শনিবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:০২ পি.এম
বগুড়ার ধুনটে মসজিদের জায়গা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের ফলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় নারীসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের সময় একটি টিনের তৈরি মসজিদে ভাঙচুরের অভিযোগও উঠেছে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজের পর উপজেলার কালেরপাড়া ইউনিয়নের রামনগর পশ্চিমপাড়া মসজিদ এলাকায় সংঘর্ষটি ঘটে। আহতদের ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন, রামনগর গ্রামের রইচ উদ্দিনের ছেলে সোহরাব আলী (৫৫), ফরিদুল ইসলাম (৩৫), সোহরাব আলীর ছেলে নুর আলম (৩০), মহির উদ্দিনের ছেলে ফরিদুল ইসলাম (৩৪), মেছের আলীর ছেলে ডাবলু হোসেন (৪০), আছের আলীর ছেলে রেজাউল প্রামাণিক (৪২), আফছার আলীর স্ত্রী আয়েশা বেগম (৫৫), উজ্জল মিয়ার স্ত্রী সুমি খাতুন (৩০) এবং মোরগ আলী প্রামাণিকের স্ত্রী গোলছারা বেগম (৫৫)।
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, রামনগর পশ্চিমপাড়া এলাকায় ২০০১ সালে স্থানীয়দের উদ্যোগে একটি টিনের তৈরি মসজিদ নির্মাণ করা হয়। তবে যাতায়াতের সুবিধার জন্য নির্ধারিত জায়গার পরিবর্তে প্রায় ২০০ মিটার দূরে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। পরবর্তীতে মসজিদের নির্ধারিত জায়গা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয় এবং তারা দুই পক্ষ হয়ে পড়েন।
২০২১ সালে অপর পক্ষ মসজিদের নির্ধারিত জায়গায় নতুন একটি টিনের মসজিদ নির্মাণ করে। এরপর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
শুক্রবার জুমার নামাজের পর দুই পক্ষের লোকজন মুখোমুখি অবস্থান নিলে একপর্যায়ে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় ২০২১ সালে নির্মিত মসজিদটিতে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। মসজিদের মাইক, ফ্যানসহ বিভিন্ন সামগ্রীও ভাঙচুর করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
সোহরাব আলী অভিযোগ করেন, "২০২১ সালে নির্মিত মসজিদে নামাজ আদায় করার সময় প্রতিপক্ষের লোকজন হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে।"
অন্যদিকে অপর পক্ষের আবুল কালাম দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে মসজিদের জায়গা নিয়ে বিরোধ চলছে। বিষয়টি মীমাংসার প্রস্তাব নিয়ে তিনি মসজিদে প্রবেশ করলে তাকে আটক করে রাখা হয়। পরে খবর পেয়ে তার স্বজনরা মসজিদের বেড়া ভেঙে তাকে উদ্ধার করেন।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে পুলিশ চলে যাওয়ার পর দুই পক্ষ আবারও মুখোমুখি অবস্থান নেয় বলে স্থানীয়রা জানান।
ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম বলেন, "খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকার মার্কিন দূতাবাস সতর্ক করেছে যে, যদি কেউ ভিসার অনুমোদিত সময়ের চেয়ে বেশি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেন, তবে ভবিষ্যতে দেশটিতে ভ্রমণের ক্ষেত্রে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভিসা সংক্রান্ত একটি বার্তায় এই সতর্কতা প্রকাশ করা হয়।
বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে, একটি মার্কিন ভিসা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের নিশ্চয়তা প্রদান করে না। দেশটিতে প্রবেশের সময় কতদিন অবস্থান করা যাবে এবং কোন শর্ত প্রযোজ্য হবে, তা নির্ধারণ করেন প্রবেশস্থলের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা।
দূতাবাস আরো জানায়, যদি কেউ অনুমোদিত সময়ের বেশি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেন অথবা ভিসার ধরন অনুযায়ী অনুমোদিত নয় এমন কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত হন, তাহলে তার ওপর ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের ক্ষেত্রে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আরোপ হতে পারে।
সুতরাং, ভিসার শর্ত ও অনুমোদিত সময়সীমা যথাযথভাবে মেনে চলার দায়িত্ব ভিসাধারীর নিজের উপর রয়েছে- বার্তায় এ বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েমের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মধ্যে নারীদের খেলাধুলা ও পোশাক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ইসলামি বক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানী। তিনি এ বিষয়গুলোতে আলেমদের সুস্পষ্ট বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
রোববার (২৬ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ইসলামি বক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানী এ নিয়ে একটি বিস্তারিত স্ট্যাটাস দেন।
ফেসবুক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ডাকসুতে সাদিক কায়েমের বিজয়ের পর তিনি অনেক উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছিলেন। তিনি সারারাত সজাগ থেকে ফলাফলের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। "চাইলে যে কেউ আমার আইডিতে ঘুরে ঐ সময়ের পোস্টগুলো দেখতে পারেন।"
তিনি আরও লেখেন, "কারণ একটাই, এ বিজয়কে ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরোধী শক্তির বিজয় মনে করেছিলাম, নিজেদের বিজয় মনে করেছিলাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের আন্দোলন-সংগ্রামের সূতিকাগার; জুলাই আন্দোলনও এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই শুরু হয়েছে। তাই এখানে শিবিরের হাতে ক্ষমতা থাকা মানে দিল্লির জন্য বিশাল ভয় আর সে কারণেই খুশি হয়েছিলাম।"
তিনি বলেন, সাদিক কায়েম, এস এম ফরহাদরা অনেক কাজ করেছে, যা দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট। সিট বাণিজ্য বন্ধ করা, যোগ্যতা অনুযায়ী সিট দেওয়া, বৃষ্টির দিনে মেয়েদের জন্য ভেনগাড়ি, আলাদা বাস, গরমের দিনে সুপেয় পানির ব্যবস্থা এসব অবশ্যই প্রশংসনীয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, "আমরা ত মুসলিম, আমরা কি শুধুমাত্র এসব কাজের জন্য কাউকে সাপোর্ট করতে পারি? নাকি দুনিয়ার সকল সুযোগ-সুবিধার চেয়েও আমাদের কাছে আল্লাহর বিধান বড়?"
তিনি আরও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কোনো ইসলামিক স্থান নয়, সব মেয়েও পর্দা করে না। তাহলে তারা বাস্কেটবল খেললে দোষের কী? বিষয়টি শুধুমাত্র খেলার নয়, বরং শর্ট প্যান্ট ও টাইট ফিটিং গেঞ্জি পরে মেয়েদের খেলার আয়োজন করে সেটাকে প্রকাশ্যে উৎসাহ ও গর্বের সঙ্গে উপস্থাপন করা। "আরমান নামে একজন আয়োজকের জন্য হাত তালি দিতে বলা! সমস্যাটা ঠিক এই জায়গায়।"
কারণ, সাদিক কায়েমকে অনেক মেয়ে ফলো করে এবং নেতা মনে করে। তারা যখন দেখে সাদিক কায়েম শায়েখ আহমদুল্লাহ, শায়েখ মিজানুর রহমান আজহারী, শায়েখ মামুনুল হক, আব্দুল হাই মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ সহ অনেক হুজুরের সঙ্গে প্রোগ্রামে দেখা যায় এবং জামায়াতের আমিরসহ অনেক আলেমরা তাকে সাপোর্ট করেন, তখন তারা স্বাভাবিকভাবেই মনে করবে, "উনি যা করছেন সেটা মনে হয় সঠিক।"
রফিকুল ইসলাম লেখেন, মারজিয়া মমতাজের মতো মহিলা শাখার মহিলারা যখন টকশোতে বলেন, "মেয়েরা শর্ট প্যান্ট পরলেও সমস্যা নেই," তখন সেই সরলমনা মেয়েগুলো ইসলামকে কী ভাববে? তারা তো মনে করবে এগুলো সব জায়েজ!
তাহলে আমি যে শায়েখদের নাম নিলাম, আপনাদের বলব প্লিজ, এই বিষয়ে সুস্পষ্ট কথা বলুন। কারণ যেসব মেয়ে সাদিক কায়েমকে ফলো করে, তাদের কাছে আমাদের হুজুরদের আওয়াজও পৌঁছে না। তাই আপনারা এই বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা তুলে ধরুন যাতে সাদিক কায়েমসহ সকলেই সতর্ক হতে পারে!
তিনি লেখেন, বিষয়টি শুধুমাত্র উন্নয়নের নয়, উন্নয়ন কিন্তু হাসিনা ও আওয়ামী লীগও অনেক করছিল। আমরা শুধু উন্নয়ন দেখিনি, তাদের এজেন্ডার বিরুদ্ধে কথা বলেছি। কারণ আমাদের কাছে আদর্শ ও আল্লাহর বিধান গুরুত্বপূর্ণ।
স্পষ্ট কথা, এপস্টিন ফাইলে জড়িত কুখ্যাত নরপিশাচ আমেরিকা ও পশ্চিমের কাছে নিজেদের প্রগতিশীল প্রমাণ করে ক্ষমতায় আসার চেষ্টা যদি ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলোকে গৌণ করে দেয়, তাহলে কাকতালীয়ভাবে সেই ক্ষমতা যদি এসেও যায়, সেটা ইসলামের পক্ষের হবে না, ফায়দাও হবে না।
আর তখন সেই ক্ষমতার বিরুদ্ধে আমাদের স্পষ্ট অবস্থানও থাকবে, ইনশাআল্লাহ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনা সৃষ্টি হওয়ায় তেলের দাম কমে গেছে। এর প্রভাবে শুক্রবার ওয়াল স্ট্রিটের শেয়ারবাজার পুনরায় চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। মার্কিন শেয়ারবাজার একটি অস্থির সপ্তাহ শেষ করেছে ইতিবাচক লেনদেনের মাধ্যমে। খবরটি এসেছে বার্তা সংস্থা এএফপি’র মাধ্যমে।
বাজারে আশাবাদ সৃষ্টি হয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো সমঝোতা হলে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া হতে পারে। বিশ্বের এই গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ দিয়ে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হলে, বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম কমে যাওয়ার প্রত্যাশা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে রয়েছে।
নিউইয়র্কে চলতি সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বৈঠককে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন এবং তেহরানের সম্পর্কের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে বাজারে বিভিন্ন ধরনের বার্তা এসেছে।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া বক্তব্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান একে অপরের বিরুদ্ধে কঠোর বক্তব্য প্রদান করেছেন, তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি একটি পরিকল্পনার প্রস্তাব করেছেন।
এই পরিকল্পনার আওতায় সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
ব্রিফিং ডটকমের বিশ্লেষক প্যাট্রিক ও’হেয়ার মন্তব্য করেন, ইরান পূর্বে যেসব শর্ত দিয়েছিল, সেগুলোর পরিবর্তন না আসায় প্রস্তাবটি নিয়ে সন্দেহ রয়ে গেছে। তিনি বলেন, “ইরানের এই প্রস্তাবের ইতিবাচক প্রভাব আর কতদিন থাকে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।”
এদিকে, এডওয়ার্ড জোন্সের বিশ্লেষক অ্যাঞ্জেলো কোরকাফাস জানান, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কূটনৈতিক সমাধানের কিছু সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। শুক্রবার তেলের দামও কিছুটা কমেছে।
বিনিয়োগকারীরা পরিস্থিতিকে কিছুটা আশাবাদী দৃষ্টিতে দেখছেন। এর ফলে তেলের দাম ২ শতাংশের বেশি কমে যায়। দিনের বেশিরভাগ সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান শেয়ারবাজার সূচকগুলো ঊর্ধ্বমুখী ছিল।
বৃহত্তর বাজারের প্রতিফলক এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ০.৫ শতাংশ বেড়েছে। কোরকাফাস বলেন, একদিকে সুদের হার এবং জ্বালানির দামের অস্থিরতা বাজারে চাপ সৃষ্টি করছে, অন্যদিকে কোম্পানিগুলোর আর্থিক অবস্থা এবং সামগ্রিক অর্থনীতির মৌলিক ভিত্তি শক্তিশালী রয়েছে। এই দুই বিপরীত প্রবণতার মধ্যে বাজারে এক ধরনের টানাপোড়েন চলছে।
হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে লোহিত সাগরে সৌদি আরবের অবকাঠামোয় হুতি বিদ্রোহীদের হামলার কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলে তেল সরবরাহ আরও কমে যাওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।
এসব কারণে সরকারি বন্ডের সুদের হার বা ইল্ড আবার বেড়েছে। অর্থাৎ সরকারকে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীরা এখন বেশি মুনাফা দাবি করছেন।
বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার ২০০৭ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। একই সময়ে জাপানের সরকারি বন্ডের সুদের হারও কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে।
এদিকে, ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের গভর্নর অ্যান্ড্রু বেইলি ইঙ্গিত দিয়েছেন, আগামী কয়েক মাসে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের মতো তারাও সুদের হার বাড়াতে পারে।
এতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে, তবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
শেয়ারবাজারের বিষয়ে এজে বেলের বাজার বিভাগের প্রধান ড্যান কোটসওয়ার্থ জানান, ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত “তুলনামূলক বন্ধুত্বপূর্ণ বৈঠক” বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে সহায়তা করেছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্র এবং চীন তাদের বাণিজ্য যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও দুই মাস বাড়িয়ে জানুয়ারি পর্যন্ত করেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে আপাতত কিছুটা সময় পাওয়া গেছে, তবে বিশ্লেষকেরা সতর্ক করেছেন যে, বিশ্বের দুই বৃহৎ অর্থনীতির মধ্যে দীর্ঘদিনের কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা মেটাতে সেই সময় দ্রুত শেষ হয়ে আসছে। এ বিষয়ে খবর প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং একটি জাঁকজমকপূর্ণ শীর্ষ বৈঠক শেষ করেছেন। বৈঠক শেষে ট্রাম্প জানান, চলতি বছরে দুই নেতা আরও দুবার বৈঠক করার পরিকল্পনা করেছেন।
যদিও দুই নেতা বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে আলোচনা করেছেন, তবুও দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, প্রযুক্তি, তাইওয়ান, প্রতিরক্ষা, বিরল খনিজ ও শিল্পনীতির মতো বিভিন্ন বিষয়ে তীব্র মতবিরোধ বিদ্যমান রয়েছে।
এশিয়া সোসাইটি পলিসি ইনস্টিটিউটের ড্যানিয়েল রাসেল মন্তব্য করেছেন যে, দুই দেশের সম্পর্কের বিভিন্ন ক্ষেত্রে এখনো তীব্র মতবিরোধ চলছে।
দ্য এশিয়া গ্রুপের পরামর্শক ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা ড্যানিয়েল ক্রিটেনব্রিঙ্ক বলেছেন, দুই দেশের নেতাদের মধ্যে অন্তত বছরের শেষ পর্যন্ত সম্পর্কের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়ে সন্দেহ নেই।
তবে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, দীর্ঘমেয়াদে এই যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখতে হলে আরও কিছু বাস্তব এবং দৃশ্যমান ফলাফল দেখতে হবে। ক্রিটেনব্রিঙ্কের মতে, আগের বৈঠকগুলোতে চীন যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তার অনেকটাই যুক্তরাষ্ট্রের কিছু কর্মকর্তার মতে যথাযথভাবে পালন করেনি। এ কারণে মার্কিন প্রশাসনের মধ্যে চীনের কর্মকাণ্ড নিয়ে গভীর হতাশাও রয়েছে।
গত বছর দক্ষিণ কোরিয়ায় ট্রাম্প ও সি চিন পিংয়ের বৈঠকের পর দুই দেশ একটি বাণিজ্য যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন পরস্পরের পণ্যের ওপর ব্যাপক হারে শুল্ক আরোপ করেছিল। একপর্যায়ে দুই দেশের পাল্টাপাল্টি শুল্কের হার ১০০ শতাংশেরও বেশি হয়ে যায়।
চুক্তির আওতায় চীন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও বেশি পরিমাণে সয়াবিনসহ কৃষিপণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি দেয়। একই সঙ্গে এক বছরের জন্য বিরল খনিজ উপাদান রপ্তানিতে বিধিনিষেধ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয় বেইজিং।
চুক্তিটির মেয়াদ মূলত নভেম্বর মাসে শেষ হওয়ার কথা ছিল, তবে দুই দেশ চলতি সপ্তাহে এর মেয়াদ বাড়িয়ে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট।
মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার শুক্রবার সিএনবিসিকে বলেন, ওয়াশিংটন এই ধরনের মেয়াদ বাড়ানোর সময়কে মূলত ‘কমপ্লায়েন্স পিরিয়ড’ বা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সময় হিসেবে দেখছে।
ক্রিটেনব্রিঙ্ক বলেন, মার্কিন কর্মকর্তাদের দৃষ্টিতে চীন চুক্তিটি টিকিয়ে রাখার জন্য যতটুকু প্রয়োজন, মোটামুটি ততটুকুই করছে এর বেশি নয়। তার ভাষায়, দীর্ঘমেয়াদে এ ধরনের পরিস্থিতি টেকসই নয়।
পিটারসন ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিকসের মেরি লাভলি বলেন, স্বল্প সময়ের জন্য চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো ছিল যুক্তরাষ্ট্রের পছন্দের সিদ্ধান্ত।
তিনি উল্লেখ করেন, চীন আরও দীর্ঘ সময়ের জন্য চুক্তি নবায়ন করতে চেয়েছিল। তবে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের বড় একটি কারণ হলো বিরল খনিজ বা মাটির উপাদান দিয়ে তৈরি চুম্বকের সরবরাহ। তাই ওয়াশিংটন পরিস্থিতিকে খুব বেশি সময়ের জন্য চীনের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইছে না। লাভলি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ শুল্ক আরোপের হুমকি এখন চীনের ওপর আগের মতো কতটা প্রভাব ফেলছে, সেটিও স্পষ্ট নয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ