০১:৩৩ এম
বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার ফুল্লশ্রী গ্রাম বর্তমানে অনেকটাই জনশূন্য অবস্থায় আছে। আগৈলঝাড়া থানায় হামলা, ভাঙচুর এবং পুলিশকে মারধরের ঘটনার পরে মামলার পর গ্রেপ্তার আতঙ্কে গ্রামের অধিকাংশ নারী এবং পুরুষ আত্মগোপন করে রয়েছেন। ফলে গ্রামের স্বাভাবিক জীবনযাপন যথেষ্ট বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। কিছু কিছু পরিবারের নারীরা ঘরে অবস্থান করছেন, তবে তাঁরা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। সম্প্রতি, আগৈলঝাড়া থানায় গ্রেপ্তার করা এক আসামি মৃত্যুর গুজব ছড়ানোর পর গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় থানায় হামলা, ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে, যেখানে পুলিশ ৪৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও তিন শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যক্তি জানান, ফুল্লশ্রী গ্রামের একাধিক বাড়িতে পুলিশ দিনে দুই থেকে তিনবার হানা দিচ্ছে। সেইসঙ্গে, মামলায় যাঁরা আসামি নন, তাঁরাও পুলিশের আতঙ্কে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
তাঁরা জানান, স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে এবং সব সময় আতঙ্কের মধ্যে বাড়িতে থাকতে হচ্ছে। "আমরা নিরপরাধ, পুলিশ যে কখন এসে আমাদেরও ধরে নিয়ে যাবে।" এই ঘটনার প্রসঙ্গে আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খাঁন বলেন, ‘থানায় হামলার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে সাঁড়াশি অভিযান চলছে। সিসিটিভি ফুটেজ, ভিডিওচিত্র এবং অন্যান্য তথ্যউপাত্ত বিশ্লেষণ করে হামলায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হচ্ছে। এই ঘটনায় জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।’ ওসি আরও বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ২২ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ১২ জন নারী এবং ১০ জন পুরুষ রয়েছেন।’ এ বিষয়ে উল্লেখ্য, গত বুধবার সন্ধ্যায় নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে চুরি, মাদকসহ একাধিক মামলার আসামি ফুল্লশ্রী গ্রামের রিয়াজ ফকিরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
থানা-পুলিশের একটি সিসিটিভির ফুটেজে দেখা যায়, হাজতখানার মধ্যে রিয়াজ নিজেই দেয়ালের সঙ্গে মাথায় আঘাত করে অসুস্থ হয়ে পড়ে। রাত ১১টার দিকে তাঁকে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয় এবং অবস্থার অবনতি হলে গভীর রাতে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন, বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে রিয়াজ ফকিরের মৃত্যুর গুজব এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে তাঁর স্বজন এবং স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সন্ধ্যার আগে কয়েকশ জনতা মিছিল নিয়ে আগৈলঝাড়া থানায় হামলা চালায়। এই অবস্থায় ডিউটি অফিসার এএসআই আব্দুল হালিমকে মারধর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিপেটা শুরু করলে সংঘর্ষে ছয় পুলিশ সদস্যসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হন। গুরুতর আহত এএসআই আব্দুল হালিমকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন