প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর, পরিবেশবান্ধব ও বিশ্বমানের শিল্পে উন্নীত করা সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার অন্যতম অগ্রাধিকার।
তিনি এই মন্তব্য করেন রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ‘বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দেওয়া এক বাণীতে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, "পর্যটন শুধু অবকাশযাপনের সুযোগ নয়; এটি কর্মসংস্থান, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন, স্থানীয় অর্থনীতির বিকাশ এবং আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে বিশ্বে তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।" তাই বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর, পরিবেশবান্ধব ও বিশ্বমানের শিল্পে উন্নীত করা আমাদের উন্নয়ন পরিকল্পনার অন্যতম অগ্রাধিকার।
এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে, তিনি বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬ উপলক্ষে পর্যটনশিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান, বিনিয়োগকারী, পর্যটন পেশাজীবী ও উদ্যোক্তা, দেশ-বিদেশের পর্যটক এবং দেশের সর্বস্তরের পর্যটনপ্রেমীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।
এ বছরের পর্যটন দিবসের প্রতিপাদ্য ‘ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় আগামীর পর্যটন’ পর্যটনের ভবিষ্যৎ রূপান্তরের দিকনির্দেশনা তুলে ধরে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বিগ ডেটা ও স্মার্ট প্রযুক্তি পর্যটনসেবা আরও ব্যাপক, সহজ, নিরাপদ ও ব্যক্তিকেন্দ্রীক করার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নির্বাচনি ইশতেহারে পর্যটনকে একটি আধুনিক ও ভূমি-সাশ্রয়ী সেবাখাত হিসেবে বিকশিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে জাতীয় পর্যটন মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন, প্রয়োজনীয় আইন ও নীতিমালার আধুনিকায়ন এবং পর্যটন ব্যবস্থাপনায় কাঠামোগত সংস্কারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বর্তমানে সরকার সব অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করে চলছে।
তিনি আরও বলেন, এরই অংশ হিসেবে দেশের নিজস্ব ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরে ৩০টিরও বেশি জেলায় পর্যটন ক্লাস্টার গড়ে তোলা হচ্ছে। পাশাপাশি কমিউনিটি, ইকো, গ্রামীণ, কুলিনারি, নদী ও উপকূলীয় পর্যটনের বিকাশ ঘটিয়ে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে পর্যটন অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করা হবে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের মাধ্যমে আধুনিক হোটেল, বিনোদনকেন্দ্র ও পর্যটন আকর্ষণ গড়ে তোলার কার্যক্রম বাস্তবায়নাধীন। ক্ষুদ্র ও মাঝারি পর্যায়ের পর্যটন ব্যবসা এবং নতুন পর্যটন স্টার্টআপের জন্য নীতিগত সহায়তা ও সহজ শর্তে ঋণের সুযোগ বাড়ানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যটন সম্প্রসারণে ২০৩৪ সালের মধ্যে একটি বিস্তৃত জাতীয় বিমান যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে বাংলাদেশকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ বিমান চলাচল কেন্দ্রে পরিণত করার লক্ষ্য রয়েছে। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক পর্যটকদের বাংলাদেশে আসা-যাওয়া আরও সহজ করবে। উচ্চমূল্য সংযোজনকারী হোটেল, রেস্তোরাঁ ও বিনোদন কেন্দ্রসহ কম ভূমিনির্ভর সেবাখাতের প্রসারের মাধ্যমে সীমিত ভূমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা হচ্ছে।
তিনি উল্লেখ করেন, "আমাদের প্রত্যাশা, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে পর্যটনশিল্প ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলার জাতীয় লক্ষ্য পূরণে অবদান রাখবে।" একইসঙ্গে ডিজিটাল সংযোগ নারী, তরুণ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত হবে। পর্যটনের বিকাশ হতে হবে পরিবেশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। উপকূলীয় ও প্রাকৃতিক পর্যটনে জীববৈচিত্র্য রক্ষা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও কার্বন নিঃসরণ কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকার, বেসরকারি খাত, স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও তরুণ সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগে আমরা বাংলাদেশকে একটি নিরাপদ, টেকসই, প্রযুক্তিনির্ভর ও বিশ্বমানের পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।
সবশেষে, প্রধানমন্ত্রী ‘বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে গৃহীত সব কর্মসূচির সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন