ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

২৪ ঘণ্টায় দ্বিতীয় হামলা, হরমুজে তেলবাহী ট্যাংকারে অজ্ঞাত বস্তুর আঘাত


২৪ ঘণ্টায় দ্বিতীয় হামলা, হরমুজে তেলবাহী ট্যাংকারে অজ্ঞাত বস্তুর আঘাত

পারস্য উপসাগরে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করার সময় একটি বাণিজ্যিক তেলবাহী ট্যাংকারে অজ্ঞাত একটি প্রজেক্টাইল (বস্তু) আঘাত হেনেছে।

এতে জাহাজটির কাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে বলে আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সন্ধ্যায় নিশ্চিত করেছে জাহাজ নজরদারি সংস্থা ইউকে মেরিটাইমস ট্রেড অপারেশন্স।

 

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

আন্তর্জাতিক নৌপরিবহনের নিরাপত্তা তথ্য সমন্বয়কারী সংস্থাটি জানায়, গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে নিয়মিত চলাচলের সময় ঘটনাটি ঘটে।

গত ২৪ ঘণ্টায় তেলবাহী ট্যাংকারে আঘাতের দ্বিতীয় ঘটনা এটা। এর আগে আজ মঙ্গলবার ভোরে একটি গ্যাস বহনকারী ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটে।

ইউকেএমটিওর প্রাথমিক সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, আঘাতে ট্যাংকারটির মূল কাঠামোর একটি নির্দিষ্ট অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তবে প্রাথমিক মূল্যায়নে দেখা গেছে, জাহাজের মূল তেল সংরক্ষণ কাঠামো অক্ষত রয়েছে এবং কোথাও ভেঙে যায়নি।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, ঘটনায় জাহাজের কোনো নাবিক হতাহত হননি।

এবং আশপাশের সমুদ্রে তেল ছড়িয়ে পড়া বা রাসায়নিক দূষণের মতো কোন তাৎক্ষণিক পরিবেশগত ক্ষতিরও প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

প্রজেক্টাইলটি কোথা থেকে এসেছে অথবা ঠিক কী ধরনের ছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

তবে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুটে অতীতেও বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

সর্বশেষ ঘটনাটি সেই প্রেক্ষাপটে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

ইউকেএমটিও জানিয়েছে, তাদের প্রযুক্তিগত ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা ঘটনাটির তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন।

এদিকে পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগর এলাকায় চলাচলকারী আন্তর্জাতিক জাহাজগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি রাডার নজরদারি জোরদার করা এবং সন্দেহজনক কোনো নৌযান বা অস্বাভাবিক গতিবিধি দেখা গেলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষকে জানাতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে ৪, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৫১ জন

এর আগে আজ মঙ্গলবার ভোরে, হরমুজ প্রণালীর ওমান উপকূলে চলাচল করার সময় একটি ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর খবর পাওয়া যায়।

সংস্থাটি আরও জানায়, প্রণালীতে ওমানের লিমার কাছে ট্যাংকারটিতে হামলা হয়।

ট্যাংকারটি যখন প্রণালি থেকে বেরিয়ে দক্ষিণে ওমান উপসাগরের দিকে যাচ্ছিল, তখন এর বাঁ পাশে আঘাত হানে ক্ষেপণাস্ত্রটি।

সংস্থাটি জানিয়েছে, হতাহত বা পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর পাওয়া যায়নি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনাটির তদন্ত করছে।

আরও পড়ুন: প্রাথমিক শিক্ষা সংস্কারে ৫ বিষয়ে অগ্রাধিকার ঘোষণা প্রতিমন্ত্রীর

ইরানি টেলিভিশন জানায়, ‘সতর্কবার্তা উপেক্ষা করায়’ প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বহনকারী ট্যাংকারটি হামলার শিকার হয়।

তবে তেহরান সরাসরি হামলার দায় স্বীকার করেনি।

দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে অ্যাক্সিওস দাবি করে, ইরানের সেনাবাহিনী প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর অন্তত দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে।

একজন কর্মকর্তা জানান, আরও একটি জাহাজে হামলা হয়েছে এবং উভয় জাহাজেরই উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে; তবে কেউ হতাহত হয়নি।

আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান আতঙ্ক, তিন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা

এদিকে কিংবদন্তির রূপরেখার দাবীদার বিশ্লেষক হোসেইন রোইভারান আল-জাজিরাকে বলেন, ইরানি বাহিনী যেখানে মাইন অপসারণ অভিযান চালাচ্ছিল, ট্যাংকারটি সেই এলাকায় ঢুকে পড়ায় এটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়ে থাকতে পারে।

রোইভারান আরও বলেন, ‘ওমানের কাছাকাছি এলাকা সম্ভবত মাইনে পূর্ণ।

এমনও হতে পারে, জাহাজগুলো এমন দিকে যাচ্ছিল যেখানে ইরানি দলগুলো মাইন অপসারণ করছিল, আর জাহাজের চলাচল সেই দলগুলোর জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল।’

তেহরান বারবার বলে আসছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে কেবল তাদের অনুমোদিত পথই নিরাপদ।

ওমান উপকূলঘেঁষা বিকল্প পথ ব্যবহারকারী অন্যান্য জাহাজেও হামলার সন্দেহভাজন হিসেবে দেশটির নাম উঠেছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

১৩ জুলাই বরিশালে সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৩২ এম


১৩ জুলাই বরিশালে সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আগামী ১৩ জুলাই বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বরিশাল সফরে আসছেন।

সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর বরিশাল বিভাগে এটি তার প্রথম আনুষ্ঠানিক সফর। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনসভায় জনতার উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। ফাইল ছবি

বরিশাল ব্যুরো জানাচ্ছে যে, প্রধানমন্ত্রী তার আগমনকে কেন্দ্র করে গোটা দক্ষিণাঞ্চলজুড়ে রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সন্ধ্যায় বরিশাল মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব জিয়া উদ্দিন সিকদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মহানগর বিএনপি সূত্রে জানা গেছে যে, দলীয়ভাবে প্রধানমন্ত্রীর বরিশাল সফরের বিষয়টি চূড়ান্ত হলেও জনসভার স্থান বা অন্যান্য প্রটোকল এখনো নির্ধারিত হয়নি। মঙ্গলবার রাতে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে সফরের সার্বিক রূপরেখা ও সূচি চূড়ান্ত করা হবে।

স্থানীয় উন্নয়ন বিশ্লেষক ও সুশীল সমাজের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মধ্য দিয়ে অবহেলিত দক্ষিণাঞ্চলের দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত কিছু মেগা প্রকল্পের কাজ দ্রুত গতি পাবে। বিশেষ করে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত ভাঙ্গা-কুয়াকাটা মহাসড়কটি ছয় লেনে উন্নীতকরণের কাজ আরও বেগবান হবে। পায়রা বন্দর ও কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতকে সংযুক্ত করার যে মহাপরিকল্পনা রয়েছে, এই সফরের মাধ্যমে তা নতুন গতি পাবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

দলীয় সূত্র জানায় যে, সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বরিশাল জেলা, মহানগর এবং দলের সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় ও তৃণমূল নেতৃবৃন্দের সাথে বিশেষ সাংগঠনিক বৈঠকে মিলিত হবেন।

সফরের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে বরিশাল মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব জিয়া উদ্দিন সিকদার বলেন, ‘আমরা দলীয়ভাবে জানতে পেরেছি যে আগামী ১৩ জুলাই প্রধানমন্ত্রী বরিশালে আসছেন। তার এই সফরকে সফল করতে আমরা মাঠ পর্যায়ে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিচ্ছি। বুধবার (৮ জুলাই) বিকেলে নগরীর সদর রোডের অশ্বিনী কুমার টাউন হলে প্রস্তুতি সভার আয়োজন করা হয়েছে।’

প্রসঙ্গত, এর আগে চলতি বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি বরিশালে এসেছিলেন তারেক রহমান। বিএনপির নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে ওই দিন দুপুরে বরিশাল নগরের বান্দরোডের বেলসপার্ক মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন এবং বক্তব্য রেখেছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফিলিস্তিনি বন্দিদের অনাহারে রাখা নিয়ে ইসরাইলি মন্ত্রীর দম্ভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৩৫ এম


ফিলিস্তিনি বন্দিদের অনাহারে রাখা নিয়ে ইসরাইলি মন্ত্রীর দম্ভ

ফিলিস্তিনি বন্দিদের অনাহারে রাখার বিষয়টি প্রকাশ্যে স্বীকার করে নিচ্ছেন দেশটির বর্ষীয়ান উগ্র ডানপন্থী ধর্মীয় নেতা এবং জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভির। এই বক্তব্য নতুনভাবে সামনে এনেছে ফিলিস্তিনিদের প্রতি ইসরাইল সরকার ও প্রশাসনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের চরম প্রকাশ।

এটি আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ ও প্রতিবাদের সৃষ্টি করছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে একটি নতুন ভিডিওতে ফিলিস্তিনি বন্দিদের অনাহারে রাখার বিষয়ে মন্তব্য করেছেন বেন-গভির। ভিডিওতে তার বক্তব্য ছিল, ‘তারা চেয়েছিল আমি যেন ওই সন্ত্রাসীদের স্যান্ডউইচ দিই। আগে তারা মোটা হয়ে বের হতো, এখন মোটা হয়ে ঢোকে আর চিকন হয়ে বের হয়। সন্ত্রাসীদের এভাবেই বের হওয়া উচিত।’

সাম্প্রতিকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ ভিডিওটি প্রকাশ করার পর তার মন্তব্য ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। এর আগে ফিলিস্তিনি বন্দিদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং গাজা অবরোধ ভাঙার উদ্দেশ্যে আন্তর্জাতিক নৌবহরে থাকা বিদেশি কর্মীদের আটক ও নির্যাতনের অভিযোগও তার বিরুদ্ধে উঠেছে।

এদিকে, আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ একটি পোস্টে বেন-গভির জানিয়েছেন, ইসরাইল সরকার দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেতের জন্য ৫০ কোটি শেকেল বরাদ্দ অনুমোদন করেছে। তার ভাষ্যমতে, এই অর্থ দিয়ে আরব সমাজে অপরাধ দমনের লক্ষ্যে একটি বিশেষ বিভাগের গঠন করা হবে।

বেন-গভিরের সাম্প্রতিক মন্তব্যের বিষয়ে ইসরাইল সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। মানবাধিকার সংস্থাগুলো দীর্ঘকাল ধরেই ইসরাইলের কারাগারে ফিলিস্তিনি বন্দিদের সাথে আচরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।

এদিকে, গাজার বিষয়ে ইসরাইলি হামলায় ৩ ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে গাজা উপত্যকায় হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরাইল। আজ মঙ্গলবার ইসরাইলি হামলায় স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, অন্তত তিনজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

স্বাস্থ্য সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ গাজার আল-মাওয়াসি এলাকায় ইসরাইলি বিমান হামলায় একজন ব্যক্তি নিহত এবং দুই শিশু আহত হয়েছে। এছাড়াও খান ইউনিসে পৃথক আরেকটি হামলায় একজন ফিলিস্তিনি নিহত হন বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

জানানো হয়, গাজা সিটির কাছে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের আশ্রয় হিসেবে ব্যবহৃত তাঁবুতে হামলা চালানোর সময় একজন নিহত এবং আরও পাঁচজন আহত হন। হামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে, গাজায় চলমান সংঘাতের মধ্যে বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত বিমান ও গোলাবর্ষণের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রতিবছর ভরাট হচ্ছে ব্রহ্মপুত্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৩৭ এম


প্রতিবছর ভরাট হচ্ছে ব্রহ্মপুত্র

প্রতি বর্ষায় উজানের ঢল ও নদীভাঙনে উত্তরের বিস্তীর্ণ জনপদ তছনছ হয়ে যাচ্ছে। যমুনা ও ব্রহ্মপুত্রের তীব্র ভাঙনের ফলে প্রতিবছর গ্রামের পর গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে, উদ্বাস্তু হচ্ছেন লাখো মানুষ। নদীগুলোর তলদেশ পলিতে ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে অল্প পানিতেই সৃষ্টি হচ্ছে বন্যা। বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক নদী ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি এই আগ্রাসী ভাঙন ও বন্যা রোধে, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো।

পলিতে ভরাট হওয়ার ফলে ব্রহ্মপুত্র নদ তার নাব্যতা হারাচ্ছে। ১৯৯৯ সালে জাপানের নাগোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জরিপ অনুযায়ী, ব্রহ্মপুত্র নদে প্রতিবছর প্রবাহিত হচ্ছে ৭২১ মিলিয়ন টন পলি এবং গঙ্গা নিয়ে আসছে ৩১৬ মিলিয়ন টন। তার মধ্যে ৫১ শতাংশ পলি বাংলাদেশে জমা হয়। বাকি ৫১২ মিলিয়ন টন জমা হয় নদ-নদীর তলদেশে। ২৮ শতাংশ প্লাবন ভূমিতে এবং ২৩ শতাংশ অর্থাৎ ২২৩ মিলিয়ন টন পলি নদীর বুকে জমা হয়। এ কারণে প্রতিবছর নদীর তলদেশ ৩ দশমিক ৯ সেন্টিমিটার ভরাট হচ্ছে। নদের নাব্যতা হ্রাস পাওয়া ও এই বিপুল পরিমাণ পলি সময়মতো অপসারণের স্থায়ী উদ্যোগ না থাকায় সামান্য বর্ষার পানিতেও ভাটির অঞ্চলগুলো ভয়াবহ প্লাবন ও ভাঙনের শিকার হয়।

নদী অববাহিকার বাসিন্দারা চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। তারা বলছেন, নদীর তলদেশ ভরাট হওয়ার ফলে অল্প পানিতেই নদী উপচে আশপাশের এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। যাতে তাদের ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ভেঙে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। লাখ লাখ মানুষ চরম অসহায়ত্বের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

বালাসীঘাটের পাপুল সরকার উল্লেখ করেছেন, নদীর তলদেশ ভরে যাওয়ার কারণে এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে। গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার এক বাসিন্দা বলছেন, 'বাড়িঘর ভেঙে নদীতে চলে যাচ্ছে। রাস্তাটাও এখন না টিকতে পারে। আমরা নদী এলাকার লোক, কী করব? আমরা অসহায়।' অন্য এক ভুক্তভোগী বলেন, 'ভিটেমাটি হারিয়ে এখন কী করি! নদী এখন পাগলা। আগে যদি কাজ করতো, জায়গাটা ভাঙতো না।'

অন্যদিকে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আধুনিক পানি ব্যবস্থাপনার মডেলের উদাহরণ দেখা যায়। নেদারল্যান্ডস তাদের বিখ্যাত 'রুম ফর দ্য রিভার' (Room for the River) নীতির মাধ্যমে নদীর অববাহিকা চওড়া ও গভীর করে পানি ধরে রেখেছে। সেই পানি তারা কৃষিকাজ ও নৌ-যোগাযোগে ব্যবহার করছে। চীন, সিঙ্গাপুর, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও ভারত কৃত্রিম জলাধার ও নদী নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বন্যার পানি জমিয়ে রেখে শুষ্ক মৌসুমে সেচ, জলবিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পকারখানায় কাজে লাগাচ্ছে। চীনের উদাহরণ দেখালে, তারা দক্ষিণ অঞ্চলের ইয়াংসি নদীর উদ্বৃত্ত পানি হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ খালের মাধ্যমে উত্তরের শুষ্ক অঞ্চলে নিয়ে যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশও এই বৈশ্বিক মডেলগুলো অনুসরণ করতে পারে। গণ উন্নয়ন কেন্দ্রের নির্বাহী প্রধান এম আব্দুস সালাম বলেন, 'ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা ও ধরলার মতো বড় নদীগুলোর সঙ্গে অভ্যন্তরীণ ছোট শাখা নদীগুলোর সংযোগ ঘটিয়ে সেগুলোকে প্রাকৃতিক জলাধার (রিজার্ভার) হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব। এর ফলে বর্ষার উদ্বৃত্ত পানি শুষ্ক মৌসুমের জন্য ধরে রাখা যাবে।' বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন জানান, 'পানি ব্যবস্থাপনার প্রতি গুরুত্ব দেয়া দরকার। সেই সাথে বন্যা নিয়ন্ত্রণের বদলে বন্যা ব্যবস্থাপনার দিকে বেশি নজর দেয়া দরকার।'

তিনি আরও বলেন, '৯৬ লাখ বর্গকিলোমিটারের দেশ চীন কীভাবে নদী ব্যবস্থাপনা করেছে, সেখান থেকে শিক্ষা নেয়া উচিত।' গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম এই ব্যাপারে মন্তব্য করেন যে, 'যেহেতু পদ্মা ব্যারেজ হচ্ছে, সরকার চাইলে ধাপে ধাপে এদিকেও মনোযোগ দিতে পারে।'

দেশের মোট পানিপ্রবাহের প্রায় ৬৭ শতাংশই ব্রহ্মপুত্র নদ বহন করে। যমুনা ও ব্রহ্মপুত্রের অববাহিকার গাইবান্ধা, বগুড়া ও সিরাজগঞ্জসহ প্রায় পাঁচ শতাধিক চরে ১০ লক্ষাধিক মানুষ বসবাস করছেন। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে স্থায়ী বন্যা ও ভাঙন থেকে রক্ষা করতে হলে ড্রেজিংয়ের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি নীতিনির্ধারণী পানি ব্যবস্থাপনা জোরদার করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৫ ইউনিট চালু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৪০ এম


কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৫ ইউনিট চালু

টানা কয়েকদিনের ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে এখন রাঙ্গামাটির কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের সবকটি ইউনিট একযোগে সচল করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা থেকে ইউনিটগুলো থেকে সীমিত বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করেছে।

পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, টানা বৃষ্টিতে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে গত কয়েকদিন ধরে কাপ্তাই লেকের পানির স্তর (ওয়াটার লেভেল) ক্রমাগত বাড়ছে। ফলে পানির ওপর নির্ভরশীল এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৫টি ইউনিটই আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকে একসাথে চালু করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে এই ৫টি ইউনিট থেকে মোট ১৪৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে।

বিদ্যুৎ কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মোট উৎপাদন সক্ষমতা ২৪০ মেগাওয়াট। তবে বর্তমানে পানির প্রাপ্যতা অনুযায়ী ১৪৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। বর্তমানে ১ ও ২ নম্বর ইউনিট থেকে প্রতিটিতে ৩২ মেগাওয়াট করে মোট ৬৪ মেগাওয়াট, ৩ নম্বর ইউনিট থেকে ৩০ মেগাওয়াট এবং ৪ ও ৫ নম্বর ইউনিট থেকে প্রতিটিতে ২৫ মেগাওয়াট করে মোট ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে।

এদিকে কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কন্ট্রোল রুমে দায়িত্বরত প্রকৌশলীরা জানান, মঙ্গলবার রাত ৮টা পর্যন্ত কাপ্তাই লেকে পানির পরিমাণ রেকর্ড করা হয়েছে ৭৯.৮৬ ফুট মিনস সি লেভেল (MSL)। তবে রুলকার্ভ অনুযায়ী বছরের এই সময়ে লেকে পানি থাকার কথা ৮৪.৯৬ ফুট মিন সি লেভেল। উল্লেখ্য, কাপ্তাই লেকের সর্বোচ্চ পানি ধারণ ক্ষমতা ১০৮ ফুট মিনস সি লেভেল।

প্রসঙ্গত, কাপ্তাই হ্রদে পানির তীব্র স্বল্পতার কারণে বিগত কয়েক মাস ধরে কেন্দ্রটি চরম সংকটে ছিল। বাধ্য হয়ে কখনো মাত্র ১টি ইউনিট চালু রেখে সীমিত পরিসরে বিদ্যুৎ উৎপাদন সচল রাখা হয়েছিল। তবে পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় সোমবার (৭ জুলাই) ৩টি ইউনিট এবং আজ মঙ্গলবার সকালে ৪টি ইউনিট চালু করা হয়। সবশেষ আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৫টি ইউনিটই একযোগে সচল করা হয়েছে।

অন্যদিকে রাঙ্গামাটি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য মতে, মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা এই ১২ ঘণ্টায় ২০৯ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হযেছে। যাকে অতি ভারি বর্ষণ বলছেন তারা।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%