শনিবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:৪০ পি.এম
দেশে সরকারি চাকরির জন্য প্রতিযোগিতার তীব্রতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বেসরকারি খাতে চাকরির সুযোগ সংকুচিত হওয়ায় চাকরিপ্রার্থীদের মূল মনোযোগ এখন সরকারি খাতের দিকে কেন্দ্রীভূত হয়েছে।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের সর্বশেষ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে এই প্রবণতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। ১ হাজার ৪৮৫টি শূন্য পদের বিপরীতে ২১ লাখেরও বেশি প্রার্থী আবেদন করেছেন। এত বিপুলসংখ্যক প্রার্থীর চাপ সামাল দিতে পরীক্ষার আয়োজন করতে কর্তৃপক্ষ হিমশিম খাচ্ছে।
অর্থনীতিবিদরা শ্রমবাজারের এই ভয়াবহ পরিস্থিতি সম্পর্কে আগেই সতর্ক করেছিলেন। গত বছরের আগস্টে প্রকাশিত একটি গবেষণায় কর্মসংস্থানের এই দশাকে ‘কর্মসংস্থান জরুরি অবস্থা’ হিসেবে চিহ্নিত করে পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান মন্তব্য করেছিলেন, বাংলাদেশের বেকারত্ব পরিস্থিতি এখন মহামারি আকার ধারণ করেছে।
এক বছর পেরিয়ে গেলেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি দেখা যায়নি। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলও সম্প্রতি জানিয়েছে, বাংলাদেশে উচ্চমাধ্যমিকোত্তর বা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ডিগ্রিধারী তরুণদের প্রায় ৩৬ শতাংশই বেকার। এই বাস্তবতায় সরকারি খাতের সীমিত ও নিশ্চিত চাকরির জন্য চাকরিপ্রার্থীদের লড়াই যে কতটা তীব্র, তা সমাজসেবা অধিদপ্তরের আবেদনসংখ্যা থেকেই স্পষ্ট।
সমাজসেবা অধিদপ্তর গত মে মাসে ১৩ থেকে ২০তম গ্রেডের ৫২ ক্যাটাগরিতে ১ হাজার ৪৮৫টি স্থায়ী ও অস্থায়ী শূন্য পদের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। ২ থেকে ২৩ জুন পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন গ্রহণ করা হয়, যেখানে টেলিটকের মাধ্যমে ৫০ থেকে ১০০ টাকা ফি দিয়ে মোট ২১ লাখ ২৩ হাজার মানুষ আবেদন করেছেন।
হিসাব অনুযায়ী, প্রতি পদের বিপরীতে এবার আবেদন করেছেন ১ হাজার ৪৩০ জন প্রার্থী। দেশের শীর্ষ সরকারি নিয়োগ পরীক্ষা— বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস বা বিসিএস পরীক্ষার সঙ্গে তুলনা করলেও এই প্রতিযোগিতার অনুপাত নজিরবিহীনভাবে বেশি।
আবেদনের সময়সীমা শেষ হয়ে প্রায় তিন মাস হতে চললেও অতিরিক্ত প্রার্থীর কারণে কর্তৃপক্ষ এখনও পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করতে পারেনি। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ আবু ইউসুফ জানান, দ্রুততম সময়ে নিয়োগ সম্পন্ন করার উপায় প্রস্তাব করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন চাওয়া হয়েছে।
প্রত্যাশিত পরিমাণের চেয়ে বহুগুণ বেশি আবেদন পড়ায় বড় ধরনের লজিস্টিক ও আর্থিক সংকটে পড়েছে অধিদপ্তর। কারণ, এত বিপুলসংখ্যক প্রার্থীর পরীক্ষা নেওয়ার অভিজ্ঞতা তাদের নেই। বিশাল সংখ্যক পরীক্ষাকেন্দ্রের ব্যবস্থা করা, প্রশ্নপত্র ছাপানো, পরিদর্শক নিয়োগ এবং উত্তরপত্র মূল্যায়ন—সব মিলিয়ে তৈরি হয়েছে জটিল পরিস্থিতি। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ কীভাবে সম্পন্ন করা যায় এবং প্রার্থীদের কীভাবে বাছাই করা উচিত, সে বিষয়ে এখন জনপ্রশাসন ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে সমাজসেবা অধিদপ্তর।
এখনও পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করেনি কর্তৃপক্ষ। সমাজসেবা অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এর আগে কোনো নিয়োগে এত বিপুলসংখ্যক পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা নেওয়া হয়নি।
প্রাথমিক বাছাইয়ের পর লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় কতজনকে রাখা হবে— এ বিষয়ে এখন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করছে অধিদপ্তর। পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে তিন ধাপে: লিখিত, ব্যবহারিক (যদি প্রযোজ্য হয়) ও মৌখিক পরীক্ষা।
পরীক্ষা গ্রহণের ব্যয় ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন পেলেই পরীক্ষার কেন্দ্র ও তারিখ ঘোষণা করবে সমাজসেবা অধিদপ্তর।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুব বলেন, "আমরা আবেদন গ্রহণ করে পরীক্ষা নেওয়ার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করছি, যেন স্বচ্ছতা ও দ্রুততম সময়ে নিয়োগ সম্পন্ন করতে পারি।" বিপুলসংখ্যক আবেদন পাওয়ায় এখন করণীয় কী হতে পারে, সেই বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের সহায়তা চাওয়া হয়েছে।
বেসরকারি খাতের দুর্বলতার লক্ষণ
অর্থনীতিবিদ ও কর্মসংস্থান বিশ্লেষকদের মতে, বেসরকারি খাতের স্থবিরতার বিপরীতে সরকারি চাকরির প্রতি মানুষের ক্রমবর্ধমান আগ্রহেরই প্রতিফলন এই রেকর্ডসংখ্যক আবেদন।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, "বেসরকারি খাতের সম্প্রসারণ যেখানে থমকে আছে, সেখানে প্রতিযোগিতামূলক বেতন, চাকরির নিরাপত্তা ও সামাজিক মর্যাদা প্রার্থীদের সরকারি চাকরির দিকে ঝুঁকতে উৎসাহিত করছে।" সরকারি চাকরিতে পদ কম হলেও চাকরিপ্রত্যাশীদের আগ্রহ বেশি, যা অর্থনীতির জন্য একটি ফলস সিগন্যাল দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, "কর্পোরেট খাতের সম্প্রসারণ হলে সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে এত বেশি চাপ পড়তে না। বর্তমানে বিনিয়োগ সংকুচিত হওয়া, বিশ্ববাজারের পণ্য বিক্রির অনিশ্চয়তার কারণে কর্পোরেট খাতের প্রবৃদ্ধি হচ্ছে না। এ কারণে বেসরকারি খাতে চাকরির প্রতি মানুষের আগ্রহ কম, আবার কর্পোরেট খাতও সরকারি চাকরির মতো উচ্চ বেতন দিতে পারছে না।"
তিনি বলেন, "যেসব পদে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, সেগুলোর কার্যত প্রয়োজন আছে কি না, সেটাও সরকারের ভেবে দেখা উচিত। অনেক ক্ষেত্রে শূন্যপদ থাকার কারণেই উৎপাদনশীলতা কম হওয়া সত্ত্বেও সরকারের অনেক পদে লোকবল নিয়োগ দেওয়া হয়।"
এক্ষেত্রে তিনি কর্পোরেট মানদণ্ডের মতো উৎপাদনশীলতা মূল্যায়নের পরামর্শ দেন।
নিয়োগ-সংক্রান্ত তথ্যেও বেসরকারি খাতের কর্মীদের চাহিদার এই নিম্নগতি স্পষ্ট। বিডিজবস ডটকমের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও একেএম ফাহিম মাশরুর ২০২৫ সালের জুনে জানিয়েছিলেন, প্ল্যাটফর্মটিতে আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে চাকরির বিজ্ঞপ্তি ১০ শতাংশ কমেছে।
ফাহিম মাশরুর সম্প্রতি পর্যবেক্ষণ করেছেন, গত কয়েক বছর ধরেই এই প্রবণতা তৈরি হচ্ছে।
তিনি বলেন, "বিগত কয়েক বছর ধরেই দেখছি, বেসরকারি খাতের চাকরিতে আবেদন কমছে আর সরকারি চাকরিতে আবেদনের পরিমাণ বাড়ছে।"
এর কারণ হিসাবে তিনি মনে করেন, বেসরকারি চাকরিতে সুযোগ সুবিধা খুব বেশি বাড়ে না। এছাড়া সরকারি চাকরিতে নতুন করে পে-স্কেল হওয়ায় বেতন-ভাতার পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঝিনাইদহের মোবারকগঞ্জ রেলস্টেশনে ট্রেনে ওঠার সময় পা পিচলে পড়ে দুই পা হারানো রাবেয়া খাতুন (৩৭) নামে এক যাত্রী মারা গেছেন অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে। তিনি রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা খুলনাগামি কপোতাক্ষ এক্সপ্রেসের যাত্রী ছিলেন।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টার দিকে স্টেশন থেকে বিরতির পর যাত্রা শুরু হলে ওই নারী ট্রেনে উঠতে যান। এ সময় অসাবধানতার কারণে পা পিচলে তিনি নীচে পড়ে যান। প্লাটফর্ম থেকে পড়ে যাওয়ার ফলে তার দুই পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এছাড়া তার একটি হাত এবং শরীরের বিভিন্ন অংশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রাবেয়া খাতুন ঢাকার খিলক্ষেত জোয়ার সাহারা এলাকার ইকবাল হোসেনের মেয়ে।
মোবারকগঞ্জ রেলস্টেশনের মাস্টার নয়ন খন্দকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হলে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই নারীকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় যশোর সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়। যশোর সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে চুডা মন কাঠি নামক স্থানে পৌঁছালে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে অ্যাম্বুলেন্সের ভিতর মারা যান। লাশ কালিগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মর্গে রাখা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর ধানমন্ডির ২৭ নম্বর রোডের মিনা বাজারের সামনে দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় পুলিশ তিনজনকে আটক করেছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ইমদাদুল ইসলাম এই তথ্য জানান।
তিনি জানান, আনুমানিক দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ধানমন্ডি ২৭ নম্বর রোডের মিনা বাজারের সামনে পরপর দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। পরে ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে আটক করা হয়।
একটি সূত্রের মাধ্যমে জানা যায়, নিষিদ্ধঘোষিত একটি সংগঠনের কয়েকজন সদস্য এই সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত ছিলেন। তবে এ বিষয়ে ধানমণ্ডি পুলিশ বলছে, বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের চৌমুহনী গ্রিড উপকেন্দ্রে ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ লাইনের সোর্স ব্রেকারে বিস্ফোরণের ফলে জেলা শহর মাইজদী এবং এর আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহে বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। ব্রেকারটি মেরামত না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ রোটেশন ভিত্তিতে করা হচ্ছে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে চৌমুহনী গ্রিড উপকেন্দ্রের ৩৩ কেভি সোর্স ব্রেকারে আকস্মিক বিস্ফোরণ ঘটে। এর পর ব্রেকারটিতে আগুন লেগে যায়। ফলে চৌমুহনী থেকে মাইজদী পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইন বন্ধ হয়ে যায় এবং মাইজদী উপকেন্দ্রে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) নোয়াখালী কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত ব্রেকারটি গ্রিডের প্রধান ব্রেকার। এটি বিদ্যুৎ লোড আনার জন্য ব্যবহৃত হয়। ব্রেকারটি বিকল হয়ে যাওয়ার কারণে বিকল্প সোর্সের মাধ্যমে রিং সার্কিট ব্যবহার করে বর্তমানে প্রায় ১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে মাইজদী শহর ও আশপাশের এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ২০ থেকে ২৫ মেগাওয়াট।
সরবরাহের তুলনায় চাহিদা কম থাকায় বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে বিদ্যুৎ দেওয়া হচ্ছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এক ঘণ্টা পরপর রোটেশন ভিত্তিতে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। এর ফলে শহরের এক অংশে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু থাকলে অন্য অংশে তা বন্ধ থাকে এবং পরবর্তী ঘণ্টায় সরবরাহের এলাকা পরিবর্তন করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা লোকমান হোসেন জানান, শুক্রবার রাতে তার এলাকায় বিদ্যুৎ চলে যায়। পরে রাত আনুমানিক ১২টার দিকে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু হলেও এক ঘণ্টা না যেতেই আবার বিদ্যুৎ চলে যায়। এভাবে সারা রাত এবং শনিবার সকাল পর্যন্ত কয়েকবার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করেছে। বিদ্যুতের সংকটের কারণে রাতে তিনি ঠিকমতো ঘুমাতে পারেননি বলেও জানান।
পিডিবি নোয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হাবিবুল বাহার জানান, চৌমুহনী গ্রিড উপকেন্দ্রের ৩৩ কেভি সোর্স ব্রেকারের পোল নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে সেটি বিকল হয়ে পড়েছে। বিকল্প ব্যবস্থায় জেলা শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সরবরাহ স্বাভাবিক করতে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ চলছে।
তিনি আরও বলেন, বৃষ্টির কারণে কাজে কিছুটা বিঘ্ন ঘটেছে। আশা করা হচ্ছে, শনিবার বিকেলের দিকে নতুন ব্রেকার স্থাপনের কাজ শেষ হবে। এরপর বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বগুড়ার ধুনটে মসজিদের জায়গা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের ফলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় নারীসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের সময় একটি টিনের তৈরি মসজিদে ভাঙচুরের অভিযোগও উঠেছে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজের পর উপজেলার কালেরপাড়া ইউনিয়নের রামনগর পশ্চিমপাড়া মসজিদ এলাকায় সংঘর্ষটি ঘটে। আহতদের ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন, রামনগর গ্রামের রইচ উদ্দিনের ছেলে সোহরাব আলী (৫৫), ফরিদুল ইসলাম (৩৫), সোহরাব আলীর ছেলে নুর আলম (৩০), মহির উদ্দিনের ছেলে ফরিদুল ইসলাম (৩৪), মেছের আলীর ছেলে ডাবলু হোসেন (৪০), আছের আলীর ছেলে রেজাউল প্রামাণিক (৪২), আফছার আলীর স্ত্রী আয়েশা বেগম (৫৫), উজ্জল মিয়ার স্ত্রী সুমি খাতুন (৩০) এবং মোরগ আলী প্রামাণিকের স্ত্রী গোলছারা বেগম (৫৫)।
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, রামনগর পশ্চিমপাড়া এলাকায় ২০০১ সালে স্থানীয়দের উদ্যোগে একটি টিনের তৈরি মসজিদ নির্মাণ করা হয়। তবে যাতায়াতের সুবিধার জন্য নির্ধারিত জায়গার পরিবর্তে প্রায় ২০০ মিটার দূরে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। পরবর্তীতে মসজিদের নির্ধারিত জায়গা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয় এবং তারা দুই পক্ষ হয়ে পড়েন।
২০২১ সালে অপর পক্ষ মসজিদের নির্ধারিত জায়গায় নতুন একটি টিনের মসজিদ নির্মাণ করে। এরপর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
শুক্রবার জুমার নামাজের পর দুই পক্ষের লোকজন মুখোমুখি অবস্থান নিলে একপর্যায়ে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় ২০২১ সালে নির্মিত মসজিদটিতে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। মসজিদের মাইক, ফ্যানসহ বিভিন্ন সামগ্রীও ভাঙচুর করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
সোহরাব আলী অভিযোগ করেন, "২০২১ সালে নির্মিত মসজিদে নামাজ আদায় করার সময় প্রতিপক্ষের লোকজন হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে।"
অন্যদিকে অপর পক্ষের আবুল কালাম দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে মসজিদের জায়গা নিয়ে বিরোধ চলছে। বিষয়টি মীমাংসার প্রস্তাব নিয়ে তিনি মসজিদে প্রবেশ করলে তাকে আটক করে রাখা হয়। পরে খবর পেয়ে তার স্বজনরা মসজিদের বেড়া ভেঙে তাকে উদ্ধার করেন।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে পুলিশ চলে যাওয়ার পর দুই পক্ষ আবারও মুখোমুখি অবস্থান নেয় বলে স্থানীয়রা জানান।
ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম বলেন, "খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ