বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০১:২২ পি.এম
ঢাকা, ১৬ জুলাই, ২০২৬ : রাজধানীর উত্তরায় আজ ভোরে একটি সড়ক দুর্ঘটনায় ২ সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। যারা নিহত হয়েছেন, তাদের নাম হলো মো. রবিউল আলম রাজু (৬২) এবং শাকিবুল হাসান (৩৫)।
জানা গেছে, গভীর রাতে খেলা দেখে বাসায় ফেরার সময় উত্তরা জসীম উদ্দীন মোড় এবং রাজলক্ষ্মীর মাঝামাঝি এলাকায় তাদের মোটরসাইকেলকে একটি বেপরোয়া গতির বাস চাপা দেয়। এ কারণে তাদের ওপর ঘটে এই দুর্ঘটনা। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দ’ুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে যে, একটি বড় বাস তাদের মোটরসাইকেল দু’টিকে ধাক্কা দিয়েছে। যদিও দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এবং সংশ্লিষ্ট বাসটিকে শনাক্ত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে, কিন্তু উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খালিদ মানসুর বাসস’কে এ বিষয়ে জানান।
নিহত দু’জনেই আগামী শনিবার অনুষ্ঠিতব্য উত্তরা প্রেস ক্লাব নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিলেন। দৈনিক সংবাদ দিগন্ত পত্রিকার শাকিবুল হাসান সাংগঠনিক সম্পাদক পদে এবং সমাজ কল্যাণ সম্পাদক পদে প্রাণের বাংলাদেশ এর রবিউল আলম রাজু প্রার্থী ছিলেন।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় সাংবাদিক মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত ২ সাংবাদিকের মৃত্যুতে সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
লক্ষ্মীপুরে আলোচনা সভা ও স্মৃতি স্তম্ভে ফুলেল শ্রদ্ধা জানিয়ে নানা আয়োজনে জুলাই শহীদ দিবস পালন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শহরের উত্তর তেমুহনী এলাকায় জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে ফুলেল শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা হয়। এরপর জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গণে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
পর্যায়ক্রমে ফুলেল শ্রদ্ধা জানিয়েছেন- জেলা প্রশাসক এসএম মেহেদী হাসান, জেলা পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক, জেলা পরিষদ প্রশাসক সাহাব উদ্দিন সাবু, লক্ষ্মীপুর পৌরসভার প্রশাসক সম্রাট খীসা, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা, চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিলুফা ইয়াসমিন নিপা প্রমুখ। এ সময় শহীদ পরিবারের সদস্যজন ও জুলাই যোদ্ধারা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্র জানায়, জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষ্যে মসজিদ ও মন্দিরে বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে, এবং সব শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে স্মরণ সভার আয়োজন করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর একটি সড়ক দুর্ঘটনায় একজনের মৃত্যু ঘটেছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) রাতে প্রায় ৯টা বাজে উত্তরার জসিমউদ্দীন রোডে এই দুর্ঘটনা ঘটে। পরে বাবা মুমূর্ষু অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
মৃত ব্যক্তির নাম আনোয়ারুল হক, বয়স ৫৫ বছর। তাঁর বাড়ি পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার ঘোরাদহ গ্রামে। বর্তমানে তিনি দক্ষিণখান এলাকায় বাস করছিলেন এবং তার একটি মোটর গ্যারেজ রয়েছে।
মৃত আনোয়ারুল হকের ছেলে ইয়াছিন আরাফাত বলেন, রাতের কর্মস্থল থেকে ফিরে বাবা পায়ে হেঁটে উত্তরা জসিমউদ্দীন রোডের ইউ-টার্ন মোড় পার হচ্ছিলেন। সেই সময় অজ্ঞাত যানবাহনের ধাক্কা লাগে এবং তিনি আহত হন। পরে পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায় এবং পরে খবর পেয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে উত্তরাপূর্ব থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শাহ আলম গণমাধ্যমকে বলেন, রাতে উত্তরা জসিমউদ্দীন রোড এলাকার অজ্ঞাত যানবাহনের ধাক্কায় ওই ব্যক্তি মারা যান। পরে আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঝালকাঠিতে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ নানা কর্মসূচির মাধ্যমে পালিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দিবসের কর্মসূচির সূচনা হয় জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে।
এই উপলক্ষে, জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিরা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে, জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভার শুরুতে জুলাই যুদ্ধের বীর শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।
আলোচনা সভায়, জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মামুন আল ইসলাম, সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির, স্থানীয় government বিভাগের উপপরিচালক জুলিয়া সুকায়না, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. কাওছার হোসেন, জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান, ঝালকাঠি প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আক্কাস সিকদার, জেলা তথ্য কর্মকর্তা লেলিন বালাসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য, জুলাই যোদ্ধা, রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
বক্তারা বলেন, জুলাই আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগ দেশের গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাদের আদর্শ ধারণ করে বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান করা হয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জুলাই আন্দোলনের সময় চট্টগ্রামের প্রথম শহীদ মোহাম্মদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। ১৬ জুলাই বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টায় কক্সবাজারের পেকুয়ার মেহেরনামা মুরাপাড়া শহীদ ওয়াসিমের সমাধিস্থল পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘আমি জুলাই অভ্যুত্থানের একজন কর্মী এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের একজন রাজপথের যোদ্ধা হিসেবে চাই-জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গণহত্যা এবং গত ১৭ বছরে সংঘটিত গুম, খুন ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সব ব্যক্তি, নির্দেশদাতা ও সহযোগীদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হোক।’
এ সময় তিনি আরও জানান, ‘বিচার শুধু কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ হয়ে থাকবে না, এজন্য কার্যকর বাস্তবায়নও নিশ্চিত করতে হবে। এই বিষয়ে আমি সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে কথা বলব এবং জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাব।’
ইশরাক বলেন, ‘যারা গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার কোনো অপচেষ্টা সফল হতে দেয়া হবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘জুলাইয়ের আন্দোলনে আমরা জীবন বাজি রেখে রাজপথে নেমেছিলাম। আজও সেই আন্দোলনের লাখো-কোটি মানুষ জীবিত আছে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ। বাংলাদেশের জনগণ প্রয়োজনে আবারও প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।’
এই সময় প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির ও শহীদ ওয়াসিমের বাবা শফিউল আলম।
ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন বলেন, ‘২০২৪ সালের ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের, বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের ওপর ন্যাক্কারজনক হামলার প্রতিবাদে সারা দেশে আন্দোলন শুরু হয়। সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আবু সাঈদ এবং চট্টগ্রামের ওয়াসিমসহ ছয়জন শহীদ হন।’
তিনি জানান, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এই শহীদরা আমাদের পথ দেখিয়েছেন-অন্যায় ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম থেকে পিছু হাঁটার কোনো সুযোগ নেই। আবু সাঈদ ও ওয়াসিমের আত্মত্যাগসহ দুই হাজারের বেশি শহীদের রক্তের বিনিময়ে যে পরিবর্তন এসেছে, তার প্রকৃত মূল্যায়ন হবে সব হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করার মাধ্যমে।’
নাছির উদ্দীন নাছির আরও বলেন, ‘আমরা চাই জুলাই-আগস্টের গণহত্যার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের বিচার দ্রুত সম্পন্ন হোক। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাই হবে শহীদদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা।’
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের পক্ষ থেকে শহীদ ওয়াসিমসহ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সব শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। তাদের আত্মত্যাগের পথ ধরেই একটি সাম্য, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করছি বলে জানান নাছির উদ্দীন।
শহীদ ওয়াসিমের বাবা শফিউল আলম বলেন, ‘দুই বছর আগে আজকের এই দিনে আমার ছেলে চট্টগ্রামের রাজপথে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হয়েছে। দুই বছর পার হয়ে গেলেও আমরা এখনো বিচারের দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে পাচ্ছি না। তবে আমরা আশাবাদী, এই সরকার আমাদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে।’
তিনি বলেন, ‘যারা আমার সন্তানসহ অসংখ্য মানুষকে হত্যা করেছে-যারা নির্দেশ দিয়েছে, যারা গুলি চালিয়েছে এবং যারা সহযোগিতা করেছে—প্রত্যেকের সমান বিচার হতে হবে। শুধু একজনের বিচার হলে হবে না, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত পুরো চক্রের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।’
শফিউল আলম এরপর বলেন, ‘আমরা শহীদ পরিবারের সদস্যরা এখনো বেঁচে আছি। আমাদের সন্তানদের রক্তের বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা ন্যায়বিচারের দাবি থেকে সরে যাব না। আমরা চাই, ভবিষ্যতে যেন কোনো ফ্যাসিবাদী শক্তি আর মানুষের ওপর এমন নির্যাতন চালানোর সাহস না পায়।’
পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন শহীদ ওয়াসিমের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাদের আর্থিক সহায়তা দেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ