০৫:৩৪ পি.এম
টানা সাড়ে আট ঘণ্টার ভারী বর্ষণে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন (মসিক) এলাকার অধিকাংশ সড়ক ও নিচু এলাকা তলিয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। জলাবদ্ধতার ফলে জনজীবনে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী। এ বিষয়ে অভিযোগ উঠেছে, ড্রেনেজ ব্যবস্থার বিপর্যয় এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে আজ বুধবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত নগরীর বিভিন্ন সড়কের জলাবদ্ধ পানিতে নেমে কর্মীদের সঙ্গে পানি নিস্কাশনে কাজ করছেন মসিক প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান রোকন। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টা থেকে আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত রেকর্ড করা হয়েছে টানা সাড়ে আট ঘণ্টায় ১৭৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এটি চলতি বছরের জেলা সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত। এই কারণে নগরীতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছিল।
পানি নিস্কাশনে মাঠে তৎপর মসিক প্রশাসক রুকুনোজ্জামান রোকন বাসস’কে বলেন, বহুতল ভবন মালিকদের দ্বারা ময়লা ও আবর্জনা ড্রেনে ফেলা, বিগত সময়ের অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, অনেক স্থানে ড্রেন না থাকা এবং ভারি বর্ষণের কারণে সাময়িক এ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। তবে আমি এবং আমার কর্মী বাহিনী মাঠে কাজ করছি। ইতিমধ্যে অনেক স্থানের পানি নিষ্কাশিত হয়েছে। কিছু কিছু স্থানে ড্রেনেজ বা নিস্কাশন ব্যবস্থা না থাকা কারণে জমে থাকা পানি নিস্কাশনে প্রচেষ্টা চলমান রয়েছে।
আরও পড়ুন: ময়মনসিংহে ভারতীয় গরু নিয়ে বিজিবির সঙ্গে চোরাকারবারিদের সংঘর্ষ, গুলিতে ইজারাদারের মৃত্যু
তিনি আরো বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র একশ দিনে নগরীর পানি নিস্কাশনের জন্য আকুয়া খালসহ বেশ কয়েকটি খাল পরিস্কার করে পানি প্রবাহ তৈরি করা হয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে পরিকল্পিত পরিকল্পনা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে; এটি বাস্তবায়িত হলে জলাবদ্ধতা আর থাকবে না।
সরেজমিনে দেখা যায়, গভীর ভোররাত থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে নগরীর সানকিপাড়া, আকুয়া, গোলকিবাড়ী, বলাশপুর, চরপাড়া, খাগডহর, গাঙ্গিনারপাড়, নতুন বাজার, জেলা স্কুল মোড় ও কেওয়াটখালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো হাঁটু সমান পানির নিচে। ড্রেন উপচে নোংরা পানি রাস্তায় মিশে যাওয়ায় বহু স্থান পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে স্কুল ও অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও রোগীদের ভোগান্তির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। বিশেষ করে চরপাড়া এলাকায় হাসপাতালগামী অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি যানবাহনগুলো চরম সংকটের মুখে পড়েছে।
নগরীর চরপাড়া মোড়ে ভুক্তভোগী সাদ্দাম হোসেন জানান, ‘অ্যাম্বুলেন্সে রোগী নিয়ে কয়েকশো মিটার রাস্তা পার হতে আমার ১ ঘণ্টারও বেশি সময় লেগেছে। হাসপাতালের ভেতরে পানি ঢুকে পড়ায় রোগীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।’ ভুক্তভোগীরা আরও জানান, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, শহরের খালগুলো দখল হয়ে যাওয়া এবং অপরিকল্পিত নগরায়ন এ জলাবদ্ধতার মূল কারণ।
সানকিপাড়া এলাকার ব্যবসায়ী আবু সাঈদ অভিযোগ করেন, ‘ড্রেনের মাঝখানে বৈদ্যুতিক খুঁটি থাকায় পানিপ্রবাহ বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে। নিয়মিত কর দিলেও আমরা নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত।’
আরও পড়ুন: ঘাটাইলে ট্রাকচাপায় প্রাণ গেল সুইডেনপ্রবাসী কাজী দেশ
জানা গেছে, জলাবদ্ধতা নিরসনে ২০২১ থেকে ২০২৫ অর্থবছর পর্যন্ত ৬২৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩২২ কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণ প্রকল্প নেয়া হয়েছে। তবে নির্ধারিত সময় পার হলেও এখন পর্যন্ত প্রকল্পের মাত্র ৫৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
এ বিষয়টি সম্পর্কে মসিকের প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম মিঞা বাসস’কে বলেন, অপ্র规划িত নগরায়ন জলাবদ্ধতার প্রধান কারণ। সেই সঙ্গে পানি নিস্কাশনে নগরীর খালগুলো পর্যাপ্ত নয়। তবে নগরীর খালগুলোর সঙ্গে নদের সংযোগ স্থাপনের জন্য একটি প্রকল্প বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে; এটি বাস্তবায়ন হলে দ্রুত পানি নিস্কাশন সম্ভব হবে।
নগরবিদরা মনে করেন, কেবল অস্থায়ী উদ্যোগ নয়, বরং পরিকল্পিত নগরায়ন, খাল পুনরুদ্ধার, ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করা না হলে ময়মনসিংহবাসীর এই দুর্ভোগ দীর্ঘস্থায়ী হবে।
আরও পড়ুন: বকশীগঞ্জে বাসচাপায় একসঙ্গে প্রাণ গেল শাশুড়ি ও পুত্রবধূর
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন