১১:৪৪ পি.এম
সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে ফোন হাতে নেওয়ার অভ্যাস—মেসেজ, নোটিফিকেশন, এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ক্রল করা। দিন শেষ হলে চোখে জ্বালা, মাথা ভার এবং অকারণ অস্থিরতা অনুভব হয়। আধুনিক জীবনের এই নীরব সমস্যা নিয়ে কথা বললে দেখা যায়, একে বলা হয় 'ডিজিটাল ক্লান্তি'।
বর্তমানে কাজ, বিনোদন এবং যোগাযোগের সব কিছুই স্ক্রিনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। এর ফলে শরীর ও মনে এক নৈরাজ্য সৃষ্টি হচ্ছে এবং ধীরে ধীরে আমরা ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছি। বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী, প্রযুক্তির প্রতি পুরোপুরি অবস্থান নেওয়া সম্ভব না হলেও, সচেতন কিছু অভ্যাস ডেভেলপ করলে এই ক্লান্তি অনেকাংশে কমানো সম্ভব হয়ে ওঠে।
দিনের শুরুতে স্ক্রিন ছাড়া নিজেকে সময় দিন।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
ঘুম থেকে ওঠার পর ফোন না নিয়ে কিছুটা সময় নিজেকে দিন। জানালার আলো, কিছুটা হালকা ব্যায়াম বা এক কাপ চা—এই সবকিছুই দিনে দারুণ শান্তভাবে শুরু করতে সহায়তা করে, এবং এতে আপনার মনও স্থির থাকে।
কাজের মাঝে মাঝে ছোট বিরতি নেওয়া জরুরি।
যখনই আপনি দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনে চোখ রাখবেন, তখন চোখ ও মস্তিষ্কের ওপর চাপ পড়ে। তাই প্রতি ৩০-৪০ মিনিট পর কয়েক মিনিট বিরতি নিয়ে চোখ বিশ্রাম করা বা একটু হাঁটাহাঁিটি করার চেষ্টা করুন।
নোটিফিকেশনের ওপর নিয়ন্ত্রণ নিতে হবে।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
অপ্রয়োজনীয় অ্যাপের নোটিফিকেশন বন্ধ রাখুন। এতে মনোযোগ বাড়বে এবং অকারণ মানসিক চাপ হ্রাস পাবে।
ঘুমানোর আগে স্ক্রিন ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন।
ঘুমানোর কমপক্ষে এক ঘণ্টা আগে মোবাইল বা ল্যাপটপ ব্যবহার করা উচিত নয়। নীল আলো ঘুমের মানকে নষ্ট করে। অ্যারার বই পাঠ করা বা হালকা সঙ্গীত শোনা ভালো বিকল্প হতে পারে।
বাস্তবের সম্পর্কগুলোকে গুরুত্ব দিন।
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত
অনলাইনের পাশাপাশি আপনার পরিবার ও বন্ধুরদের সঙ্গে সরাসরি সময় কাটানো আপনার মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
‘নো-ডিভাইস’ জোন তৈরি করা।
বিছানা বা ডাইনিং টেবিলের মতো কিছু স্থান নির্ধারণ করুন, যেখানে ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করা হবে না। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আপনার জীবনে ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান তৈরি হবে।
প্রযুক্তি বর্তমানে আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে সচেতনভাবে ব্যবহার করে ডিজিটাল আসক্তি হ্রাস করে যেমন স্বাস্থ্যকর, তেমনই ভারসাম্যপূর্ণ জীবনযাপন করা সম্ভব।
আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে ৪, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৫১ জন
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন