প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বিশ্বকাপের মঞ্চে একটি গোলের সুযোগ হাতছাড়া করার পর, ফলস্বরূপ প্রাণনাশের হুমকির মুখে পড়েছেন কলম্বিয়ার ফরোয়ার্ড হামিন্তন কাম্পাজ। এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি সামাজিক মাধ্যমে।
ইনস্টাগ্রামে দেওয়া একটি বার্তায় কাম্পাজ বলেছেন, ফুটবলে কঠিন মুহূর্ত আসে। তিনি প্রিয় দেশ কলম্বিয়াকে অনুরোধ করেছেন, দয়া করে কখনো শ্রদ্ধাবোধ হারিয়ে ফেলবেন না। আমাদের মতামত ভিন্ন হতে পারে অথবা হতাশা ও দুঃখ অনুভব করতে পারি, তবে কোন আবেগই ঘৃণা ছড়ানো বা ভয়ে বেঁচে থাকার যৌক্তিকতা দেয় না।
ঘটনাটি প্রকাশের পর কাম্পাজের পাশে দাঁড়িয়েছে কলম্বিয়ান ফুটবল ফেডারেশন। তারা একটি বিবৃতিতে দ্রুত হুমকিদাতাদের শনাক্ত করে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
ফেডারেশন জানিয়েছে, দেশের হয়ে খেলার কারণে কোনো খেলোয়াড় বা তার পরিবারকে ভয়ভীতি দেখানো বা হুমকি দেওয়া মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। ফুটবল হওয়া উচিত ঐক্য, সম্মান এবং আশার জায়গা, কখনোই ঘৃণা, ভয়ভীতি বা সহিংসতার আবহ নয়।
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে, সুইজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত সময়ের ১১৫তম মিনিটে ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সুযোগটি পেয়েছিলেন কাম্পাজ। গোলরক্ষককে একা পেয়েও তিনি বলটি বারের উপরে মেরে ফেলেন। পরে ম্যাচটি টাইব্রেকারে গড়ায়, যেখানে তিনি নিজে গোল করার পরও কলম্বিয়া ৪-৩ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয়।
এই ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাম্পাজ ব্যাপক সমালোচনার পাশাপাশি মৃত্যুর হুমকির মুখে পড়েন।
এই ঘটনার ফলে অনেকের মনে ফিরে এসেছে ১৯৯৪ বিশ্বকাপের সেই মর্মান্তিক অধ্যায়। ওইবার যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আত্মঘাতী গোল করার কারণে কলম্বিয়ার ডিফেন্ডার আন্দ্রেস এসকোবার সমালোচনার শিকার হন। বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর দেশে ফিরে এসকোবারকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল, যা ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম দুঃখজনক ঘটনা বলে বিবেচিত।
কাম্পাজের সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে যে ফুটবল একটি আবেগের খেলা হলেও, সেই আবেগ কখনোই সহিংসতা বা প্রাণনাশের হুমকিতে রূপান্তরিত হওয়া উচিত নয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন