ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করল প্রতিবেশীসহ ৩ মুসলিম দেশ


ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করল প্রতিবেশীসহ ৩ মুসলিম দেশ

যুক্তরাজ্য এবং তিন মুসলিম প্রতিবেশী ও আঞ্চলিক অংশীদার তুরস্ক, ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার জন্য শক্তিশালী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকারের প্রশংসা করেছে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) আল জাজিরার একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এক্সে প্রকাশিত একটি পোস্টে যুক্তরাজ্যের পাশাপাশি এই তিন মুসলিম দেশের পদক্ষেপের জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

মার্কিন অর্থমন্ত্রী বেসেন্ট জানান, ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ শুরু হওয়ার পর ইরানের অর্থনৈতিক ও সামরিক নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন করার জন্য বিশ্বজুড়ে মার্কিন কূটনৈতিক প্রতিনিধি দল পাঠানো হয়েছিল। এই আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা এখন ইতিবাচক ফলাফল দিতে শুরু করেছে।

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের অংশ হিসেবে তুরস্ক ও ওমান তাদের আকাশসীমায় ইরানি বিমান সংস্থা ‘মাহান এয়ার’-এর ফ্লাইট চলাচল বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের সব এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি, এই দেশগুলোর শীর্ষ বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ইরানের সঙ্গে সকল লেনদেন বন্ধ করে দিয়েছে।

স্কট বেসেন্ট বলেন, আন্তর্জাতিক এই সহযোগিতার জন্য চার দেশের সরকারের প্রতি ওয়াশিংটনের কৃতজ্ঞতা রয়েছে। তবে, তেহরান যাতে তাদের উগ্রপন্থী ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন চালিয়ে যেতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাজ্য এবং মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের সঙ্গে ভবিষ্যতেও এ ধরনের পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, দুজন আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৩৩ পি.এম


সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, দুজন আটক

জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মোহাম্মদ মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউগ্রিনি প্রপার্টিজে এই ঘটনা সংঘটিত হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, দুর্বৃত্তরা স্টুডিওতে প্রবেশ করে সিসি ক্যামেরাসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ও রুমের অন্যান্য সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়। একইসঙ্গে স্টুডিওর বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর করে তছনছ করা হয়।

ঘটনার বিষয়ে সালমান মুক্তাদির জানান, "চাঁদার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ হামলা হয়েছে।" হামলা ও ভাঙচুরের পাশাপাশি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ক্যান্টনমেন্ট থানার ডিউটি অফিসার আহসান হাবিব জানান, এ ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিরা হলেন মামুন ও আসলাম।

ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, "ইসিবি চত্বরে একটি অফিসে হামলার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।" ঘটনাস্থল থেকে ছোরাসহ দুজনকে আটক করা হয়েছে।

এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাপানে ঘরজামাই হওয়ার সুযোগ, আবেদন করতে পারবেন বাংলাদেশিরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৩৩ পি.এম


জাপানে ঘরজামাই হওয়ার সুযোগ, আবেদন করতে পারবেন বাংলাদেশিরা

জাপানে একটি দীর্ঘকালীন সামাজিক ও আইনি প্রথা বিদ্যমান, যেখানে মেয়ের স্বামীকে দত্তক নিয়ে পরিবারের ছেলে ও উত্তরসূরি হিসেবে গড়ে তোলা হয়। এই প্রথার নাম ‘মুকোয়োশি’, যা বাংলায় ‘দত্তক ঘরজামাই’ হিসেবে পরিচিত।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দত্তক নেওয়ার মাধ্যমে শিশুকে নতুন পরিবারে বড় করে তোলার ধারণা প্রচলিত। কিন্তু জাপানে প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের দত্তক নেওয়ার রীতি বেশ সাধারণ। বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশটির মোট দত্তকের ৯০ শতাংশের বেশি প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষকে নিয়ে গঠিত।

সাধারণত ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সী তরুণদের এভাবে পরিবারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে এর পিছনে শুধুমাত্র পারিবারিক আবেগ নয়, বরং ভবিষ্যতের হিসাব-নিকাশও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়।

জাপানে অনেক পুরনো ব্যবসা এখনও পারিবারিক মালিকানায় পরিচালিত হচ্ছে। কোনো পরিবারে ছেলে না থাকলে কিংবা পরিবারের নিজ সন্তানকে ব্যবসার উত্তরসূরি হিসেবে উপযুক্ত মনে না হলে তারা একজন যোগ্য পুরুষকে দত্তক নিতে পারে।

যদি সেই ব্যক্তি মেয়ের স্বামী হন, তাহলে বিষয়টি আরও সহজ হয়ে যায়। বিয়ের পর তাকে দত্তক নেওয়া হলে তিনি শ্বশুরবাড়ির পদবি গ্রহণ করেন। ধীরে ধীরে পরিবারের ব্যবসা, সম্পদ এবং উত্তরাধিকারও তার হাতে চলে আসতে পারে।

অর্থাৎ, সম্পর্কটি শুধুমাত্র ‘জামাই’তে সীমাবদ্ধ থাকে না। তিনি পরিবারের একজন সদস্য হয়ে ওঠেন—অনেক ক্ষেত্রে পরবর্তী কর্তা।

‘মুকোয়োশি’র পেছনে অন্যতম প্রধান বিষয় হলো ধারাবাহিকতা। পরিবারের পদবি যেন হারিয়ে না যায়, ব্যবসার নেতৃত্ব যেন পরিবারের বাইরে চলে না যায় এবং বহু বছরের প্রতিষ্ঠান যেন পরবর্তী প্রজন্মেও টিকে থাকে—এই তিনটি বিষয় একসঙ্গে ধরে রাখার পথ হিসেবেই প্রথাটি ব্যবহৃত হয়েছে।

জাপানি সমাজে ঐতিহ্যগতভাবে বিয়ের পর স্ত্রী স্বামীর পদবি গ্রহণ করেন। ফলে কোনো পরিবারে ছেলে না থাকলে পরিবারের পদবি টিকিয়ে রাখার প্রশ্ন দেখা দেয়। মেয়ের স্বামীকে দত্তক নিয়ে তাকে পরিবারের পদবি দেওয়ার মাধ্যমে সেই সমস্যার সমাধান করা হয়।

এভাবে একজন জামাই একই সঙ্গে হয়ে ওঠেন পরিবারের ছেলে, ব্যবসার উত্তরসূরি এবং বংশের নাম বহনকারী।

জাপানের বড় ব্যবসার ইতিহাসে ‘মুকোয়োশি’র প্রভাব রয়েছে। সুজুকি মোটর করপোরেশনের নেতৃত্বে একাধিকবার দত্তক পুত্রের আগমন ঘটেছে। প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘদিনের প্রধান ওসামু সুজুকিও ছিলেন এই প্রথায় পরিবারে আসা একজন দত্তক ঘরজামাই।

নিনটেনডো, কিক্কোমান ও টয়োটার মতো জাপানি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও বিভিন্ন সময়ে এই ধরনের উত্তরাধিকার ব্যবস্থার সম্পর্ক দেখা গেছে।

ফলে, জাপানের কিছু বিখ্যাত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের দীর্ঘস্থায়ী পারিবারিক ধারাবাহিকতার পেছনে রয়েছে এই অদ্ভুত অথচ কার্যকর সামাজিক রীতি।

‘মুকোয়োশি’র ব্যবহার ব্যবসার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। উত্তরাধিকার পরিকল্পনার ক্ষেত্রেও প্রাপ্তবয়স্ক কাউকে দত্তক নেওয়ার ঘটনা রয়েছে। বিশেষ করে নিঃসন্তান দম্পতিরা ভবিষ্যতে সম্পদ কার হাতে যাবে, সেটি নিশ্চিত করতে এই পথ বেছে নিতে পারেন।

দত্তক প্রক্রিয়াটি জাপানের সরকারি পারিবারিক নথি ‘কোসেকি’-তে নিবন্ধিত হয়। দত্তক সম্পন্ন হওয়ার পর ওই ব্যক্তি নতুন পরিবারের পদবি গ্রহণ করেন এবং জন্মসন্তানের মতোই উত্তরাধিকার ও পারিবারিক দায়িত্ব পান।

তবে এর সঙ্গে দায়িত্বও আসে। পরিবারের বয়স্ক সদস্যদের দেখাশোনার দায়িত্বও দত্তক নেওয়া সন্তানের ওপর বর্তাতে পারে।

প্রশ্ন উঠতে পারে, এই ব্যবস্থায় কি বিদেশিদেরও জায়গা আছে?

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাপানে দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের অনুমতি থাকা বিদেশিরা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে দত্তক হতে পারেন। তবে কিছু ক্ষেত্রে আদালতের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়।

অর্থাৎ, কোনো বাংলাদেশি ব্যক্তি শর্ত পূরণ করলে জাপানি পরিবারের প্রাপ্তবয়স্ক দত্তক সন্তান হতে পারেন। তবে দত্তক হলেই জাপানের নাগরিকত্ব বা ভিসা পাওয়া যায় না। সেগুলোর জন্য আলাদা আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে।

জন্মহার কমছে, গুরুত্ব বাড়ছে উত্তরাধিকারীর। আধুনিক জাপানে জন্মহার কমে যাওয়ার সঙ্গে এই প্রথার গুরুত্বের একটি নতুন মাত্রা তৈরি হয়েছে। অনেক পারিবারিক ব্যবসার মালিকের সন্তান থাকলেও ছেলে নেই। আবার নিজের সন্তান ব্যবসা পরিচালনায় আগ্রহী বা উপযুক্ত না-ও হতে পারেন।

তখন পরিবারের সামনে প্রশ্ন ওঠে—শত বছরের ব্যবসা কে চালাবে? উত্তর খুঁজতে গিয়ে কোনো কোনো পরিবার পুত্রসন্তান জন্মের অপেক্ষায় না থেকে একজন উপযুক্ত ‘জামাই’কেই বেছে নেয়। এমনকি উপযুক্ত প্রার্থী খুঁজে দেওয়ার জন্য জাপানে বিশেষ ম্যাচমেকিং সেবারও অস্তিত্ব রয়েছে।

এ নিয়ে জাপানে একটি প্রচলিত কথাও আছে—‘ছেলে তুমি বেছে নিতে পারো না, কিন্তু জামাই বেছে নিতে পারো।’

তবে সময়ের সঙ্গে ‘মুকোয়োশি’ নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। আধুনিক জাপানে নারীরা ব্যবসা, রাষ্ট্র ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ফলে শুধুমাত্র পুরুষ উত্তরাধিকারী খোঁজার পুরোনো ধারণা কতটা প্রয়োজনীয়, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।

তারপরও প্রথাটি পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি। কারও কাছে এটি একজন জামাইকে পরিবারের ছেলে করে নেওয়ার গল্প। কারও কাছে এটি শত বছরের ব্যবসাকে বাঁচিয়ে রাখার কৌশল। আবার কারও কাছে পরিবারের পদবি, সম্পদ ও উত্তরাধিকার পরবর্তী প্রজন্মের হাতে পৌঁছে দেওয়ার একটি ঐতিহাসিক ব্যবস্থা।

জাপানের ‘মুকোয়োশি’ তাই শুধু দত্তক নেওয়ার গল্প নয়। এর ভেতরে আছে বিয়ে, পরিবার, ব্যবসা, উত্তরাধিকার এবং বদলে যাওয়া সমাজের এক অদ্ভুত সহাবস্থানের গল্প।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৭০ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক ইভোনে ভিলদোসোলার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৩৩ পি.এম


৭০ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক ইভোনে ভিলদোসোলার

বয়স যে কেবলই একটি সংখ্যা, সেটি নতুন করে প্রমাণ করেছেন চিলির ইভোনে ভিলদোসোলা। ৭০ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক ঘটিয়ে ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়েছেন এই প্রবীণ ব্যাটার। আরও একটি বিশেষ বিষয় হলো, যে ম্যাচে তার আন্তর্জাতিক অভিষেক ঘটে, সেই ম্যাচে চিলির নারী ক্রিকেট দলের ‘লাস লোইকাস’ এর অধিনায়ক ছিলেন তার ১৬ বছর বয়সী নাতনি ক্যামিলা ওয়ারসে।

কোস্টারিকার বিপক্ষে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচে চিলির হয়ে ওপেনিংয়ে ব্যাট করতে নামেন ভিলদোসোলা। যদিও অভিষেক ম্যাচে রানের খাতা খোলার আগেই ফিরে যেতে হয়েছে তাকে, তবুও তার উপস্থিতিই ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সকে ছাপিয়ে গেছে।

৭০ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক ঘটিয়ে ভিলদোসোলা একটি অনন্য রেকর্ড গড়েছেন। তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সে অভিষেক করা খেলোয়াড় হিসেবে নতুন রেকর্ড স্থাপন করেছেন। সামগ্রিক পেশাদার ক্রিকেটের ইতিহাসে তার চেয়ে বেশি বয়সে অভিষেকের নজির খুবই বিরল। ১৯৫০-৫১ মৌসুমে ৭২ বছর বয়সে ভারতের রাজা মহারাজ সিং প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক করেছিলেন।

ভিলদোসোলার ক্রিকেটের যাত্রা খুব বেশি পুরোনো নয়। ২০১৯ সালে চিলির নিউবলে অঞ্চলে ‘লাস লোইকাস’ আয়োজন করেছিল একটি ‘মা-মেয়ে’ ক্রিকেট ইভেন্ট। তৎকালীন চিলি অধিনায়ক জ্যানেট গার্সেসের উদ্যোগে আয়োজিত সেই অনুষ্ঠানে ১৬ বছর বয়সী নাতনি ক্যামিলার অনুরোধে মাঠে উপস্থিত হয়েছিলেন ভিলদোসোলা।

তখন তার ক্রিকেট নিয়ে কোনো পরিকল্পনা ছিল না। তিনি ভেবেছিলেন, নাতনির বন্ধুদের জন্য রান্না করতেই হয়তো যেতে হবে। কিন্তু প্রথমবার ব্যাট হাতে নেওয়ার পরই তার ধারণা বদলে যায়। মেয়ে লরেতো ও নাতনি ক্যামিলার অনুপ্রেরণায় এরপর নিয়মিত ক্রিকেট অনুশীলন শুরু করেন তিনি।

নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে ভিলদোসোলা জানান, তার যৌবনের সময়ে বাস্কেটবল, ভলিবল কিংবা ফুটবল খেলাই বেশি প্রচলিত ছিল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তো দূরের কথা, কোনো খেলাতেই পেশাদার ক্যারিয়ার গড়ার কথা তিনি কখনো ভাবেননি। তবে শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকার আগ্রহ থেকেই খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন তিনি। তার কাছে জয়ের চেয়ে অংশগ্রহণই ছিল বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

বয়সের কারণে দলের তরুণ সতীর্থদের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সহজ নয় বলেও মজা করে জানিয়েছেন ভিলদোসোলা। তিনি বলেন, জয়েন্টের সমস্যার কারণে বোলিং করতে পারেন না, তাই ব্যাটিংই তার পছন্দ। তবে নিজের নাতনির অধিনায়কত্বে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সুযোগকে তিনি গর্ব ও মর্যাদার বিষয় হিসেবে দেখছেন।

নাতনি ও চিলিয়ার অধিনায়ক ক্যামিলা ওয়ারসের কাছেও অভিজ্ঞতাটি ছিল ব্যতিক্রমী। তিনি বলেন, তার নানি সবসময়ই চঞ্চল ছিলেন, কিন্তু কখনো ভাবেননি যে একদিন তিনি নানির সঙ্গে একই দলের সতীর্থ হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলবেন। মাঠে নানির উপস্থিতি দলের অন্য খেলোয়াড়দের জন্যও বড় অনুপ্রেরণা বলে মনে করেন ক্যামিলা।

নানিকে মাঠে নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টি কিছুটা অদ্ভুত লাগলেও নাতনির কাছে একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ম্যাচে খেলার অভিজ্ঞতাটি ছিল অসাধারণ আনন্দের।

চিলির স্থানীয় একটি পাখির নাম থেকে ‘লাস লোইকাস’ নামটি নেওয়া হয়েছে। সেই দলের জার্সি গায়ে ৭০ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভিলদোসোলার অভিষেক যেন আরও একবার মনে করিয়ে দিল, খেলার প্রতি ভালোবাসা থাকলে বয়স কখনোই বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না।

সূত্র: ক্রিকইনফো

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রধানমন্ত্রী: বিশ্বমানের পর্যটন শিল্প গড়ে তোলা সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার অগ্রাধিকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৩৪ পি.এম


প্রধানমন্ত্রী: বিশ্বমানের পর্যটন শিল্প গড়ে তোলা সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার অগ্রাধিকার

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর, পরিবেশবান্ধব ও বিশ্বমানের শিল্পে উন্নীত করা সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার অন্যতম অগ্রাধিকার।

তিনি এই মন্তব্য করেন রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ‘বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দেওয়া এক বাণীতে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, "পর্যটন শুধু অবকাশযাপনের সুযোগ নয়; এটি কর্মসংস্থান, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন, স্থানীয় অর্থনীতির বিকাশ এবং আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে বিশ্বে তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।" তাই বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর, পরিবেশবান্ধব ও বিশ্বমানের শিল্পে উন্নীত করা আমাদের উন্নয়ন পরিকল্পনার অন্যতম অগ্রাধিকার।

এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে, তিনি বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬ উপলক্ষে পর্যটনশিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান, বিনিয়োগকারী, পর্যটন পেশাজীবী ও উদ্যোক্তা, দেশ-বিদেশের পর্যটক এবং দেশের সর্বস্তরের পর্যটনপ্রেমীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

এ বছরের পর্যটন দিবসের প্রতিপাদ্য ‘ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় আগামীর পর্যটন’ পর্যটনের ভবিষ্যৎ রূপান্তরের দিকনির্দেশনা তুলে ধরে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বিগ ডেটা ও স্মার্ট প্রযুক্তি পর্যটনসেবা আরও ব্যাপক, সহজ, নিরাপদ ও ব্যক্তিকেন্দ্রীক করার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নির্বাচনি ইশতেহারে পর্যটনকে একটি আধুনিক ও ভূমি-সাশ্রয়ী সেবাখাত হিসেবে বিকশিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে জাতীয় পর্যটন মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন, প্রয়োজনীয় আইন ও নীতিমালার আধুনিকায়ন এবং পর্যটন ব্যবস্থাপনায় কাঠামোগত সংস্কারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বর্তমানে সরকার সব অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করে চলছে।

তিনি আরও বলেন, এরই অংশ হিসেবে দেশের নিজস্ব ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরে ৩০টিরও বেশি জেলায় পর্যটন ক্লাস্টার গড়ে তোলা হচ্ছে। পাশাপাশি কমিউনিটি, ইকো, গ্রামীণ, কুলিনারি, নদী ও উপকূলীয় পর্যটনের বিকাশ ঘটিয়ে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে পর্যটন অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করা হবে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের মাধ্যমে আধুনিক হোটেল, বিনোদনকেন্দ্র ও পর্যটন আকর্ষণ গড়ে তোলার কার্যক্রম বাস্তবায়নাধীন। ক্ষুদ্র ও মাঝারি পর্যায়ের পর্যটন ব্যবসা এবং নতুন পর্যটন স্টার্টআপের জন্য নীতিগত সহায়তা ও সহজ শর্তে ঋণের সুযোগ বাড়ানো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যটন সম্প্রসারণে ২০৩৪ সালের মধ্যে একটি বিস্তৃত জাতীয় বিমান যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে বাংলাদেশকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ বিমান চলাচল কেন্দ্রে পরিণত করার লক্ষ্য রয়েছে। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক পর্যটকদের বাংলাদেশে আসা-যাওয়া আরও সহজ করবে। উচ্চমূল্য সংযোজনকারী হোটেল, রেস্তোরাঁ ও বিনোদন কেন্দ্রসহ কম ভূমিনির্ভর সেবাখাতের প্রসারের মাধ্যমে সীমিত ভূমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা হচ্ছে।

তিনি উল্লেখ করেন, "আমাদের প্রত্যাশা, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে পর্যটনশিল্প ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলার জাতীয় লক্ষ্য পূরণে অবদান রাখবে।" একইসঙ্গে ডিজিটাল সংযোগ নারী, তরুণ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত হবে। পর্যটনের বিকাশ হতে হবে পরিবেশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। উপকূলীয় ও প্রাকৃতিক পর্যটনে জীববৈচিত্র্য রক্ষা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও কার্বন নিঃসরণ কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকার, বেসরকারি খাত, স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও তরুণ সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগে আমরা বাংলাদেশকে একটি নিরাপদ, টেকসই, প্রযুক্তিনির্ভর ও বিশ্বমানের পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।

সবশেষে, প্রধানমন্ত্রী ‘বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে গৃহীত সব কর্মসূচির সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%