০৮:০৮ পি.এম
ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ডিএমসি) ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং ‘ডিএমসি-ডে ২০২৬’-এর অনুষ্ঠানে, প্রতিষ্ঠানটিকে একটি বিশ্বমানের অ্যাকাডেমিক মেডিকেল সেন্টারে রূপান্তরিত করা এবং দেশের সার্বিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার আধুনিকীকরণের উদ্দেশ্যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে একটি ঐতিহাসিক স্মারকলিপি পেশ করা হয়েছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজের কে-৪৬ ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও পপুলার মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. এ কে এম মহিউদ্দিন ভূঁইয়া মাসুমের পক্ষ থেকে স্মারকলিপিটি দেওয়া হয়। তিনি এটি তার ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করেন। দীর্ঘ স্মারকলিপিতে ২০২৬ থেকে ২০৩৬ সাল পর্যন্ত একটি ১০ বছর মেয়াদি ‘জাতীয় মহাপরিকল্পনা’ গ্রহণের জন্য জোর দাবি জানানো হয়েছে।
শনিবার (১১ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর ডিএমসিতে আগমন উপলক্ষে এই আবেদনটি পেশ করা হয়।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
স্মারকলিপির প্রধান দাবি ও মহাপরিকল্পনার মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও দেশের স্বাস্থ্য খাতের আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে ১৫টি সুনির্দিষ্ট ক্ষেত্র ও দফা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে-
• মেঝেতে চিকিৎসা সম্পূর্ণ বন্ধ ও সম্প্রসারণ: হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করা এবং নিশ্চিত করা যে কোনও রোগীকে মেঝেতে চিকিৎসা নিতে না হয়। এছাড়া নতুন সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল, ট্রমা সেন্টার, স্ট্রোক সেন্টার এবং ন্যাশনাল কার্ডিয়াক সেন্টার নির্মাণের প্রস্তাব রয়েছে।
• অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও কার্ডিয়াক সেবা: হাইব্রিড ও মডুলার অপারেশন থিয়েটার (ওটি) স্থাপন, বিকল থাকা ক্যাথ ল্যাব দ্রুত সচল করা এবং ২৪ ঘণ্টা ‘প্রাইমারি পিসিআই’ সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
• সমন্বিত একিউট কেয়ার সিস্টেম: জরুরি বিভাগ, আইসিইউ, কার্ডিওলজি ও ট্রমা বিভাগের মধ্যে সহজলভ্য সমন্বয় করে দেশের প্রতিটি সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে সমন্বিত জরুরি সেবা ব্যবস্থা চালু করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় প্রশাসনের তৎপরতা: বিভাগীয় কমিশনার
• ডিজিটাল ও পেপারলেস হাসপাতাল: ইলেকট্রনিক মেডিকেল রেকর্ড (ইএমআর), ডিজিটাল প্রেসক্রিপশন ও এআই অ্যাসিস্টেড ক্লিনিক্যাল ডিসিশন সাপোর্ট সিস্টেম চালুর মাধ্যমে ডিএমসিকে ডিজিটাল হাসপাতালে রূপান্তরিত করার প্রস্তাব এসেছে।
• পূর্ণাঙ্গ হেলথ সায়েন্সেস ইউনিভার্সিটি: ঢাকা মেডিকেল কলেজকে একটি পূর্ণাঙ্গ হেলথ সায়েন্সেস ইউনিভার্সিটিতে উন্নীত করা এবং আন্তর্জাতিক মানের রিসার্চ ইনস্টিটিউট স্থাপনের জন্য দাবি এসেছে।
• চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা: শিক্ষার্থী ও রেসিডেন্ট চিকিৎসকদের জন্য নিরাপদ আবাসন (হোস্টেল), ২৪ ঘণ্টা রিডিং রুম, গবেষণা অনুদান ও নিরাপদ যাতায়াত ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্যও বিপুল দাবি রাখা হয়েছে।
• চিকিৎসকদের নিরাপত্তা ও সুশাসন: হাসপাতালকে সহিংসতামুক্ত ঘোষণা করা এবং চিকিৎসকদের ওপর হামলার বিরুদ্ধে কার্যকর আইন প্রণয়ন করা সুনিশ্চিত করা উচিত এবং দালালমুক্ত হাসপাতালের নিশ্চয়তা প্রদান করা প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, প্রতিদিন গড়ে ৬ থেকে ৮ হাজার মানুষ দেশের এই সর্ববৃহৎ সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নেন। কিন্তু অতিরিক্ত রোগীর চাপ, জনবল সংকট ও আধুনিক প্রযুক্তির অভাবের কারণে, প্রতিষ্ঠানটি তার পূর্ণ সক্ষমতা প্রকাশ করতে পারছে না।
অধ্যাপক ডা. এ কে এম মহিউদ্দিন ভূঁইয়া মাসুম স্মারকলিপিতে উল্লেখ করেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ শুধুই একটি প্রতিষ্ঠান নয়, এটি বাংলাদেশের চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রতীক। প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বের মাধ্যমে এই ১০ বছর মেয়াদি মহাপরিকল্পনা (২০২৬-২০৩৬) বাস্তবায়িত হলে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ শুধু বাংলাদেশ নয়, সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ায় অন্যতম সেরা চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা ও মানবসেবার প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে।
ডিএমসির ৮১ বছরের গৌরবময় ঐতিহ্যকে ধারণ করে, দেশের স্বাস্থ্য বাজেট বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্য খাতের এই বৈপ্লবিক সংস্কারে প্রধানমন্ত্রীর সদয় ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে পরিত্যক্ত গোডাউনে আগুন, ৫ লাখ টাকার সম্পদ উদ্ধার
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন