মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৫:৪৯ পি.এম
একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে লাইভ সম্প্রচারের সময় রিপোর্টারের ব্যাগ চুরি করার চেষ্টা করছিলেন এক ব্যক্তি। সঙ্গে সঙ্গে ওই রিপোর্টার ব্যাগটি উদ্ধার করেন।
শনিবার (১০ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালের সামনে জেলার ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে লাইভ চলাকালীন চ্যানেল ওয়ানের গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি সঞ্জয় বিশ্বাসের সঙ্গে এই ঘটনা ঘটে।
পরে সাংবাদিক সঞ্জয় ওই ঘটনার ভিডিওটি নিজের ফেসবুকে আপলোড করেন, যা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়।
ভিডিওতে দেখা যায়, বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ওয়ানে লাইভ সংবাদ প্রচারিত হচ্ছে। উপস্থাপক যখন রিপোর্টারকে প্রশ্ন করেন, তখন রিপোর্টার তথ্য উপস্থাপন শুরু করেন। কিছু সেকেন্ডের মধ্যে পাশের স্থানে রাখা রিপোর্টারের ব্যাগ নিয়ে একজন ব্যক্তি চলে যাচ্ছেন। তখন লাইভ সম্প্রচার বন্ধ করে রিপোর্টার ওই ব্যক্তিকে বলেন, “এ ভাই আমার ব্যাগ নিয়ে যাচ্ছেন কেন?” এবং তিনি ব্যাগটি ওই ব্যক্তির হাত থেকে একটানে উদ্ধার করে নিজের পাশে রেখে আবারও লাইভ শুরু করেন।
জানা গেছে, শনিবার গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালের সামনে চ্যানেল ওয়ানের বেলা ১১টার সংবাদে লাইভ দিচ্ছিলেন সঞ্জয় বিশ্বাস। এমন সময় এক ব্যক্তি তার ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। রিপোর্টার লাইভ থামিয়ে ওই ব্যক্তির কাছ থেকে ব্যাগটি উদ্ধার করেন।
এ বিষয়ে সাংবাদিক সঞ্জয় বিশ্বাস মন্তব্য করেন, "আমার টেলিভিশনে লাইভ চলাকালে আমার ব্যাগ নিয়ে এক ব্যক্তি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরে আমি তার কাছ থেকে ব্যাগটি কেড়ে রেখে দিই। এ ঘটনায় আমি কোথাও কোনো অভিযোগ করিনি।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
খুলনার রূপসা উপজেলায় সংঘটিত ফখরুল ইসলাম হত্যা মামলার আসামি আব্দুর রহমান (৩০) চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের এসআরবি-৬ খুলনা ও এসআরবি-৭ চট্টগ্রাম।
গ্রেপ্তারটি হয় সোমবার (১২ অক্টোবর) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে।
আব্দুর রহমান, যিনি রূপসা উপজেলার ইলাইপুর গ্রামের আব্দুর রউফ শেখের পুত্র।
এসআরবি-৬ খুলনার মিডিয়া সেলের একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ১২ আগস্ট রাতে রূপসা থানাধীন ‘মেসার্স রূপসা ব্রিকস’ নামক প্রতিষ্ঠানের অফিসে ফখরুল ইসলাম (৩২) অবস্থান করছিলেন। এ সময় অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা তাকে এলোপাতাড়ি গুলি করে গুরুতর আহত করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে রূপসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনার পর নিহতের ভাই ফরহাদ হোসেন বাদী হয়ে রূপসা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এরপর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এসআরবির যৌথ দল চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার অন্যতম আসামিকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এসআরবি জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ছোট পর্দার অভিনেত্রী প্রিয়ন্তী উর্বী নাটকের শুটিং করতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। একটি দৃশ্যের শুটিং করার সময়, হাসপাতালের বেডে শুয়ে থাকা অবস্থায় চিত্রগ্রাহক (ডিওপি) ক্যামেরাসহ তার মুখের ওপর পড়ে যান। এই ঘটনায় অভিনেত্রীর নাকে গুরুতর আঘাত আসে। পরে, তাকে হাসপাতালে নিয়ে এক্স-রে করানোর পাশাপাশি প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়।
প্রিয়ন্তী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের দুর্ঘটনার অভিজ্ঞতা শেয়ার করে জানিয়েছেন, এই ঘটনা তার জন্য ছিল অত্যন্ত ভীতিকর ও যন্ত্রণাদায়ক। তবে, তিনি শুটিংয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কারও প্রতি অভিযোগ করেননি।
অভিনেত্রী দুর্ঘটনার বিবরণে জানান, নাটকের একটি দৃশ্যে তাকে হাসপাতালের বেডে শুয়ে থাকতে হয়েছিল। এ সময় বেডটি টেনে একটি কক্ষে নেওয়া হচ্ছিল। দৃশ্যটির ক্লোজ শট নেওয়ার জন্য চিত্রগ্রাহক বেডের ওপর উঠে তার মুখের সামনে ক্যামেরা সেট করছিলেন। হঠাৎ, বেডটি ঝাঁকি খেলে ভারসাম্য হারিয়ে ক্যামেরাসহ প্রিয়ন্তীর মুখের ওপর পড়ে যান চিত্রগ্রাহক।
ঘটনার পর, কিছুক্ষণের জন্য তিনি কিছু দেখতে পাচ্ছিলেন না বলে জানান। এমনকি কথা বলতেও পারছিলেন না। তীব্র ব্যথায় কষ্ট পাওয়ার পর, তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে এক্স-রে করানোর পাশাপাশি প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। বর্তমানে, তিনি ব্যথানাশক ওষুধ ও অ্যান্টিবায়োটিক খাচ্ছেন।
প্রিয়ন্তী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার অভিজ্ঞতা জানিয়ে লেখেন, ‘গতকাল শুটিংয়ে আমার একটা অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছে। সত্যি বলতে, অভিজ্ঞতাটা ছিল ভয়ংকর!’
নিজের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে তিনি আরও লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আরও অনেক বড় কিছু হতে পারত। আমার নাক ভাঙেনি, তবে অনেক ফুলে গেছে। ছবিতে জুম করলে হয়তো বুঝতে পারবেন।’
দুর্ঘটনার জন্য শুটিংয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাউকে দায়ী করছেন না প্রিয়ন্তী। তার মতে, সবাই নিজেদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছিলেন। এটি ছিল সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত একটি দুর্ঘটনা। তবে, দুর্ঘটনাটি তার সঙ্গে ঘটেছে এবং সেই আঘাতের যন্ত্রণা তাকেই সহ্য করতে হচ্ছে।
আঘাতের যন্ত্রণা থাকলেও, পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার আগেই কাজে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এই অভিনেত্রী। তিনি আবারও শুটিংয়ে যাওয়ার কথা জানিয়ে দ্রুত সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।
শুটিংয়ে যুক্ত ব্যক্তিদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রিয়ন্তী বলেন, বিপদ কখনো বলে আসে না। সবাই সতর্ক থাকার পরও কখন, কীভাবে দুর্ঘটনা ঘটে যায়, তা আগে থেকে বোঝা সম্ভব নয়। বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেছেন তিনি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল তাদের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী বিস্তারিত কর্মসূচি ঘোষণা করেছে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি। সংগঠনের সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন এমপির নির্দেশনায় গৃহীত এসব কর্মসূচি আগামী ২৭ ও ২৮ অক্টোবর ২০২৬ (মঙ্গলবার ও বুধবার) দেশব্যাপী পালিত হবে।
সংগঠনের পক্ষ থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে শ্রদ্ধা নিবেদন, রক্তদান, ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, আলোচনা সভা, বৃক্ষরোপণ এবং দুস্থদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণসহ নানা সামাজিক দায়বদ্ধতামূলক কর্মকাণ্ড অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ঘোষিত কর্মসূচির বিস্তারিত তথ্য
২৭ অক্টোবর ২০২৬ (মঙ্গলবার):
বেলা ১১টা: রাজধানীর আগারগাঁওস্থ জিয়া উদ্যানে স্বাধীনতার মহান ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক, আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি, জাতীয়তাবাদী যুবদলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এবং গণতন্ত্রের মা মরহুমা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া'র সমাধিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। কেন্দ্রীয় এবং ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ যুবদল উক্ত কর্মসূচিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করবে।
বেলা ১২টা: জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির উদ্যোগে নয়াপল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় রক্তদান কর্মসূচি ও ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের কার্যক্রম শুরু হবে।
সংশ্লিষ্ট ইউনিট কর্তৃক নির্ধারিত সময়ে:
৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেশব্যাপী জেলা ও মহানগর আলোচনা সভা/ র্যালি/ সমাবেশ এবং স্বেচ্ছায় রক্তদান/ ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প/ বৃক্ষরোপণ/ পরিচ্ছন্নতা অভিযান/ মাছের পোনা অবমুক্তকরণ/ দুস্থদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণসহ সামাজিক দায়বদ্ধতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করবে।
২৮ অক্টোবর ২০২৬ (বুধবার):
সংশ্লিষ্ট ইউনিট কর্তৃক নির্ধারিত সময়ে: উপজেলা, থানা, পৌর ও অধস্তন ইউনিটসমূহ তাদের সুবিধাজনক সময়ে স্ব স্ব ইউনিটে আলোচনা সভা/ র্যালি/ সমাবেশ এবং স্বেচ্ছায় রক্তদান/ ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প/ বৃক্ষরোপণ/ পরিচ্ছন্নতা অভিযান/ মাছের পোনা অবমুক্তকরণ/ দুস্থদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণসহ সামাজিক দায়বদ্ধতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দীর্ঘ ৫০ বছরের বিচ্ছেদ। শৈশবে হারিয়ে যাওয়া এবং মানব পাচারকারী চক্রের কবলে পড়ে ভারত হয়ে পাকিস্তানে চলে যাওয়া। এর পর কেটে গেছে জীবনের পাঁচটি দশক। নতুন সংসার গড়ে উঠেছে এবং দুটি সন্তানের জন্ম হয়েছে। তবুও জন্মভূমি, বাবা-মা এবং ভাইদের স্মৃতি মুছে যায়নি। অবশেষে ছয় দশক বয়সে এসে পরী বেগম, যিনি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পাকিস্তানি নাগরিক, হারিয়ে যাওয়া পরিবারের সন্ধান পেয়েছেন।
দীর্ঘ পাঁচ দশক পর পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশের ফরিদপুরের নগরকান্দায় ফিরে ভাইদের সঙ্গে দেখা হয়েছে তার। হারিয়ে যাওয়া বোনকে কাছে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ভাই ও স্বজনেরা। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসানে পরিবারজুড়ে তৈরি হয় আনন্দঘন পরিবেশ।
পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, ফরিদপুরের নগরকান্দা পৌর এলাকার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা পরী বেগম মাত্র ১০ বছর বয়সে পরিবারের কাছ থেকে হারিয়ে যান। পরে মানব পাচারকারী চক্রের কবলে পড়ে প্রথমে ভারতে এবং সেখান থেকে পাকিস্তানে পৌঁছান তিনি।
পরী বেগমের বর্ণনা অনুযায়ী, কয়েক দফায় হাতবদল হওয়ার পর পাকিস্তানের এক নিঃসন্তান দম্পতির আশ্রয় পান তিনি। ওই দম্পতি তাকে সন্তানের মতো লালন-পালন করেন। পরবর্তী সময়ে পাকিস্তানের এক নাগরিকের সঙ্গে বিয়ে হয় তার। সংসারে জন্ম নেয় এক ছেলে ও এক মেয়ে। নতুন পরিবেশে দীর্ঘদিন বসবাস করলেও শৈশবে ফেলে আসা পরিবারকে ভুলতে পারেননি তিনি।
দীর্ঘদিন পর পরী বেগমের জীবনে আশার আলো হয়ে আসেন রাজশাহী থেকে পাকিস্তানে পড়তে যাওয়া দুই বাংলাদেশি যুবক। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরী বেগমের নাতির সঙ্গে ওই দুই যুবকের পরিচয় হয়। একপর্যায়ে নাতি তাদের কাছে তার দাদির হারিয়ে যাওয়া জীবনের কথা তুলে ধরেন।
এরপর ওই দুই যুবক পরী বেগমের সঙ্গে দেখা করতে তার বাড়িতে যান। কথোপকথনের একপর্যায়ে তারা জানতে পারেন, পরী বেগমের জন্মস্থান বাংলাদেশের ফরিদপুরের নগরকান্দা। তার বাবার নাম নজর আলী মাতুব্বর। বড় ভাই নওশের আলী মাতুব্বর, মেজ ভাই সাইফুল মাতুব্বর এবং ছোট ভাই সোলেমান মাতুব্বর।
পরী বেগমের কাছ থেকে এসব তথ্য জানার পর বাংলাদেশে ফিরে পরিবারের সন্ধান করার আশ্বাস দেন ওই দুই যুবক। দেশে ফিরে তারা খোঁজ শুরু করেন। একপর্যায়ে ফরিদপুরের নগরকান্দায় পরী বেগমের স্বজনদের সন্ধান পান তারা। এরপর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের উদ্যোগ নিলে সামনে আসে পাঁচ দশকের বিচ্ছেদের এক আবেগঘন গল্প।
হারিয়ে যাওয়া বোনের সন্ধান পাওয়ার খবর শুনে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ভাইয়েরা। একপর্যায়ে মোবাইল ফোনে কথা হয় ভাই-বোনের। দীর্ঘদিনের বিচ্ছেদের পর সেই কথোপকথন নতুন করে স্বজনদের মধ্যে সম্পর্কের বন্ধন গড়ে তোলার পথ তৈরি করে।
অন্যদিকে, পাকিস্তানে বসেই নিজের পরিবারের সন্ধান পান পরী বেগম। বাংলাদেশে ভাইয়েরা অপেক্ষায় থাকেন প্রিয় বোনকে একনজর দেখার জন্য। অবশেষে পাকিস্তানি পাসপোর্ট নিয়ে বাংলাদেশে আসেন তিনি। প্রায় ৫০ বছর পর জন্মভূমিতে ফিরে দেখা হয় ভাইদের সঙ্গে।
দীর্ঘদিন পর বোনকে কাছে পেয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি স্বজনেরা। বাড়িজুড়ে তৈরি হয় আনন্দঘন পরিবেশ। দীর্ঘদিনের শূন্যতা যেন ভালোবাসা, আবেগ আর অশ্রুসিক্ত পুনর্মিলনে ভরে ওঠে।
পাকিস্তানে দীর্ঘ পাঁচ দশক বসবাসের কারণে বাংলা ভাষা প্রায় ভুলে গেছেন পরী বেগম। স্বজনদের কাছে ফিরে এলেও তাদের সঙ্গে বাংলায় কথা বলতে পারেন না তিনি। পুরো সময়ই কথা বলেন উর্দু ভাষায়। তার কথা পুরোপুরি বুঝতে না পারলেও পরিবারের সদস্যদের কাছে ভাষা ভালোবাসার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি।
পরী বেগমের চোখের জল, আবেগ আর অভিব্যক্তিতেই যেন ফুটে উঠছিল দীর্ঘদিন পর আপনজনদের ফিরে পাওয়ার আনন্দ। প্রবীণ থেকে নবীন, শিশু থেকে কিশোর সবাই তার মুখের দিকে তাকিয়ে অনুভব করার চেষ্টা করছিলেন পাঁচ দশকের বিচ্ছেদ পেরিয়ে ফিরে আসা এই নারীর মনের কথা।
পরী বেগমের ফিরে আসার খবর ছড়িয়ে পড়তেই তাকে একনজর দেখতে বাড়িতে ভিড় করেন আশপাশের এলাকার মানুষ। তার সমবয়সী নারী-পুরুষ থেকে শুরু করে শিশু-কিশোর সবার মধ্যেই ছিল কৌতূহল ও আনন্দ। অনেকের কাছে ঘটনাটি ছিল অবিশ্বাস্য; আবার অনেকের চোখে ছিল হারিয়ে যাওয়া একজন মানুষের আপনজনের কাছে ফিরে আসার আবেগঘন দৃশ্য।
পাঁচ দশক আগে হারিয়ে যাওয়া সেই ছোট্ট মেয়ে আজ ষাটোর্ধ্ব নারী। সময় বদলেছে, বদলেছে ভাষা ও জীবনযাপন। তবু বদলায়নি শিকড়ের টান। দীর্ঘ ৫০ বছর পর ভাইদের কাছে ফিরে পরী বেগমের এই পুনর্মিলন যেন প্রমাণ করল, সময় আর দূরত্ব যত দীর্ঘই হোক, স্বজনদের প্রতি ভালোবাসার বন্ধন কখনো সহজে মুছে যায় না।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ