প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের চৌমুহনী গ্রিড উপকেন্দ্রে ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ লাইনের সোর্স ব্রেকারে বিস্ফোরণের ফলে জেলা শহর মাইজদী এবং এর আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহে বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। ব্রেকারটি মেরামত না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ রোটেশন ভিত্তিতে করা হচ্ছে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে চৌমুহনী গ্রিড উপকেন্দ্রের ৩৩ কেভি সোর্স ব্রেকারে আকস্মিক বিস্ফোরণ ঘটে। এর পর ব্রেকারটিতে আগুন লেগে যায়। ফলে চৌমুহনী থেকে মাইজদী পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইন বন্ধ হয়ে যায় এবং মাইজদী উপকেন্দ্রে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) নোয়াখালী কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত ব্রেকারটি গ্রিডের প্রধান ব্রেকার। এটি বিদ্যুৎ লোড আনার জন্য ব্যবহৃত হয়। ব্রেকারটি বিকল হয়ে যাওয়ার কারণে বিকল্প সোর্সের মাধ্যমে রিং সার্কিট ব্যবহার করে বর্তমানে প্রায় ১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে মাইজদী শহর ও আশপাশের এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ২০ থেকে ২৫ মেগাওয়াট।
সরবরাহের তুলনায় চাহিদা কম থাকায় বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে বিদ্যুৎ দেওয়া হচ্ছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এক ঘণ্টা পরপর রোটেশন ভিত্তিতে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। এর ফলে শহরের এক অংশে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু থাকলে অন্য অংশে তা বন্ধ থাকে এবং পরবর্তী ঘণ্টায় সরবরাহের এলাকা পরিবর্তন করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা লোকমান হোসেন জানান, শুক্রবার রাতে তার এলাকায় বিদ্যুৎ চলে যায়। পরে রাত আনুমানিক ১২টার দিকে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু হলেও এক ঘণ্টা না যেতেই আবার বিদ্যুৎ চলে যায়। এভাবে সারা রাত এবং শনিবার সকাল পর্যন্ত কয়েকবার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করেছে। বিদ্যুতের সংকটের কারণে রাতে তিনি ঠিকমতো ঘুমাতে পারেননি বলেও জানান।
পিডিবি নোয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হাবিবুল বাহার জানান, চৌমুহনী গ্রিড উপকেন্দ্রের ৩৩ কেভি সোর্স ব্রেকারের পোল নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে সেটি বিকল হয়ে পড়েছে। বিকল্প ব্যবস্থায় জেলা শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সরবরাহ স্বাভাবিক করতে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ চলছে।
তিনি আরও বলেন, বৃষ্টির কারণে কাজে কিছুটা বিঘ্ন ঘটেছে। আশা করা হচ্ছে, শনিবার বিকেলের দিকে নতুন ব্রেকার স্থাপনের কাজ শেষ হবে। এরপর বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন