়ে গেলে সেটিকে শরীরের সঙ্গে চেপে না রেখে ঠান্ডা হতে দেওয়া উচিত। তবে ফোন থেকে তাপ তৈরি হওয়া এবং সেই তাপের কারণে প্রজননস্বাস্থ্যে বাস্তব ক্ষতি হওয়া এক বিষয় নয়।
শুক্রাণুর গুণমান কমে যাওয়ার অন্যান্য কারণ
শুক্রাণুর সংখ্যা কমে যাওয়া, চলাচলের ক্ষমতা দুর্বল হওয়া কিংবা গঠনে অস্বাভাবিকতা থাকলে স্বাভাবিকভাবে গর্ভধারণের সম্ভাবনা কমে যেতে পারে। তবে বীর্য পরীক্ষায় কোনো একটি সূচকের ফল অস্বাভাবিক হলেই একজন পুরুষকে বন্ধ্যত্বে আক্রান্ত বলা যায় না।
পুরুষের প্রজননক্ষমতায় বিভিন্ন বিষয় প্রভাব ফেলতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে—ধূমপান ও তামাকজাত পণ্যের ব্যবহার, স্থূলতা ও কিছু বিপাকীয় সমস্যা, নির্দিষ্ট সংক্রমণ ও হরমোনজনিত সমস্যা।
কিছু ওষুধের ব্যবহার
অণ্ডকোষের নির্দিষ্ট রোগ ও অতিরিক্ত তাপের সংস্পর্শ। এ ছাড়া বয়স, পারিবারিক ইতিহাস ও জীবনযাপনের অন্যান্য অভ্যাসও প্রজননস্বাস্থ্যে ভূমিকা রাখতে পারে।
শুক্রাণুর স্বাস্থ্য ভালো রাখতে করণীয়
মোবাইল ফোনের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে গবেষণা চললেও প্রজননস্বাস্থ্য ভালো রাখতে কিছু অভ্যাস অনুসরণ করা যেতে পারে। দীর্ঘ সময় ফোন পকেটে রাখার প্রয়োজন না হলে ব্যাগে বা শরীর থেকে কিছুটা দূরে রাখা যেতে পারে। তবে এতে শুক্রাণুর গুণমান বাড়ে বা বন্ধ্যত্ব প্রতিরোধ হয়, এমন নিশ্চিত প্রমাণ নেই।
এছাড়া ধূমপান এড়িয়ে চলা, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা, সুষম খাবার খাওয়া, নিয়মিত শরীরচর্চা ও পর্যাপ্ত ঘুমের অভ্যাস গড়ে তোলা গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া শুক্রাণুর সংখ্যা বা গুণমান বাড়ানোর দাবিতে বাজারে বিক্রি হওয়া সাপ্লিমেন্ট ব্যবহার না করাই ভালো।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
নিয়মিত অসুরক্ষিত যৌনসম্পর্কের পরও এক বছর গর্ভধারণ না হলে দম্পতির উভয়েরই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। নারীর বয়স ৩৫ বছর বা তার বেশি হলে সাধারণত ছয় মাস চেষ্টা করার পর প্রজননস্বাস্থ্য মূল্যায়নের পরামর্শ দেওয়া হয়। আগে থেকেই প্রজননস্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যা জানা থাকলে আরও আগেই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন হতে পারে।
পুরুষের ক্ষেত্রে বীর্য পরীক্ষা বা সিমেন অ্যানালাইসিসের মাধ্যমে শুক্রাণুর সংখ্যা, চলাচলের ক্ষমতা ও গঠন সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক অন্যান্য পরীক্ষার পরামর্শ দিতে পারেন।
শুধু পকেটে মোবাইল ফোন রাখার কারণে বীর্য পরীক্ষা করানো বাধ্যতামূলক নয়। তবে সন্তান ধারণে সমস্যা হলে বা প্রজননস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
যা জানা জরুরি
প্যান্টের সামনের পকেটে মোবাইল ফোন রাখলে শুক্রাণুর ক্ষতি হয় কি না, সে বিষয়ে বিজ্ঞান এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি। কিছু গবেষণায় সম্ভাব্য প্রভাবের ইঙ্গিত মিললেও মানুষের ওপর পরিচালিত গবেষণার ফলাফল একরকম নয়। ফোনের অবস্থানের সঙ্গে পুরুষের প্রজননক্ষমতার সরাসরি সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার মতো নির্ভরযোগ্য প্রমাণও সীমিত।
সুতরাং এ নিয়ে অযথা আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। চাইলে সতর্কতামূলকভাবে ফোন শরীর থেকে কিছুটা দূরে রাখতে পারেন। তবে প্রজননস্বাস্থ্য ভালো রাখতে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) পরিবারের যাকাত ও কল্যাণ তহবিলের উদ্যোগে ৫৬ জন শিক্ষার্থীকে বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে, যা আর্থিক সংকটে থাকা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা অব্যাহত রাখতে সহায়ক হবে। এ বৃত্তি কার্যক্রম নবমবারের মতো আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তার জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান ভবন-২-এর নিচতলায় সমাজকর্ম বিভাগের ১০১ নম্বর শ্রেণিকক্ষে বৃত্তি বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এই অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের হাতে বৃত্তির বরাদ্দপত্র তুলে দেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, "এ উদ্যোগের তাৎপর্য কেবল আর্থিক সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে শিক্ষার্থীদের প্রতি আন্তরিকতা ও সহমর্মিতা।" তিনি আরও জানান, বৃত্তির অর্থের পরিমাণ তুলনামূলক কম হলেও শিক্ষার্থীদের জীবনে এর গুরুত্ব অনেক বেশি।
তিনি বলেন, "বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা প্রত্যেকেই জীবনসংগ্রামী। প্রতিকূলতার সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে যারা সফলতা অর্জন করতে পারে, তারাই ভবিষ্যতে দেশ ও জাতির কল্যাণে ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।" এ কারণে তিনি শিক্ষার্থীদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
তহবিল সূত্রে জানা গেছে, দুই ক্যাটাগরিতে মোট ৫৬ শিক্ষার্থীকে এ বৃত্তির আওতায় আনা হয়েছে। ‘এ’ ক্যাটাগরিতে ১৪ জন শিক্ষার্থী দুই কিস্তিতে তিন হাজার টাকা করে মোট ছয় হাজার টাকা এবং ‘বি’ ক্যাটাগরিতে ৪২ জন শিক্ষার্থী দুই কিস্তিতে দুই হাজার টাকা করে মোট চার হাজার টাকা পাবেন। অনুষ্ঠানে বৃত্তিপ্রাপ্ত তিন শিক্ষার্থী তাদের অনুভূতি তুলে ধরেন এবং এ উদ্যোগের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
যাকাত ও কল্যাণ তহবিলের সভাপতি এবং সমাজকর্ম বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোস্তফা হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. শাওলী মাহবুব। বৃত্তিপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করেন তহবিলের সদস্য সচিব ও রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আবদুল আউয়াল।
এ সময় তহবিলের কমিটির সদস্য পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আশরাফ-উল-আলম এবং উপপরিচালক (ফান্ড ও বাজেট) খন্দকার হাবিবুর রহমান বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সমাজকর্ম বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মামুনুর রশীদ শেখ।
সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, তহবিলের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত হলে ভবিষ্যতে অধিকসংখ্যক শিক্ষার্থীকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে আর্থিক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা অব্যাহত রাখার সুযোগ তৈরি হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে লাইভ সম্প্রচারের সময় রিপোর্টারের ব্যাগ চুরি করার চেষ্টা করছিলেন এক ব্যক্তি। সঙ্গে সঙ্গে ওই রিপোর্টার ব্যাগটি উদ্ধার করেন।
শনিবার (১০ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালের সামনে জেলার ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে লাইভ চলাকালীন চ্যানেল ওয়ানের গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি সঞ্জয় বিশ্বাসের সঙ্গে এই ঘটনা ঘটে।
পরে সাংবাদিক সঞ্জয় ওই ঘটনার ভিডিওটি নিজের ফেসবুকে আপলোড করেন, যা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়।
ভিডিওতে দেখা যায়, বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ওয়ানে লাইভ সংবাদ প্রচারিত হচ্ছে। উপস্থাপক যখন রিপোর্টারকে প্রশ্ন করেন, তখন রিপোর্টার তথ্য উপস্থাপন শুরু করেন। কিছু সেকেন্ডের মধ্যে পাশের স্থানে রাখা রিপোর্টারের ব্যাগ নিয়ে একজন ব্যক্তি চলে যাচ্ছেন। তখন লাইভ সম্প্রচার বন্ধ করে রিপোর্টার ওই ব্যক্তিকে বলেন, “এ ভাই আমার ব্যাগ নিয়ে যাচ্ছেন কেন?” এবং তিনি ব্যাগটি ওই ব্যক্তির হাত থেকে একটানে উদ্ধার করে নিজের পাশে রেখে আবারও লাইভ শুরু করেন।
জানা গেছে, শনিবার গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালের সামনে চ্যানেল ওয়ানের বেলা ১১টার সংবাদে লাইভ দিচ্ছিলেন সঞ্জয় বিশ্বাস। এমন সময় এক ব্যক্তি তার ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। রিপোর্টার লাইভ থামিয়ে ওই ব্যক্তির কাছ থেকে ব্যাগটি উদ্ধার করেন।
এ বিষয়ে সাংবাদিক সঞ্জয় বিশ্বাস মন্তব্য করেন, "আমার টেলিভিশনে লাইভ চলাকালে আমার ব্যাগ নিয়ে এক ব্যক্তি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরে আমি তার কাছ থেকে ব্যাগটি কেড়ে রেখে দিই। এ ঘটনায় আমি কোথাও কোনো অভিযোগ করিনি।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
খুলনার রূপসা উপজেলায় সংঘটিত ফখরুল ইসলাম হত্যা মামলার আসামি আব্দুর রহমান (৩০) চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের এসআরবি-৬ খুলনা ও এসআরবি-৭ চট্টগ্রাম।
গ্রেপ্তারটি হয় সোমবার (১২ অক্টোবর) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে।
আব্দুর রহমান, যিনি রূপসা উপজেলার ইলাইপুর গ্রামের আব্দুর রউফ শেখের পুত্র।
এসআরবি-৬ খুলনার মিডিয়া সেলের একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ১২ আগস্ট রাতে রূপসা থানাধীন ‘মেসার্স রূপসা ব্রিকস’ নামক প্রতিষ্ঠানের অফিসে ফখরুল ইসলাম (৩২) অবস্থান করছিলেন। এ সময় অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা তাকে এলোপাতাড়ি গুলি করে গুরুতর আহত করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে রূপসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনার পর নিহতের ভাই ফরহাদ হোসেন বাদী হয়ে রূপসা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এরপর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এসআরবির যৌথ দল চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার অন্যতম আসামিকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এসআরবি জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ছোট পর্দার অভিনেত্রী প্রিয়ন্তী উর্বী নাটকের শুটিং করতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। একটি দৃশ্যের শুটিং করার সময়, হাসপাতালের বেডে শুয়ে থাকা অবস্থায় চিত্রগ্রাহক (ডিওপি) ক্যামেরাসহ তার মুখের ওপর পড়ে যান। এই ঘটনায় অভিনেত্রীর নাকে গুরুতর আঘাত আসে। পরে, তাকে হাসপাতালে নিয়ে এক্স-রে করানোর পাশাপাশি প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়।
প্রিয়ন্তী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের দুর্ঘটনার অভিজ্ঞতা শেয়ার করে জানিয়েছেন, এই ঘটনা তার জন্য ছিল অত্যন্ত ভীতিকর ও যন্ত্রণাদায়ক। তবে, তিনি শুটিংয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কারও প্রতি অভিযোগ করেননি।
অভিনেত্রী দুর্ঘটনার বিবরণে জানান, নাটকের একটি দৃশ্যে তাকে হাসপাতালের বেডে শুয়ে থাকতে হয়েছিল। এ সময় বেডটি টেনে একটি কক্ষে নেওয়া হচ্ছিল। দৃশ্যটির ক্লোজ শট নেওয়ার জন্য চিত্রগ্রাহক বেডের ওপর উঠে তার মুখের সামনে ক্যামেরা সেট করছিলেন। হঠাৎ, বেডটি ঝাঁকি খেলে ভারসাম্য হারিয়ে ক্যামেরাসহ প্রিয়ন্তীর মুখের ওপর পড়ে যান চিত্রগ্রাহক।
ঘটনার পর, কিছুক্ষণের জন্য তিনি কিছু দেখতে পাচ্ছিলেন না বলে জানান। এমনকি কথা বলতেও পারছিলেন না। তীব্র ব্যথায় কষ্ট পাওয়ার পর, তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে এক্স-রে করানোর পাশাপাশি প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। বর্তমানে, তিনি ব্যথানাশক ওষুধ ও অ্যান্টিবায়োটিক খাচ্ছেন।
প্রিয়ন্তী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার অভিজ্ঞতা জানিয়ে লেখেন, ‘গতকাল শুটিংয়ে আমার একটা অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছে। সত্যি বলতে, অভিজ্ঞতাটা ছিল ভয়ংকর!’
নিজের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে তিনি আরও লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আরও অনেক বড় কিছু হতে পারত। আমার নাক ভাঙেনি, তবে অনেক ফুলে গেছে। ছবিতে জুম করলে হয়তো বুঝতে পারবেন।’
দুর্ঘটনার জন্য শুটিংয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাউকে দায়ী করছেন না প্রিয়ন্তী। তার মতে, সবাই নিজেদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছিলেন। এটি ছিল সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত একটি দুর্ঘটনা। তবে, দুর্ঘটনাটি তার সঙ্গে ঘটেছে এবং সেই আঘাতের যন্ত্রণা তাকেই সহ্য করতে হচ্ছে।
আঘাতের যন্ত্রণা থাকলেও, পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার আগেই কাজে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এই অভিনেত্রী। তিনি আবারও শুটিংয়ে যাওয়ার কথা জানিয়ে দ্রুত সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।
শুটিংয়ে যুক্ত ব্যক্তিদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রিয়ন্তী বলেন, বিপদ কখনো বলে আসে না। সবাই সতর্ক থাকার পরও কখন, কীভাবে দুর্ঘটনা ঘটে যায়, তা আগে থেকে বোঝা সম্ভব নয়। বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেছেন তিনি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ