রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:৩৩ পি.এম
জাপানে একটি দীর্ঘকালীন সামাজিক ও আইনি প্রথা বিদ্যমান, যেখানে মেয়ের স্বামীকে দত্তক নিয়ে পরিবারের ছেলে ও উত্তরসূরি হিসেবে গড়ে তোলা হয়। এই প্রথার নাম ‘মুকোয়োশি’, যা বাংলায় ‘দত্তক ঘরজামাই’ হিসেবে পরিচিত।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দত্তক নেওয়ার মাধ্যমে শিশুকে নতুন পরিবারে বড় করে তোলার ধারণা প্রচলিত। কিন্তু জাপানে প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের দত্তক নেওয়ার রীতি বেশ সাধারণ। বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশটির মোট দত্তকের ৯০ শতাংশের বেশি প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষকে নিয়ে গঠিত।
সাধারণত ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সী তরুণদের এভাবে পরিবারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে এর পিছনে শুধুমাত্র পারিবারিক আবেগ নয়, বরং ভবিষ্যতের হিসাব-নিকাশও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়।
জাপানে অনেক পুরনো ব্যবসা এখনও পারিবারিক মালিকানায় পরিচালিত হচ্ছে। কোনো পরিবারে ছেলে না থাকলে কিংবা পরিবারের নিজ সন্তানকে ব্যবসার উত্তরসূরি হিসেবে উপযুক্ত মনে না হলে তারা একজন যোগ্য পুরুষকে দত্তক নিতে পারে।
যদি সেই ব্যক্তি মেয়ের স্বামী হন, তাহলে বিষয়টি আরও সহজ হয়ে যায়। বিয়ের পর তাকে দত্তক নেওয়া হলে তিনি শ্বশুরবাড়ির পদবি গ্রহণ করেন। ধীরে ধীরে পরিবারের ব্যবসা, সম্পদ এবং উত্তরাধিকারও তার হাতে চলে আসতে পারে।
অর্থাৎ, সম্পর্কটি শুধুমাত্র ‘জামাই’তে সীমাবদ্ধ থাকে না। তিনি পরিবারের একজন সদস্য হয়ে ওঠেন—অনেক ক্ষেত্রে পরবর্তী কর্তা।
‘মুকোয়োশি’র পেছনে অন্যতম প্রধান বিষয় হলো ধারাবাহিকতা। পরিবারের পদবি যেন হারিয়ে না যায়, ব্যবসার নেতৃত্ব যেন পরিবারের বাইরে চলে না যায় এবং বহু বছরের প্রতিষ্ঠান যেন পরবর্তী প্রজন্মেও টিকে থাকে—এই তিনটি বিষয় একসঙ্গে ধরে রাখার পথ হিসেবেই প্রথাটি ব্যবহৃত হয়েছে।
জাপানি সমাজে ঐতিহ্যগতভাবে বিয়ের পর স্ত্রী স্বামীর পদবি গ্রহণ করেন। ফলে কোনো পরিবারে ছেলে না থাকলে পরিবারের পদবি টিকিয়ে রাখার প্রশ্ন দেখা দেয়। মেয়ের স্বামীকে দত্তক নিয়ে তাকে পরিবারের পদবি দেওয়ার মাধ্যমে সেই সমস্যার সমাধান করা হয়।
এভাবে একজন জামাই একই সঙ্গে হয়ে ওঠেন পরিবারের ছেলে, ব্যবসার উত্তরসূরি এবং বংশের নাম বহনকারী।
জাপানের বড় ব্যবসার ইতিহাসে ‘মুকোয়োশি’র প্রভাব রয়েছে। সুজুকি মোটর করপোরেশনের নেতৃত্বে একাধিকবার দত্তক পুত্রের আগমন ঘটেছে। প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘদিনের প্রধান ওসামু সুজুকিও ছিলেন এই প্রথায় পরিবারে আসা একজন দত্তক ঘরজামাই।
নিনটেনডো, কিক্কোমান ও টয়োটার মতো জাপানি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও বিভিন্ন সময়ে এই ধরনের উত্তরাধিকার ব্যবস্থার সম্পর্ক দেখা গেছে।
ফলে, জাপানের কিছু বিখ্যাত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের দীর্ঘস্থায়ী পারিবারিক ধারাবাহিকতার পেছনে রয়েছে এই অদ্ভুত অথচ কার্যকর সামাজিক রীতি।
‘মুকোয়োশি’র ব্যবহার ব্যবসার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। উত্তরাধিকার পরিকল্পনার ক্ষেত্রেও প্রাপ্তবয়স্ক কাউকে দত্তক নেওয়ার ঘটনা রয়েছে। বিশেষ করে নিঃসন্তান দম্পতিরা ভবিষ্যতে সম্পদ কার হাতে যাবে, সেটি নিশ্চিত করতে এই পথ বেছে নিতে পারেন।
দত্তক প্রক্রিয়াটি জাপানের সরকারি পারিবারিক নথি ‘কোসেকি’-তে নিবন্ধিত হয়। দত্তক সম্পন্ন হওয়ার পর ওই ব্যক্তি নতুন পরিবারের পদবি গ্রহণ করেন এবং জন্মসন্তানের মতোই উত্তরাধিকার ও পারিবারিক দায়িত্ব পান।
তবে এর সঙ্গে দায়িত্বও আসে। পরিবারের বয়স্ক সদস্যদের দেখাশোনার দায়িত্বও দত্তক নেওয়া সন্তানের ওপর বর্তাতে পারে।
প্রশ্ন উঠতে পারে, এই ব্যবস্থায় কি বিদেশিদেরও জায়গা আছে?
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাপানে দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের অনুমতি থাকা বিদেশিরা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে দত্তক হতে পারেন। তবে কিছু ক্ষেত্রে আদালতের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়।
অর্থাৎ, কোনো বাংলাদেশি ব্যক্তি শর্ত পূরণ করলে জাপানি পরিবারের প্রাপ্তবয়স্ক দত্তক সন্তান হতে পারেন। তবে দত্তক হলেই জাপানের নাগরিকত্ব বা ভিসা পাওয়া যায় না। সেগুলোর জন্য আলাদা আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে।
জন্মহার কমছে, গুরুত্ব বাড়ছে উত্তরাধিকারীর। আধুনিক জাপানে জন্মহার কমে যাওয়ার সঙ্গে এই প্রথার গুরুত্বের একটি নতুন মাত্রা তৈরি হয়েছে। অনেক পারিবারিক ব্যবসার মালিকের সন্তান থাকলেও ছেলে নেই। আবার নিজের সন্তান ব্যবসা পরিচালনায় আগ্রহী বা উপযুক্ত না-ও হতে পারেন।
তখন পরিবারের সামনে প্রশ্ন ওঠে—শত বছরের ব্যবসা কে চালাবে? উত্তর খুঁজতে গিয়ে কোনো কোনো পরিবার পুত্রসন্তান জন্মের অপেক্ষায় না থেকে একজন উপযুক্ত ‘জামাই’কেই বেছে নেয়। এমনকি উপযুক্ত প্রার্থী খুঁজে দেওয়ার জন্য জাপানে বিশেষ ম্যাচমেকিং সেবারও অস্তিত্ব রয়েছে।
এ নিয়ে জাপানে একটি প্রচলিত কথাও আছে—‘ছেলে তুমি বেছে নিতে পারো না, কিন্তু জামাই বেছে নিতে পারো।’
তবে সময়ের সঙ্গে ‘মুকোয়োশি’ নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। আধুনিক জাপানে নারীরা ব্যবসা, রাষ্ট্র ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ফলে শুধুমাত্র পুরুষ উত্তরাধিকারী খোঁজার পুরোনো ধারণা কতটা প্রয়োজনীয়, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।
তারপরও প্রথাটি পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি। কারও কাছে এটি একজন জামাইকে পরিবারের ছেলে করে নেওয়ার গল্প। কারও কাছে এটি শত বছরের ব্যবসাকে বাঁচিয়ে রাখার কৌশল। আবার কারও কাছে পরিবারের পদবি, সম্পদ ও উত্তরাধিকার পরবর্তী প্রজন্মের হাতে পৌঁছে দেওয়ার একটি ঐতিহাসিক ব্যবস্থা।
জাপানের ‘মুকোয়োশি’ তাই শুধু দত্তক নেওয়ার গল্প নয়। এর ভেতরে আছে বিয়ে, পরিবার, ব্যবসা, উত্তরাধিকার এবং বদলে যাওয়া সমাজের এক অদ্ভুত সহাবস্থানের গল্প।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বয়স যে কেবলই একটি সংখ্যা, সেটি নতুন করে প্রমাণ করেছেন চিলির ইভোনে ভিলদোসোলা। ৭০ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক ঘটিয়ে ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়েছেন এই প্রবীণ ব্যাটার। আরও একটি বিশেষ বিষয় হলো, যে ম্যাচে তার আন্তর্জাতিক অভিষেক ঘটে, সেই ম্যাচে চিলির নারী ক্রিকেট দলের ‘লাস লোইকাস’ এর অধিনায়ক ছিলেন তার ১৬ বছর বয়সী নাতনি ক্যামিলা ওয়ারসে।
কোস্টারিকার বিপক্ষে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচে চিলির হয়ে ওপেনিংয়ে ব্যাট করতে নামেন ভিলদোসোলা। যদিও অভিষেক ম্যাচে রানের খাতা খোলার আগেই ফিরে যেতে হয়েছে তাকে, তবুও তার উপস্থিতিই ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সকে ছাপিয়ে গেছে।
৭০ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক ঘটিয়ে ভিলদোসোলা একটি অনন্য রেকর্ড গড়েছেন। তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সে অভিষেক করা খেলোয়াড় হিসেবে নতুন রেকর্ড স্থাপন করেছেন। সামগ্রিক পেশাদার ক্রিকেটের ইতিহাসে তার চেয়ে বেশি বয়সে অভিষেকের নজির খুবই বিরল। ১৯৫০-৫১ মৌসুমে ৭২ বছর বয়সে ভারতের রাজা মহারাজ সিং প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক করেছিলেন।
ভিলদোসোলার ক্রিকেটের যাত্রা খুব বেশি পুরোনো নয়। ২০১৯ সালে চিলির নিউবলে অঞ্চলে ‘লাস লোইকাস’ আয়োজন করেছিল একটি ‘মা-মেয়ে’ ক্রিকেট ইভেন্ট। তৎকালীন চিলি অধিনায়ক জ্যানেট গার্সেসের উদ্যোগে আয়োজিত সেই অনুষ্ঠানে ১৬ বছর বয়সী নাতনি ক্যামিলার অনুরোধে মাঠে উপস্থিত হয়েছিলেন ভিলদোসোলা।
তখন তার ক্রিকেট নিয়ে কোনো পরিকল্পনা ছিল না। তিনি ভেবেছিলেন, নাতনির বন্ধুদের জন্য রান্না করতেই হয়তো যেতে হবে। কিন্তু প্রথমবার ব্যাট হাতে নেওয়ার পরই তার ধারণা বদলে যায়। মেয়ে লরেতো ও নাতনি ক্যামিলার অনুপ্রেরণায় এরপর নিয়মিত ক্রিকেট অনুশীলন শুরু করেন তিনি।
নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে ভিলদোসোলা জানান, তার যৌবনের সময়ে বাস্কেটবল, ভলিবল কিংবা ফুটবল খেলাই বেশি প্রচলিত ছিল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তো দূরের কথা, কোনো খেলাতেই পেশাদার ক্যারিয়ার গড়ার কথা তিনি কখনো ভাবেননি। তবে শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকার আগ্রহ থেকেই খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন তিনি। তার কাছে জয়ের চেয়ে অংশগ্রহণই ছিল বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
বয়সের কারণে দলের তরুণ সতীর্থদের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সহজ নয় বলেও মজা করে জানিয়েছেন ভিলদোসোলা। তিনি বলেন, জয়েন্টের সমস্যার কারণে বোলিং করতে পারেন না, তাই ব্যাটিংই তার পছন্দ। তবে নিজের নাতনির অধিনায়কত্বে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সুযোগকে তিনি গর্ব ও মর্যাদার বিষয় হিসেবে দেখছেন।
নাতনি ও চিলিয়ার অধিনায়ক ক্যামিলা ওয়ারসের কাছেও অভিজ্ঞতাটি ছিল ব্যতিক্রমী। তিনি বলেন, তার নানি সবসময়ই চঞ্চল ছিলেন, কিন্তু কখনো ভাবেননি যে একদিন তিনি নানির সঙ্গে একই দলের সতীর্থ হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলবেন। মাঠে নানির উপস্থিতি দলের অন্য খেলোয়াড়দের জন্যও বড় অনুপ্রেরণা বলে মনে করেন ক্যামিলা।
নানিকে মাঠে নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টি কিছুটা অদ্ভুত লাগলেও নাতনির কাছে একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ম্যাচে খেলার অভিজ্ঞতাটি ছিল অসাধারণ আনন্দের।
চিলির স্থানীয় একটি পাখির নাম থেকে ‘লাস লোইকাস’ নামটি নেওয়া হয়েছে। সেই দলের জার্সি গায়ে ৭০ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভিলদোসোলার অভিষেক যেন আরও একবার মনে করিয়ে দিল, খেলার প্রতি ভালোবাসা থাকলে বয়স কখনোই বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না।
সূত্র: ক্রিকইনফো
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর, পরিবেশবান্ধব ও বিশ্বমানের শিল্পে উন্নীত করা সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার অন্যতম অগ্রাধিকার।
তিনি এই মন্তব্য করেন রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ‘বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দেওয়া এক বাণীতে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, "পর্যটন শুধু অবকাশযাপনের সুযোগ নয়; এটি কর্মসংস্থান, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন, স্থানীয় অর্থনীতির বিকাশ এবং আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে বিশ্বে তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।" তাই বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর, পরিবেশবান্ধব ও বিশ্বমানের শিল্পে উন্নীত করা আমাদের উন্নয়ন পরিকল্পনার অন্যতম অগ্রাধিকার।
এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে, তিনি বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬ উপলক্ষে পর্যটনশিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান, বিনিয়োগকারী, পর্যটন পেশাজীবী ও উদ্যোক্তা, দেশ-বিদেশের পর্যটক এবং দেশের সর্বস্তরের পর্যটনপ্রেমীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।
এ বছরের পর্যটন দিবসের প্রতিপাদ্য ‘ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় আগামীর পর্যটন’ পর্যটনের ভবিষ্যৎ রূপান্তরের দিকনির্দেশনা তুলে ধরে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বিগ ডেটা ও স্মার্ট প্রযুক্তি পর্যটনসেবা আরও ব্যাপক, সহজ, নিরাপদ ও ব্যক্তিকেন্দ্রীক করার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নির্বাচনি ইশতেহারে পর্যটনকে একটি আধুনিক ও ভূমি-সাশ্রয়ী সেবাখাত হিসেবে বিকশিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে জাতীয় পর্যটন মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন, প্রয়োজনীয় আইন ও নীতিমালার আধুনিকায়ন এবং পর্যটন ব্যবস্থাপনায় কাঠামোগত সংস্কারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বর্তমানে সরকার সব অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করে চলছে।
তিনি আরও বলেন, এরই অংশ হিসেবে দেশের নিজস্ব ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরে ৩০টিরও বেশি জেলায় পর্যটন ক্লাস্টার গড়ে তোলা হচ্ছে। পাশাপাশি কমিউনিটি, ইকো, গ্রামীণ, কুলিনারি, নদী ও উপকূলীয় পর্যটনের বিকাশ ঘটিয়ে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে পর্যটন অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করা হবে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের মাধ্যমে আধুনিক হোটেল, বিনোদনকেন্দ্র ও পর্যটন আকর্ষণ গড়ে তোলার কার্যক্রম বাস্তবায়নাধীন। ক্ষুদ্র ও মাঝারি পর্যায়ের পর্যটন ব্যবসা এবং নতুন পর্যটন স্টার্টআপের জন্য নীতিগত সহায়তা ও সহজ শর্তে ঋণের সুযোগ বাড়ানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যটন সম্প্রসারণে ২০৩৪ সালের মধ্যে একটি বিস্তৃত জাতীয় বিমান যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে বাংলাদেশকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ বিমান চলাচল কেন্দ্রে পরিণত করার লক্ষ্য রয়েছে। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক পর্যটকদের বাংলাদেশে আসা-যাওয়া আরও সহজ করবে। উচ্চমূল্য সংযোজনকারী হোটেল, রেস্তোরাঁ ও বিনোদন কেন্দ্রসহ কম ভূমিনির্ভর সেবাখাতের প্রসারের মাধ্যমে সীমিত ভূমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা হচ্ছে।
তিনি উল্লেখ করেন, "আমাদের প্রত্যাশা, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে পর্যটনশিল্প ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলার জাতীয় লক্ষ্য পূরণে অবদান রাখবে।" একইসঙ্গে ডিজিটাল সংযোগ নারী, তরুণ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত হবে। পর্যটনের বিকাশ হতে হবে পরিবেশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। উপকূলীয় ও প্রাকৃতিক পর্যটনে জীববৈচিত্র্য রক্ষা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও কার্বন নিঃসরণ কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকার, বেসরকারি খাত, স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও তরুণ সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগে আমরা বাংলাদেশকে একটি নিরাপদ, টেকসই, প্রযুক্তিনির্ভর ও বিশ্বমানের পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।
সবশেষে, প্রধানমন্ত্রী ‘বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে গৃহীত সব কর্মসূচির সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির পাশাপাশি কিছু এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ও সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দেশের কোথাও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, রোববার ও সোমবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এই সময়ে দেশের কোথাও ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা নেই।
রোববার সারা দেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে সোমবার দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সময়ে বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। এদিন সারা দেশে তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ময়মনসিংহ, ঢাকা ও খুলনা বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। দেশের অন্যান্য স্থানে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। এদিন দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকলেও রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এদিন চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি সারা দেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী পাঁচ দিনে বৃষ্টির প্রবণতা থাকলেও অঞ্চলভেদে এর মাত্রায় পার্থক্য থাকবে। বিশেষ করে মঙ্গলবার বরিশাল ও চট্টগ্রাম এবং বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় কলা অন্তর্ভুক্ত করেন অনেক মানুষ। পুষ্টিগুণের কারণে নিয়মিত কলা খাওয়ার অভ্যাস অনেকের মধ্যে বিদ্যমান। কিন্তু বাজার থেকে কলা কেনার সময় এটি প্রাকৃতিকভাবে পেকেছে, নাকি কৃত্রিম উপায়ে পাকানো হয়েছে—এ নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে।
তবে কলার খোসা বা ডাঁটার রং দেখে নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয় যে রাসায়নিক দিয়ে পাকানো হয়েছে কি না। অনেক সময় প্রাকৃতিকভাবে পাকানো কলার রংও অসমান হতে পারে। সংরক্ষণ, পরিবহণ ও তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে এ ধরনের অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে। তাই নির্দিষ্ট কোনো রং দেখে কলাকে রাসায়নিক দিয়ে পাকানো হয়েছে বলে ধরে নেওয়া সঠিক নয়।
সাধারণত কলা পুরোপুরি পাকা অবস্থায় বাজারে আসে না। কাঁচা কলা সংগ্রহ করার পর নির্দিষ্ট পরিবেশে পাকানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এর ফলে পরিবহণ ও সংরক্ষণ সহজ হয়। কলা পাকানোর প্রক্রিয়া দ্রুততর করতে কিছু অনুমোদিত পদ্ধতি ব্যবহার করা যেতে পারে।
এর মধ্যে ইথাইলিন গ্যাস অন্যতম। ফল নিজেই প্রাকৃতিকভাবে ইথাইলিন তৈরি করে, যা ফল পাকতে সহায়তা করে। বাইরের ইথাইলিন ব্যবহার করলে ফলের স্বাভাবিক পাকানোর প্রক্রিয়া দ্রুত করা সম্ভব। অনুমোদিত পদ্ধতিতে কলা পাকানো হলে তা নিরাপদ বলে বিবেচিত হয়।
তবে নিষিদ্ধ কোনো উপাদান ব্যবহার করা হলে সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। কৃত্রিমভাবে ফল পাকানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে আলোচিত উপাদান হলো ক্যালশিয়াম কার্বাইড। ভারতে ফল পাকাতে এর ব্যবহার নিষিদ্ধ, কারণ এটি বিভিন্ন ধরনের শারীরিক সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। নিষিদ্ধ হওয়ার পর এর ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।
কলার কেনার সময় তাই শুধু রং নয়, আরও কিছু বিষয় খেয়াল করা উচিত। প্রাকৃতিকভাবে পাকা কলা সাধারণত মিষ্টি গন্ধযুক্ত হয়। অন্যদিকে, কৃত্রিমভাবে পাকানো কলায় গন্ধ তুলনামূলকভাবে কম থাকতে পারে।
আবার কলার পুরো খোসা হলুদ হলেও যদি সেটি বাইরে থেকে অস্বাভাবিকভাবে শক্ত মনে হয়, তাহলে সতর্ক হওয়া উচিত। খুব বেশি উজ্জ্বল রঙের কলা না কেনাই ভালো। কলা বা অন্য কোনো ফলে অস্বাভাবিক রাসায়নিকের গন্ধ পাওয়া গেলে সেটিও না কেনা নিরাপদ।
বাজার থেকে কলা কেনার সময় বিশ্বস্ত বিক্রেতার কাছ থেকে ফল কেনার পরামর্শ দেওয়া হয়। বাড়িতে আনার পর যদি দেখা যায় কলা অস্বাভাবিকভাবে বেশি পেকে গেছে, তাহলে সেটি না খাওয়াই ভালো।
খাওয়ার আগে কলা পরিষ্কার পানিতে ভালোভাবে ধোয়া জরুরি। তবে মনে রাখতে হবে, শুধু কলার রং, গন্ধ বা ডাঁটার চেহারা দেখে এটি রাসায়নিক দিয়ে পাকানো কি না, তা নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করা সম্ভব নয়। তাই ফল কেনার সময় সামগ্রিকভাবে এর চেহারা, গঠন ও গন্ধ দেখে এবং বিশ্বস্ত বিক্রেতার কাছ থেকে কেনাই সবচেয়ে সতর্ক পদ্ধতি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ